
খেলা-ধুলা জীবনেরই একটা অংশ বৈকি

ছোট বেলা থেকেই সবাই কম বেশী অনেক ধরনের খেলাধুলা করে থাকে এগুলা এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন নামের হয়ে থাকে। আমরাও শিশু থেকে শৈশবে অনেক রকম খেলাধুলা করেছি এখন বুড়ো বয়সে সেগুলা মনে করি আর সেকালে ফিরে যাওয়ার মিছে স্বপ্ন দেখি

সেরকম কিছু খেলাধুলার স্মৃতিচারন করার অপচেষ্টা এই ব্লগের মাধ্যমে করতেছি

দেখেন আপনার শৈশবের কোন খেলার স্মৃতি মনে হয় কিনা?
নাকি স্মৃতি তুমি বেদনা এ কথা ভেবে স্মৃতির ধরজায় তালা ঝুলিয়ে বসে আছেন

পোষ্ট পড়ে দেখেন শৈশবের স্মৃতি তালা ভেঙে বের হয়ে আসবে

এর পরও যদি না আসে তাইলে আপনার জন্য



এবার শুরু করি............>>>>
০১। ( পুতুল খেলা )শিশুকালে পুতুল খেলে নাই এমন কাউকে পা্ওয়া যাবে তা বাস্তবেতো নয় স্বপ্নেও সম্ভব নয়। আমার পুতুল খেলার হাতেখড়ি হল বড় আপুর কাছ থেকে আপু আর তার বান্দবী মিলে পুতুল বানাতো আবার তাঁদের বিয়ে দিতো

, আমার কাজ ছিলো পুতুল নিয়ে কাদা পানিতে গোসল করানো

এই কারনে আপু তাঁর একটা বান্দবী ছিল বড়ই চতুর পতুলের কালেকশন সব সময় ওর কাছেই রাখতো

ওই আপু আসার সময় পুতুলের বাক্স নিয়ে আসতেন খেলা শেষে আবার নিয়ে যেতেন, একদিন পুতুল খেলা শুরু করল পুতুলের বিয়ে দিবে এমন সময় দেখা গেল যে, বর পুতুল টা আনা হয় নাই

এতে আপুদের সবার মন খারাপ তখনই চালাক আপুটা চট করে বলে পেলল আজকে রোমান কেই বর বানাব... এ কথা শুনে আমার নিজের বোন টা খুশি হতে পারে নাই

তার রাজপুত্রের মত ভাইয়াটার প্রথম বিয়ে তা্ও আবার পুতেলের সাথে? কিন্তু বান্দবীদের ডলায় শেষ পর্যন্ত রাজী হইছে। এদিকে আমি যখন বুঝলাম ওরা আজ আমারই বিয়ে দিবে তখন খুশিতে মনে মনে গান শুরু করলাম আহা কি সুখ এই আঁকাশে বাতাশে


তারপর ঠিক মত কলেমা বিহীন কবুল দিয়ে বিয়েও হয়ে গেল

কিন্তু বাঁধ সাঁধলো তখনই যখন খেলা শেষ হল। চালাক আপুটা পুতুল নিয়ে চলে যাবে

কিন্তু আমিও পুতুল দিতে নারাজ কারন সেটা তখন আর তার পুতুল ছিল না সেটা ছিল আমার বৌ

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই নিষ্ঠুরনী আপুটা আমাকে একা করে, আমার কাছ থেকে আমার পুতুল বৌ কেড়ে নিয়েই চলে গেল


সেই থেকে যত বার টিভিতে কোন খারাপ, দর্জাল, নিষ্ঠুর মেয়ে চরিত্র দেখেছি সব সময় মনে হয়েছে এটাই সেই নিষ্ঠুর আপু

