somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাদের নিয়ে আমরা কখনোই আলোচনা করবো না/:) --- স্বর্ণকন্যা রুমির সংগ্রামী জীবন

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গল্পটা ঠিক আর দশটি পরিবারের মতো নয়! সেটা হলে তো আট ভাইবোনের সবচেয়ে ছোটটি সেই পঞ্চগড়ের আজিজনগরেই থাকত! আবদার আর আদরেই কাটত শৈশবের দিনগুলো। কিন্তু বেশি ভাইবোন থাকা পরিবারের আদুরে বোন হওয়া সম্ভব হয়নি শারমিন ফারজানা রুমির। জীবনের কঠিন বাস্তবতা যতটুকু থাকে, তারচেয়েও বেশি অতিক্রম করতে হয়েছে তাকে। তাইতো ‘না’ শব্দের অস্তিত্ব নেই তার অভিধানে! গতকাল সেই সংগ্রামের পুরস্কারও মিলল! আফগানিস্তানের লায়লা হোসাঙ্গের হিসাব উল্টে দিয়ে তায়কোয়ান্দোর অনূর্ধ্ব-৪৬ কেজিতে স্বর্ণপদক জিতলেন বাংলাদেশের শারমিন ফারজানা রুমি। এবারের এসএ গেমসে হামিদুলের পর আবারও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জিমন্যাসিয়ামে বেজে উঠল বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। উড়ল লাল-সবুজ পতাকা।
হিসাবের ছকে এ ইভেন্টে আফগানিস্তানের প্রতিযোগীই ছিল ফেভারিট। কিন্তু দিনটা ছিল বাংলাদেশের রুমির। নেপালের ইয়ান কুমারীকে হারানোর পরই বুঝতে পারেন আজ হবে! ‘মিথ্যে বলব না। আমার লক্ষ্য ছিল ভালো খেলা। কোনো পদক আসবে—এসব নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু নেপালের প্রতিযোগীকে শুরুতেই যেভাবে হারালাম, তারপর মনে হলো আজ হবে’—বলছিলেন রুমি। আসলেই হলো। এরপর গতকাল বিকালে এনএসসি জিমন্যাসিয়ামে যা করতে চেয়েছেন, তাই হয়েছে। ৩ রাউন্ডের লড়াইয়ে আফগানিস্তানের লায়লার বিপক্ষে জিতেছেন ১৫-৪ পয়েন্টে।

আসলে একদিনের পরিশ্রমেই কি ওই স্বর্ণ বাস্তবের ছোঁয়া পেল? না, বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার আজিজনগর গ্রামে জন্ম নেয়া মেয়েটির এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে। তখন শারমিন ফারজানা রুমি সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। পড়ছে স্থানীয় কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। তখনই বাংলাদেশ আনসারের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির কর্মকর্তাদের নজরে পড়ে রুমি। কিন্তু পরিবারের অনুমতি তখনও বাকি। রুমির বয়স যখন ৬, তখনই বাবা মারা যান। ৮ ভাইবোনের সেই সংসারের কর্তা তখন বড় ভাই।
একজনের সংস্থান হলে সংসারের খরচ কমবে—এই ভেবে বড় ভাই অনুমতি দিয়ে দেন। শুরু হয় রুমির নতুন সংগ্রাম। পড়াশোনা এবং আনসারের হয়ে তায়কোয়ান্দো চর্চা। প্রতিদিন ৫ ঘণ্টার বেশি অনুশীলন; এরপর পড়াশোনা—সব মিলিয়ে তার অন্যসব সতীর্থ যখন ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে কিংবা পালানোর পরিকল্পনা করছে, তখন রুমি ছিলেন অন্যরকম। আসলে তা না থেকেও উপায় ছিল না। তাকে যে মানিয়ে নিতেই হবে। তাতে অন্তত সংসারে কিছুটা হলেও যে চাপ কমে! এভাবেই একসময় পাস করেন এসএসসি। আর তাতে পায়ের নিচের মাটি শক্ত হতে থাকে।
এসএ গেমসের জন্য অনুশীলন করেছেন গত ১৪ মাস ধরে। চাইনিজ কোচ লি জু চাংয়ের প্রিয় ছাত্রীদের একজন হয়ে ওঠেন রুমি। কেননা, অন্যরা অনুশীলনে ফাঁকি দিলেও রুমি সময় দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। যেমনটা বলছিলেন—‘আসলে কখনই আমি ফাঁকি দেয়ার পক্ষপাতী ছিলাম না। কেননা এটা তো নিজেকে নিজেই ফাঁকি দেয়া! এগিয়ে যেতে হলে আমাকে তো পরিশ্রম করতেই হবে।’ পরিশ্রমের এই স্বীকৃতির পর ২০ বছর বয়সী রুমি বলছিলেন—‘এখানেই থেমে যেতে চাই না আমি। আমার লক্ষ্য থাকবে এখন এশিয়ান অন্য গেমসগুলো। সেখানেও ভালো করতে চাই।’
এটা তো গেল দেশের জন্য কিছু করার কথা। স্বর্ণ এনে দেয়ার পর নিজেকে নিয়ে কি ভাবছেন তিনি? না, এখানেও ব্যতিক্রম তেঁতুলিয়ার এই তরুণী। অন্যরা যখন সাহায্য-সহযোগিতার কথা বলেন, সেখানে আনসার থেকে মাসে চার হাজার টাকা বেতন পাওয়া শারমিন ফারজানা রুমি বলছিলেন—‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। অনেক কিছু পাচ্ছি। শুধু আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

কিছু মানুষ আছেন যারা নীরবে শুধু দিয়ে যেতেই জানেন। স্বর্ণকন্যা রুমি সেই তাদেরই একজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—প্রতিভার মূল্যায়ন না হলে তা আর কতদিন টেকে?
/:)

Click This Link



--------------

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫০
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×