somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, এক তরুনের কথা শুনতে পাচ্ছেন?

২৮ শে জুন, ২০১১ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি এই দেশেরই একটা ছেলে। যার বয়স খুব বেশি না। যে রাজনৈতিক মারপ্যাচ খুব বেশি বুঝে না। বুঝতে চায়ও না। অন্য আট দশটা ছেলের মতো যে এই দেশটা নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে এবং বিশ্বাস করে তার স্বপ্ন একদিন না একদিন সত্যি হবেই।

আমাদের সম্পদ হয়তো কম। আমাদের ক্ষমতাও হয়তো বেশি না। পত্রিকা পড়লে টিভি খুললে সুসংবাদের চেয়ে দুঃসংবাদ বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু তাতে কি? আমি অনুভব করার চেষ্টা করি আমরা খুব আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াচ্ছি। এগিয়ে যাচ্ছি।
টিভিতে যখন খুব ভালো কোন খবর দেখি তখন অন্য অনেক তরুনের মতোই আমার চোখে পানি এসে যায় আনন্দে। প্রায়ই টিভির সামনে থেকে চলে আসি। বাবা হয়তো দেখে বলবেন "ছেলেটা কাঁদে কেনো?"।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
কিছু দিন থেকেই শুনছি আপনার সরকার একটা ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে সিদ্ধান্তের কারনে এদেশের গ্যাস নিয়ে যাবে বিদেশি একটি কোম্পানি। যে গ্যাসের পুরোটাই আমাদের হওয়ার কথা ছিলো সেটাতে ভাগ বসাবে বহুজাতিক বেনিয়ারা। আমরা পাবো মাত্র ২০ ভাগ অথবা কিছুই পাবো না।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনাকে প্রচন্ড জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে যে সম্পদকে এই দুঃখি দেশটা পরম মমতায় যুগের পর যুগ নিজের বুকে আগলে রেখেছে কোন অধিকারে সেই সম্পদকে আপনি অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছেন? কে দিয়েছে আপনাকে এই অধিকার?

আমি হয়তো কোন দেশপ্রেমিক নই, কোন দেশপ্রেমিকের সন্তানও নই। বিদেশে গিয়ে বিলাসবহুল জীবন শুরু করাটা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমাকে সারাটা জীবন এই দেশেই থাকতে হবে। খেয়ে পরে বাঁচতে হবে।
কিন্তু প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি জানেন যে দেশটাতে আমাকে বাকি জীবন কাটাতে হবে সেটাকে আপনি নরক বানানোর প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন? আমাদের চোখের সামনে আছে নাইজেরিয়ার উদাহারণ। নিজেদের সম্পদ থাকা স্বত্তেও নাইজেরিয়া পরিনত হয়েছে এক অসহায় জাতিতে।

খুব সহজ বাংলায় বলতে গেলে আপনি এবং আপনারা আমাদের নিয়ে, আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে একটা খেলায় মেতে উঠেছেন।
প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করছেন- 'দেখো! কিচ্ছু হবে না। আর হলেই বা কি? এটা তেমন ব্যাপার না।'
কনকো ফিলিপস এর সাথে যে অভিশপ্ত চুক্তিটি করা হয়েছে সেটা বাতিলের সুযোগ থাকা স্বত্তেও তা আপনারা করছেন না।
একের পর তির্যক মন্তব্য করছেন আমাদের নিয়ে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার কিংবা আপনাদের ভাষ্যমতে আমরা হলাম টোকাই। হ্যা... স্বীকার করছি আমরা টোকাই। আমাদের প্রতিদিন নতুন শার্ট কেনার টাকা নেই। নুন আনতে আমাদের পান্তা ফুরোয়। আমাদের চাল নেই চুলো নেই।
কিন্তু এই দেশটার জন্য আমাদের মমতার কোন ঘাটতি নেই। আপনার প্রত্যক্ষ মদদে এই দেশটা নরক হয়ে উঠবে আমরা তা সহ্য করবো না। হ্যা। খুব স্পষ্ট করে বলছি- "আমরা সহ্য করবো না"

এই দেশটা আমার মায়ের সমান। আমার পূর্বপুরুষরা এই দেশের জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন। প্রতিবারই তারা সফল হয়েছেন। এই দেশের স্বার্থবিরোধী কোন সিদ্ধান্তের বিপক্ষে লড়ার জন্য এর থেকে বড় অনুপ্রেরণা আর আমাদের জন্য কি হতে পারে?



প্রধানমন্ত্রী,
একটু কান পেতে শোনার চেষ্টা করুন। মানুষ ফুঁসছে। নিরব বিপ্লব সব সময় সরব বিপ্লবের চেয়ে বেশি ভয়ংকর।
আমরা বেশিরভাগ সময় চুপ করে থাকি। কিন্তু "আমরা শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি"। এবারও লড়বো। মায়ের জন্য লড়বো। আমাদের মাকে আমরা ধর্ষিত হতে দেবো না। এ দেশের সম্পদ দেশেই থাকবে। এক বিন্দুও অন্য কোথাও যাবে না। আমাদের দেশটাকে আমরা নাইজেরিয়া হতে দেবো না।

জানি, আমার কিংবা আমাদের এই কথাগুলো অসংখ্য দেয়াল আর চাটুকার ডিঙ্গিয়ে আপনার কানে যাবে না শেষ পর্যন্ত। তাছাড়া আপনি দেশপ্রেমিক মানুষ। দেশের সমস্যা নিয়ে ব্যাস্ত। তাই দেশের "টোকাই"রা আগামী ৩ তারীখ রাজধানীতে অর্ধ-দিবস হরতাল ডেকেছে।

এই টোকাইদের ক্ষমতা সীমিত। আপনার ক্ষমতা অসীম। শক্তি প্রয়োগ করে হরতাল হয়তো থামাতে পারবেন অথবা পারবেন এই আমাদের মত টোকাইদের জেলে পুড়তে কিন্তু ক'জনের কন্ঠ বন্ধ করবেন?
কয়েকজন প্রতিবাদীকে থামালেই কি প্রতিবাদ থামাতে পারবেন? পারবেন না।

লেখাটার শেষে এসে আপনার জন্য করুনাই হচ্ছে। জনস্রোতের বিপক্ষে দাঁড়ানো এক প্রধানমন্ত্রীকে আমার কাছে "ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার" ছাড়া আর তেমন বিশেষ কিছুই মনে হচ্ছে না।
ভালো থাকুন।

*************************************************
হরতালের দিন কি আমরা লাইভ ব্লগিং করতে পারি না? যারা রাস্তায় থাকবে তারা রাস্তার ছবি আর পরিস্থিতি নিয়ে পোস্ট করলো কমেন্ট করলো! টোকাইদের পাশে ছায়ার মতো ইলেক্ট্রনিক কিংবা প্রিন্ট মিডিয়া থাকবে এমন আশা করাটা মনে হয় একটু বেশি হয়ে যাবে। টোকাইরা তাই অনলাইনে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ীই না হয় খবর জানালো!
৭৯টি মন্তব্য ৬১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×