আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন একটাই; জীবনের জয় অনিবার্য..

ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া না হওয়া নয়, বিতর্ক তুলুন ছাত্ররাজনীতি থেকে সন্ত্রাস বন্ধ করা উচিত কিনা।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৬

শেয়ারঃ
0 2 0

ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যার রক্তের দাগ না শুকাতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল এক ছাত্র খুন হয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিত হোয়ার আগেই ছাত্রলীগ ও শিবির দুই সংগঠনই নিহতকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে বসেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে রেলস্টেশনে ওই শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দৃশ্যত এ হত্যা সাম্প্রতিক হত্যাযঞ্জের সর্বশেষ নমুনা।

ছাত্র সংগঠনের কর্মী নামধারী কিছু সশস্ত্র যুবক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গত পক্ষকালব্যাপী যা করছে তার নাম কি ছাত্ররাজনীতি? আমার সুবিবেচনায় এর নাম হতে পারে কোন্দল, তোলাবাজি, জিম্মি আর সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা।

সুর উঠেছে এই লীগ-দল-শিবিরের কামড়াকামড়িতে “ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেয়া হউক”। সময় সুযোগ পেলে জাতিকে নসিহত দেয় কিংবা শপথ নেয়ায় এমন একজন জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক সহ আপাত অর্থে লক্ষ লক্ষ শান্তিপ্রিয় মধ্যবিত্ত জনগনের চাওয়াও আসলে তাই। কিন্তু এটা কি এতটা সহজ?

রাজনীতি বন্ধ হলেই সন্ত্রাস বন্ধ হবে?সেনা শাসিত তত্ত্বাবধায়ক আমলে তো ছাত্ররাজনীতি সহ সব রাজনীতি স্থগিত ছিল। কিন্তু ছাত্রলীগ, শিবির, ছাত্রদলের দাপট, চাঁদাবাজি (পড়ুন তোলাবাজি), সন্ত্রাস, সিট দখল কী বন্ধ ছিল? কলেজে কলেজে ফি বৃদ্ধি কী বন্ধ ছিল, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ কি বন্ধ ছিল? বিনীত উত্তর, না। তাহলে আপনার কী মনে হয় সদ্যজাত বাচ্চা প্রসবের পর আতুর ঘরের রক্ত ময়লার সাথে বাচ্চাটিকেও ফেলে দেয়া উচিত? কারণ তার গায়েও তো ময়লা লেগে থাকে। তবে কেন এ তিনদলের সন্ত্রাস নৈরাজ্যের কারণে ছাত্র রাজনীতির স্রোতধারাকে স্তদ্ধ করে দেয়া হবে?

আসুন ছাত্র রাজনীতিকে নয় বুর্জোয়া ধারার সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে বর্জন করি। অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে যুগে যুগে প্রতিবাদকারীদেরই জয় হয়েছে। কারণ তারা একতাবদ্ধ ছিল। আজও আমরা কী তবে চোখে ঠুলি পড়ে বিচ্ছিন্নতায় দিন কাটাবো?

আজ একজন সুনাগরিক হতাশ হয়ে বলেছেন, 'ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করার আওয়াজ তোলা যায়...কিন্তু সে আওয়াজ আমাদের দেশপ্রেমিক (!), মানবতাবাদী (!), মানবিক বোধসম্পন্ন (!) রাজনৈতিক নেতা আর দেশের ক্ষমতাবান পরিচালকদের কার্ণকুহরের বিশাল গহ্বরের দেয়ালে প্রতিফলিত হয়ে বিকট শব্দে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসবে আমাদের বিবেকের ব্যর্থ কারাগারে..'

তাই মনে করি আওয়াজ টা আমাদের তুলতে হবে পায়ে পা মিলিয়ে, কণ্ঠে কণ্ঠে তাল রেখে, হাত গুলো সব বজ্রমুষ্ঠি করে। মনে রাখতে হবে আমরা শত শত 'আবু বকর'রা একা বলেই বিশ তিরিশেক পান্ডাদের আস্ফালন আজ আকাশসম! একতাবদ্ধতাই জীবন। আর জীবন একটাই, সে জীবনের জয় অনিবার্য!

