আমার প্রিয় পোস্ট

একটি শিশু উদ্ধারের কাহিনী

১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১০

শেয়ারঃ
0 2 0

খবরটা শুনলাম বিকাল বেলায়। পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য না। মিরপুরে সনি সিনেমা হলের পাশের এক গলিতে এক সাত আট বছরের বাচ্চাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুদিন যাবত। মোটামুটি দানা পানি বিহীন অবস্থায়। তারপর অপরাধ সে এলাকার একজনের মোবাইল চুরি করেছে। ব্যাপারটা সন্দেহের পর্যায়ে আছে , এখনও প্রমাণ হয়নি। না খাইয়ে বেঁধে রেখে এবং মাঝে মাঝে মারধোর করলে বাচ্চাটা যদি কিছু স্বীকার করে - এজন্য এই শাস্তির ব্যবস্থা। এই কর্মটি করেছেন এলাকার একজন সমাজসচেতন এবং প্রভাবশালী ভদ্রলোক।

এই ব্যাপারটা গ্রামে গনজে ঘটলে মানায় এবং পুরোপুরি বিশ্বাসযোপ্যতা পায়। কিন্তু খোদ রাজধানীর বুকে - এই ঘটনা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য না।

তবু নিছক কৌতুহলের বশে সন্ধ্যার দিকে এক বন্ধু নিয়ে ঐ এলাকায় গেলাম। গিয়ে পুরোপুরি হতভম্ব। পায়ে শিকল, ছেলেটা দুচোখে রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে বসে আছে।

দারোয়ান জানালো , ছেলেটাকে যিনি বেঁধে রেখেছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় নেই, তাবলিগের কাজে চিটাগাং গেছেন, তবে ঐ ভদ্রলোকের ভাই আছেন, যিনি এই বাড়ির মালিক।

আমার আগমনের খবর পেয়ে ঐ ভদ্রলোক চলে এলেন। গায়ে সুতির পাঞ্জাবি। আমি অসম্ভব ভীতু ধরণের ছেলে। ঐ লোকের ভাবটাব দেখে আমি ফোনটোন দিয়ে দু তিনজন বন্ধুকে খবর দিয়ে নিয়ে এলাম। হাসান , মনজুরুল- এলো। আর তৌহিদ তো আমার সাথেই ছিল। যিনি খবরটা দিয়েছিলেন সেই আসাদ ভাই ফিরোজকে নিয়ে চলে এলেন। এবার আমরা মোটামুটি দলে ভারী হলাম।

তবুও ঐ ভদ্রলোকের কাছে আমরা নস্যি। তিনি আমাদের তুমি তুমি করে গরম গরম বক্তৃতা দিতে লাগলেন। কোন পুলিশ তার বন্ধু, কোন ম্যাজিস্ট্রেট তার ভাগ্নি জামাই এবং আমাদের মতো চ্যাংড়া সাংবাদিকদের যে তিনি গোণার মধ্যে ধরেণই না সেটাও জানলাম।

ঐ লোকের কথা মিথ্যা না। আমি একজন পাতি সাংবাদিক, হাসাহাসি বিষয়ক একটা পাতা সম্পাদনা করি। তবুও আমি আমার সীমিত ক্ষমতা এবং যোগাযোগ দিয়ে ঢাকার এডিসি মনির সাহেব নামক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার যোগাঢ় করলাম এবং তাকে ফোন দিলাম। তিনি ঠিক আছে দেখছি বলে ফোন রাখলাম। আমি ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে আবারও ফোন দিলাম , বললাম, ভাই আমি স্পটে দাঁড়িয়ে। যাই হোক আরও ঘন্টাখানেক পর পুলিশ এলো।

