খুব ছেলে বেলায় ,বয়স কতো আর হবে ১২ কি ১৩ ,খুব আবছা মনে পড়ে -খাবার টেবিলে গরম ভাত বড় একটা ডিসে বাড়া ছিল।ক্ষুধার্ত আমি দৌড়ে ভাতের উপরের অংশ নিজের প্লেটে নিচ্ছিলাম।তৎক্ষনাত মা আমার হাতে ধাক্কা দিয়ে বললেন -"উপরের ভাত নিবি না ,ওরা নিয়ে নিক ।"এই ওরা হচ্ছেন দুই ভাই এবং বাবা।আমি কেবল আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম ;এরপর যখন মুরগীর রান দুখানা দুই ভাইয়ের প্লেটে চলে গেল সে কি চিৎকার আমার। সেই কান্না পরে হলো লজ্জা ,সবাই ক্ষেপাতে লাগলো -"তুইতো রান খাওয়ার জন্যে কাঁদিস। "ওরা কি বুঝবে ওই টুকুন শিশু মনতো আর নারী পুরুষ হিসেব কষেনি।কিন্তু আমার মা কষেছিলেন ,তাইতো তার পাতে কোনদিন ডিম বা মাছের মাথা দেখিনি।এখন তিনি গরম দুধে ডুবে থাকেন ,কিন্তু অপুষ্টি তার পিছু ছাড়ে না।তার মা তাকে যা শিখিয়েছেন তিনি তাই করেছেন ,প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার মূলে আঘাত করতে পারেনি একবিন্দুও।
নারী যে যুগে যুগে নিঘৃত তা সমাজপতিরা ভালোই বুঝেছিলেন ,তাইতো নারীর জন্য নির্ধারিত হয়েছে একটি দিন।অবশ্য তাতেই যে নারীর প্রতি বৈষম্য ঘুঁচে যাবে তা কিন্তু নয়,সভা সেমিনার করেতো আর অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় না,দরকার প্রতিটা পরিবাবারকে নিয়ে অঞ্চলভেদে গঠনমূলক আলোচনার।এখনো বেশীর ভাগ পরিবার থেকে মেয়েরা সম্পত্তি থেকে বন্চিত হয় ,এই একটি জায়গায় ধর্মের অজুহাতে সম্পত্তি ভাগের পুরনো আইনেই আমরা রয়ে গেছি ।তাও যদি তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হতো!! ধর্মে দেন মোহর বিয়ের রাতেই দিয়ে দেবার কথা থাকে ,কিন্তু ২০ বছর সংসার করেও মেয়েরা তা পায় না।
শিক্ষিত পরিবার যৌতুকের নাম বদলে রেখেছে উপঢৌকন ,এখনো অনেক জায়গায় টাকা না দিলে মেয়ের বিয়েই হয় না।
সময় পাল্টে গেছে ,নারীর স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে মেয়েদের গায়ের কাপড় ছোট থেকে ছোটতর হচ্ছে।কোন কোন উচ্চবিত্ত পরিবারে চলছে হিন্দী সিরিয়ালের মতো অবাধ মেলামেশা। ছেলেরা রাতে বাইরে থাকতে পারে আমি পারবো না কেন -এই বিশ্বাসে অন্ধ হয়ে মেয়েরা হারিয়ে ফেলে শালীনতা। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না -পুরুষ আর নারীর শারীরিক একটা পার্থক্য আছে ,পুরুষ জোর করে অনেক কিছু নিতে পারে ;কিন্তু নারীকে হতে হয় কৌশলী। নারী অবশ্যই অনেক ধৈর্য্যশীল ও সহনশীল ,ডেক্স যবগুলোতে তাই মেয়েদেরই প্রাধান্য বেশী।যুগে যুগে পুরুষ মনই নারীর মায়ার জালে পরাভূত ,নারীর আছে মা হবার অপরিসীম ক্ষমতা।একজন নারী স্বামী বিগত হলেও সন্তান নিয়ে জীবন যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারে ,কিন্তু পুরুষকে সংসার টিকিয়ে রাখতে নারীর শরনাপন্ন হতে হয়।
এখন এই নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে ,কন্যা- জায়া -জননী সম্পর্কের বাইরে গিয়ে মানুষ হিসেবে বিচার করতে হবে। নিজে কি পেয়েছি কি পাইনি তা ভুলে গিয়ে মেয়ে কিংবা বউকে কতোটুকু দিতে পারি তা ভাববার সময় এসেছে।এই চর্চাটা যদি আমরা ঘরে ঘরে শুরু করতে পারি তবে নারী মুক্তির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে শ্লোগান দিতে হবে না।
নারীর মুষ্ঠিতেই রয়েছে নারীর সন্মান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


