প্রতিবেশী দেশ গুলোর সু সম্পর্ক অবশ্যই চাই। বর্তমান পৃথিবীতে একলা চলো নীতি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিত্যাক্ত হয়েছে। সবার সাথে মিলে মিশে থেকেই নিজেকে উচ্ছতর অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বার্মা, উত্তর কোরিয়ার মতো বৈশ্বিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা কোন ভাবে সম্ভব নয় এবং শোভনীয় ও নয়।
তবে কোন অবস্থাতে নিজ দেশের সার্বভৌমত্বে গ্লানি আসবে সে ধরনের কোন চুক্তি বা সম্পর্ক আমরা কারো সাথে রাখতে চাইনা। অতীতে আমাদের দূর্দিনে কেউ আমাদেরকে সাহায্য করেছে সে জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আমরা জানাতে পারি। অকৃতজ্ঞ জাতি আমরা নই। কিন্তু নিজ মাথা নুইয়ে দাস সেজে সে কৃতজ্ঞতা দেখানো যেতে পারেনা। ভারত স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের যে সহযোগীতা করেছে তা আমরা ভুলতে পারিনা। তবে তার বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতায় প্রভাব পড়বে আমরা এমন কোন সহযোগীতা তাদের করতে পারিনা।
আমরা টিপাইমুখ বাঁধ মেনে নিতে পারিনা। কেননা ফারাক্কার প্রভাব আমরা হাড়ে হাড়ে অনুভব করছি। উত্তর বঙ্গের বেশিরভাগ অঞ্চল আজ মরুভুমি হবার পথে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আরেকটা অংশকে মরুভুমি বানানোর পথে ঠেলে দিতে পারিনা। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারানোর জন্য সেটা হবে একটা বড় ধরনের নিমিত্ত্ব। অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল দেশের পক্ষে ভৌগোলিক স্বাধীনতা রক্ষা করা যে কত দুরুহ বিশ্বের বিভিন্ন দরিদ্র দেশের দিকে দৃষ্টি রাখলেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি।
যে হাইওয়ে কমপক্ষে এশিয়ার তিনটা দেশকে মিলিত করবে না সে হাইওয়ে চাইনা। কেননা যে কোন দেশকে আমাদের দেশের নিজস্ব ভুখণ্ড ব্যাবহার করে তার অন্য কোন অংশে যেতে দেওয়ার পথকে এশিয়ান হাইওয়ে বলা যায় না। আমরা কাউকে পথ দিতে পারি যদি সে আমাদের কে উপযুক্ত বিনিময় দিতে পারে। ভারত ও আমাদের ভুখণ্ড ব্যাবহার করতে পারে যদি সে নেপাল বা ভুটানে যেতে তার ভুখণ্ড আমাদেরকে ব্যাবহার করার অনুমতি দেয়।
যদি কোন রাজনৈতিক সরকার দ্বারা আমাদের দেশের ওই ক্ষতি গুলো হয়ে যায় তাহলে তাদেরকে দেশপ্রেমিক নয় দেশদ্রোহী শক্তি বলেই মনে করবে এই জাতি। যার জন্য এই জাতি শত বছর ধরে অভিসম্পাত দিতে থাকবে তাদের মধ্য থেকে জন্ম নেয়া শিখণ্ডিদের।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