ঐ লোক মুহুর্তের মধ্যে পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেললেন। বললেন, এই ছেলে এলাকার সব মোবাইল চুরি করে ফেলেছে। ভদ্রলোক পাঁচতলা বাড়ির মালিক। কাকে দাম দিতে হয় পুলিশ ভাইয়েরা এটা ভালো করেই জানেন। কাজেই পুলিশবাহিনী- ঐ বাচ্চার শার্ট খুলে গায়ে কোথাও ইনজেকশনের দাগ আছে কিনা - এটা পরীক্ষা করতে লাগলো আর এতো দামী শার্ট কই পাইছোস ? মোবাইল চুরি কইরা কই ব্যাচোস - ইত্যাদি পুলিশি জিঞ্জাসাবাদ শুরু হলো।

বেশ কিছু দিন আগে পুলিশের হাতে একবার মার খেয়েছিলাম। সেই থেকে এদেরকে আমি খুব সন্মান করি। তবুও ঝুঁকি নিয়ে গলায় যথাসম্ভব মধু ঢেলে তর্ক শুরু করলাম। একটা বাচ্চা অপরাধ করতেই পারে। সেটা প্রমাণ হবার আগেই- এই রকম এক বাচ্চাকে টানা দুইদিন না খাইয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার মাজেজা কী ? এটা কোন আইনের পর্যায়ে পড়ে ....

এই বাচ্চা যদি অপরাধি হয়, তাহলে যিনি তাকে দুইদিন এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন , তিনি কত বড় সাধু এটা আমি পুলিশের কাছে জানতে চাইলাম ?

যুক্তি নয়, আমার পরিচয় পেয়ে পুলিশ বাহিনী নরম হল। তাদের সুর বদলে গেল। তারা ঘটনাটি অন্য দৃস্টিকোন থেকে দেখা শুর করলেন। এবার ঐ ভদ্রলোক ফাঁপরে পড়লেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বাচ্চা এখন পুলিশি হেফাজতে ( আমি পুলিশকে নরম গলায় অনুরোধ করেছি, ওকে যেন মারধোর না করা হয় ) এবং ঐ ভদ্রলোককে রাত্রে থানায় যোগাযোগ করতে বলা হল।

মোবাইল ফোন খুবই শক্তিশালী অস্ত্র। ঐ ভদ্রলোক গোটা প্রশাসনে তার যতো পুলিশ ভায়রা এবং ভাগ্নি জামাই ম্যাজিস্ট্রেট আছে - তাদেরকে ক্রমাগত ফোন দিচ্ছেন এবং পুলিশের সাথে কথা বলাচ্ছেন।

শিশুদেরকে হ্যাঁ বলুন - এইসব ডায়লগ বলে যেসব এনজিও এবং সুশীল সমাজ কাজ করছেন- তারা কি বিষয়টা নিয়ে একটু কাজ করবেন।

ছেলেটা আছে মিরপুর থানায় আর দুই ভদ্রলোকের একজন তাবলিগে চিটাগাংয়ে এবং আরেকজন সনির হলের পাশের গলির পাঁচতলায়, খুব সম্ভবতঃ এখনও মোবাইল ফোনে আত্নীয়স্বজনদের সাথে লিয়াজো রক্ষা করে চলছেন।











 

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১৪
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: রবিভাই এর লেখা হিমু হিমু লাগে।
আপনার ক্ষমতাও বিশাল লেখা থেকে সেটাও বোঝা যায়।
পিচ্চির মোবাইল চুরি করার সম্ভাবনাই বেশী। এই ধরনের পিচ্চিরা বদ হয়।
তবে ভদ্রলোকের বেধে রাখা বর্বরোচীত, তার শাস্তিও হওয়া দরকার।
১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:২০

লেখক বলেছেন: ১. আমার কোন ক্ষমতা নাই, একমাত্র হালকা ধরণের লেখালেখির ক্ষমতা ছাড়া।
২. ঐ ভদ্রলোক ( যাকে আমার শুয়োরের বাচ্চা বলতেও দ্বিধা হয় ) ব্যাটার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই , যে ছেলেটা মোবাইল চুরি করেছে, তারপরও এইভাবে শিকল দিয়ে দুইদিন বেঁধে রেখে ছেলেটাকে আরও বড় কিছু হওয়ার ব্যবস্থা করছে - এই সমাজ। প্রিয় রন্টি, আমার আপত্তিটা এই জায়গায় ...