 

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৩৮
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেছেন: শুধু পক্ষকাল ব্যাপী কেন? আমার মনে হয় সৈরাচার নিপাত যাক শ্লোগানের পর ছাত্র রাজনীতি গঠনমূলক আর কিছুই দিতে পারেনি।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২৩

লেখক বলেছেন: আপাত অর্থে আমি পক্ষকাল ব্যবহার করেছি। স্বৈরাচারের পতনের পর ছাত্র রাজনীতি গঠনমূলক আর 'কিছুই দিতে পারেনি' শব্দবন্ধে আমার ঘোর আপত্তি। আগে আপনি নিজে বলুন, তারা আপনাকে সত্যিকার অর্থে ভালো কিছু দিক সে জন্য আপনি নিজে কী করলেন? এভাবে বিশ বছরের সমোলোচনা এক লাইনে করা যতটা সহজ, বুয়েটে সনি হত্যার প্রতিবাদে ধারাবাহিক ছাত্রআন্দোলন গড়ে তুলে হত্যাকারীদের বিচার দাবী করা অনেক কঠিন।
কলেজে কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্যায় ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ করে কিন্তু তারাই।

২. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৪৩
মু আ হাকিম নিউটন বলেছেন: "তাহলে আপনার কী মনে হয় সদ্যজাত বাচ্চা প্রসবের পর আতুর ঘরের রক্ত ময়লার সাথে বাচ্চাটিকেও ফেলে দেয়া উচিত?"

এটি অসামঞ্জস্যপূর্ন যুক্তি! একটি আবশ্যকীয় বিষয় "বাচ্চার জীবনের" সাথে অনাবশ্যকীয় বিষয় "ছাত্ররাজনীতির" তুলনা নিতান্তই হাস্যকর। তুলনা যদি করতে চান এইভাবে করার চেষ্টা করতে পারেন। গ্যাংগ্রীন হয়েছে এক হাতে, তো সারানো চেষ্টা বিফল, সেই হাত কেটে ফেলুন, বেঁচে তো থাকবেন, ভালোভাবেই বেঁচে থাকবেন আশাকরি। তবে মাথায় গ্যাংগ্রীন হলে মাথা কাটা যাবে না, যতদিন সম্ভব বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি মাথার সাথে তুলনীয় নয়, মুল রাজনীতি তুলনীয় হতে পারে।

তত্ত্বীয়ভাবে আমি চাই ছাত্ররাজনীতি থাকুক। কিন্তু বাস্তবে আমি চাই সন্ত্রাস নির্ভর এই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেয়া হউক, এটিকে সারানোর চেষ্টা করে লাভ নেই।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২৯

লেখক বলেছেন: আপনার তিনটি প্যারাই যে পরস্পরবিরোধী তা একটু খেয়াল করুন।
মূল রাজনীতি কী এখন বর্তমান ছাত্র সংগঠনগুলোর মতো আচরণ করছে না? কিংবা তাদের মুরুব্বি দল কি তাদের মাস্তানিতে মৌন সমর্থন, প্রকাশ্য সমর্থন দেয়না? দেয়।

তত্ত্বীয়ভাবে এবং বাস্তবাতার খাতিরে আমি্ও চাই ছাত্ররাজনীতি থাকুক। ছাত্ররাজনীতিতে যারা সন্ত্রাসের যোগান দেয় তাদেরকে আমাদের বয়কট করতে হবে। মানে সন্ত্রাস নির্ভর ছাত্ররাজনীতির সংগঠনগুলোকে ব্যান করা হোক।

৩. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৫৪
নর্থপোল বলেছেন: ভাই কি ছাত্র ইউনিয়ন টাইপ কিছু করেন নাকি? বাম ধারার? আপনার পোস্টে বুর্জোয়া, বজ্রমুষ্ঠি শদবগুলো সন্দেহ জাগায়। সেই জন্যই বোধহয় ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করে শুদ্ধির প্রস্তাব দিচ্ছেন?

আপ্নাদেরও চেনা আছে রে ভাই। ইনু, মেনন সাহেবরা ক্ষমতায় গিয়ে যে ভেল্কি দেখাচ্ছেন। ক্ষমতায় গেলে সব শালাই কুত্তার বাচ্চা হয়ে যায়। আপনাদের (মানে যারা ছাত্র রাজনীতি করেন বা পক্ষে বলেন) সব গুলাকে গুলি করে মারা দরকার। ছাত্র রাজনীতি দেশের কি উদ্ধার করে ফেলছে তা সবার দেখা হয়ে গেছে।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী, জুতারে কয় আলমারী!!

