somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাসের কাঠামো যেভাবে গড়ে ওঠে (তর্কাতিত নয়)

২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিশ্বাস; সত্য বলে আস্থাজ্ঞাপন করা বা কোন বিষয় বা বস্তুর উপর প্রত্যয় তৈরি হওয়াকে বিশ্বাস বলে। বিশ্বাসের ভিত গঠিত হয় কয়েকটি বিষয়ের উপর, এগুলো হলো; ধারণা, যুক্তি এবং প্রমাণ সাপেক্ষতা। এছাড়া প্রতীতী গড়ে ওঠার পেছনে রয়ে যায় কিছু ঐতিহাসিক কারণ যার মাধ্যমে বিশ্বাস করার মতো কিছু অবধারণা তৈরী হয়, এই অবধারণার সাপেক্ষ যুক্তি; প্রথমত তা যতই দূর্বল হোক তাই দৃঢ়তা দান করে অপরাপর প্রথা প্রতিবেশ, কুসংস্কার ও যুক্তি তৈরীর প্রচেষ্টা।
ধারণা থেকে যখন বিশ্বাসের কাঠামো তৈরি হয়, তখন বিশ্বাস সৃষ্টির জন্য যুক্তি ও প্রমাণ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাড়ায়। যদিও যুক্তি ও প্রমাণ এখানে বহুধা বিভক্ত; এমন কি কোন ধারাবাহিকতা সেখানে নাও থাকতে পারে। বিশ্বাস গড়ে ওঠে এর যে কোন রূপকে কেন্দ্র করেই।

দ্বিধা, সংশয়, ভয়, ভক্তি, ইচ্ছা, রহস্য, অসহায়ত্ব, স্নায়ুরোগ, স্বপ্ন মানুষকে অতিন্দ্রিয় ও যুক্তিহীন বিশ্বাস তৈরীতে সাহায্য করে, এমনকি ভ্রান্ত ধারণা যখন বিশ্বাসের কাঠামোয় দাড়ায়, তখন অপ্রাসঙ্গিক বিচ্ছিন্ন যুক্তি তা সেটা শ্রুতিগ্রাহ্য প্রমাণ ও হুযুগ একত্রিত ভাবে ভ্রান্ত বিশ্বাসকে দৃঢ়তা প্রদান করে।

তবে 'বিজ্ঞান যুক্তি' বিশ্বাস বলে যে প্রতীতী, তার বিকল্প দর্শন স্থাপন করে। 'বিজ্ঞান যুক্তি' সত্যকে একটি আপেক্ষিক অবস্থানে দাড় করায়। অর্থাৎ তা এমন যে, যা বর্তমান সত্য বলে প্রতীয়মাণ তা ভবিষ্যতে নতুন প্রত্যয় নির্দেশ করতে পারে। ফলে বর্তমান সমীকরণ সত্য, কিন্তু তা ধ্রুব নয়।
বিশ্বাসকে প্রথমত তিন প্রকারে ব্যাখ্যা করা যায়:-
১. অতিন্দ্রিয় বা অলৌকিকে বিশ্বাস
২. ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাস
৩. বিজ্ঞান যুক্তিতে বিশ্বাস

যদিও অলৌকিকে বিশ্বাস এবঙ ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাস কে একই ভাবধারায় ফেলার পক্ষে অনেকেই তবে আমি এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে আলাদা এবঙ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বলে মনে করি।

বিশ্বাস তৈরী হওয়া বা বিশ্বাসের কাঠামোগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা একটা স্বাভাবিক বিষয়ের প্রাধান্য দেখতে পাই; তা হলো, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া বিশ্বাস সৃষ্টিতে চালকের ভূমিকা নেয়।
অতিন্দ্রিয় বা অলৌকিক বিশ্বাস মানুষের কল্পনাপ্রবণ মনের তৈরী। অসহায়ত্ব ও ইচ্ছা পূরণের স্বপ্ন এবং স্নায়ুবিক চাপের মাধ্যমে এমন বিশ্বাস দৃঢ়তা লাভ করে। যেমন ইচ্ছাপুরণের কল্পনা অবচেতন মনের আয়নায় সত্য হিসেবে প্রতিভাত হয়ে পরে। এ ব্যপারে বিজ্ঞান কিছু বিষয়কে ব্যাখ্যা দেয়; যেমন ''হেলুলিউশন বা স্নায়ুরোগ'', এ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা রয়েছে।

ভ্রান্ত ধারণা প্রস্তুত হয় ভ্রান্ত বিশ্বাসের যুক্তি প্রমাণ সৃষ্টিতে। পূর্বের অভিজ্ঞতা যখন কোন যুক্তি তৈরীতে অপরাগ অথবা অপ্রাসঙ্গিক যুক্তি যখন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও সাদৃশ্যজ্ঞানে প্রতিভাত হয় তখন ভ্রান্ত যু্ক্তিই সত্যকে ঢেকে রাখে।
মানুষের সৃজনশীল মন অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্পর্শকাতর। চিন্তার ধারাবাহিকতা বাস্তবানুগ সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে অসীমকে স্পর্শ করার চেষ্টায় অতিবাস্তব কোন অসীমের প্রতি অর্পন করে। এ নিজের নির্ধারিত ভাগ্য বলে ধারণায় উপনীত হয়। এভাবে ভাগ্যে বিশ্বাস মানুষকে তাড়িত করে।

ভাগ্যে বিশ্বাসের চেয়ে কর্মফলে বিশ্বাস অনেকটাই আধুনিক ও বিজ্ঞান চেতনার অনুগামী। কিন্তু 'কর্মফল'কে অলৌকিক বিশ্বাসের অনুসারিগণ তাদের স্ব-কৃত করে চিন্তার প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে। তারা আরোপিত সত্য নির্ণয় করে দেয়। আর আরোপিত সত্য মুক্ত চিন্তার ধারাবাহিকতাকে ইচ্ছাপূরণের মনস্তত্ত্বে বন্দী করে, এবং বিশ্বাস সৃষ্টিতে বাধ্যকরে মনের চহিদার পক্ষে। তাই মনস্তত্ত্বে বিশ্বাস লালন নির্মোহ ভাবে গড়ে ওঠে না। সীমাবদ্ধতা, অসহায়ত্ব ও অজানা রহস্য তাকে বাধ্য করে অবচেতন মনে বাস্তবতার বিপক্ষে সংশয়ের বলয় তৈরীতে।

ইচ্ছাপূরণের জন্যেও নিদৃষ্ট বিশ্বাস সৃষ্টিতে পারঙ্গম মানুষ। সচেতনভাবে সত্যকে ঢেকে রাখা এবং কোন জনপ্রিয় বিশ্বাসের লেজুর হিসেবে উদ্দিষ্ট অর্থারোপ এবং তার মোটিভেশন সৃষ্টি করে কোন মতবাদ অন্ধভক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুসঙ্গী করে বিশ্বাস সৃষ্টি করা হয়।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বিশ্বাস সৃষ্টি হওয়ার ক্ষেত্রগুলো এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:-
ক. মনস্তাত্ত্বিক ভাবে
খ. উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আরোপিত
গ. বিজ্ঞান যুক্তির নিরিখে বা বিজ্ঞান যুক্তিতে সত্য অন্বেষায়।

৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×