২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১৪
আশীফ এন্তাজ রবি বলেছেন: একটা কথা ভুলে গেছি বলতে, আমার বারবার ফোনের অত্যাচার সহ্য করার জন্য সহকর্মী কাওসার সোহেলীকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ এডভোকেট দিলরুব শারমিন এবং ঐ এডিসি ভদ্রলোক মনির সাহেবকে।
৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১৯
লড়াকু বলেছেন: ঐ বদমাইশটার যতই মামা চাচা আত্মীয় স্বজন থাকুক না কেন, ঘটনাটা মিডিয়াতে আসলে সে ফাঁপরেই পড়বে। আপনি আপনার দিক থেকে সর্বোচ্চ করেছেন, সে জন্য ধন্যবাদ জানাই।
৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৩০
মনির হাসান বলেছেন: প্রথমেই আপনাকে স্যালুট রবি ভাই ।

"তারপরও এইভাবে শিকল দিয়ে দুইদিন বেঁধে রেখে ছেলেটাকে আরও বড় কিছু হওয়ার ব্যবস্থা করছে - এই সমাজ।" চরম সত্যটি এভাবে সহজ করে বলতে পেরেছেন ... হ্যাটস্‌ অফ ...
৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৩৩
জাতেমাতাল বলেছেন: আশীফ এন্তাজ রবির সাথে একমত, কোন আইনের বলেই একটা মোবাইল চোরকে (তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম) এ ভাবে শাস্তি দেওয়া যায় না। এটা মনে হয় শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব...

রবিকে অনুরোধ, খবরটা যাতে মিডিয়ায় প্রকাশ পায়, সে প্রচেষ্টা নেবার জন্য। রবির সাহসী উদ্যোগের জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়...

৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৩৯
ইশতিয়াক অাহমেদ বলেছেন: কোন পুলিশ তার বন্ধু, কোন ম্যাজিস্ট্রেট তার ভাগ্নি জামাই ...

এগুলো যারা বলে তাগো আসলে কেউ-ই নাই...এটা প্রাথমিক চিকিৎসা জাতীয় থেরাপি..যদি কাজে দেয়...
৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৪১
ফারহান দাউদ বলেছেন: পিচ্চিগুলা চুরি করতে পারে সন্দেহ নাই, তবে সেইটারে বেঁধে রাখার কাজটা মধ্যযুগীয় বর্বরের।
৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৪৫
রোবোট বলেছেন: ব্লগ থেকে স্বেচছানির্বাসন নিয়ে ছিলাম। বেহায়ার মত তাও আবার আসলাম। পোস্ট পড়ে ছেলেটাকে দেখে আমার ৮ বছরের ভাগ্নের কথা মনে পড়লো। একই রকমই স্বাস্থ্য তারও।
আমার বড় বোনটি গুরুতর অসুস্থ। কয়েক মাস ধরে ছুটিতে। বিদেশে নেয়া হবে শীগগিরই। নাহলে সে সরকারী কর্মচারী হিসেবে হয়ত কিছু করতে পারত। আমি প্রবাসী কিছু করতে পারছি না।
পিয়াল, রবি, শওকত মাসুম, মেসবাহ য়াজাদ ও অন্য সাংবাদিকদের বলছি, এটা পত্রিকায় আসার ব্যবস্থা করেন। দাবী না ভাই, বিনীত অনুরোধ।
ব্লগার জাতে মাতালের সাথে একমত রবির সাহসী উদ্যোগের জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

এই পোস্টটা স্টিকি হোক।
১০. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৪৯
হাসান মাহবুব বলেছেন: এই বাচ্চা যদি অপরাধি হয়, তাহলে যিনি তাকে দুইদিন এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন , তিনি কত বড় সাধু?