০২।
( গোল্লা ছুট )এই খেলাটা বিকেল বেলায় বাড়ীর উঠোনে খেলতাম খেলার সাথী হিসাবে পাশের বাড়ীর কিছু পোলাপাইনও থাকতো কিন্তু কেন জানি পাশের বাড়ীর পোলাপাইনগুলো খেলা থেকে আমাদের বাড়ীর বরই গাছটার প্রতি বেশি খেয়াল রাখতো

এমনও দেখা যেত সী দেওয়ার মাঝ খানে কেউ একজন বরই গাছে ঢিল ছুড়তো আর অমনি খেলা রেখে বরই কুড়ানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে যেত


০৩।
(সী-কুত-কুত)এই খেলাটার ভাল নাম কি এটাই না কি অন্য কিছু তা জানা নেই, তবে এটা খেলতে হলে মাটিতে স্কয়ার আকারের দাগ টেনে খোপ খোপ বানাতে হয় তার্ পর এক দমে লাফিয়ে লাফিয়ে পা দিয়ে ঝিক এক ঘর, এক ঘর করে নিতে হয়। এই খেলাটায় আপুরা আমাকে নিতে চাইত না

আমি নাকি এই খেলায় খুব কান্ডামী করতাম দম ফেলেও বলতাম দম পালাইনি।

০৪।
(লুকোচুরী)লুকোচুরী খেলাটা ছিল আমাদের নানু বাড়ীর শ্পেশাল খেলা আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে সবাই নানু বাড়ী যেতাম সবাই বলতে আমার অন্য আন্টিরা্ও সবাই কে নিয়ে একসাথে আসত এবং আম্মার চাচাতো বোন গুলাও ওই সময় আসত। নানুবাড়ী থাকত পুরাই জমজমাট। ওই সময় রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় আমরা সব কাজিনগুলো লুকো-চুরি খেলায় ব্যস্ত থাকতাম

। লুকোচুরি খেলার সময় একদিন আমি লুকানোর জন্য জায়গা খুজতে গিয়ে দেখি নানা ভাই কম্বল মুড়ো দিয়ে শুয়ে আছে, আমি ঠিক মতো নানা ভাইর কম্বলের নিচে লুকিয়েছি

কিন্তু কিভাবে যেন আমি ওখানেই ঘুমিয়ে পড়ি

এ দিকে খেলার সাথীরা আমাকে না পেয়েতো কুত্তাপাগল অবস্থা

। কেউ বলা বলি শুরু করল আমাকে পরীরা কামরু কামাক্কার দেশে নিয়ে গেছে

এদিকে আস্তে আস্তে সবাই যেনে গেছে লুকোচুরী খেলতে গিয়ে একজন নিখোঁজ

আমার মা জননী পুত্রশোকে কান্নাজুড়ে দিল আর নানা ভাই মেয়ের কান্না শুনে ঘুম বেঙে উঠে এল এবং বলল আমি ঘুমোচ্ছি

। এর পর খেলার সাথীরা আমার জন্য কোর্ট মার্শাল আনল রায় হল আজীবনের জন্য ওদের সাথে লুকোচুরি খেলতে পারবো না

এর পর আমি বার বার আপিল করার চেষ্টা করেছি কিন্তু কোর্ট মার্শাল এর উপর কোন কথা কি চলে?:
৫। ( কাঁনামাছি বোঁ-বোঁ)এই খেলাটা হল চোখে কাপড় বেঁধে দেওয়া হত এই চোখ বাঁধা অবস্থায় অন্য জনকে ছুঁতে হবে, একদিন এই খেলাটার সময় আমি আমার সবচেয়ে অপছন্দের মানুষটাকে জড়িয়ে ধরেছি

যদিও চোখ বাঁধার আগে সে খেলায় আসেনি, এর পর ডেটল দিয়ে গোসল করতে গিয়ে দেখি ডেটল খুজে পাওয়া যাচ্ছে না

