somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুতের মুখে রাম নাম

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের গুরুজনেরা মাদরাসার ছাত্রদের প্রতি খড়গহস্ত কেন! বিষয়টি অনেকেইরই বোধগম্য নয়। ঢাবিতে আটটি বিষয়ে মাদরাসার ছাত্রদের ভর্তি বন্ধের প্রেক্ষিতে বলছি। যারা মাদরাসা থেকে এসে ঢাবিতে ভর্তি হচ্ছে এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে চমৎকপ্রদ সাফল্য প্রদর্শন করছে ,এটা কি দেশের এসব মেধাবীর প্রতি অবজ্ঞা দেখানো নয়। গুরুজনেরা দাবি করছেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজীতে ৪০০ নম্বরের বদলে ২০০ নম্বরের পড়ে আছে। তাই তারা কলেজ পড়ুয়াদের থেকে অদক্ষ ও পিছিয়ে। একজন ডীনকে বিবিসির সাক্ষাৎকারে এ কথা বলতে শুনেছি। তার এ বক্তব্য ভুতের মুখে রাম নামের মতই লাগল। কারণ, সবারই জানা কথা,এ ডীন তার আদুরীনি কন্যাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নুন্যতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে ভর্তি করেছিল। নিজ বিভাগে। পড়ে যদিও তাকে এজন্য অনেক তিরস্কার সহ্য করতে হয়। কিন্তু তাতে তার কিছু যায় আসে না। কারণ, গ্রামের একটি প্রচলিত প্রবাদ বাক্য হচ্ছে এই যে, নির্লজ্জকে কচু দিলে মনে করে তাকে খেতে দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়ানোর এ পদক্ষেপ যখন আমাদের গরুজনেরা নিয়েছেন, তখন আপনারা অবশ্যই অবগত আছেন, দেশসেরা এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের আড়াইশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যায়গা করে নিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, গবেষণার ক্ষেত্রে ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিছিয়ে। শিক্ষার এ মান অবনমনের জন্য তবে কারা দায়ী। মাদরাসার ছাত্ররা! গুরুমশায়দের কথা শুনে তাই মনে হয়। কিন্তু গুরুমশায়রা ক্লাস না নিয়ে নোংড়া রাজনীতিতে ব্যাস্ত থাকেন তার দায়ভার কার কাধে চাপবে। এমনকি তারা ক্লাসে শিক্ষাথীদের নোংড়া রাজনীতির দীক্ষা দেন, এমন প্রমান একটু চেষ্টা করলে আপনি হাতের কাছে পেতে পারেন। সামান্য স্বার্থের জন্য শিক্ষার্থীদের রাজনীতির ময়দানে প্রতিদন্দি ছাত্রদের সাথে দন্দে যুদ্ধে নামিয়ে দেন। এসব কথা সবারই জানা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অবনমনের জন্য যে কারণগুলো সবচেয়ে বেশি দায়ী সেগুলোর খোজ নিয়েছেন কি(?) কখনো এসব শিক্ষকরা। নিবেন না এটাই স্বাভাবিক। কারণ,তাদের হাতে এত সময় কোথায়! হলগুলোতে গণরুমের নামে যে ছাত্রনীপিড়ন হচ্ছে, ছাত্রদের ক্লাস ফাকি দিয়ে রাজনৈতিক মিছিলে যেতে বাধ্য করছে। সন্ধ্যার পর ঘন্টার পর ঘন্টা গেস্টরুম নামের নির্যাতন সেলে দাড় করিয়ে রাখে। বা নীলখেতের দোকান গুলো সামান্য খুনসুটির দরুণ ভাঙ্গার দায়িত্ব কাদের উপড়,এতে হয়ত অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু বিদ্যাপীঠে কেন এসব চলবে। প্রতিটি হলে হাউজটিউটর নামের কিছু প্রাণি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন তাদের কে হাউজটিউটর হিসেবে রেখেছেন এ দায়িত্বানুভূতি কাজ করে এমন একজন শিক্ষককে খুজে বের করতে আপনাকে দশটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মাদরাসার ছাত্ররা কি রকম মেধার স্বাক্ষর রাখছে তা কেউ হল ডিবেটিং ক্লাবগুলোর অন্দরমহলে খোজ নিলে জানতে পারবেন। প্রতিটি হলে যারা ভাল বিতর্ক করে তারা অধিকাংশই মাদরাসা থেকে আগত। কারণ বিভিন্ন কারণে তারা অদম্য পরিশ্রমি হয়ে ওঠে।
যেসব বিভাগীয় প্রধানরা মাদরাসার ছাত্রদেরকে তাদের বিভাগে ভর্তির অযোগ্য ঘোষণা করছেন তাদেরকে ও বা এ ক্ষমতা দিয়েছেন কে!
তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির ৯০ জনের একজন সদস্য মাত্র। কাজেই তারা কেনই বা এ অবৈধ গুরু দায়িত্ব নিতে গেলেন। যেখানে ইংলিশ মিডিয়াম থেকে একটি ছেলে এসে বাংলায় ভর্তি হতে পারে, সেখানে মাদরাসার ছাত্ররা কোন দোষে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে ভর্তি হতে পারবে না। তারা বুয়েটে ভর্তি হতে পারবে, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারবে, অথচ ঢাবি'র এ আটটি বিষয়ে তারা আচ্ছুৎ হল কেন! কাজেই সকল সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে,মনের ভিতরে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প জমে আছে তা পরিষ্কার করে মাদরাসার ছাত্রদেরকে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষাকে ঘিরে এ বৈষম্য দেশের জন্য কোন সফল বয়ে আনবে না। বরং কিছু মেধা নষ্ট করে দেবে। দেশের সার্বভৌমত্ব যে খাদের কিনারে দাড়ানো তা আরেকটু ঝুকে পড়বে।











এ অপরাজেয় বাংলা দেশের সকল শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন। কিন্তু কুচক্রিরা হয়ত অনেক শিক্ষার্থীদের মেধা কে শত্রভাবছে

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪১
১২টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×