রাস্তার মোড়ে যে আমগাছটা যার পাশেই হাসুর চায়ের দোকান সেই জায়গাটাই সোহাগদের আড্ডাস্থল। ওরা এই জায়গাটাকে আমতলা সেন্টার বলে ডাকে। সোহাগরা আট বন্দ্ধু নিয়মিত এই জায়গাটায় আড্ডা দেয়। বিশেষ করে সকালে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সময়টাতে এবং বিকাল পাচঁটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। বেশির ভাগ সময়ই তাদের আড্ডার বিষয় বস্তু থাকে নারী শরীর। এলাকার কোন মেয়ের সাথে কে প্রেম করবে এবং কি ভাবে তার সাথে রুম ডেটিং করবে এই বিষয়ক আলোচনা। সেই সাথে স্কুল কলেজ গামী মেয়েদেরকে বিভিন্ন আজে বাজে ভাষায় টিজ করা। ওরা এই বিষয় টাকে খুব এনজয় করে। এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় কেউ তাদের কিছু বলতেও সাহস করে না। যে কারনে এই মজার কাজটি তারা নির্ভিগ্নেই করে যাচ্ছে। ওদের টিজিংএর কারনে অনেক মেয়েই স্কুলে আসা বন্দ্ধ করে দিয়েছে।
সবাই তাদের বখাটে ছেলে হিসেবেই চেনে কেউ ভয়ে তাদের কিছু বলেনা। যে কারনে তাদের টিজ থেকে কোন মেয়েই বাদ যায় না। নানা রকম আজে বাজে মন্তব্য করে তারা একধরনের পৈশাচিক শান্তি পায়। অনেক মেয়েই তাদের খারাপ কথা গুলো সহ্য করতে না পেরে কেদে ফেলে এতে ওরা আরো বেশি মজা পায়। এই ভাবেই প্রতিনিয়ত চলছিল সোহাগদের টিজিং।
একদিন বিকেল বেলা যথা রীতি তাদের আড্ডা চলছিল। সেদিন তাদের মনটা খুব উদাস একটা মেয়ের দেখাও পায়নি যাকে একটু টিজ করে মজা পাওয়া যায়। হঠাৎ দুরে একটা মেয়েকে রাস্তা ধরে হেটে আসতে দেখে রকি সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে। দোস্ত একটা পাখি আইতাছে, চল একটু মজা মারি। সোহাগ বলে, দোস্তরা মালটা কিন্তু আমার তোমরা কেউ নজর দিবা না। রকি বলে দোস্ত ঠিক আছে যাও মাল তোমার, তবে আমি যেহেতু আগে দেখছি তাই আমি একটা টিপ দিব শুধু। সবাই এক সাথে হেসে উঠে। মেয়েটা আসছে তাদের পথ ধরেই যতই কাছে আসছে ততই ওরা উত্তেজিত হয় ওদের চোখ গুলো চকচক করতে থাকে খুশিতে।
আরো কিছুটা কাছে আসতেই স্পষ্ট হতে থাকে মেয়েটির মুখ। সোহাগ কে কেমন যানি একটু চিন্তিত দেখায়। যতই কাছে আসতে থাকে মেয়েটা, সোহাগের মুখটা ততবেশি বিমর্ষ হতে থাকে। এক সময় মেয়েটা যখন সামনে এসে পরে সোহাগ মাথা নিচু করে ফেলে লজ্জায় তার মরে যেতে ইচ্ছা করছে। সোহাগের বন্দ্ধুরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে থাকে। মেয়েটা সামনে এসে দাড়ায়।
-ভাইয়া.... সোহাগ মুখ তুলে তাকায় তার সামনে তার নিজের ছোট বোন শীমা দাড়িয়ে।
টুম্পাদের বাসায় গিয়ে ছিলাম কিন্তু আসার সময় দেখি রিকশা নেই তাই হেটে আসলাম।
সোহাগের ঘোর যেন কাটেই না আস্তে করে বলে, চল বাসায় চল। সোহাগ তার বন্দ্ধুদের দিকে তাকায় না সোজা বাসার দিকে চলা শুরু করে।
সোহাগের বন্দ্ধুরা কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায় তবে কেউ কেউ আবার মুখটিপে হাসছিলও।
পরদিন থেকে সোহাগকে আর আমতলায় পাওয়া যায় না। তার বন্দ্ধুরাও কিছুটা মন মড়া। তাড়াও হ্য়তো ভাবে সেদিন যদি সোহাগের বোন না হয়ে তাদের বোন থাকতো তাহলে কি করতো তাড়া?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