পরে সোডা সাবান দিয়ে গোসল করে মুক্ত হয়েছিলাম

৬।
(হা-ডু-ডু)এই খেলাটা বর্ষাকালে খেলা হত, উঠোনে শেওলা জমে উঠোন খুব পিচলা থাকতো আর এখানে খেলতাম হা-ডু-ডু। উঠোন এতই পিচলা থাকতো যে, এক ডু দেওয়ার আগে দু-তিন বার চিৎ-পৎ ধপাশ হতে হত

৭।
সাত চাঁড়া(ঝিক)খেলাটা ছিল এমন যে ভাঙা মাটির পাত্রের সাতটি টুকরো একটি একটির উপর সাজিয়ে টাওয়ারের মত করা হয় এর পর এক পক্ষ টেনিস বল দিয়ে নির্দিষ্ট দুরুত্ব থেকে টাওয়ারটাকে মাটিতে ছড়াতে হয়, এবং যেই পক্ষ মাটিতে ছড়াবে তাকেই পুনরায় ঝিক দিয়ে টাওয়ার গড়তে হবে। টাওয়ার গড়ার সময় অন্যপক্ষকে টেনিস বল ছুড়ে ওর গায়ে লাগাতে হবে। একদিন আমার চাচীর বাসায় ওর বোনের মেয়ে এসেছিল পরে বিকেলে খেলার সময় আমার পতিপক্ষ হয়ে খেলা শুরু করল ওকে দেখলেই আমার কেন জানি বনলতা সেন মনে হতো....

তো খেলা শুরু হওয়ার পর ও ঝিক গুলো সাজিয়ে টাওয়ার মতো করছে ওই মুহুর্তে আমার হাতে টেনিস বল আসল, আমাকে টেনিস বলটা ওর গায়ে ছুড়ে মারতে হবে

কিন্তু আমি বল না মেরে ওর দিকে তাকি দিবা স্বপ্ন দেখা শুর করলাম এদিকে আমার দলের এরা যতই চিল্লায় বল ছুড়ে মারার জন্য আমার কানে কিছুই যায় না আমি বনলতার স্বপ্নে বিভোর

এদিকে ওর ঝিক সাজানো শেষ আমার বোন কাছে এসে দেখে আমি তখনো বেবলার মতো বনলতার দিকে চেয়ে আছি

এতে আমার রাগী বোনটা ক্ষুব্দ হয়ে আমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে যা বলল তা শুনে আমার চউক্ষে অশ্র আর দিলে ছোট দুইটাই লাগল

। ও বলল কি প্রেম কি উতলাইয়া পড়ে, প্রেম দেখানোর টাইম পাওনা যত্তসব

৮।
(ক্যারাম)হাই স্কুলে থাকতে হুজুর স্যার প্রতিদিন নামাজের জন্য ধরতেন, আর বেদম পেটাতেন

হুজুর স্যারের অত্যাচার থেকে বাঁচতে ওই ঘন্টা পাকি দেওয়া শুরু করি। টাইম পাস করার জন্য ক্যারামটা আবিস্কার করি এমনও দেখা গেছে এক মাসে একদিনও হুজুর স্যারের ঘন্টা করিনি

হুজুর স্যার একদিন পিটির সময় দেখে বললেন কি ব্যাপার তুমি এখনো এই স্কুলে পড়?

আমিতো মনে করেছিলাম তমি অন্য স্কুলে চলে গেছ টিসি নিয়ে

৯।
(ফুটবল)সান্স পেলেই খেলি এটার প্রতি বিশেষ দূর্বলতা এখনো কাজ করে, ফুটবল দেখলেই পা কেমন জানি করে

বলে লাথ্থি মারার জন্য

১০
(ক্রিকেট)এটাও সুযোগ পেলেই পিটাই যদিও অতো ভালো পিটাইতে পারি না তবে কিন্তু আউট খুব তাড়াতাড়ি হইতে পারি

ওরে আল্লারে লেখা দেখি বড় হইয়া গেছে, আরো কিছু খেলা ছিল

, আর লেখন যাইব না.........সামু আমারে বড় লেখার দায়ে ব্যান মারতে পারে