somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে : ভারতের যুদ্ধ বাংলাদেশে আনা চলবে না

০১ লা এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে চলমান সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ দমনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীনতার এই যুদ্ধ দমনে ভারত সরকার সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হয়েছে। আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর ও নাগাল্যান্ডসহ সাত রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতাকামীদের কর্তৃত্ব। এসব এলাকায় ভারতের বেসামরিক প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে, দেশটির সশস্ত্রবাহিনীও সেখানে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গাগৈ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, স্বাধীনতাকামীরা নিয়মিতভাবে তাকে হুমকি দিচ্ছে। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর যখন এমন দশা তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ভারতের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি আসলেই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এদিকে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতাকে ঘিরে। বিবিসিতে প্রচারিত এক সচিত্র রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে দৈনিক আমার দেশ-এর এক খবরে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ দমনের কর্মকাণ্ডে ভারতকে সহযোগিতা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকার উলফা নেতা অরবিন্দ রাজখোয়াসহ আসামের অন্তত ৫০ জন স্বাধীনতাকামী নেতাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। এ খবর ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নাগা ও উলফার পাশাপাশি যুদ্ধরত মাওবাদীরাও বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তারা এমনকি বাংলাদেশের ভেতরে এসেও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
এমন আশঙ্কার কথাই আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি। একই কারণে দেশের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা ভারতকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ারও কঠোর বিরোধিতা করেছি। কারণ, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচল ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেয়া হলে ভারতের জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের দূরত্ব দেড়-দু’ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত কমে যাবে। এমন আয়োজনের সুযোগ নিয়ে পণ্য পরিবহনের আড়ালে ভারত সরকার সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে এমনকি সশস্ত্রবাহিনীকেও আনা-নেয়া করতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলের স্বাধীনতা যোদ্ধারা বাধাগ্রস্ত হবে। তখন তাদের সব ক্ষোভ পড়বে বাংলাদেশের ওপর। তারা সে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতেও দ্বিধা করবে না। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও তারা সামরিক ব্যবস্থা নেয়া শুরু করবে। এভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ বাংলাদেশে চলে আসবে। বাংলাদেশই তখন প্রধান রণাঙ্গনে পরিণত হবে। এজন্যই আমরা শুধু ভারতকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ার বিরোধিতা করিনি, একই সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জড়িত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কর্ণপাত করেনি। সরকার বরং প্রথম থেকে ভারতের জন্য পুরো বাংলাদেশকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগে আছে। এর মধ্যে ভারতীয় যানবাহনের চলাচল শুরু হয়ে গেছে। এসব যানবাহনে ঠিক কোন ধরনের পণ্য আনা-নেয়া করা হচ্ছে, পণ্যের আড়ালে ভারত সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনা সদস্যদের পাঠাচ্ছে কি না তার হদিস রাখারও সুযোগ পাচ্ছে না সরকার। তেমন কোনো শর্তই রাখা হয়নি এ সংক্রান্ত চুক্তিতে। স্বাধীনতাকামী নেতাদের গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেয়াসহ অন্য সব পন্থায়ও সরকার ভারতকে সহযোগিতা করে চলেছে। যার অর্থ, আওয়ামী লীগ সরকারও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে চলমান স্বাধীনতা সংগ্রামকে ধ্বংস করার ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বলেই আমরা অন্য কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার এবং ভূমিকা পালনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করি না। বিশেষ করে ভারতের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়িত হওয়ার তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রাম বিরোধী সিদ্ধান্ত ও অবস্থান পরিবর্তন করা। এ উদ্দেশ্যে ভারতকে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এমন আয়োজনও নিশ্চিত করা দরকার, ভারত যাতে কোনো অজুহাতেই বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার না করতে পারে। ওই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দেয়ার মতো কার্যক্রম থেকেও সরকারকে পিছিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি, মাথা যেহেতু ভারতের সেহেতু ব্যথাটাও ভারতকেই সারাতে দেয়া দরকার।
view this link
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×