ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পাঁচতারকা হোটেল শেরাটন নাম বদলে হয়ে গেল রূপসী বাংলা। স্টারউড এশিয়া প্যাসিফিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সঙ্গে মেয়াদ শেষ হওয়ার দুদিন আগেই গতকাল এ নাম পরিবর্তন করা হলো।
গতকাল হঠাত্ করেই শেরাটন হোটেলের নামফলকটি সরিয়ে রূপসী বাংলা স্থাপন করা হয়। সন্ধ্যার দিকে রূপসী বাংলা হোটেলের প্যাডে বিভিন্ন সংবাদপত্র অফিসে একটি দাওয়াতপত্রও পাঠানো হয়। এতে আগের শেরাটন হোটেলের মার্বেল রুমকে রূপসী বাংলার মার্বেল রুম উল্লেখ করে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের কথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, শেরাটন ওভারসিজ ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন (এসওএমসি) প্রাথমিকভাবে ২০ বছর এবং পরে পাঁচ বছরের জন্য হোটেলটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ৩০ জুনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবারও চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর পুনরায় দুই মাসের জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত শেরাটন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায়। পরে এ বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আবারও চুক্তির সময়সীমা বাড়ানো হয়।
গত পহেলা এপ্রিল থেকে রাজধানীর পাঁচতারা হোটেল শেরাটনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয় সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল)। তিনমাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বভার নতুন কোনো কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার কথা ছিল। এদিকে হোটেলটি পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান শেরাটন ওভারসিজ ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তাদের চুক্তি নবায়ন না করায় সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। জানা যায়, হোটেলটি পরিচালনার জন্য বিদেশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে ক্রাউন প্লাজা, সুইসটেল ও হায়াত হোটেলের নাম প্রাথমিকভাবে নির্বাচনও করা হয়েছিল।
সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শেরাটন হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান শেরাটন ওভারসিজ ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনের (এসওএমসি) অভিভাবক প্রতিষ্ঠান স্টারউড এশিয়া প্যাসিফিক হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস চুক্তি নবায়নের জন্য যেসব শর্ত দিয়েছে, তা সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এদিকে স্টারউডের প্রস্তাবের মধ্যে ছিল একটি সংস্কার উদ্যোগ। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় আড়াই কোটি ডলার।
সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচতারকা ঢাকা শেরাটন হোটেল পরিচালনার বিষয়ে শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকার দুই দফায় চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। ওই মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ৩০ জুন। এসওএমসির বক্তব্য হচ্ছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশে শেরাটন যে মান বজায় রেখে চলছে, বাংলাদেশে সহযোগিতা না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্র্যান্ড শেরাটনের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। দুনিয়াজুড়ে শেরাটনের যে ইমেজ সেটা ধরে রাখার জন্য তারা বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেview this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