ইনু, মেনন সাহেবরা ক্ষমতায় গিয়ে যে ভেল্কি দেখাচ্ছেন তাতে আমি আপনার চাইতে আমি আরও বিরক্ত। আমি আপনারা বার বার ভুল করি বলেই তো দেশের এই অবস্থা। আপনার করা সমোলাচনাটা কিন্তু আপনার নিজের জন্য মিলে গেল।

৪. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৫৫
টোটাল ভালবাসা বলেছেন: মু আ হাকিম নিউটন বলেছেন: তত্ত্বীয়ভাবে আমি চাই ছাত্ররাজনীতি থাকুক। কিন্তু বাস্তবে আমি চাই সন্ত্রাস নির্ভর এই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেয়া হউক, এটিকে সারানোর চেষ্টা করে লাভ নেই।
৫. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:০০
আতিকুল হক বলেছেন: বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি সন্ত্রাসমুক্ত হওয়ার চাইতে, চৌবাচ্চায় ইলিশ মাছ চাষে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। মুল রাজনীতিই যেখানে অসুস্হ সেখানে ছাত্ররাজনীতির সুস্হ থাকার কোন কারনই নাই। তাই মুল রাজনীতি যতদিন সুস্হধারায় না আসছে ততদিন ছাত্ররাজনীতি বন্ধ থাকাই উচিত।

আপনি হয়তো অতীত গৌরবের কথা বলবেন। আমি অতীত অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েই বলতে চাই, কোন কিছু অর্জিত হওয়াই কোন পদ্ধতির সফলতার পরিচায়ক হতে পারে না। যেমন, হরতাল করে, রাস্তা আটকে রেখে, গাড়ি ভেঙ্গে কোন দাবি আদায় হতে পারে। দাবিটা যৌক্তিক হলেও এইসব ধ্বংসাত্মক কাজ এতে জায়েজ হয়ে যায় না। আন্দোলন করা সাধারন মানুষের কাজ, ছাত্রদের কাজ পড়া। দাবি আদায়ে সময় লাগুক তাতেও যার কাজ সেটা তারই করা উচিত। নইলে সাময়িক লাভের জন্য অনেক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সইতে হয়।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩৮

লেখক বলেছেন: আজ যে দেশের মানুষ সহজে দেশের গ্যাস পোড়াতে পারছে তা কিন্তু ঐ গুটিকয়েক ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো বাম দলের শ্রমিক, ছাত্রদের আন্দোলনের কারনেই। নইলে কত আগে বিবিয়ানার গ্যাস পাইপ লাইনে ভারত পাচার হইতো! অসম চুক্তিতে ফুলবাড়ীর কয়লা তো এতদিন পাচার হইয়াই যাইতো, এর প্রতিবাদে যা কিছু হইছে সব তো ঐ নাখাইন্দা বাম দলের ছাত্ররাই করছে।

হ্যা। 'ছাত্রদের কাজ পড়া, মিছিল মিঠিং করা নয়' জানেন তো এই ভাবেই নূরুল আমীন সরকার ৫২ সালের এই ফেব্রুয়ারিতে জনতাকে নসিহত দিয়েছিল। পরিণতিটা ভুলে গেলে ইতিহাস পড়া দরকার আপনার।

৬. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:০৯
অারমান বলেছেন: সারা দেশে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা রাজশাহী পলিটেকনিক্যালের ছাত্রমৈত্রীর এক নেতাকে হত্যা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবুবকরকে হত্যা করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুক হত্যাকে কেন্দ্র করে শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। কিন্তু ছাত্রলীগও হত্যা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত। তাই শিবির নিষিদ্ধ করা হলে ছাত্রলীগের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করতে হবে।

ছাত্রদের দিয়ে রাজনীতি বন্দ করা হোক,আর যেন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে লাশ হয়ে মায়ের কোলে ফিরতে না হয়,
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪০

লেখক বলেছেন: আর যেন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে লাশ হয়ে মায়ের কোলে ফিরতে না হয়। সহমত।
কিন্তু ভেবে দেখবেন কী
সন্ত্রাস করে তিনটি দল- লীগ, শিবির, ছাত্রদল!

৭. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১১
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হোক।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪২

লেখক বলেছেন: কিছুদিন আগে গুড়ো দুধে মেলামিন নামক বিষাক্ত পদার্থ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আমরা কি গুড়ো দুধ খাওয়াই বাদ দিয়ে ছিলাম? নাকি মেলামিলযুক্ত দুধ ব্যান করেছিলাম?

