somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপরাধ চাপা দিয়ে কারো কোন লাভ নেই-ওবায়দুল কাদের এমপি

১৩ ই মে, ২০১০ রাত ৮:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কাজী সায়েমুজ্জামান:
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ছাত্র লীগের অপকর্ম বা কলংকের দায়ভার আওয়ামী লীগ এড়াতে পারেনা। এটা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট যে ছাত্রলীগের ব্যানারে অপকর্ম হচ্ছে। চাপা দিয়ে কারো কোন লাভ নেই। একারণে এ সমস্ত অপরাধমুলক কর্মকান্ডের হোতাদেরকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে উপযুক্ত শাস্তির বিধান ও ব্যবস্থা করতে হবে। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কোন কমিটি রাখা যাবেনা। অছাত্র, অনিয়মিত ও আদু ভাইদের বাদ দিয়ে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে দ্রুত ছাত্র লীগের আগাগোড়া কমিটি করতে হবে। ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে সরকার ও দলের ভাবমুর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। এমনকি দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সরকারের সব অর্জনগুলো গুটি কয়েকের অপকর্মের জন্য বিনষ্ট হয়ে গেলে আমাদের দিন বদলের সনদের প্রতিশ্রুতি বা কর্মসূচী বাস্তবায়নে মেধা, শ্রম আর ঘাম ঢেলে দেয়ারতো কোন দরকার নেই।
সম্প্রতি এ প্রতিবেদককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের, এম.পি সাবেক যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য। তিনি কারাগারে থাকাবস্থায়ই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন। ছাত্রলীগের দুইবারের সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বি.এল.এফ) অধিনায়ক। দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসাবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। তার লেখা কয়েকটি বই সুধীজনের দৃষ্টি কেড়েছে। ওবায়দুল কাদের সাক্ষাতকারে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড ছাড়াও ছাত্রসংসদের নির্বাচন, প্রতিযোগিতামূল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অনুপস্থিতি, নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন যখন জানলেন, যুদ্ধাপরাধিদের প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাত্র সংঘের লোক। তিনি তা প্রধনমন্ত্রীকে বলতে পারতেন। তিনি এটা গণমাধ্যমে কেন বললেন? স্টান্ডবাজি করতে?
নিচে তার পুরো সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো-
কাজী সায়েমুজ্জামান: ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে বর্তমান ছাত্র লীগের কর্মকান্ডকে কিভাবে দেখেন?
ওবায়দুল কাদের: এ বিষয়ে আমি স্পষ্টবাদী। মহাজোট মহাবিজয় অর্জন করেছে। এর সঙ্গে মহাআবর্জনাও ঢুকেছে। এ আবর্জনাই সমস্যা তৈরী করছে। তবে একথা বলে দায়িত্ব এড়ানো যাবেনা। মতায় রয়েছি বলে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। আমি বলতে চাই ছাত্র লীগ সামগ্রিক ছাত্র রাজনীতির অসুস্থ ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এখন ছাত্র লীগ যদি অপকর্ম করে সে অপকর্ম বা কলংকের দায়ভার আওয়ামী লীগ এড়াতে পারেনা। এটা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট যে ছাত্রলীগের ব্যানারে অপকর্ম হচ্ছে। চাপা দিয়ে কারো কোন লাভ নেই। ছাত্রলীগ আজ যা করছে আমরা তা স্বপ্নেও ভাবিনি। ছাত্রলীগের ব্যানারে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, ভর্তিবাণিজ্য এমনকি বৈশাখী মেলায় স্পট বাণিজ্য হবে- এটা অবিশ্বাস্য। যেসময় কাস চলবে ওই সময় তারা দা চাপাতি নিয়ে এসব অপকর্ম করছে।
সায়েম: আপনি অপকর্মে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে বিচারেরও সুপারিশ করেছেন। কেন?