এই প্রশ্ন আমারও।
১২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৫৮
ছড়া বাবা বলেছেন: হা হা হা, এইসব হারামীগুলা আবার তাবলীগ করে, ভন্ডামির একটা সীমা থাকা দরকার। সুতির ফিনফিনে পাঞ্জাবী পরে এরা ঘুরে বেড়ায়, কোরবানী দেয় লাখ টাকার , আর সামান্য মোবাইল চুরির ( অপ্রমানিত ) জন্য মানবতার কোন মূল্য থাকে না এদের কাছে।

যত্তসব শুয়োরের দল
১৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৫৮
বহ্নিশিখা বলেছেন: সাধুর বাচ্চা আবার তাবলীগও মারায়!!!!
১৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:০৫
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: চোরকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দেই না, সবাই মিলে ভয়ংকরভাবে পিটাই। অথচ কত বড় বড় অপরাধী ঘুরে বেড়ায়, তাদের ভয় পাই।
পুলিশও চোরদের দেখলে বিরক্ত হয়।
বাচ্চাটা হোক চোর, তাই বলে ওই লোকের তো বিচার করার কোন এখতিয়ার নাই। বিচার করবে আদালত। কিন্তু আমাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস যাবে কোথায় ?
১৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:২৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: সাত আট বছরের বাচ্চাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা নিঃসন্দেহে শিশু অধিকার লংঘন। এর বিচার হওয়া জরুরী।

সাত আট বছরের শিশুটি কোনভাবে অপরাধী হলেও তার জন্য বিচারের প্রক্রিয়া আলাদা। তারজন্য আলাদা বিচার ব্যবস্থা আছে।
এইভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে অত্যাচার করার অধিকার কারো নেই।

(কিন্তু আফসোস, এইগুলা হচ্ছে মানবাধিকার, শিশু অধিকার, আইনের শাসনের বড় বড় কথা! বাস্তবতা বড়ই নির্মম! এখানে আত্বীয়ের ফোনে নিয়ম অনেক পাল্টে যায়!! :( )
১৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:২৭
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:

দাও মোরে হাতিয়ার, এই শিকলটা ভাঙবার।

উঠে আস রাহবার, আঘাত হানি বারবার।
১৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৫
নাজমুল আহমেদ বলেছেন: হ্যাটস্‌ অফ ......... রবি ভাই




হায়রে মানবতা.................
১৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৩
মাহাবুব উল্লাহ বলেছেন: জাতেমাতাল বলেছেন: রবির সাহসী উদ্যোগের জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।
২০. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৫৮
আকাশ_পাগলা বলেছেন: আমি জানি না কে আমাকে কী বলবে। তবে, ব্যক্তিগতবভাবে আমি মনে করি, কেউ মোবাইল চুরি করলে সেটা শিওর হলে তাকে দেরি না করে গুলি করে মেরে ফেলা উচিত।


একটা মোবাইল কিনার পিছনে আমার কয় বছরের জমানো টাকা খরচ করতে হয়েছিল, সেটা আমিই জানি। ওটা যে চুরি করছে, জানতে পারলে আর ক্ষমতা থাকলে সত্যিই আমি তাকে কুচি কুচি করতাম।
২১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১৬
এন এইচ আর বলেছেন: মানবাধিকার কথাটা মনে এভাবে বলেই ভালো হয় মানব তার সাথে বধির মনুষ্যত্ব।
২২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:০১
সাহোশি৬ বলেছেন: @ আকাশ_পাগলা: "আমি জানি না কে আমাকে কী বলবে। তবে, ব্যক্তিগতবভাবে আমি মনে করি, কেউ মোবাইল চুরি করলে সেটা শিওর হলে তাকে দেরি না করে গুলি করে মেরে ফেলা উচিত।"