এইভাবে সমস্যার মূলে না গিয়ে যারা আপাত অর্থে যেন তেন শান্তি ফিরিয়ে আনতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা তুলছেন, অপ্রিয় হলেও সত্যি যে তা চিন্তার অসারতা!আমরা অনেক সময় ভুলে যায়, মাথা ব্যাথা করলে মাথা কেটে ফেলাই সমাধান নয়।

৮. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১৭
ছিনতাইকারি বলেছেন: ইছমাট বয়??!!! তেনা পেচাইতে ওস্তাদ??!! কি বাল ছাল লেখছেন নিজে পৈড়া দেখছেন??

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৪

লেখক বলেছেন:
ক্ষেপলেন ক্যান ভাই? লীগ, শিবির, দলের পাল্লায় পড়লে মাগার ছিনতাইকারীদেরও রক্ষা নাই।

৯. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৩৬
ও.জামান বলেছেন: আপনে কি আম ছাড়া আমসত্ত বানানোর কোন ফরমুলা আবিস্কার করছেন? তাড়াতারি পেটেণ্ট করেন। সন্ত্রাস ছাড়া ছাত্ররাজনীতি!!!
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮

লেখক বলেছেন: এই জন্যই বাঙালী পিছাইয়া থাকে। ভেজাল খাইতে খাইতে আমাদের রুচির জায়গা এতটা নিচে নামছে মধু যে খা্ওয়ার জিনিস তা ভুলেই গেলাম।
দোষ আসলে সম্পূর্ণ আপনার না। আমাদের ৪০ বছরের শাসকগোষ্ঠির সংস্কৃতির ভুত আছড় করছে আপানার উফ্রে।

১০. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৫৬
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: ছাত্ররাজনীতি টার্মটা নিয়েই এখন সমষ্যা। যারা নিছক মোহের বশে ছাত্ররাজনীতির টিকিয়ে রাখার কথা বলেন তারা ছাত্রসংঘ/ছাত্র-ইউনিয়ন/ছাত্রমিতালি/ছাত্রক্লাব এসব টার্ম ব্যবহার করতে পারেন। ত্বাত্তিক কথা ছেড়ে বাস্তবতায় ফিরে এসে দেখুন ছাত্ররাজনীতির সুখ স্বপ্ন বর্ননা করা আর আরব্যরজনীর গল্প বলা একই কথা।

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি বন্ধ চাই।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৪

লেখক বলেছেন: বাস্তবতা নির্মিত হয় তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই। এটা আমরা বাল্যশিক্ষার সহজ পাঠেই পড়েছিলাম।


ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলেই সন্ত্রাস কি বন্ধ হবে? ছাত্র অঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও/বা নির্মাণ করতে আমাদের করণীয় কী? আমাদের দরকার আইন করে জামাত, শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। সাথে সাথে ছাত্ররাজনীতিতে সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষক হিসেবে দল, লীগকে ব্যান করা।

সন্ত্রাস করে তিনটি দল- লীগ, শিবির, ছাত্রদল। এই তিন দলকে কখনো দেখেছেন দেশের শিক্ষা সমস্যা নিয়ে, ফি বৃদ্ধি নিয়ে, দেশে দেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামতে? এরা কেউ জাতীয়তাবাদ আর কেউবা ইসলামের পাণ্ডা!

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি বন্ধের এ সুর ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে শাসকদের দরবার থেকেই উচ্চারিত হয়েছে বারবার। পরিণতি ভালো হয়নি। শিক্ষঙ্গনই মুখরিত হোক সঠিক ধারার রাজনীতি চর্চার পীঠস্থান হিসেবে। এ জন্য দরকরা সন্ত্রাসী সংগঠনকে বর্জন।