ওবায়দুল কাদের: আমি বলেছি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ভর্তি বাণিজ্য, হল দখল, সিট দখল, জায়গা জমি দখলের মতো অপকর্মে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে কোন প্রকার নমনীয়তা বা সহনশীলতা প্রদর্শনের অবকাশ নেই। এদের বিরুদ্ধে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কড়া কথা উচ্চারণ করেছেন। তাতে কোন কাজ হয়নি। কড়া কথায় কাজ না হলে কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়। আমি দু ধরনের শাস্তির কথা বলেছি। একটা হলো শাস্তিমূলক। যা আইনের মাধ্যমে দেয়া যেতে পারে। এ সমস্ত অপরাধমুলক কর্মকান্ডের হোতাদেরকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে উপযুক্ত শাস্তির বিধান ও ব্যবস্থা করতে হবে। বিচারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে এদেরকে সংগঠন থেকে একদম বহিস্কার করতে হবে। আরেকটি হচ্ছে সংশোধনমুলক ব্যবস্থা। শুধু দমন করে এ সমস্যার সমাধান হবেনা। সংশোধনও করতে হবে। এখন বেকারত্ম, হতাশা, অনিশ্চিত ভবিষ্যতকে সামনে রেখে বা ক্ষোভ থেকে অনেকে এতে জড়িত হচ্ছে । পদ ছাড়তে চাইছেনা। কারণ তারা দেখছে কোন ভবিষ্যৎ নেই। বৈধভাবে এদেরকে কাজ দিতে হবে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও চাকরি দিতে হবে।
সায়েম: আপনার এ সুপারিশে দলের প্রতিক্রিয়া কি?
ওবায়দুল কাদের: আমার বক্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় কে কি বললেন তা আমি পরোয়া করিনা। আমার বিবেক যা বলেছে তাই বলেছি। আমি দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য। প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব আমি জানি। তা ইতিবাচক। অন্য কে কি বললো তা আমি ভ্রুপে করিনা। অনেকে বলেন, আপনি এভাবে বলছেন। অথচ কত কষ্টে এসব কথা বলতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসেও ছাত্রলীগের ফুল গ্রহন করেন নি। এটা তাদের বুঝতে হবে।
সায়েম: আপনি আগে ছাত্র লীগের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। ছাত্র লীগের ভাবমুর্তির পতনের কি কারণ রয়েছে বলে আপনার মনে হয়?
ওবায়দুল কাদের: দশ বছর আগে ছাত্র লীগের দেখভালের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বর্তমানে দেখভাল শব্দটির সঙ্গে একমতও নই। ছাত্র লীগের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে গেছে। কারণ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। আমি ৫১সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ছিলাম। এখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা কত কেউ জানেনা। শুনতে অবাক লাগে আমার কমিটির দ্বিগুনেরও নাকি বেশি বর্তমান ছাত্র লীগের সহ সভাপতির সংখ্যা। কষ্টও লাগে, লজ্জাও পাই। গত কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রনেতাদের বয়সের সময়সীমা ২৭ বছর থেকে ২৯ বছর করা হয়েছিল। বিষয়টি তো তখনই অনিয়মের মধ্যে চলে গেছে। কিন্তু ২৯ বছর বয়স করলেও বিভিন্ন কমিটিতে ৩৫ থেকে ৪০ বছরের উপরের আদু ভাইরা ছাত্রলীগ করে। আমি জানি অনেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সেক্রেটারী তিন চারটা বাচ্চা কাচ্চার বাবা। এদেরতো ছাত্র রাজনীতি করার অধিকার নেই। এরা থাকলেই ছাত্রলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এসব অপকর্ম করবে।
সায়েম: আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এরপরও ছাত্রলীগের কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি কেন?
ওবায়দুল কাদের: তাদের দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তিন সাংগঠনিক সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ছাত্রলীগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। তারা ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের সমস্যা ও প্রতিকারের ব্যবস্থা কি হতে পারে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।
সায়েম: সম্প্রতি দেশের শীর্ষ পাঁচ শিাবিদ ছাত্রলীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রত্য পরো সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বিবৃতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার মত কি?