-আপনি বললে তো হবে না ভাই, আইন কি বলে সেটা হচ্ছে আসল কথা। আমার মনে হয় এখনো আমাদের আইন এত ফ্যাসিস্ট হয় নাই যে মোবাইল চুরি করলে গুলি করে মেরে ফেলবে। আপনাকে একটা বুদ্ধি দেই (মাংগনায়) নেক্সট টাইম সংসদ নির্বাচনে দাড়ান আর সাংসদ হয়ে আপনার আিনটা পাশ করার চেষ্টা করেন।
২৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:৩৪
ফেরারী পাখি বলেছেন: আপনার এই সাহসী উদ্যোগের জন্য স্যালুট। আমি আসলে মন্তব্য করার ভাষা পাচ্ছি না।
আর ২০ নম্বর মন্তব্য পড়ে আমি হতভম্ব বোধ করছি।
একটা মোবাইলের মূল্য একটা গোটা জীবন।

আচ্ছা অনেক দাম দিয়ে কেনা একটা মোবাইল যদি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় বা কোন কারণে হারিয়ে যায়, তখন তারা কি করবেন? নিজের পায়ে শেকল দিয়ে রাখবেন? নাকি বন্দুকটা নিজের দিকে তাক করবেন? জানতে ইচ্ছা করে।
২৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩৩
পারভেজ বলেছেন: একটা ঐকিক নিয়মে অংক করা যাক।
১০,০০০ টাকার মোবাইল চুরি করলে ন্যুনতম ৪৮ ঘন্টা শিকল বন্দী;
১ টাকার জিনিষ চুরি করলে ন্যুনতম ৪৮/১০০০০ ঘন্টা শিকল বন্দী!
১০০,০০,০০,০০০ টাকার ব্যাংক লোন চুরি করলে ????!!!!! ঘন্টা শিকল বন্দী করে রাখা উচিত?
আমরা নৈতিকতার সাথে সাথে স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধিও হারাচ্ছি।
রবিকে ধন্যবাদ এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট আছেন বলে।
২৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:০২
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন: ছেলেটির আপডেট খবর কী রবি ? নিউজটা আজকে কি কোনো পত্রিকায় এসেছে ?
২৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:১৪
নাজনীন খলিল বলেছেন:
কি বলবো বলার মতো কোন ভাষা নেই।এই খবরটা আমরা জানতে পারছি আশীফ এন্তাজ রবি ঘটনাক্রমে জানতে পেরেছিলেন বলে। এভাবে শিশু নির্যাতনের হাজার ঘটনা চোখের আড়ালে প্রতিদিনই ঘটে যাচ্ছে।কোন প্রতিকারের উদ্যোগ নেই।
এই সমাজে আশীফ এন্তাজ রবিরা সংখ্যায় অনেক কম।আকাশ_পাগলারা বেশী।

২৮. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৫৪
আকাশ_পাগলা বলেছেন: @সাহশি৬, ফেরারী পাখি, নাজনীন খলিল

আমারটা চুরি গেছে ত, তাই আমি বুঝি। এটা ছাড়া আর বলার কিছু নাই। আপনাদের বুঝা উচিত ছিল যে, আক্রোশটা আমার ব্যক্তিগত। এটা নিয়ে একজন আবার হতভম্ব হয়ে গেল। এত সিরিয়াস হওয়ার কিছু নাই।

যে এখনই মোবাইল চুরি করে, পরে সে কী হবে সেটা সবাই বুঝে।

এখানে দেখতে হবে, আমি কিন্তু বলি নাই যে, পোস্টের এই ছেলেটাকেই বেঁধে রাখতে হবে। আমি বলেছি, মোবাইল চোরদের শায়েস্তা করতে হবে।

আপনার যে না বুঝেই একেকজন আমার কমেন্ট নিয়ে কমেন্ট করলেন সেটা কী বুদ্ধিমানের কাজ হল ??

