somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিল্লীর ডায়েরি-৮ : যে সব কারনে আমি আবেগে বেকুব হয়ে গিয়েছিলাম :D :D :D

২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
শপিং প্রেমিদের জন্য দিল্লীতে অন্যতম পছন্দের জায়গা হল সাকেট। এক টিকেতে দুই শো দেখার মত এখানে এক জায়গাতেই সবচেয়ে দামি তিনটা শপিং মল রয়েছে। মজার ব্যাপার হল এসব শপিং মলে ভিতরে যত না স্পেইস তার চেয়ে ডাবল স্পেইস বাইরে রাখা হয়েছে যেন লোকজন বসে গল্প আড্ডা দিতে পারে। সুন্দর ঘাসের খালি জায়গা বা কনক্রিটের জমানো চেয়ার বানিয়ে দেয়া হয়েছে। এই জায়গাতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় সানডে তে। সবাই গল্প গুজব করতে আসে। আর আমার মত অনেক ভাল ভাল ছেলেও আছে যারা বিশেষ করে গরম কালে পাখপাখালি দেখার জন্য যায় B-) সেইবার আমি বসেছিলাম এবং ঠিক সামনের সিটে একটা দিল্লিয়ান মেয়ে। গরমের দিন ছিল। তাই তার পোশাকের অবস্থাও একটু গরিবি হালতের ছিল। এই সিটে আমি আর ওই সিটে সে মাঝখানে সুধু একটা হাঁটার ওয়ে। একবারই আমি তার দিকে তাকিয়েছিলাম। আমার সকল চিন্তা ভাবনার মুখে ছাই দিয়ে সে হঠাৎ আমার পাশে এসে বসল এবং বলল “ক্যান আই স্পেনড সাম কোয়ালিটি টাইম ওয়িথ ইউ?” :| এবং আমি বেকুব হয়ে গিয়েছিলাম!!!!

সদ্য ব্রেক আপ হওয়া স্রেয়া নামের সেই মেয়েটির সাথে সেই জায়গায় বসে আমি পাক্কা ৪ ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছিলাম। তার মতে তাঁকে আমি নতুন জীবন পেতে সাহায্য করেছিলাম ওইদিন। সুখের কথা তার সাথে ফেসবুকে এখনো আমার যোগাযোগ থাকলেও দুঃখের কথা সে এখন তার হাজবেনড সহ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী :(


২।
পরশু পরীক্ষা। এখনো পর্যন্তও আমার কিছু রেডি করা হয়নি তেমন। নিশ্চিত ফেইল। কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। আমার ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী মেয়েটির ফোন। ফোন রিসিভ করলাম। ওদিক থেকে সে বলল “শুন, কাল বিকেলে আমি পুরোটা সময় তোমার জন্য রেখেছি। কিছু নোট করেছি। লাইব্রেরিতে থেক। আমি যতটুকু পারি তোমাকে পরীক্ষার পড়া বুঝিয়ে দিব” :| এবং আমি আবেগে বেকুব হয়ে গেলাম!!! আমার সেই বান্ধবী সম্প্রতি দিল্লী ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির শিক্ষিকা হিসেবে জয়েন করেছে। পাশাপাশি জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছে :D


৩।
ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রুমে পড়ে রইলাম। ব্যস্ততার মাঝে আমাকে কে দেখাশুনা করবে!! মা’বাপ ও নাই ওখানে। হাকিকত মেনে নিয়ে ডাক্তারের সাথে দেখা করে রুমে পড়ে রইলাম। ঠিক সেই সময় আমার তিন ইন্ডিয়ান ফ্রেন্ড (মেয়ে) পালাক্রমে আমাকে সেবা করতে লাগলো হোস্টেলে সকাল,বিকাল,রাত ধরে B-) আমি নিশ্চিতভাবে আবেগে বেকুব হয়ে গিয়েছিলাম। খুব অল্প দিনেই সুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে একজন ছিল নিধি। যে কিনা গত মাসে আইসিএস অফিসার হিসেবে ‘Revenue’ সেক্টরে জয়েন করেছে :D



৪।
মানালি যাওয়ার জন্য জনপথ নামক জায়গায় গেলাম গাড়িতে উঠার জন্য। দেখি সেখানে আগে থেকেই নিধি’র বাবা মা উপস্থিত। আইসা নিধির বাবা আমাকে ডাকল। বলল “ওহে গোস খানে ওয়ালা বাঙ্গালী, গোস টোস,তেল মেলের কোন খাবার খাবা না যাওয়ার পথে। কারন গাড়ি যখন পাহাড় বেয়ে উঠবে তেলের খাবার ও উপরের দিকে উঠে মুখ দিয়ে বের হয় যাবে”। এটা বলেই তিনি তার কারের ডিক্কি খুলে বললেন “এই যে পাহাড়ি রাস্তায় যাওয়ার সময় খাওয়া যায় এরকম বেশ কিছু খাবার আমি তোমার জন্য নিয়ে এসেছি”। আবেগে আমি বেকুব থেকে বেকুবতর হয়ে গিয়েছিলাম :) পাঠকদের জন্য শিক্ষা, আমার এরকম বমি টাইপ প্রবলেম না থাকলেও পাহাড়ি রাস্তায় জার্নির সময় তেল জাতীয় খাবার আর মাংস যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।


(চলবে………)

বিদ্রঃ দুঃখে বেকুব হওয়ার কাহিনী লিখলে উপন্যাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই উপন্যাস লিখার ইচ্ছে নাই :(
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:৫৪
২৫টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×