ওবায়দুল কাদের: তাদের বক্তব্যের মুলসুরের সঙ্গে আমি একমত। যে মনকষ্ট থেকে তারা কথা বলেছেন তার সঙ্গে একমত। তাদের কথায় আমি অবাস্তব কিছু খুঁেজ পাচ্ছিনা। তবে তাদের বক্তব্যে প্রতিকারমুলক পদেেপর ইংগিত নেই। তারা ঠিক ভাসাভাসা কিছু কথা বলেছেন। সম্পর্কচ্ছেদ করতে বলেছেন। এটা করলেই সব হবেনা। আমি প্রতিকারমুলক পদেেপর কথা বলেছি।
সায়েম: গণতান্ত্রিক আদর্শহীন ছাত্র রাজনীতি সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য কতটা ক্ষতিকর ? ছাত্র লীগের কর্মকান্ড সরকারের জন্য কতটা ক্ষতিকর হবে বলে মনে করেন?
ওবায়দুল কাদের: সরকার ও দলের ভাবমুর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। এমনকি দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সরকারের সব অর্জনগুলো গুটি কয়েকের অপকর্মের জন্য বিনষ্ট হয়ে গেলে আমাদের দিন বদলের সনদের প্রতিশ্র“তি বা কর্মসূচী বাস্তবায়নে মেধা, শ্রম আর ঘাম ঢেলে দেয়ারতো কোন দরকার নেই। ছাত্র রাজনীতি এদেশের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল পতাকা বহন করছে। সেই ছাত্র রাজনীতি আজকে কিছু সন্ত্রাসীর জন্য কলংকিত হচ্ছে।
সায়েম: প্রধানমন্ত্রীর ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে বারবার হুশিয়ারী দিচ্ছেন। কিন্তু কোন ফল হচ্ছেনা কেন?
ওবায়দুল কাদের: এটা এখন প্রক্রিয়াধীন। দ্রুত বিচার করার কথা দুদিন আগে বলা হলো। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্যই তিনি সাংবাদিকদের ডেকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। ব্যবস্থা কিভাবে নেয়া হয় দেখতে থাকুন। একটু অপো করুন।
সায়েম: ছাত্রলীগের মেয়াদুত্তীর্ণ বর্তমান কমিটি এরপরও বহাল রয়েছে কেন?
ওবায়দুল কাদের: আমার কথা হচ্ছে- অছাত্র, অনিয়মিত ও আদু ভাইদের বাদ দিয়ে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে দ্রুত ছাত্র লীগের আগাগোড়া কমিটি করতে হবে। এক্ষেত্রে দেরী করা যাবেনা। উপর থেক নিচ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কোন কমিটি রাখা যাবেনা। তবে কয়েকমাসে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে যেসব কমিটি হয়েছে তা বাদ দিতে হবে। আর যে নেতারা ঢাকা থেকে জেলা উপজেলায় কমিটি করতে যান শর্ত দিয়ে দিতে হবে তারা কমিটি না করে ঢাকায় ফিরতে পারবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা কমিটি না করে ঢাকায় চলে আসেন। পরে কিছু অবৈধ লেনদেনও হয়। আমরা বলছি গণপ্রতিনিধিত্ত্ব অধ্যাদেশ সংশোধনী অনুযায়ী আমরা যতটুকু সহায়তা দিতে পারি তা দেবো। তাদের সাংগঠনিক কাঠামোগত ও রাজনৈতিকভাবে স্বকীয়তা আর নিজস্বতা ফিরিয়ে দিতে হবে।
সায়েম: ছাত্রলীগের রাজনীতি কেমন হওয়া উচিত?
