শ্রদ্ধেয় বিপ্লবী সভাপতি, মঞ্চে উপবিষ্ট জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং আমার প্রিয় কমরেড ভাই ও বোনেরা,
বাংলাদেশের বিপ্লবী ধারার যুব সমাজের পক্ষ থেকে রক্তিম অভিনন্দন ও লাল গোলাপ শুভেচ্ছা গ্রহন করুন। বাংলাদেশের ৪ কোটি ৪০ লক্ষ যুবক যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫, তাদের ১ কোটি ২০ লক্ষ পূর্ণ বেকার, ১ কোটি ৫০ লক্ষ নিজস্ব পছন্দ ও যোগ্যতানুযায়ী কাজ পায় না, তারা আধা বেকার, ছদ্ম বেকার । অর্থাৎ ২ কোটি ৭০ লক্ষ যুবক হয় বেকার, নয় আধা বেকার , নয় ছদ্ম বের্কা । এই ২ কোটি ৭০ লক্ষ যুবকের মধ্যে ১ কোটি ৭০ লক্ষ নারী, ১ কোটি পুরুষ। ৮০ শতাংশ বসবাস করে গ্রামে, সিংহ ভাগের কোন শিক্ষা নেই। এসব তথ্যের একটাও আমার তৈরী না। এসব তথ্য জাতির সামনে হাজির করেছেন বর্তমান সরকারের প্রিয় ’দিন বদলের কর্মসূচী’র অন্যতম সহ প্রণেতা অধ্যাপক আবুল বারাকাত। উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে যুবকরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী কাজ পচ্ছে না। তাই আওয়াজ উঠেছে ” কোটি যুবকের এক আওয়াজ- চাই শিক্ষা, চাই কাজ।” শিক্ষা কাজের দাবী আজ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আজকে উপস্থিত লাখো জনতার মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে, হাটে, মাঠে, ঘাটে, কলে, কারখানায়, ক্ষেত, খামারে। সকল প্রান্ত থেকে একসাথে বুকের গভীর থেকে আওয়াজ উঠবে ” কোটি যুবকের এক আওয়াজ- চাই শিক্ষা, চাই কাজ।”
প্রিয় বন্ধুগণ,
এই ১৪ দলীয় মহাজোট সরকার ওয়াদা ভঙ্গকারী সরকার। প্রথম ওয়াদা ভঙ্গ করেছে স্বৈরাচারী এরশাদকে কোলে তুলে নিয়ে। এরশাদের ৯ বছর শত শত ছাত্র-যুবক, কৃষক-ক্ষেতমজুর শুধু মাত্র এরশাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। তাদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছে এ ১৪ দলীয় সরকার। শিক্ষা মন্ত্রীর প্রশংসা করেন সকলে, কিছু বিষয়ে তিনি প্রশংসার দাবীদার বটে । ছোট দলের বড় নেতা থেকে বড় দলের ছোট নেতা হিসাবে খেলতে গেছেন । খেলুন, যত ইচ্ছা খেলুন। কিন্তু আপত্তি হচ্ছে আপনার আপোষ। আপনি আপোষ করেছেন মৌলবাদীদের সাথে । আপনি আপোষ করেছেন ধনিকগোষ্ঠীর সাথে। একইমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক সেক্যুলার শিক্ষার পরিবর্তে চালু রেখেছেন তিনধারার শিক্ষা ধনীদের জন্য ইংরেজী মাধ্যম, মধ্যবিত্তদের জন্য বাংলা মাধ্যম, আপামর গরীব মানুষের জন্য মাদ্রাসা। এটাই পরিতাপের বিষয় আওয়ামী লীগ মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আওয়ামীলীগ যখনই ক্ষমতায় আসে সে সময় মাদ্রাসা শিক্ষা বিস্তৃত হয়। এটার পিছনে কোন ধর্ম নাই আছে রাজনীতি। গরীবদের আধুনিক শিক্ষা বঞ্চিত করে তাদের পদানত করে রাখাই হচ্ছে এই রাজনীতি।
এ সরকার প্রতারক সরকার । এ সরকার প্রতারনা করেছে যুব সমাজের কাছে। ১৪ দলের নির্বাচনী ওয়াদা যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বারবার অঙ্গীকার করেছেন তারা নির্বাচিত হলে প্রত্যেক ঘরে নূন্যতম একটি কর্মসংস্থান প্রদান করবেন। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ পরিবার। অঙ্গীকার অনুযায়ী ৫ বছরে নতুন ২ কোটি ৫০ লক্ষ কাজ সৃষ্টি হওয়ার কথা অর্থাৎ প্রতি বছরে ৫০ লাখ কাজ সৃষ্টি হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী গত জুলাই মাসে সংসদে দাড়িয়ে বলেছেন তার আড়াই বছরের শাসনকালে মাত্র ২ লাখ ৪৬ হাজার কাজ সৃষ্টি করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন।
সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সরকারী দলের লোকজন বিশেষ করে দলীয় সভাপতির শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শেয়ার বাজারে লুট করে লক্ষ লক্ষ যুবককে সর্বহারায় পরিণত করেছে। এটাই আশংকার বিষয় আরেকবার ৯৬ সালে এই আওয়ামীলীগ আমলে এই একই ব্যক্তি আরেকবার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শেয়ার বাজার লুট করেছিল।
সুতরাং আজকের সময়ে বাংলাদেশের হত দরিদ্র যুব সমাজের পক্ষ থেকে আমাদের প্রধান দাবী
দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
উপযুক্ত প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
শেয়ার বাজার লুন্ঠনকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে, এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শেয়ার বাজারকে অর্থ যোগান দিতে হবে।
