আমার বন্ধু মাহফুজ সেদিন হঠাৎ করে বললো দোস্ত আমি মনে হ্য় বেশিদিন বাচবো না। কৌতুহলে মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝলাম সামথিং ইজ রং। কেন কি হইছে? জিগাইতেই কইল ওর গার্লফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না। জিগাইলাম বন্ধু বিষয় টা কি খুইলা কও। কইল দোস্ত তুইতো জানিস আমাদের সম্পর্কটা অনেক দিনের ওকে আমি খুব ভাল বাসি কিন্তু ইদানিং আমি ওরে অযথা সন্দেহ করি আর এইটা নিয়া খিটিমিটি লাইগাই আছে। আমি হাইসা কইলাম শুনছি মেয়েরা নাকি অযথা সন্দেহ করে, তা তুই কেন ওকে সন্দেহ করিস? আমতা আমতা কইরা কইল আসলে ও অন্য কোন ছেলের সাথে বেশি মিশলে মোবাইলে বেশি কথা বললে আমার ভাল লাগে না। আমি বন্ধুর মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকাইলাম আমার বন্ধু মাহফুজ যে প্রায় তিন বছর ধরে লীনা নামে এক মেয়ের সাথে প্রেম করছে। লীনা ওর দুর সম্পর্কের কাজিন লাগে। প্রায় ছয় বছর আগে ওদের সাথে প্রথম দেখা হয় মাঝখানে অনেক দিন দেখা সাক্ষাত হয় নাই মাঝে মাঝে মোবাইলে নাকি কথা হইত। একসময় আমার বন্ধু লীনার প্রেমের সমুদ্রে পইড়া হাবুডুবু খাইতে থাকে, পরবর্তীতে প্রপোজ করলে লীনাও সানন্দে রাজি হ্য়। ওদের অবশ্য বেশি দেখা সাক্ষাৎ হইতো না চার পাচঁ মাস পর পর একবার দেখা হইত। তবে মোবাইলে রাত দিন গুটুর মুটুর ননস্টপ চলতেই থাকত। মাহফুজ ছেলে হিসাবে খুব ভাল আর ওর প্রেমের প্রতিও খুব ডেডিকেটেড। কোন দিন অন্য কোন মেয়ের দিকে ফিরাও তাকায় না তাতে নাকি ওর লীনার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করা হয়, এক কথায় লীনা ছাড়া কিছুই বুঝতো না। ওদের প্রেমটা ছিল একটা আদর্শ। কিন্তু বন্ধুর এমন হতাশ অবস্থা দেইখা খারাপ লাগল। কইলাম দোস্ত কেন তুমি লীনাকে শুধু শুধু সন্দেহ কর? একটু খুইলা কওতো ঘটনা কি? মাফফুজ বলতে থাকল দোস্ত তুমিতো যান আমি লীনাকে অনেক ভাল বাসি। আর এই বেশি ভাল বাসাই আমার কাল হইছে। সব সময় মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে যদি ওকে কখনো ফারিয়ে ফেলি। তাই সব সময় ওকে ডমিনেট করতে চাইতাম। কোন ছেলে বন্ধুর সাথে মিশলে ভয় পাইতাম, মোবাইল বিজি পাইলে আমার মাথা খারাপ হয়ে যেত। কারন আমিতো দুরে আছি অনেক দিন পর পর দেখা হ্য় যদি ঐখানে আমার অবর্তমানে কিছু একটা কইরা ফালায়। আর ওর ও খালি ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব হ্য় ওর ক্লাশের কোন মেয়ের সাথে কোন দিন মোবাইলে কথা কইতে শুনি নাই। লীনা অবশ্য অসুস্থ থাকার কারনে ক্লাস বেশি করত না। আমার এইটা ভাল লাগত না । আমি কইতাম তোমার মেয়ে বন্ধু নাই কেন? ও বলত ওর যে ক্য়জন মেয়ে বন্ধু ছিল তারা অন্য কোথাও চলে গেছে আমি বলতাম তাইলে নতুন কইরা বান্ধবি বানাও ও কইত আমি কারো সাথে যেচে কথা বলতে পারি না। আমি জিগাইতাম -তাইলে তোমার ছেলে বন্ধু হইল কেমনে ও বলতো ওরা সবাই আগে আমার সাথে কথা বলেছে বন্ধুত্ব করতে চাইছে এইজন্য হইছে। আমি কইতাম তুমি তোমার বন্ধুদের গার্লফ্রেন্ড আছে কিনা জিগাইছ? ও কইত হ্যা। আমি বলতাম তুমি কি আমার কথা ওদের কাছে বলছ? ও কইত না। আমি বললাম তাইলে তুমি পরে ওদের কে বলে দিও যে তোমার ব্য়ফ্রেন্ড আছে ওদের সাথে আমাকেও পরিচয় করিয়ে দিও তোমার বন্ধু তো আমারো বন্ধু । ও বলল আমি পারব না । আমি বললাম কেন? সে বলল আমি পারিনা, বলতে আমার ভাল লাগে না। এইগুলা নিয়া ঝগড়া হইতো ও খুব রাগ করতো আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিত কিনতু আমি খুব আপসেট হয়ে পড়তাম আর কিছুক্ষন পর মনে হইত সব দোষ আমার, অনেক চেষ্টা করে তার পর ওর রাগ ভাঙ্গাইতাম নিজের ভুল স্বীকার করতাম কিন্ত তারপরও ও বলতো আমি সন্দেহ বাতিক গ্রস্থ। ওর ধারনা আমি সারা জীবনই এমন থাকব আর ওকে সামান্যতেই সন্দেহ করব আরও বলত যেখানে বিশ্বাস থাকে না সেখানে ভাল বাসও থাকে না। ভালবাসলে তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে হ্য়, সে যদি অন্য কোন ছেলের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হেটে যায় তাও অবিশ্বাস করা যাবে না ভাবতে হবে তাদের মধ্যে অন্য কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু দোস্ত আমিতো ওর কাছে থাকিনা কখন কি করে, আমি সব কিছু যুক্তি দিয়া বোঝার চেষ্টা করতাম। মোবাইলে ওর সাথে যতটুকু কথা হইত তার মধ্য দিয়া ওকে বোঝার চেষ্টা করতাম।ও কোন কিছু আড়াল করতে চেষ্টা করলে বা কারো সাথে কথা বললে এবং সেইটা আমারে না বললে আমি মাইন্ড করতাম। এই জন্য বার বার আরো এরকম অনেক রাগা-রাগীর ঘটনা ঘটছে। আমি কখনও চাইতাম না ওর কোন ফ্রেন্ড না থাকুক, কিন্তু তাতে যেন স্বচ্ছতা থাকে, ছেলে মেয়ে উভয়ের সাথে হয়। বিশ্বাস কর আমি ওকে বিশ্বাস করি আর একেবারেই যদি ওকে বিশ্বাস না করতাম তাহলে কি ওকে আজও এরকম ভাল বাসতাম ? কিন্তু মাঝে মাঝে কেন যে এমন করি নিজেই বুঝতে পারি না । আচ্ছা দোস্ত আমার কি কোন সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম আছে? তোর কি মনে হয় আমার কি কোন সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে কথা বলা উচিৎ? দোস্তরে আমি লীনাকে ছাড়া বাচুম না...। আমি আর কি কমু দোস্তর মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল কইরা চাইয়া থাকলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম বিচিত্র মানুষ, বিচিত্র ভালবাসা ।
আলোচিত ব্লগ
রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।
সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।