ওবায়দুল কাদের: ছাত্র রাজনীতির এজেন্ডা কোন অবস্থাতেই জাতীয় রাজনীতিতে আনা যাবেনা। এখানে তারা বক্তব্য শুরুই করে জাতীয় রাজনীতি দিয়ে। বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে। এটা ছাত্র রাজনীতি নয়। ওইসব দেশে এভাবে ছাত্র রাজনীতি হচ্ছেনা। ভারতের ছাত্র রাজনীতির ধারা পাল্টে গেছে। তাদের ছাত্র সংসদ সংসদের নির্বাচন হয়। ক্যাম্পাস ভিত্তিক রাজনীতি করে। শিার সমস্যার বাইরে তাদের কোন বক্তব্য নেই। আর আওয়ামী লীগের যেসব নেতা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করে তা বন্ধ করতে হবে। এদের চিহ্নিত করতে হবে। ছাত্ররা যেন কারো লেজুড়বৃত্তি না করে। আর নেতাদের ড্রয়িং রুমে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। ছাত্ররা মধুর কেন্টিনে বসবে। অথচ তারা নেতাদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসে থাকে। কেন?
সায়েম: ছাত্র রাজনীতির এ দুরাবস্থার জন্য শিক রাজনীতির প্রভাব কতদূর?
ওবায়দুল কাদের: এজন্য আমি বলেছি শুধু ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবেনা। চিহ্নিত করতে হবে কারা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করে, আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়। এর মধ্যে শিক্ষক রাজনীতিও রয়েছে। এদের রাজনীতিও ছাত্রদের প্রভাবিত করছে। এ বিষয়গুলো বন্ধ করতে হবে।
সায়েম: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছেনা কেন?
ওবায়দুল কাদের: আজকে বিশ বছর ধরে ডাকসুর নির্বাচন হয়না। এছাড়াও অন্যান্য বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ, কলেজ ছাত্র সংসদে নির্বাচন হয়না। আমি যখন সভাপতি ছিলাম। তখন নির্বাচন হতো। পরবর্তীতে নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেলো। নির্বাচন হলে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নেতৃত্ব প্রস্তুত থাকে। তাদের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা হয়। ২০ টি ডাকসু নির্বাচন না হওয়া মানে ৪০ জন ভবিষ্যৎ নেতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ। কথায় আছে অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা। ছাত্র সংসদের নির্বাচনগুলো না হওয়াতে যা কিছু সুস্থ ছিল ধ্বংসাত্মক পথে চলে গেছে।
সায়েম: শিক্ষাঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অনুপস্থিতি রয়েছে। এগুলো চালু হচ্ছেনা কেন?
ওবায়দুল কাদের: ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির প্রজনন কেন্দ্র ছাত্র সংসদের নির্বাচনই তো বন্ধ রয়েছে। ডাকসুর নির্বাচনসহ ছাত্র সংসদের নির্বাচনগুলো হয়ে যাক। এতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হবে। তারাই এগুলো করবে।
সায়েম: আগে ছাত্র সংগঠন মুল রাজনৈতিক সংগঠনের অংগ সংগঠন ছিল। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধন করে বর্তমানে সহযোগী সংগঠন করা হলেও নেতা নির্বাচনে দলীয় প্রভাব অব্যাহত রয়েছে কেন?
ওবায়দুল কাদের: এগুলো রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। এখানে নেতৃত্বকে কঠোর হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর একা কঠোর হলে হবেনা। সমস্যা ছাত্র দলের মধ্যেও রয়েছে। সিলেটে কি হলো? একজনকে তো খুনই করা হয়েছে। আমিতো বলেছি আগে রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ছাত্রদের আমাদের স্বার্থ সংরক্ষণে অথবা প্রভাব বিস্তারে পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার করবোনা। ছাত্রদের তাদের স্বকীয়তায় চলতে দেবো - এ মানসিকতা থাকতে হবে।
সায়েম: বর্তমানে সাংঘর্ষিক রাজনীতির পথে হাটছে সরকার আর বিরোধি দল। এটা গণতন্ত্রের জন্য কতটা বিপজ্জনক?
