somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টিভেজা একটি বিকেল আর অপিরিচিত আপুর কাছ থেকে ছ্যাঁচা খাওয়া;);)

০৬ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রাবনের আকাশে সকাল থেকেই সূয্যি মামার দেখা নেই আকাশ যেন পরম মমতায় বৃষ্টি ছড়িয়ে যাচ্ছে। আজ আর কোন আলস্যতায় তাকে ছুতে পারে না, এ জন্যে থামার কোন বালাই নেই। বিকাল ৫টায় শরিফ ছাতা মাথায় দিয়ে দাড়িয়ে আছি ফার্মগেট ওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে উদ্দেশ্য মঘবাজার কাজী অফিস-লেন, না তাই বলে বিয়ে করতে বা করাতে যাচ্ছি না:DB-) ভাইয়া জরুরী তলব করেছে ওনার বাসায় যেতে হবে,এই জন্যে অনেক্ষন ধরেই সিএনজি অটো রিক্সার জন্য দাড়িয়ে আছি। যাও দু-একটা সিএনজি আসে তাও আমার ভাগ্যে জুটে না আমার আগেই অন্য কেউ নিয়ে নেয়। প্রায় ২৫ মিনিট দাড়িয়ে থাকার পর নিজেও সংগ্রামী হয়ে উঠলাম সিএনজি আমাকে নিতেই হবে। একটা সিএনজি আসতেছে দেখেই মরিয়া হয়ে উঠলাম, দৌড়ে গিয়ে বললাম মামা মগবাজার যাবা? সাখে সাথে শুনলাম আরেকটা কণ্ঠও মগবাজার এর কথা জিজ্ঞেস করছে পাশে ফিরে দেখি একজন মেয়ে এবার ড্রাইবারের কথায় গাড় ফিরালাম, মিটারে যামুনা ৫০ টাহা লাগবে কে যাইবেন কন? আমি এতেও রাজী এতক্ষন দাড়িয়ে থাকতে থাকতে মেজাজ বিলা খুব হইছে তার পরেও ভদ্রতা দেখিয়ে ঐ মেয়েটা কে জিজ্ঞেস করলাম আপনার খুব তাড়া থাকলে আপনি যান আমি আরেকটার জন্য অপেক্ষা করি এতেই উনি খুব মায়াবী হাঁসি দিয়ে থেংস জানিয়ে সিএনজিতি উঠলেন আর আমি পেছনে হাটা শুরু করলাম আরেকটা সিএনজির আসায়। এরই মধ্যে শুনতে পেলাম কে যেন কাকে ডাকছে এই যে শুন পেছনে ফিরে দেখি উনি আমাকেই ডাকছে তাও আবার তুমি করে, বাবলাম ১৯ বছরেও চেহারার উপরের মাসুম ভাবটা আর গেলনা। সিএনজির কাছে গেলাম এ দেখি ক্লাস টিচারের মতই প্রশ্ন শুরু করল তুমি মগবাজার কোথায় যাবা? আমার উত্তর কাজীঅফিস..লেন বলার আগেই আবার বিদ্রুপের সাথে প্রশ্ন তুমি কি বিয়া-সাধি করাও নাকি কাজি অফিস কেন যাবা? এবার মুখে রাগ ফুটিয়ে বললাম কাজি অফিসলেন হো হো তাই বলো আমিও ওখানেই যাচ্ছি তুমি চাইলে আমার সাথে আসতে পার, এটা শুনে আমি ভাবনায় পড়ে গেলাম কি করব? আবারও উনি বলল আরে চাওয়া-চায়ির কিছু নাই চল এক সাথেই যাই,:-/:-/ উনি সিএনজির এক পাশে সরে বললেন ছাতা বন্ধ করে উঠে পড় আমি তাও ভাবতেছি এবার ড্রাইবার বললেন উঠেন উঠেন আপা এত করে বলতেছে শেষ পর্যন্ত উঠেই পড়লাম। মোটামুটি জড়োসড়ো হয়ে বসলাম মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করতেছিল কিন্তু কি জন্যে সেটা টের পাচ্ছিলাম না।:P

সিএনজি নজরুল এভিনিউ পার হতেই আবার প্রশ্ন করলেন কি ব্যাপার আন ইজি ফিল করছ? আমি নিরুত্তর আবার বললেন তুমি কি ভাবতেছ আমি ছেলে ধরা? এবার আমতা আমতা করে কি যেন বলতে ছিলাম তখন আবার বিদ্রুপের হাসি দিয়া বলল আরে বোকা তোমার মত এত বড় ছেলে ছেলেধরারা নিয়ে কি করবে? এবার সাহস করে ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওই মুখ দেখে অন্তত ছেলে ধরা মনে হয় না উপরন্ত অসম্ভব সুন্দরীও বটে। এবাবেই চলল সারাটা পথ প্রশ্নের পর প্রশ্নের ছ্যাছা দিয়ে আমার নামটা নিয়েও হাসা-হাসি করলেন আমার নাম রোমান কেন?X( ছোট কালে কি আমি খুব রোমান্টিক ছিলাম নাকি? যত:সব আজাইরা কথন এরই মধ্যে কাজী অফিস লেন এসে পড়লাম ভাইয়ার বাসা আগে হওয়ায় আমাকে আগে নামতে হল নামার সময় ভাড়া দিতে চাইলাম ড্রাইবারকে হুমকি দিলেন আমার কাছ থেকে টাকা না রাখার জন্য এর পর বললাম অন্তত অর্ধেক রাখার জন্য বললনে ওইটা দিয়া চকলেট খা্ওয়ার জন্য উপরন্ত নিজের ব্যাগ থেকে এক প্যাকেট মিমি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে স্যরি বললেন এতক্ষন ধরে অনেক কথা বলার জন্য আরো বললেন উনি ওনার ছোট ভাইর সাথে নাকি সব সময় এমন করে আর আমি নাকি তার ছোট ভাইর মতই:D .....:-* অত:পর আমি ভাইয়ের বাসায় উনি ওনার বাসায় চলে গেলেন। পরে বাসায় ফিরে ভাবলাম দুর ওনার নামটা জানা হয় নাই নাম্বারটাও রাখা হয় নাই অন্তত ছ্যাঁচা খা্ওয়ার জন্য হলেও নাম্বারটা রাখা ধরকার ছিল। :|:|

(ঘটনাটা ৪ বৎসর আগে শ্রাবন মাসের কোন এক বৃষ্টিময় পড়ন্ত বিকেলের)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:১২
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×