সবশেষ একটা কথাই আবার বলি, যার গেছে, ব্যাথা শুধু সেই-ই বুঝে। একটা মোবাইল চুরি মানে, ঘটনা কিন্তু ওখানেই শেষ না। সে কিন্তু পরের দিনই আরেকটা চুরি করবে। সুতরাং হিসাবে শুধু একটা মোবাইলের দাম ধরলেই হবে না, অনেক মোবাইলকে গুণতে হবে। আমার গেছে,খুব বাজে ভাবেই গেছে, আমি এখনও কষ্ট পাই।
২৯. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:০৯
আশীফ এন্তাজ রবি বলেছেন: আপডেট ১:

১. আজ থানায় এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারদের দফায় দফায় ফোন করেছি। একেক সময় একেক কথা শুনেছি। ছেলেটি এখনও থানায় আছে। সে ভালো আছে বলে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
২. যিনি ছেলেটিকে আটকে রেখেছিলেন তিনি বহাল তবিয়্যতে আছেন। তার কিছুই হয়নি।




৩০. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৩৯
আই আনাম বলেছেন: একটা ব্যাপার এখানে লক্ষ্যণীয় যে সাধু বাবা বলছেন তার অমুক তমুক পুলিশে আছে। আবার রবি ভাইও নাম্বার যোগাড় করে পুলিশকে ফোন করেছেন। এখান থেকে লেসেন হল যে পরিচিত না থাকলে এই পরিস্থিতি বা শক্তি কিছুই থাকত না। অথচ আইন সবার জন্য সমান, থানা বা আদালতে সবারই সমানভাবে প্রবেশের এবং সাহায্য পাবার অধিকার আছে। ঐ সংবিধান তো তাই বলে। কিন্তু বাস্তবে ঘটনা হল "আমার আব্বা ডিআইজি নাইলে মামা কর্নেল, নাইলে খবর আছে।" ধরেন, আমার কোন আত্মীয় বা বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তি পুলিশ, আর্মি, আমলা, কোটিপতি, রাজনৈতিক নেতা কিছুই না। আমি তাইলে কী করব??????? আমারও তো পুলিশের ভাগ্নের মতই ক্ষমতা থাকার কথা ছিল অন্তত আইন, আদালত, সংবিধান, রাষ্ট্র যাই বলেন না তারা এই কথা বলে। তারমানে সংবিধান, আইন সমান এসবই ভুয়া????????? :(
৩১. ১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৪০
আই আনাম বলেছেন: রবি ভাই আই ই আরে আসেন কখনও?????????
১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: আসি মাঝে মাঝে ...

৩২. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৩
হাসান সোহেল বলেছেন: কিছু বলতে চাই না।রবিদা কেমন আছেন?বহু দিন খোঁ জ পাই না।
৩৩. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫০
রোবোট বলেছেন: আপডেইট কি?
৩৪. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৯
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: একটা বাচ্চারে বাচাইবো সেইখানেও দেখি বুলগারগো মাথা চাড়া দিয়া উঠছে!

দুইখান কথা কই, গুলশান এলাকায় যখনই বাসায় ফিরতাম তখন অনেক পথশিশুকে দেখতাম রস্তায় ডাস্টবিনের পাশে দাড়িয়ে আছে। অনেকেই হয়তো অনেক কিছু দেয় কিন্তু সেটা ক্ষনস্হায়ী সমাধান। আবার একটা শিশুকে দেখলাম একটা আগার প্যারেক কামড়াচ্ছে প্রচন্ড রোদে। পয়াড়েকটা মুখের লালার স্পর্শে ঠান্ডা হয়ে গেছে আর তাই ওর খেতে নোনতা লাগছে হয়তো, সেজন্য ক্ষুধায় সে কামড়াচ্ছে। তখন পকেটের সব টাকা দিলেও তার লাভ নাই। কারন আজকের খাবারের জন্য টাকা হলো তার, কিন্তু কালকে কি?

