বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তান দল পৌঁছে গেছে সেমি ফাইনালে! আমরা বাংলাদেশিরা আনন্দে ষোল খানা(৮খানা'র ডবল)! আমার বোনেরা, বাংলাদেশি বোনেরা গালে পাকিস্তানের পতাকা এঁকে গ্যালারি মাতিয়েছে! আমরা বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে দেখেছি আমার দেশের ছেলেরা পাকিস্তান পাকিস্তান বলে স্লোগান দিয়ে হার মানিয়েছে জলিল চাচাকেও।
মার্চ আমাদের স্বাধীনতার মাস। স্বাধীনতার কান্না কি আমরা শুনতে পাই? চেতনা, মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তর, এগুলো কি? ব্যবসায়িক পণ্য! রুটি-রুজি'র ধান্ধা জমানোর স্লোগান!
একাত্তরের এই মাসেই তো আমরা শুরু করেছিলাম কুকুর নিধন কর্মসুচি। পাকিস্তানি সেই কুকুরগুলোকে ঝাটিয়ে বিদেয় করার ইস্পাতদৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই তো শুরু করেছিলাম যুদ্ধ। যুদ্ধ তো শেষ। স্বাধীনতাটাকে কি পেয়েছি যেমন চেয়েছিলাম?
স্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ খুঁজে বের করার পথে পা বাড়িয়েছি এই ৩৯ বছরে ? একটি দিনও কি আমরা ভেবে দেখার ফুরসত পেয়েছি স্বাধীনতার মূল চেতনা এবং প্রকৃত উদ্দেশ্যটি কী ছিল?
প্রাসংগিকভাবে চলে আসে বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং পাকিস্তান দল প্রসংগ।
এই ৩৯ বছর পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে আমরা হাততালি দিয়ে সমর্থন দিয়েছি। একবারও আমাদের মনে হয়নি এই ক্রিকেটাররা তো তাদেরই উত্তরসূরী, যারা একাত্তুরে হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়েছিলো আমার ভাইয়ের উপর! আজকের আফ্রিদি-ইউনুস খানদের বাবা-চাচারাইতো তখন লাঞ্ছিত করেছিলো আমার বোনকে। আমার বাবার সামনে।
আমার মায়ের পেট কেটে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে বের করেছিলো সবেমাত্র মানব আকৃ্তিতে আসা আমার ছোট্ট ভাইটিকে। কী করে ভুলে গেলাম আমরা! এতো আত্মভোলা আমরা হলাম কী করে! বিবেকগুলো আমাদের কোথায় হারিয়ে গেলো!!
উল্টো আমরা অনেকেই যুক্তি খাড়া করি, রাজনীতি আর খেলাধুলাকে এক করে ফেলা উচিৎ নয়। পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ। আর মুসলিম ভাই হিসেবে আমরা পাকিস্তানকে সমর্থন করছি।
কী অদ্ভূদ যুক্তি!
কেনো একবারও আমাদের মনে হয়না পাকিস্তান ক্রিকেট দল ইসলাম প্রচারের কাজে আসলে মুসলিম হিসেবে তাদেরকে সাপোর্ট করার না হয় যুক্তি থাকতো। খেলাধুলা তো ইসলামের কাজ নয়।
রাজনীতি ও খেলার মাঠকে আলাদা রাখার পেছনেও আমরা যুক্তি দিই। অথচ বিস্ময়করভাবে আমরা ভুলে যাই ২০০০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে টেষ্টের মর্যাদা দেয়া যায় কি না, সেটা নিয়ে যখন টেষ্ট প্লেইং ৯টি দেশের অধিনায়কদের সভা হচ্ছিলো, সেখানে কিন্তু পাকিস্তান আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
ভারত, শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে ওয়েষ্টইন্ডিজ আমাদেরকে টেষ্ট স্ট্যাটার্স দেয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছিলো। বিপক্ষে ছিল অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। সাউথ আফ্রিকা ছিল নিরব।
পাকিস্তানকে জিজ্ঞেস করার পর সেদেশের অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক তার স্বভাবসূলভ ভঙ্গিমায় বা’হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর নখ কামড়াতে কামড়াতে বলছিলেন, “এ ব্যাপারে আমার কোনো মতামত নেই। বাংলাদেশকে টেষ্টের মর্যাদা দেয়া হলে কতটুকু কী হবে আমি বুঝতে পারছি না। দেখুন, এটা আপনাদের ব্যাপার”
অথচ ভারতের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী আমাদের হয়ে কোমর বেঁধে তর্ক করেছেন সেদিন। তাহলে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে সমর্থন আমরা কোন্ যুক্তিতে দিই?
আমার মনে হয় সময় এসেছে জাগবার। পাকিস্তান দলের জন্য হাততালি দেবার আগে ভাববার, ওরা কারা?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


