somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন ইভটিজার

১৮ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাস্তার মোড়ে যে আমগাছটা যার পাশেই হাসুর চায়ের দোকান সেই জায়গাটাই সোহাগদের আড্ডাস্থল। ওরা এই জায়গাটাকে আমতলা সেন্টার বলে ডাকে। সোহাগরা আট বন্দ্ধু নিয়মিত এই জায়গাটায় আড্ডা দেয়। বিশেষ করে সকালে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সময়টাতে এবং বিকাল পাচঁটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। বেশির ভাগ সময়ই তাদের আড্ডার বিষয় বস্তু থাকে নারী শরীর। এলাকার কোন মেয়ের সাথে কে প্রেম করবে এবং কি ভাবে তার সাথে রুম ডেটিং করবে এই বিষয়ক আলোচনা। সেই সাথে স্কুল কলেজ গামী মেয়েদেরকে বিভিন্ন আজে বাজে ভাষায় টিজ করা। ওরা এই বিষয় টাকে খুব এনজয় করে। এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় কেউ তাদের কিছু বলতেও সাহস করে না। যে কারনে এই মজার কাজটি তারা নির্ভিগ্নেই করে যাচ্ছে। ওদের টিজিংএর কারনে অনেক মেয়েই স্কুলে আসা বন্দ্ধ করে দিয়েছে।
সবাই তাদের বখাটে ছেলে হিসেবেই চেনে কেউ ভয়ে তাদের কিছু বলেনা। যে কারনে তাদের টিজ থেকে কোন মেয়েই বাদ যায় না। নানা রকম আজে বাজে মন্তব্য করে তারা একধরনের পৈশাচিক শান্তি পায়। অনেক মেয়েই তাদের খারাপ কথা গুলো সহ্য করতে না পেরে কেদে ফেলে এতে ওরা আরো বেশি মজা পায়। এই ভাবেই প্রতিনিয়ত চলছিল সোহাগদের টিজিং।
একদিন বিকেল বেলা যথা রীতি তাদের আড্ডা চলছিল। সেদিন তাদের মনটা খুব উদাস একটা মেয়ের দেখাও পায়নি যাকে একটু টিজ করে মজা পাওয়া যায়। হঠাৎ দুরে একটা মেয়েকে রাস্তা ধরে হেটে আসতে দেখে রকি সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে। দোস্ত একটা পাখি আইতাছে, চল একটু মজা মারি। সোহাগ বলে, দোস্তরা মালটা কিন্তু আমার তোমরা কেউ নজর দিবা না। রকি বলে দোস্ত ঠিক আছে যাও মাল তোমার, তবে আমি যেহেতু আগে দেখছি তাই আমি একটা টিপ দিব শুধু। সবাই এক সাথে হেসে উঠে। মেয়েটা আসছে তাদের পথ ধরেই যতই কাছে আসছে ততই ওরা উত্তেজিত হয় ওদের চোখ গুলো চকচক করতে থাকে খুশিতে।
আরো কিছুটা কাছে আসতেই স্পষ্ট হতে থাকে মেয়েটির মুখ। সোহাগ কে কেমন যানি একটু চিন্তিত দেখায়। যতই কাছে আসতে থাকে মেয়েটা, সোহাগের মুখটা ততবেশি বিমর্ষ হতে থাকে। এক সময় মেয়েটা যখন সামনে এসে পরে সোহাগ মাথা নিচু করে ফেলে লজ্জায় তার মরে যেতে ইচ্ছা করছে। সোহাগের বন্দ্ধুরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে থাকে। মেয়েটা সামনে এসে দাড়ায়।
-ভাইয়া.... সোহাগ মুখ তুলে তাকায় তার সামনে তার নিজের ছোট বোন শীমা দাড়িয়ে।
টুম্পাদের বাসায় গিয়ে ছিলাম কিন্তু আসার সময় দেখি রিকশা নেই তাই হেটে আসলাম।
সোহাগের ঘোর যেন কাটেই না আস্তে করে বলে, চল বাসায় চল। সোহাগ তার বন্দ্ধুদের দিকে তাকায় না সোজা বাসার দিকে চলা শুরু করে।
সোহাগের বন্দ্ধুরা কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায় তবে কেউ কেউ আবার মুখটিপে হাসছিলও।
পরদিন থেকে সোহাগকে আর আমতলায় পাওয়া যায় না। তার বন্দ্ধুরাও কিছুটা মন মড়া। তাড়াও হ্য়তো ভাবে সেদিন যদি সোহাগের বোন না হয়ে তাদের বোন থাকতো তাহলে কি করতো তাড়া?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:২৪
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×