একবার এক বন্ধুকে বলেছিলাম এ কথাগুলো, সে বলেছিলো "আমরা কি ওদের পয়দা করতে বলছি?" ওর কথাও ঠিক, কারন ও জানে ও এদের দায়িত্ব নিতে পারবে না। সরকারও অস হায়। এত অস হায়ত্বের মাঝে যখন একটা শিশু যে হয়তো কাল এসেছে এ দুনিয়ায় সে যখন ক্ষুধার তাড়নায় এরকম কিছু করে তখন তাকে গুলি করে মেরে ফেলাটা অথবা ১৪ শিকায় এমন অমানবিক ভাবে বেধে রাখাটা নিশ্চয়ই নিজেদের পশুত্বকেই ফুটিয়ে তোলে!

এখন আমাদের কিছু সল্যুশন আসা উচিত। আমাদের দেশে কিছু নাই, তবে একটা জিনিস আছে ভালোবাসা আর আবেগ। আমরা জানি এই কঠিন দুনিয়ায় ভালোবাসা আবেগ দিয়ে কিছুই হয় না, শুধু টাকাই দরকার! যদি পুজিপতীদের কনভিন্স করা যায় অথবা আমরা এলাকা ভিত্তিক মসজিদ কমিটি থেকে এদেরকে রাতে শোয়ার ব্যাবস্হা আর দুপুরের খাবারটা (রোজায় যেমন অনেক মসজিদে ফ্রী ইফতারী পাওয়া যায়) এলাকার একেক জনের বাসা থেকে আসতো ঐ শিশুদের জন্য, আমার মনে হয় ব্যাপারটা খারাপ হতো না! বাকী দু বেলা এদেরকে অন্য কোনো কাজ বা যাই হোউক কিছু একটা করা!

তবে এসব শিশুদের জন্য স হিংসতা প্রদর্শন করা মানে আমরাই আগামীর বড় বড় অপারাধীদের জন্ম দিবো হয়তো!
৩৫. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩২
রোবোট বলেছেন: অমানবিকতয় ইমাম সাহেবরা আমাদের চেয়ে পিছায় নাই। সুতরাং লাভ নাই@উদাসী
৩৬. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: রোবোট বলেছেন: অমানবিকতয় ইমাম সাহেবরা আমাদের চেয়ে পিছায় নাই। সুতরাং লাভ নাই@উদাসী

বস এইখানে একখান কথা! আমি কিছুদিন টাবলীগ করাতে একটু জানি ইমামগো বেতন কই থিকা আষে! প্রতিটা মসজিদে যেই কমিটি আছে আর পাড়ার সবাই মিল্লাই তার ব্যাবস্হা করে। অনেকে আবার এতিমখানার টীচার বানাইয়া তার ব্যাবস্হা করে। কিন্তু যখন এই থাকার ব্যাবস্হা মসজিদের কমিটি থিকাই করবো তখন মনে হয় সমস্যা হইবো না! তবে মসজিদ এই জন্য বাইছা নিলাম, আমি ভার্সিটি আর কেলেজে থাকতে নানা কারনে বাপে মাইরা বাইর কইরা দিলে মসজিদে গিয়া রাইট কাটাইতাম। তাই রাতের পরিবেশ আমার জন্য খুব বেশী খারাপ ছিলো না!

এছাড়া তখন দেখতাম অনেক গরীব পরহেজগার মুসাফীর অথবা চিল্লায় যাওয়া লোকজনও থাকতো। তাদের রাতের খাবারের সময় বসে থাকলে বেশ আদর করে খাইয়ে দিতো! ঢাকায় এ কালচার আছে কি না জানি না তবে গ্রাম বাংলার অনেক জায়গায় এটা আছে!

আমার মনে হয় মসজিদ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন (রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, ক্লাব) এ ব্যাবস্হা নিতে পারে, অথবা পাহারাদারের মতো কিছু একটা কাজও দিতে পারে, তবে তার জন্য এলাকার একটা বিশাল যুবক গ্রুপদের বেশ খাটতে হবে আর তাদের প্রভাব ফেলার মতো ক্ষমতাও থাকতে হবে!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯৬৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পার্ট টাইম সাংবাদিক এবং ফুল টাইম ভাবুক
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