somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি শিশু উদ্ধারের কাহিনী

১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খবরটা শুনলাম বিকাল বেলায়। পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য না। মিরপুরে সনি সিনেমা হলের পাশের এক গলিতে এক সাত আট বছরের বাচ্চাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুদিন যাবত। মোটামুটি দানা পানি বিহীন অবস্থায়। তারপর অপরাধ সে এলাকার একজনের মোবাইল চুরি করেছে। ব্যাপারটা সন্দেহের পর্যায়ে আছে , এখনও প্রমাণ হয়নি। না খাইয়ে বেঁধে রেখে এবং মাঝে মাঝে মারধোর করলে বাচ্চাটা যদি কিছু স্বীকার করে - এজন্য এই শাস্তির ব্যবস্থা। এই কর্মটি করেছেন এলাকার একজন সমাজসচেতন এবং প্রভাবশালী ভদ্রলোক।

এই ব্যাপারটা গ্রামে গনজে ঘটলে মানায় এবং পুরোপুরি বিশ্বাসযোপ্যতা পায়। কিন্তু খোদ রাজধানীর বুকে - এই ঘটনা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য না।

তবু নিছক কৌতুহলের বশে সন্ধ্যার দিকে এক বন্ধু নিয়ে ঐ এলাকায় গেলাম। গিয়ে পুরোপুরি হতভম্ব। পায়ে শিকল, ছেলেটা দুচোখে রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে বসে আছে।

দারোয়ান জানালো , ছেলেটাকে যিনি বেঁধে রেখেছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় নেই, তাবলিগের কাজে চিটাগাং গেছেন, তবে ঐ ভদ্রলোকের ভাই আছেন, যিনি এই বাড়ির মালিক।

আমার আগমনের খবর পেয়ে ঐ ভদ্রলোক চলে এলেন। গায়ে সুতির পাঞ্জাবি। আমি অসম্ভব ভীতু ধরণের ছেলে। ঐ লোকের ভাবটাব দেখে আমি ফোনটোন দিয়ে দু তিনজন বন্ধুকে খবর দিয়ে নিয়ে এলাম। হাসান , মনজুরুল- এলো। আর তৌহিদ তো আমার সাথেই ছিল। যিনি খবরটা দিয়েছিলেন সেই আসাদ ভাই ফিরোজকে নিয়ে চলে এলেন। এবার আমরা মোটামুটি দলে ভারী হলাম।

তবুও ঐ ভদ্রলোকের কাছে আমরা নস্যি। তিনি আমাদের তুমি তুমি করে গরম গরম বক্তৃতা দিতে লাগলেন। কোন পুলিশ তার বন্ধু, কোন ম্যাজিস্ট্রেট তার ভাগ্নি জামাই এবং আমাদের মতো চ্যাংড়া সাংবাদিকদের যে তিনি গোণার মধ্যে ধরেণই না সেটাও জানলাম।

ঐ লোকের কথা মিথ্যা না। আমি একজন পাতি সাংবাদিক, হাসাহাসি বিষয়ক একটা পাতা সম্পাদনা করি। তবুও আমি আমার সীমিত ক্ষমতা এবং যোগাযোগ দিয়ে ঢাকার এডিসি মনির সাহেব নামক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার যোগাঢ় করলাম এবং তাকে ফোন দিলাম। তিনি ঠিক আছে দেখছি বলে ফোন রাখলাম। আমি ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে আবারও ফোন দিলাম , বললাম, ভাই আমি স্পটে দাঁড়িয়ে। যাই হোক আরও ঘন্টাখানেক পর পুলিশ এলো।

ঐ লোক মুহুর্তের মধ্যে পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেললেন। বললেন, এই ছেলে এলাকার সব মোবাইল চুরি করে ফেলেছে। ভদ্রলোক পাঁচতলা বাড়ির মালিক। কাকে দাম দিতে হয় পুলিশ ভাইয়েরা এটা ভালো করেই জানেন। কাজেই পুলিশবাহিনী- ঐ বাচ্চার শার্ট খুলে গায়ে কোথাও ইনজেকশনের দাগ আছে কিনা - এটা পরীক্ষা করতে লাগলো আর এতো দামী শার্ট কই পাইছোস ? মোবাইল চুরি কইরা কই ব্যাচোস - ইত্যাদি পুলিশি জিঞ্জাসাবাদ শুরু হলো।

বেশ কিছু দিন আগে পুলিশের হাতে একবার মার খেয়েছিলাম। সেই থেকে এদেরকে আমি খুব সন্মান করি। তবুও ঝুঁকি নিয়ে গলায় যথাসম্ভব মধু ঢেলে তর্ক শুরু করলাম। একটা বাচ্চা অপরাধ করতেই পারে। সেটা প্রমাণ হবার আগেই- এই রকম এক বাচ্চাকে টানা দুইদিন না খাইয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার মাজেজা কী ? এটা কোন আইনের পর্যায়ে পড়ে ....

এই বাচ্চা যদি অপরাধি হয়, তাহলে যিনি তাকে দুইদিন এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন , তিনি কত বড় সাধু এটা আমি পুলিশের কাছে জানতে চাইলাম ?

যুক্তি নয়, আমার পরিচয় পেয়ে পুলিশ বাহিনী নরম হল। তাদের সুর বদলে গেল। তারা ঘটনাটি অন্য দৃস্টিকোন থেকে দেখা শুর করলেন। এবার ঐ ভদ্রলোক ফাঁপরে পড়লেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বাচ্চা এখন পুলিশি হেফাজতে ( আমি পুলিশকে নরম গলায় অনুরোধ করেছি, ওকে যেন মারধোর না করা হয় ) এবং ঐ ভদ্রলোককে রাত্রে থানায় যোগাযোগ করতে বলা হল।

মোবাইল ফোন খুবই শক্তিশালী অস্ত্র। ঐ ভদ্রলোক গোটা প্রশাসনে তার যতো পুলিশ ভায়রা এবং ভাগ্নি জামাই ম্যাজিস্ট্রেট আছে - তাদেরকে ক্রমাগত ফোন দিচ্ছেন এবং পুলিশের সাথে কথা বলাচ্ছেন।

শিশুদেরকে হ্যাঁ বলুন - এইসব ডায়লগ বলে যেসব এনজিও এবং সুশীল সমাজ কাজ করছেন- তারা কি বিষয়টা নিয়ে একটু কাজ করবেন।

ছেলেটা আছে মিরপুর থানায় আর দুই ভদ্রলোকের একজন তাবলিগে চিটাগাংয়ে এবং আরেকজন সনির হলের পাশের গলির পাঁচতলায়, খুব সম্ভবতঃ এখনও মোবাইল ফোনে আত্নীয়স্বজনদের সাথে লিয়াজো রক্ষা করে চলছেন।











সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১০
৩৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×