ওবায়দুল কাদের: এটা যতদিন থাকবে ততদিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেই। পাকিস্থানকে বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্র। সেই পাকিস্থান আজকে গণতন্ত্রকে রা করার জন্য জারদারীর মতো লোককে যাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও পছন্দ করিনা তাকে তার প্রধান প্রতিপ নওয়াজ শরীফ শুধু রাজনীতিকে রার জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। পিপিপি ও মুসলিম এক যোগেই প্রেসিডেন্টের সংসদ, মন্ত্রীসভা ভেংগে দেয়া, প্রধান বিচারপতি ও সেনাপ্রধান নিয়োগের একক ক্ষমতা খর্ব করেছে। পাকিস্থানেও আজ দুটি দলের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। অথচ আমদের কেন হবেনা? ভারতের ছত্রিশগড়ে ৭৬ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মাওবাদিদের হাতে নিহত হলো। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরাম দায়িত্ব স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন। বিরোধীদল ওই সময় মন্তব্য করেছে, এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ প্রয়োজন নেই। এ মানসিকতা আমাদের অর্জন করতে হবে। রুয়ান্ডাতে বিভাজনের রাজনীতির ফলে হুটু ও টুটশি সম্প্রদায়ের আট লাখ মানুষ খুন হয়েছিল। দুটো সম্পূর্ণ বিপরীত সম্প্রদায় বর্তমানে রুয়ান্ডায় সম্প্রীতির আলোকে হত্যার বিচার কাজ শুরু করেছে। আমরা কেন পারছিনা? এই সাংঘর্ষিক রাজনীতি আমাদের কোনদিন স্থিতিশীলতা দেবেনা। আমরা শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকার গড়তে পারবোনা। কোন রকম হয়ত খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলবে। তাতে উন্নয়ন ব্যহত হবে।
সায়েম: আপনি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনীতিবিদদের কারাগারে অবস্থানকে পাঠশালা বলে মন্তব্য করেছিলেন। আপনি কি মনে করেন তারা ওইসময় থেকে শিক্ষা নিয়েছেন?
ওবায়দুল কাদের: আমার মনে হয়না কেউ শিা নিয়েছে। আমরা শিক্ষা গ্রহণ করিনি। আগের মতো একই ধারা চলছে। আবার অরাজনৈতিক শক্তি রাজনীতির মঞ্চে আসতে উৎসাহিত হবে।
সায়েম: বর্তমান সরকার নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি? মন্ত্রীসভার নতুন সদস্যরা কেমন করছে ?
ওবায়দুল কাদের: বর্তমান সরকার সম্পর্কে কোন মূল্যায়ন তিন বছর শেষ হলে দেবো। এখনো সময় হয়নি। মন্ত্রীসভায় সমস্যা রয়েছে। আমি যেটা বলতে চাই তা হলো-আমাদের দল নেতা শক্তিশালী। কিন্তু দল তুলনামুলকভাবে দুর্বল। টিম ওয়ার্ক না হলে সফলতা অর্জন করা যায়না। প্রধানমন্ত্রীর কোন ভুলভ্রান্তি নেই এটা আমি বলবোনা। তবে তার সদিচ্ছা, প্রতিজ্ঞা ও আন্তরিকতার অভাব নেই। দেশ পরিচালনায় কেউ অভ্রান্ত নন। রাজনীতিতে একটু আধটু ভ্রান্তি থাকবেই। এ কথা বলছি বলে হয়ত অনেকেই বলবেন, আপনাদের মন্ত্রীসভায় নেয়া হয়নি বলেই দুর্বল বলছেন। তবে আমি বলে দিয়েছি আমার মন্ত্রী হওয়ার কোন স্বপ্ন নেই। একারনেই এসব কথা বলতে পারছি।
সায়েম: সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সভা মন্ত্রীসভার সঙ্গে কাজ করতে পারে কিনা? এই উপদেষ্টাদের কর্মকান্ডকে কিভাবে দেখেন?
