somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজানীতিবিদ যখন ক্রিকেটার B-) ;)

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্রিকেটারদের বদলে রাজনীতিবিদরা যদি ক্রিকেট মাঠে নামতো তাহলে কেমন হতো ব্যাপারটা?
জানাচ্ছেন আলিম আল রাজি


১। গন্ডগোল শুরু হয়ে যেতো খেলা শুরুর আগে থেকেই। কি হবে টুর্নামেন্টের
নাম? কার নামে হবে নাম? এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিরাট কেচাল লেগে যেতো। এক
দল বলতো এই নামে হতে হবে টুর্নামেন্টের নাম, আরেকদল বলতো অন্য নামে।

২। টসের মধ্যে শুরু হতো আরেক ঝামেলা। যে দল টসে হারতো তারা শুরু করতো
হাউ কাউ। “টসে কারচুপি হয়েছে” “কয়েনের দুই দিকেই এক জিনিষ ছিলো” “এই টস মানি না” "এই টস বাতিল করে আবার টস করতে হবে" টাইপের চিল্লাচিল্লি করে
মাঠ মাতিয়ে ফেলতো পরাজয়ী দল।

৩। অন্য দিকে বিজয়ী দল বুক ফুলিয়ে বলতো “ভাগ্য ওদেরকে প্রত্যাখ্যান
করেছে”
“ভাগ্য আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে”। তারা দর্শকদের ক্রিকেটের
জোয়ারে ভাসিয়ে নেয়া যাবে।
পরাজিত দলকে পরাজয় ভুলে ভালো খেলায় যুক্ত হতে আহ্বান জানাতো বিজয়ী দল।

৪। খেলা মাঠে গড়ানোর ঠিক আগে আগে এক দল গো ধরে বসতো এই আম্পায়ার তারা মানে না।
এই আম্পায়ার হলেন “তাবেদার”। এই আম্পায়ার হলেন “দালাল”। তারা এই দালাল
তাবেদার আম্পায়ারের পদত্যাগ চায়। না হলে তারা খেলবে না।
অন্য দিকে অন্য দল বলবে খেলা এই আম্পায়ারের অধীনেই হতে হবে। ফলে দুই দলের
মধ্যে আবার শুরু হতো ঝগড়া।

৫। ঝগড়া থামাতে হস্তক্ষেপ করতো ICC. দুই দলের মধ্যে একটা “সংলাপ”-ও হয়ে যেতে পারে।
অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে দুই দলকে মাঠে নামানো হতো।

৬। খেলা শুরুর পরে আবার ঝামেলা। ব্যাটসম্যানরা চার মারলে বোলাররা গো ধরতো
তারা এ চার মানে না। এই চার হলো ক্রিকেটিও সংবিধান বহির্ভূত চার। কারণ
সংবিধানের ৩৩ পৃষ্ঠার ৬ নম্বর লাইনে লেখা আছে ব্যাটসম্যান চার মারার সময়
কাশি দিলে সেই চার অবৈধ।

৭। অন্য দিকে ব্যাটসম্যানরা সিঙ্গেল নিয়ে বলতো ছক্কা মেরেছে। আউট হয়ে
বলতো আউট হয়নি।
প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে হলেও তারা সিঙ্গেল-কে ছক্কা বানানোর ও আউটকে
নট-আউট বানানোর প্ল্যান করতো।

৮। ব্যাটসম্যানদের এই আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে বোলাররা মাঠে মানব বন্ধন ও হরতাল
শুরু করতো। 'রানের চাকা চলবে না', 'ক্রিকেট বল ঘুরবে না'- এই স্লোগানে
মাঠ মুখরিত করে ফেলতো তারা।

৯। বোলারদের মানব বন্ধনে ব্যাট হাতে তেড়ে আসতো ব্যাটস্যানরা। “মৃদু ব্যাট
চার্য”
করে ছত্রভঙ্গ করে দিতো বোলারদেরকে।


১০। এক পর্যায়ে বোলার-রা বলতো তাদের হরতাল ও মানব বন্ধন সম্পুর্ন সফল
হয়েছে। দর্শকরা বোলারদের সাথে থেকে ব্যাটস্যানদের প্রতি তাদের অনাস্থা
প্রকাশ করেছে।
অন্য দিকে ব্যাটসম্যানরা বলতো দর্শক বোলারদের কর্মসূচি প্রত্যাখান করেছে।

১১। জটিলতা চুড়ান্ত রুপ ধারণ করতো খেলার শেষের দিকে যখন জয় পরাজয়
নির্ধারণ হতো তখন।
যারা পরাজিত হতে যাচ্ছে তারা অন্য দলের বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে বসতো।
আর জয়ী হতে যাওয়া দলও পালটা কর্মসূচি দিতো। দুই দলের কর্মসূচির মাঝখানে
পড়ে বারোটা বেজে যেতো দর্শকদের।

১২। খেলার সর্বশেষ রেজাল্ট হতো ইয়া মোটা একটা গোল্লা; মতান্তরে ঘোড়ার আন্ডা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:২৩
৪৪টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×