গুটিকয়েক বামপন্থি (যেমন-প্রথম আলু) ভারত-প্রেমে অন্ধ হয়ে পৃথিবী থেকে বাংলাদেশকে সম্ভবত বিচ্যুত করে ফেলার পায়তারা করছে। এই প্রেম এতই গভীর ও সুদূর প্রসারি করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, পৃথিবীতে ভারত ছাড়া যেন বাংলাদেশের কোনো বন্ধু নেই। এর মাধ্যমে দুটো ব্যাপার হতে পারে। এক হলো- ভারত যা বলবে, বাংলাদেশ অবনত মস্তকে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাবে। আর হলো- বাংলাদেশ এক ভারত-আশ্রিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যেমন ভুটান। ভারত কেবলই তার প্রতিবেশীদের উপর খবরদারি করতে চায়। ভুটানের মতো বাংলাদেশকেও ভারত একইভাবে তার প্রভাবিত রাষ্ট্র হিসেবে তাঁবেদার রাখতে চাইবে।
কি চায় ভারত বাংলাদেশের কাছে? কি চাই ভারতের। চাওয়ার আগেই নৈবেদ্য পাত্রে সেসব নিয়ে হাজির হয়েছে। আপনার কি ট্রানজিট লাগবে? আপনার কি করিডোর লাগবে? আপনার কি বন্দর লাগবে? আপনার কি বাংলাদেশে ব্যবসায়-বাণিজ্য লাগবে? আপনি কি বাংলাদেশের বই ছাপিয়ে পয়সা কামাতে চান? আপনি কি এখানে ৭ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায় করতে চান, যে ব্যবসার মাধ্যমে আপনি আরো ১০ হাজার কোটি টাকা লাভবান হবেন? আপনি কি বাংলাদেশের রেললাইন ব্যবহার করতে চান? আপনি কি বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে চান? মোবাইল টেলিফোনের ব্যবসায় আপনি কি মনোপলি চান? সব নিয়ে নেন। কাকাবাবু আমাদের শুধু দেখে রাখবেন। এরকমভাবে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন মনিপুরের প্রিয়াব্রাত্তা ও সিকিমের লেন্দুপ দর্জি। পরে তারা মাসোয়ারার টাকা আনতে গিয়ে হিন্দুস্তানের কেরানীদের লাথি খেয়েছে। বড় দুর্বিষহ ছিলো তাদের সে জীবন। জানি না, শেষ পর্যন্ত কোথাকার পানি কোথায় গড়াবে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান জন্মান্ধ বামপন্থিরা তেমন এক বিপদজনক পথে পা বাড়িয়েছে।
এই পৃথিবীতে বাংলাদেশ বর্তমান মুহূর্তে ভারি একা। পৃথিবীর কোথায়ও বাংলাদেশের কোনো বন্ধু নেই। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ার খবরদারি নেতৃত্ব দায়িত্ব দিয়েছে। সে কারণেই ভারত এখন বেপরোয়া। কিন্তু ভারতের নীতি নির্ধারকেরা একবারও চিন্তা করতে চাইছেন না যে, শিক্ষা বঞ্চিত নেপালে তাদের কর্তৃত্ব এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছে গেছে। যদি কোনোভাবে সেখানে ভারত জোড়াতালি দিতে চায়ও, সেটা যে ভঙ্গুর হবে বিষয়টি ভারতের নীতি নির্ধারকেরা উপলব্ধি করেন। কিন্তু ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র প্লেয়ার নয়। স্বার্থের সংঘাতে চীন এখন দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শক্তি।
বামপন্থিরা যাই ভাবুক না কেন, ভারতকে যতই উজার করে দেবার চিন্তা করুক না কেন, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা কৌশলগত দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ভারতকে দিয়ে দিলাম, আর বাংলাদেশ ভারতের হয়ে গেল-এই সরল সমীকরণ নিতান্তই আহম্মকের স্বর্গবাস। বামপন্থিরা বাংলাদেশে ভারি নিঃসঙ্গ। বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের কী ধারণা, জানি না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামক এক ইতর শ্রেণীর লোকজন এখানে আফগানিস্তানের বাচ্চায়ে শকাবের মতো ক্ষমতা দখল করেছিল। সবচেয়ে অশিক্ষিত লোকটি সেখানে অল্প কিছুদিনের জন্য সবচাইতে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এত ভিখারী অশিক্ষা কখনো দেখা যায়নি।
বামপন্থিরা এখন যে পথে অগ্রসর হচ্ছে তাতে অগ্রগতি-কল্যাণ কোনো কিছুই নিহিত নেই। এখন সবকিছুই ভারতানুগ, ভারতমুখী। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে এ রাষ্ট্র ও সংঘের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ আমরা ২০০৭-০৮ সালে ধারাবাহিকভাবে দেখে এসেছি। সাম্প্রতিককালে পৃথিবীতে এমন বেহায়া হস্তক্ষেপের নজির নেই। বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত ও তার অনুগামী সংঘ ও সংস্থার এত মাথাব্যথা কেন? সে মাথাব্যথা বাংলাদেশের ভূপ্রাকৃতিক কারণে এবং সে জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি উভয়ক্ষেত্রেই আমাদের সতর্ক থাকার দরকার ছিলো। শুধুমাত্র ভারত-দেবতাকে ভোগ দিয়ে বামপন্থিরা টিকে থাকতে পারবে না। তার আলামত ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