ওবায়দুল কাদের: এ বিষয়ে নানাজন নানা কথা বলেন। আমাদের সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে পারবেন না। তিনি তার কাজের সুবিধার জন্য তার উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে পারেন। এটা মন্ত্রী সভার সমান্তরাল কোন কাঠামোও নয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর বিবেচ্য বিষয়। দল করি বলে সব কথা বাইরে বলা আমার পে সম্ভব নয়। আমি আমার ফোরামে বলবো। তবে একজন উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিনের কথা বলবো। তিনি মানুষ হিসেবে ভালো। তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সঙ্গে তৃণমুল পর্যায়ে কাজ ও করেছেন। যুদ্ধাপরাধিদের বিচার একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এর প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাত্র সংঘের লোক। এ কথাটি নিয়োগের এতদিন পর কেন বললেন? তার নিয়োগের সময় রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে তিনি কেন দায়িত্ব পালন করেননি? পরে যখন জানলেন তা প্রধনমন্ত্রীকে বলতে পারতেন। তিনি এটা গণমাধ্যমে কেন বললেন? স্টান্ডবাজি করতে?
সায়েম: আপনি তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। অথচ বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের নীতিমালা নামে বিভিন্নভাবে স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করছে। টকশোর ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। কেন করছেন?
ওবায়দুল কাদের: সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারের অংশ নয়। সংসদের অংশ। এগুলো আমার জানা নেই। কে করেছেন জানিনা। আমরা যখনই কোন অভিযোগ পাই স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করি। আর স্থায়ী কমিটির মতা সীমিত। কমিটি সুপারিশ করতে পারে। সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। আইনগত এরা কিছু মতা স্থায়ী কমিটির প্রয়োজন। আপনি যেগুলো বললেন এর অনেক কিছুই আমরা চাইনা।
সায়েম: বিটিভিকে দলীয় প্রচারণা থেকে মুক্ত করার কোন পরিকল্পনা আপনাদের রয়েছে কিনা?
ওবায়দুল কাদের: দলীয় প্রচার মাধ্যম হিসেবেতো এর ব্যবহার চলে আসতেছে। একরাতে এর যাদুকরী পরিবর্তন হবেনা। এটাকে যত কমানো যায়। আমিতো কথা বলছি। আমার কথা বলা ছাড়া আর কি করার আছে। আমার কাজ পরামর্শমুলক। নির্বাহী মতা আমার নেই।
সায়েম: আওয়ামী লীগের অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বর্তমানে উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য। এদের শুন্যতা দল অনুভব করে কিনা?
ওবায়দুল কাদের: সাংগঠনিক নন বলে যদিও তারা কোন প্রটোকল পান না। এরপরও তারা বতৃতা করছেন। এমনকি তারা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের পর বতৃতা করেন। ভোলার নির্বাচনে তোফায়েল ভাইকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে তাদের কোন কাজ না থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে। তবে আরো দেয়া দরকার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীরও অনেক কষ্ট রয়েছে। তার অসম্মানজনকভাবে গ্রেফতারের সময় কয়েকজন মহিলা গ্রেফতার হয়েছিলেন। অন্য কারো কোন দায়িত্ব ছিলনা? দলে একটি ট্রাডিশনাল মূল্যবোধ রয়েছে। আমি দাড়িয়ে থাকি, আমু, রাজ্জাক আর তোফায়েল ভাইকে আগে যেতে দেই। এ মুল্যবোধ না থাকলে কোন দল টিকবেনা। আমরাতো আর বিএনপি নই যে, মিটিং সমাবেশে পর্যন্ত প্রটোকল নিয়ে মারামারি লেগে যায়।
সায়েম: আপনাকে ধন্যবাদ।
ওবায়দুল কাদের: আপনাকেও ধন্যবাদ।


http://budhbar.com/2010/05/13/ছাত্রলীগের-ব্যানারে-যে-অ/
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২৪ রাত ১০:০৪
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×