ডিজিটাল টাইমটাকে সরকারের একটা সাময়িক পাগলামি বলে মনে করেছিলাম। দেখা যাচ্ছে ব্যাপারটা মোটেও সেইরকম না। সরকার পণ করেছে, ভুল হোক আর শুদ্ধই, যা করেছি , তাই সই। এতে যে জনগণের হোগা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস শির শির ঢুকছে, এবং কালক্রমে একদিন এই শীতল হাওয়া সরকারের ঐ জায়গা দিয়েও ঢুকবে, এটি তারা এখন বুঝতে পারছেন বলে, মনে হচ্ছে। আসলে কেউই সময়মতো কোনকিছুই বোঝে না। বঙ্গীয় ইতিহাস তাই বলে।
সরকারের আরও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে, ঢাকা শহরে অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা। উদ্দেশ্য অতি মহত, যানজট নিরসন। দুদিন পার হয়ে গেল, যানজট কমা দূরে থাক, এটি বেড়ে এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, আজ কাজীপাড়া থেকে মতিঝিল যাবো ....সিএনজি খুঁজছি, একশ বিশ টাকার নীচে কেউই যাবে। তাই সই, একটাতে উঠে বসলাম। দুপুর নাগাদ রওয়ানা দিয়েছি, বিকালের খানিক আগে মতিঝিল পৌঁছালাম, সিএনজি মিটারে উঠে গেছে দুইশত বিশ টাকা।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে এইসব বুদ্ধি কে দিচ্ছেন , কিংবা কারা দিচ্ছেন। দুইটার ট্রেন ছাড়ে চারটায়, সেটির কোনো সুরাহা না করে ঘড়ির টাইম এক ঘন্টা এগিয়ে দেয়া হল। শেখ হাসির অফিসে কি এক থান সঞ্চয়িতা নেই? জুতা আবিষ্কার কবিতাটা কি কেউ তাকে পড়ে শোনাতে পারে না?
ঢাকার যানজট নিরসনের সবচেয়ে সহজ উপায় প্রশাসনকে ডি সেন্ট্রালাইজ করা। রমনা পার্কের কোণায় মৎস্য ভবণ অবস্থিত কেন থাকবে? এটি একটি নদীর ধারে থাকলে ক্ষতি কী? ফার্মগেটের মতো অত্যন্ত গোলমেলে যান্ত্রিক জায়গায় কী আছে ? আছে খামার বাড়ি। মতিঝিলের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় আছে বাংলাদেশ চা ভবণ। ভাবা যায়?
সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে, সমস্যাকে পেচিয়ে তোলার হে মহান কার্যক্রম এই সরকার হাতে নিয়েছে, তার কাছে আমার প্রশ্ন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে এইসব আজগুবি বুদ্ধি কারা দিচ্ছেন কেন দিচ্ছেন? ব্যক্তিগতভাবে আমি শেখ হাসিনাকে নির্বোধ মনে করিনা, বরং তাকে যথেষ্ট স্মার্টই মনে হয়।
তিনি কেন এইসব বুদ্ধিতে চলছেন - এটি ভেবে আমি রীতিমতো অবাক হচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ- গরু এবং মানু্ষের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে, সেটি যেন তিনি ভুলে না যান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