১১. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৩৮
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: ৫ নম্বর মন্তব্যে ঝাজাবাদ। লেখক খুব সম্ভব ফ্রন্ট বা মৈত্রীর রাজনীতির সমর্থক। রাজনীতি ছাড়া প্রগতিশীলতা, মানবাধিকার চর্চা সম্ভব নয়, ষাটের দশকের সেই পুরনো বোল এখন অচল।যুগ পাল্টেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে যতই "সামরিক" বলে গালাগাল করেন দুর্নীতির বাংলাদেশ শীর্ষ স্থান হারিয়েছে তাদের উদ্যোগের হাত ধরে, তারা খারাপ কি করেছে সেগুলোর একটা ফিরিস্তি দিলে ভাল করতেন। নচেৎ নিজের রাজনৈতিক রুচিবোধের মুদ্রাদোষ বশত "সামরিক শাসন" ঘেন্না হেতু ছাত্র রাজনীতিকে হালাল করার চেষ্টা করবেন, এটা ভাল কথা না। দেশটাকে ডান্ডা মেরে সোজা করতে মাঝে মাঝে মনে হয় জিয়া-এরশাদের মত একনায়ক দরকার, অন্তত তাদের আমলে দেশে উন্নতির চাকা বন্ধ ছিল এটা কেউ বলতে পারবেনা।
১২. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৫
রাজীব_নন্দী বলেছেন: যারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা বলছেন, আপনারা কি নিশ্চিত করতে পারবেন ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলেই সন্ত্রাস বন্ধ হবে ? জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বানিজ্য সহ প্রত্যেক ক্ষেত্রে যে লুটপাটের সংস্কৃতি চালু আছে তা বন্ধ না হলে সন্ত্রাস কখনোই বন্ধ হবেনা। বরং এই লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত কারন খুঁজে বের করা দরকার, না হলে শুধু অন্ধকারে ঢিল ছোড়া হবে, এতে না সন্ত্রাস বন্ধ হবে না লুটেরা রাজনীতি বন্ধ হবে, বরং ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনকে দমন করার বৈধতা দেয়া হবে।
১৩. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৮
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: @লেখক:
আপনি বলেছেন: "বাস্তবতা নির্মিত হয় তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই"

আপনার এই জানাটি ভুল আছে। বিস্তারিত জেনে নিবেন আশা করি। লিখতে ভালো লাগলো না এখন, পরে যদি সময় পাই তাহলে লিখা যাবে।

ধন্যবাদ।
১৪. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩০
রাজীব_নন্দী বলেছেন: আপনি দ্বিমত করলেন, তা আমি শ্রদ্ধা করলাম। কিন্তু এভাবে হাল ছাড়লেন?
১৫. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩৫
মেহেরুল হাসান সুজন বলেছেন: যারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য বক্তব্য রাখছেন, তাদের একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, যেসব কারণে আপনারা রাজনীতির এই ধারা বন্ধ করতে চাচ্ছেন সেগুলো আগে পরিস্কার হওয়া দরকার। ক্যঅম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি, খুন, রক্ত ইত্যকার বর্বরতা দেখে, শুনে বা জেনে আপনারা রাজনীতির এই ধারা বন্ধের কথা বলছেন। খুব স্বাভাবিক। ধরে নেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হলো। কিন্তু বন্ধ করার আগ পর্যন্ত যে পরিমাণ অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ (কোন কোন দলের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য) ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের কাছে ছিলো সেগুলোর পরবর্তী ব্যবহার কারা করবেন বা কীভাবে করবেন-এই বিষয়টি আগে বিবেচনা করা দরকার। এই ধারার রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য যারা বলছেন, তাদের সপক্ষে ধরে নিলাম- রাজনীতির ধারাটি বন্ধ করে ছাত্র সংঘঠনগুলোর অস্ত্র-সশ্ত্রও কবজা করা হলো। এই যুক্তিটিও আপনার খাড়া করাতে পারবেন না। কারণ, প্রতিনিয়ত বহু বছর ধরে যে পরিমাণ অস্ত্র আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে তাতে কি ওইসব অস্ত্র দিয়ে করা কর্মকান্ড শেষ হয়েছে?

এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করতে পারি। গত বছরের ১১ মার্চ ছাত্ররাজনীতির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু একদিন পরেই একজন ছাত্রনেতা এবং গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আরেকজন ছাত্রনেতা নিহত হয়েছেন। এরমাঝে তো বছর জুড়ে ছোটখাটো সংঘর্ষ ঘটেছেই। আমরা যদি রাজনীতি বন্ধের প্রথম ধাপ হিসেবে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকেই ধরে নিই, তাহলে সেটি যে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে তাকে সন্দেহ থাকার কথা নয়।

