ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে চলমান সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ দমনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীনতার এই যুদ্ধ দমনে ভারত সরকার সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হয়েছে। আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর ও নাগাল্যান্ডসহ সাত রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতাকামীদের কর্তৃত্ব। এসব এলাকায় ভারতের বেসামরিক প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে, দেশটির সশস্ত্রবাহিনীও সেখানে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গাগৈ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, স্বাধীনতাকামীরা নিয়মিতভাবে তাকে হুমকি দিচ্ছে। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর যখন এমন দশা তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ভারতের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি আসলেই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এদিকে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতাকে ঘিরে। বিবিসিতে প্রচারিত এক সচিত্র রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে দৈনিক আমার দেশ-এর এক খবরে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ দমনের কর্মকাণ্ডে ভারতকে সহযোগিতা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকার উলফা নেতা অরবিন্দ রাজখোয়াসহ আসামের অন্তত ৫০ জন স্বাধীনতাকামী নেতাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। এ খবর ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নাগা ও উলফার পাশাপাশি যুদ্ধরত মাওবাদীরাও বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তারা এমনকি বাংলাদেশের ভেতরে এসেও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
এমন আশঙ্কার কথাই আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি। একই কারণে দেশের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা ভারতকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ারও কঠোর বিরোধিতা করেছি। কারণ, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচল ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেয়া হলে ভারতের জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের দূরত্ব দেড়-দু’ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত কমে যাবে। এমন আয়োজনের সুযোগ নিয়ে পণ্য পরিবহনের আড়ালে ভারত সরকার সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে এমনকি সশস্ত্রবাহিনীকেও আনা-নেয়া করতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলের স্বাধীনতা যোদ্ধারা বাধাগ্রস্ত হবে। তখন তাদের সব ক্ষোভ পড়বে বাংলাদেশের ওপর। তারা সে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতেও দ্বিধা করবে না। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও তারা সামরিক ব্যবস্থা নেয়া শুরু করবে। এভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ বাংলাদেশে চলে আসবে। বাংলাদেশই তখন প্রধান রণাঙ্গনে পরিণত হবে। এজন্যই আমরা শুধু ভারতকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ার বিরোধিতা করিনি, একই সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জড়িত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কর্ণপাত করেনি। সরকার বরং প্রথম থেকে ভারতের জন্য পুরো বাংলাদেশকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগে আছে। এর মধ্যে ভারতীয় যানবাহনের চলাচল শুরু হয়ে গেছে। এসব যানবাহনে ঠিক কোন ধরনের পণ্য আনা-নেয়া করা হচ্ছে, পণ্যের আড়ালে ভারত সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনা সদস্যদের পাঠাচ্ছে কি না তার হদিস রাখারও সুযোগ পাচ্ছে না সরকার। তেমন কোনো শর্তই রাখা হয়নি এ সংক্রান্ত চুক্তিতে। স্বাধীনতাকামী নেতাদের গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেয়াসহ অন্য সব পন্থায়ও সরকার ভারতকে সহযোগিতা করে চলেছে। যার অর্থ, আওয়ামী লীগ সরকারও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে চলমান স্বাধীনতা সংগ্রামকে ধ্বংস করার ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বলেই আমরা অন্য কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার এবং ভূমিকা পালনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করি না। বিশেষ করে ভারতের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়িত হওয়ার তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রাম বিরোধী সিদ্ধান্ত ও অবস্থান পরিবর্তন করা। এ উদ্দেশ্যে ভারতকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এমন আয়োজনও নিশ্চিত করা দরকার, ভারত যাতে কোনো অজুহাতেই বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার না করতে পারে। ওই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দেয়ার মতো কার্যক্রম থেকেও সরকারকে পিছিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি, মাথা যেহেতু ভারতের সেহেতু ব্যথাটাও ভারতকেই সারাতে দেয়া দরকার।
view this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