গোলাম আযমসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তরান্বিত করতে হবে।
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধে ভারতকে বাধ্য করতে হবে।
তেল-গ্যাস বিদেশে রপ্তানী করা যাবে না ।
আরেকটা দাবী কখনোই রাজনৈতিক দাবী হিসাবে সামনে আসেনি আমরা যুব সমাজের অন্যতম প্রধান দাবী হিসাবে তা সামনে আনতে চাই। বাংলাদেশের ৪ কোটি ৪০ লক্ষ যুবকের ৫২ শতাংশ নারী এবং ৪৮ শতাংশ পুরুষ। বাংলাদেশে যুব নারীর সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লক্ষ । এই ২ কোটি ৩০ লাখের ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি ৭০ লক্ষ তাদের ২০ তম জন্মদিনের আগেই বিয়ে এবং সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হন। পরিতাপের বিষয় প্রতি বছর হাজার হাজার কিশোরী- তরুণী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। লাখ লাখ শিশু জন্মের সময় মারা যায়। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকল গর্ভবর্তী নারীকে দুই সন্তান পর্যন্ত গর্ভকালীন সময়ে পুষ্টিভাতা দিতে হবে। ডেলীভারীর সকল খরচ রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। সদ্যজাত শিশুর একমাস বয়স পর্যন্ত সমস্ত চিকিৎসার ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমরা বর্তমানে যে সমাজে বসবাস করছি তা আমার শিক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না, আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেয় না, আমার ক্ষুধার্ত মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দেয়ার সামর্থ্য দেয় না । জসিম ভাইয়ের ভাষায় বলতে চাই এই সমাজকে ভাঙ্গিতেই হইবে। এই পচা, গলা, নষ্ট, বৈষম্যমূলক সমাজকে ভেঙ্গে চুরে দুমড়ে মুচরে বঙ্গপোসাগরে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। নেতৃত্ব দিবে শ্রমিক শ্রেণী, সঙ্গে থাকবে গ্রামের কৃষক-ক্ষেতমজুর এবং শহরের গরীব মানুষ। আর আমরা যুবকরা হচ্ছি এই মহাসংগ্রামের অগ্নিমশাল। যুবকদের মাঝে যারা বলেন আমাকে আমার মত থাকতে দাও, আমি নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিয়েছি আমরা তাদের দলভুক্ত নই। আমরা যে সকল যুবক এখানে উপস্থিত হয়েছি আমাদের দর্শন হচ্ছে ’মানুষ মানুষের জন্য’, আমাদের দর্শন হচ্ছে ’সকলে আমরা সকলের তরে, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’। আসুন ভোগবাদকে পরিত্যাগ করি। ভোগের জীবন ত্যাগ করি, ব্যক্তিগত কেরিয়ার এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার মোহ পরিত্যাগ করি। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নকে সত্য করি। কমরেড মণি সিংহের স্বপ্নকে সত্যি করে বাংলাদেশকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রুপান্তরিত করি। ২০ জানুয়ারীর শহীদদের লাশ ছুঁয়ে যে শপথ নিয়ে ছিলাম তাকে বাস্তবায়িত করি।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
মুরগী ডিমে তা দিলে তা থেকে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে কমপক্ষে ২১ দিন কিন্তু ইনকুবেটরে সে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ২-৩ দিনে মুরগীর বাচ্চা জন্ম দেয়া হয়। আসুন আমরা বাংলাদেশের বিপ্লবী যুব সমাজ ইনকুবেটরের ভুমিকা গ্রহন করি। আওয়াজ তুলি সোসালিজম ইন আওয়ার লাইফটাইম। আমাদের জীবদ্দশায় সমাজতন্ত্র । আমাদের প্রজন্মের কালেই যদি সমাজকে পাল্টাতে হয় তবে আমাদের কাজ দ্বিগুন করে দিতে হবে- আমরা যারা বসে আছি তাদের উঠে দাড়াতে হবে, যারা দাড়িয়ে আছি তাদেরকে হাটতে হবে, যারা হাটছি তাদেরকে কুইক মার্চ করতে হবে এবং যারা কুইক মার্চ করছি তাদের ডবল মার্চ করতে হবে। আমাদের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে মাওলানা ভাসানীর মত ঘেরাও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যুব আন্দোলনকে, যুব বিদ্রোহে পরিনত করতে হবে এবং যুব বিদ্রোহকে গণ আন্দোলনে রুপান্তরিত করতে হবে।
আসুন আওয়াজ তুলি
কোটি যুবকের এক আওয়াজ- চাই শিক্ষা, চাই কাজ
সোসালিজম ইন আওয়ার লাইফটাইম
আমাদের জীবদ্দশায় সমাজতন্ত্র
সবাইকে ধন্যবাদ
ভাল থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন
লাল সালাম
..
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