সুতরাং, আমার মনে হয় না যে, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রক্ত ঝড়ানো বন্ধ করার প্রথম বা একমাত্র কিংবা প্রধান পথ।
১৬. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৩
রাজীব_নন্দী বলেছেন: কি বলবো আর পড়শির কথা! সুজনে সুজন চেনে।
যাক, আপনি নতুন বিষয় নিয়া আসলেন বলে ধন্যবাদ। হ্যা, আমরা রাজশাহী ইউনিভার্সিটির উদাহরন টানতে পারি।
আমার মনে হয়, সুজন ভাইয়ের কথা পুরোপুরি ধরে নেয়া যায়। ধন্যবাদ আপনাকে। সাবধানে কাজ চালান বস।
১৭. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৫
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: হাল ছাড়ার কিছু ছিল না। থিওরি কি জিনিষ তা একটু আপনাকে পড়ে আসতে বলেছিলাম কিন্ত তা করেন নি মনে হলো।

আপাতত খুব পরিচিত একটা রেফারেন্স দিলাম এখান থেকেই পড়ুন থিওরি কি জিনিষ।
http://en.wikipedia.org/wiki/Theory

Theories are analytical tools for understanding, explaining, and making predictions about a given subject matter.

থিওরি ভুল হয় তা জানেন তো?
১৮. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: আমার ধারণা সবচেয়ে ভালো সমাধান হচ্ছে- সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই তুলে দেয়া। তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত এইসব সন্ত্রাস-হত্যা-খুনোখুনি হতে পারবে না। মানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই যদি না থাকে তবে সেখানে এগুলো হবে কেমনে???
১৯. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:

http://www.nagorikblog.com/node/62 এই পোস্টের কমরন্টে কিছু আলোচনা করছি, দেখতে পারেন .....
২০. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৪৯
মু আ হাকিম নিউটন বলেছেন: "তাহলে আপনার কী মনে হয় সদ্যজাত বাচ্চা প্রসবের পর আতুর ঘরের রক্ত ময়লার সাথে বাচ্চাটিকেও ফেলে দেয়া উচিত?" বিষয়ে দেওয়া আপনার যুক্তির অসাড়তা আপনাকে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। ভেবেছিলাম বুঝবেন। যাহোক, যুক্তিবিদ্যা সবার জন্য নয়। আপনি আপনার মত করে চালিয়ে যান।

আপনার মুল বক্তব্য সম্পর্কে আমি সমর্থন দিয়েছি তবে সেটা তাত্ত্বিক ভাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেয়া দরকার সেটা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও -- ধরুন আগামী ১৫ বছর। একটা ছাত্র প্রজন্ম ধরেন পার করে দেয়া দরকার। তারপর আবার নতুন করে শুরু করা যেতে পারে।
২১. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৫৭
আতিকুল হক বলেছেন: ছাত্ররাজনীতি কতটা ক্ষতিকর সেটা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাই। আমার চার বছরের পড়া শেষ হয়েছে ছয় বছরে। এই বাড়তি সময়টুকুর দায় বহুলাংশে ছাত্ররাজনীতির। আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারে সন্চয় বা বিনিয়োগ যাই বলুন তা হচ্ছে সন্তানদের পড়াশোনা। আমার বাবা অবসরে যান আমি পাশ করার ১১ মাস আগে। ঠিক সময়ে পাশ করলে আমি তখন চাকরি করতাম। আমি দেখেছি আমাদের পরিবার কতটা চিন্তায় ছিল বাবার চাকরি শেষে চলা নিয়ে। আমার কাছ থেকে অতীত ইতিহাসের কথা বলে ছাত্ররাজনীতির প্রতি সমর্থন পাবেন না। আমার জীবনের ইতিহাস বলে ছাত্ররাজনীতি আমার যে দুটো বছর নষ্ট করেছে তা কোনদিন টাকায় পূরণ হওয়ার নয়।

দেশের যে কোন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত অভিভাবককে জিজ্ঞেস করুন। কেউ ছাত্ররাজনীতি চায় না। ছাত্ররাজনীতির দরকার আমাদের নষ্ট রাজনীতিবীদদের মাসলম্যান সরবরাহ করার জন্য। শোষনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা বা ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আফিম খাইয়ে ঐ নিজামী/গোআ বা মেনন/ইনুর পকেট ভারি করতে। ধিক ছাত্ররাজনীতির আড়ালে মুনাফাখোর এইসব মুখোশধারীদের।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১১৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন একটাই; জীবনের জয় অনিবার্য...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই