somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শিখা রহমান
কবিতা প্রেমী; একটু এলোমেলো; উড়নচণ্ডী; আর বই ভালবাসি। শব্দ নিয়ে খেলা আমার বড্ড প্রিয়। গল্প-কবিতা-মুক্ত গদ্য সব লিখতেই ভালো লাগে। "কেননা লেখার চেয়ে ভালো ফক্কিকারি কিছু জানা নেই আর।"

আমাকে ধরো

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কয়েকদিন বৃষ্টির পরে আজ সূর্যদেবের মান ভেঙ্গেছে। এখানকার বৃষ্টি বড্ড কষ্ট খুঁড়ে তোলে। বেনী দোলানো ছোট্ট মেয়েটা মায়ের বকা খেয়ে ঘরের কোণে দুহাতে মুখ লুকিয়ে যেমন একটানা নীচু স্বরে কাঁদতে থাকে ঠিক তেমনটাই এখানে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি সারাদিন বিষাদের সুর গায়।

মিটিং শেষ করে বাইরে পা রাখতেই বহ্নির মন ভালো হয়ে গেলো। কি অদ্ভুত সুন্দর একটা দিন!! JUST PERFECT!!! হিমেল হাওয়ায় শীত শীত কাঁপন; চারিদিকের ইউক্যালিপ্টাসের বিষন্ন সবুজ সারির ফাঁকফোকর দিয়ে গায়ে রোদ পড়তেই ওম ওম লাগছে। রোদের লেপ জড়িয়ে হাঁটতে ভালোই লাগছে, মনে হচ্ছে বাতাসে ভাপা পিঠার গন্ধ।

লাইব্রেরীর সামনে একটা মেয়ে; রোদ পড়ে তার খোলা সোনালী চুলে এলোমেলো ঝিকিমিকি। পাখির মতো দুপাশে হাত ছড়িয়ে একটু উঁচু দেয়ালের ওপরে হাঁটছে; ঠিক যেমনটা ছোট্ট বহ্নি ধানক্ষেতের আইলে হাত মেলে টলোমলো পায়ে হাঁটতো।

পাশাপাশি সাইড ওয়াকে উদ্বিগ্ন ভঙ্গীতে হাঁটছে ওই স্বর্ণকেশীর বয়ফ্রেন্ড। খুব চিন্তিত; পড়ে না যায় তার ভালোবাসার মানুষটা। বহ্নি দেখতে দেখতেই মেয়েটা পা ফসকালো; ছেলেটা ওকে দুহাতে ধরে ফেলছে। মেয়েটার পা মাটি থেকে দু’তিন ইঞ্চি ওপরে; তার মুখ ঝুঁকে আছে ছেলেটার মুখের ওপরে। ছেলেটা এখোনো ওর কোমর জড়িয়ে আছে; সময় হঠাৎই থেমে গেছে। ওরা তাকিয়ে আছে পরষ্পরের দিকে; এ সেই চিরন্তন দৃষ্টি যা বলে “এইইই যে শোনো...আমাকে ধরো!!!”

অনেক আগে বহ্নি তার মানুষটাকে বলেছিলো “এই আমাকে ধরো!!”। সে তার পুরুষালী রুক্ষ হাত রেখেছিলো ওর থরোথরো আঙ্গুলে। “উহুউউ...না না আমাকে ধরো!!!” এবার মানুষটার চোখে একটু খুশীর ঝিলিক; সে তার লোমশ ভারী হাত রেখেছিলো বহ্নির কাঁধে। “ইশশ রে...আমার কাঁধ না আমাকে ধরো!”

মানুষটার চোখ মাতাল হয়ে গিয়েছিলো। টালমাটাল মানুষটা খসখসে দুহাতে ওর মুখ তুলে তার ওম ওম ভালুক বুকের কাছে নিয়ে এসেছিলো; ভরা দিঘীর তলের মতো ওর দুচোখে ব্যগ্র হয়ে ভালোবাসা খুঁজেছিলো। মনে হচ্ছিলো অনন্তকাল ওরা পরষ্পরের দিকে তাকিয়ে আছে। লজ্জা আর নীলাভ গালের খোঁচা খোঁচা না কামানো দাড়ির ঘষায় লাল হওয়া বহ্নির ঠোঁটে নেমে এসেছিলো তার একটু পুরু সুন্দর ঠোঁট জোড়া। খুব তৃষার্ত মানুষ যেমন জলে চুমুক দেয় ঠিক সেভাবে মুখ নীচু করে মানুষটা আদর করেছিলো।

তাকে অবাক করে বহ্নি বলেছিলো “আরে বোকা...এতো আমার মুখ.....আমাকে ধরো!” মানুষটা মরিয়া হয়ে জাপটে ধরেছিলো ওকে; একে একে স্পর্শ করেছিলো ওর চুল, ওর কানের লতি, ওর নাকের ডগা, ওর গলা, বুকের ভাঁজ, ওর কোমরের বাঁক, ওর শঙ্খসাদা উরু , ওর আলতা পরা পায়ের পাতা। আর...আর একে একে বহ্নি বলেছিলো “না না না.....আমার শরীর না....তুমি আমাকে ধরো...”

ওরা পারলো; মাত্র কৈশোর পেরোনো ওই ছেলেমেয়ে দুটো পারলো। “তুমি কেন পারলে না আমার মানুষটা?” বহ্নিকে ধরা হলো না আজও মানুষটার!!!

© শিখা রহমান
ছবিঃ আমার আঁকা
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৫
৩৬টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। আমাদের রেমিট্যান্স অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৪

হিজিবিজি নদীর ধারে খাদ্যমেলা
.................................................................



শামুক ভাইটি দিল ছুট,
পায়ে তাহার নাইকো বুট।
হোঁচট খেয়ে থাবড়া,
মাছের নাকে কামড় বা!

মাছটি বলে, "কী আপদ!
ছাড়ো আমার এই পথ।
"ফ্যাঁকফ্যাঁকে সব বুদবুদ,
ছুটলো তারা কুদকুঁদ।

ব্যাঙ ও মাছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেনা অচেনা জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২



ঝড়ের কাছে হেরে যাওয়া গাছ,
শুকনো পাতার মতোই ঝরে পড়ে।
আমি শিকড়ে বেঁধেছি বাসা,
তাই তো দাঁড়িয়েছি ঝড়ের পরে।

একলা রাতের নীরব জানালায়,
কত অশ্রু ভোরের আগে শুকায়।
শান্তি নামে শব্দহীন এক পাখি,
যখন মানুষ নিজেকেই খুঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সমস্যা ও সমাধান

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৬


ছবি-১

চলার পথে অনেকেই হয়তো মোবাইল ফোনে ব্লগ পড়তে বা দেখতে গিয়ে বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাধারণত মোবাইল ফোনে যারা ব্লগ পড়েন তাদের ব্লগের লেখা পড়তে ও ব্লগের লেখা সহ ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৪/শেষ পর্ব)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৪



৪. কুয়াশার ভেতরে ও বাইরে

পরের দুটো সপ্তাহ কেটে গেল এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক লুকোচুরির মধ্য দিয়ে। শামিত নিজেকে আপ্রাণ বোঝানোর চেষ্টা করল যে সে ক্যাভেনডিশ ব্যাংকের একজন সামান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মাত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×