somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘরামীর কান্নায় স্তব্ধ এজলাস কক্ষ

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Click This Link

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ২৩তম সাক্ষী মধুসূদন ঘরামী তার জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিন তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যও দেন।

বুধবার সকালে একটি সিকবেডে শুয়ে তার জবানবন্দি শেষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মধুসূদন ঘরামী। এ সময় তার পাশে একজন ডাক্তারও ছিলেন।

একই সঙ্গে এদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মামলার অন্য সাক্ষীকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করার নিদের্শ দেন।

জবানবন্দিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন কথা স্মরণ করে ৮০ বছর বয়স্ক ঘরামী হৃদয়বিদারক কান্নায় ভেঙে পড়লে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এজলাস কক্ষ।


মধুসদন ঘরামী জবানবন্দিতে বলেন, ‘দেলাওয়ার সিকদার ৭১ এ সাঈদী নামে পরিচিত ছিলেন। এই দেলাওয়ার সিকদার আমাকে, কৃষ্ণ সাহা ও ডা. গণেশকে মসজিদে বসিয়ে মুসলমান বানায়। তখন আমার নাম রাখে আলী আশরাফ ও কৃষ্ণ সাহার নাম রাখা হয় আলী আকবর। কিন্তু কৃষ্ণ সাহা মুসলমান হয়ে আল্লার নাম নিয়েও বাঁচতে পারেনি। কয়েকদিন পর তাকে হত্যা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘দেলাওয়ার সিকদার আমাদের বলেছিল তোমরা মুসলমান হলে মরবা না, তা না হলে বাঁচবা না।’

ঘরামি সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘একদিন বিকেল চারটা কি সাড়ে চারটার দিকে আমার বাড়িতে রাজাকাররা আসে। তখন আমি বাড়িতে ছিলাম না। বাড়িতে আসার পর আমার স্ত্রী আমাকে বলে, তোমাকে যে মুসলমান করেছিল সে এসেছিল। স্ত্রী আরও বলে, “তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি আর বলতে পারছি না, আমার চিন্তা কর না, তুমি পালাও”।’

এ কথা বলে তিনি এজলাসকক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন তার কান্নায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এজলাসকক্ষ। কারও কারও চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তেও দেখা যায়।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষে আমার স্ত্রীর একটি কন্যা সন্তান হয়। আমি তার নাম রাখি সন্ধ্যা।’

স্ত্রী এখন কোথায় আছে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির জবাবে তিনি বলেন, ‘স্ত্রীকে লোকজন গঞ্জনা দিলে, অপমান করলে আমি আমার শ্যালককে বলি কি করবা? তখন শ্যালক বলে, ভারতে নিয়ে যাই। কিছুদিন পর স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে শ্যালক ভারতে চলে যায়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আমার আর দেখা হয়নি।’ এ কথা বলে তিনি আবারও কন্নায় ভেঙে পড়েন।

অপর এক পশ্নের জবাবে ঘরামী জানান, তিনি আর বিয়ে করেননি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এ সময় তাকে প্রশ্ন করেন।

এখন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মিজানুল ইসলাম ও অ্যাড. কফিল উদ্দিন তাকে জেরা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার তাকে উপস্থিত করা হলেও অসুস্থতার কারণে তার সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

ওইদিন ঘরামীকে ট্রাইব্যুনাল এজলাসে উপস্থিত করা হলে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, তার শরীরের যে অবস্থা তাকে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ অমানবিক। কারণ তার অবস্থার কারণে আসামিপক্ষের জেরা করা সম্ভব নয়।

এ সময় জামায়াতের আইনজীবী তাজুল ইসলামও একই কথা বলেন।

পরে এক আদেশে বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ বলেন, অসুস্থতাজনিত কারণে সাক্ষ্য দিতে অপারগ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন এবং আসামিপক্ষের সম্মতিতে আজ সাক্ষগ্রহণ স্থগিত করা হলো।

প্রসঙ্গত, সাক্ষী মধুসূদন ঘরামীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনেক আগে হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ৮০ বছর বয়স্ক মধুসুদন বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে বুধবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১২৩৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×