এই সামু ব্লগে ইভটিজিং শব্দটি ব্যবহার করে এ সমস্যা মোকাবেলা ও প্রতিরোধ করার জন্য এগিয়ে আসার আহবান করা হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়, ইভটিজিং শাব্দিকভাবে খুব ছোট একটি অপরাধকে নির্দেশ করে। আমাদের বাংলাছবিতে যেভাবে নায়ক নায়িকাকে দেখে প্রথমে টিজিং করে পরে তাদের মধ্যে প্রেম হয় ঠিক সেরকমেরই। কিন্তু বর্তমানে দেশে যা হচ্ছে তা ইভটিজিং নয়। সরাসরি যৌন হয়রানী। এদেরকে নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। এ নিয়ে আমি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সোনার বাংলাদেশ ওয়েব পোর্টালে নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসী ও আমাদের আইন শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। এতে নারী উৎপীড়ন ঠেকাতে আমাদের দেশে বর্তমান আইনের অপর্যাপ্ততার বিষয়টি আমি তুলে ধরেছিলাম। এরপরই সরকার এটি প্রতিরোধে আইন করার উদ্যোগ নেয়। আমি কয়েকদিন আগে আইন কমিশনে খবর নিয়েছিলাম। তারা আমাকে জানিয়েছেন, এ আইনের খসড়া বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আমি খসড়াগুলো নিয়ে এসেছি। মোট তিনটি খসড়া করা হয়েছে।
প্রথমটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনের খসড়া। ২০০৯ সালের ১৫ মে যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞা দিয়ে যৌন হয়রানি রোধে কয়েকটি দিকনির্দেশনা উল্লেখ করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য দিকনির্দেশনা চেয়ে এ রিট দায়ের কার হয়েছিল। এ নির্দেশনার ভিত্তিতেই এ আইনের খসড়াটি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় আইনটি যৌন হয়রানি সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের সংশোধন বিষয়ক। এতে দন্ডবিধির ৫০৯ ধারা সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আরেকটি ধারাও সংযোজন করা হয়েছে।
তৃতীয় আইনটি ২০০০ ইং সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, (২০০০ সনের ৮ নং আইন) এর কতিপয় ধারার প্রস্তাবিত সংশোধনী সংক্রান্ত।
এ আইনগুলোতে আসলে কি হচ্ছে? এর আবার কোন দুর্বলতা থাকছে কিনা? তা নিয়ে অনেক পাঠকের মধ্যে আমি কৌতুহল দেখেছি। কয়েকটি পত্রিকায় যেসব প্রতিবেদন এসেছে তাও অসম্পূর্ণ। আর সে কারণেই ব্লগে আইনগুলোর খসড়া ও সংশোধনী প্রস্তাব তুলে দিচ্ছি। এতে সহায়তা করার জন্য মহিলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট চঞ্চল মুখার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিচ্ছি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনের খসড়া
কোন দেশের মানুষের মর্যাদা ও অবস্থান নির্ধারিত হয় সে দেশের বিদ্যমান আইন, তার প্রয়োগ এবং মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণ দ্বারা। আমাদের জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও তাদের অধিকার সুরক্ষা করা এখন সময়ের দাবী। কেননা বাস্তবে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে নারীরা বিভিনড়ব রকম যৌন নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে যা নারীর শিক্ষা গ্রহণে এবং সুষ্ঠু ভাবে কর্ম সম্পাদনে প্রচন্ড প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য পৃথক আইন প্রণয়নের আবশ্যকীয়তা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিনড়ব অনুচ্ছেদে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের ১৯, ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা, সকলের আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার এবং প্রজাতেন্ত্রর কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কোন বৈষম্য ব্যতিরেকে নিয়োগের বা পদ লাভের অধিকারের উল্লেখ রয়েছে। এভাবে বাংলাদেশের সংবিধান নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকারসহ অন্যান্য অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে।
অন্যদিকে বিভিনড়ব আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষরকারী হিসেবে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সিডও যা ১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ অনুসমর্থন করে। এই কনভেনশনের ১১ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্র সমতার ভিত্তিতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর ১১ (ক) ও (খ) তে সকল মানুষের সমান কর্মসংস্থানের অধিকার এবং ১১ (চ) তে নিরাপত্তার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করে। এই নীতির প্রথম অধ্যায়ে সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক দলিলে বর্ণিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলদেশের নারীদের অধিকার নিশ্চিত করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও বিভিনড়ব গণমাধ্যম, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম এবং বিভিন্ন সংস্থার গবেষণাপত্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সবোর্চ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিমূলক ঘটনার আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধির ঘটনা পরিলক্ষিত হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের সুরক্ষার জন্য কোন আইন প্রণয়ন করা হয়নি।
প্রচলিত আইনের অপ্রতূলতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে অনাকাংখিত বিভিন্ন যৌন হয়রানিমূলক ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশন নং ৫৯১৬/২০০৮ এর রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কতকগুলো দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং যথাযথ আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এ দিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন। এভাবে সর্বোচ্চ আদালত থেকেও পৃথক আইন প্রণয়নের বিষয়ে তাগিদ আসে। আইন কমিশনের ৫ম দ্বি-বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা (২০১০-২০১১) প্রণয়নের পর্বে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংস্থা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তাব আসে। উক্ত প্রস্তাব এবং হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আইন কমিশনের দ্বি-বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় নারীদের অধিকার সংক্রান্ত আইনী সংস্কারের বিষয়টি কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে কমিশনের নিয়মিত গবেষণা কাজের অংশ হিসাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানী বন্ধের জন্য একটি খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিগণের সাথে আইন কমিশনের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যে রিট পিটিশন নং ৫৯১৬/২০০৮ এর নির্দেশনা ও পার্শ্ববর্তী দেশ অর্থাৎ ভারত ও পাকিস্তানের এতদবিষয়ে প্রণীত বিল ও আইনের আলোকে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া নমুনা কমিশনের গবেষণা শাখা থেকে ইংরেজীতে প্রস্তুত করা হয়। উক্ত নমুনার ভিত্তিতে এবং পাশ্ববর্তী দেশের আইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনের একটি বাংলা খসড়া প্রস্তুতপূর্বক আইন কমিশনের নিকট হস্তান্তর করে। উক্ত খসড়া আইনের উপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিশনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভার প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে দ্বিতীয়
খসড়া প্রণীত হয় যা চুড়ান্তকরণের লক্ষ্যে আইন কমিশন এবং বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির যৌথ উদ্যোগে ইং ০৩/০৭/২০১০ ইং তারিখে বৃহৎ পরিসরে এক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত আইনটির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয় যা অত্র প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত করা হল।
খসড়া আইনের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিক
প্রস্তাবিত আইনটির উদ্দেশ্যে হলো কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোন ধরণের হয়রানিমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে নারী-পুরুষ সবাই সম্মানের সাথে কাজ করতে পারে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে জ্ঞানার্জন ও কর্ম সম্পাদন করতে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে যৌন হয়রানিমূলক কিছু কর্মকান্ড ফৌজদারী অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে এ ধরণের অপরাধ দমনে কার্যকরী ফল আসছে না। কেননা দন্ডবিধির প্রচলিত শাস্তি অপেক্ষা কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃংখলাভঙ্গজনিত প্রশাসনিক শাস্তি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অধিক গ্রহণযোগ্য।
উপরিউক্ত অবস্থা ও কারণাধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি রোধের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। খসড়া আইনে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। তাছাড়া কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আইনে উল্লিখিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় শব্দের সংজ্ঞাও প্রদান করা হয়েছে। এ আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা অনুসারে অভিযোগ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ কমিটির সদস্য কারা হবেন বা আইনটি কার্যকর হবার কতদিনের মধ্যে অভিযোগ কমিটি গঠন করতে হবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে কারা কখন কিভাবে অভিযোগ দায়ের করতে পারে এবং তদপ্রেক্ষিতে অভিযোগ কমিটি কি কি পদক্ষেপ নিবে তা বলা হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রচলিত আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হলে অভিযোগ কমিটির দায়িত্ব কি হবে তাও সুষ্পষ্ট করা হয়েছে। অভিযোগ প্রদানের অব্যবহিত পরে আপোষ মীমাংশার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। আপোষে নিষ্পত্তি না হলে কমিটির পরবর্তী কর্মপদ্ধতি কি হবে তার বিধান বর্ণিত হয়েছে। অভিযোগ সংক্রান্ত অনুসন্ধান চলাকালীন সময়ে ভিকটিম ও সাক্ষীদের বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা কি হবে তা খসড়া আইনে অšতর্ভূক্ত করা হয়েছে। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যšত অভিযুক্তের নিরাপত্তার বিষয় কি হবে তাও বলা হয়েছে। যৌন হয়রানীর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযোগ কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কি কি করণীয় খসড়া আইনে তার বিধানের কথা বলা হয়েছে। খসড়া আইনে মিথ্যা মামলা বন্ধের জন্য শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে অভিযোগের অনুসন্ধান চলাকালে ভিকটিম বা অভিযোগকারীর নিরাপত্তার জন্য অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রকৃতি ভেদে লঘু ও গুরু শাস্তি এবং ভিকটিমের জন্য জরিমানা প্রদানের বিধি সংযুক্ত করা হয়েছে। খসড়া আইনে যৌন হয়রানির ঘটনার প্রতিকারের সাথে সাথে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য বিধান অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনটি প্রণীত হবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষা ও কাজের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিভিনড়ব সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে আইনে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনের অধীনে উপযুক্ত
ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে এবং কিভাবে এ জরিমানা আদায় করা হবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগে এই আইনের অধীনে শাস্তি হলে আপীলের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি প্রতিরোধমূলক আইন হওয়ায় যৌন হয়রানি রোধে সরকার কর্তৃক প্রচারণা ও প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যেহেতু খসড়া আইনে কেবলমাত্র শৃংখলাভঙ্গ জনিত শাস্তি ও জরিমানার কথা বলা হয়েছে সেহেতু ভিকটিম যদি প্রচলিত ফৌজদারী বা অন্য কোন আইনে প্রতিকার গ্রহণ করতে আগ্রহী হয় সেক্ষেত্রে এই আইনটি দ্বারা সে বাধাগ্রস্থ হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের অধীনে গৃহীত কাযর্ক্রম মনিটরিং এর উদ্দেশ্যে প্রতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র থেকে প্রতিবেদন প্রেরণের বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। পরিশেষে আইনের অধীনে বিধি প্রণয়নের বিধান রাখা হয়েছে। এরূপ বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কি কি ধরণের প্রতিরোধমূলক ও সচেতনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে তা সুষ্পষ্ট করা যেতে পারে।
সুপারিশ
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধকল্পে আমরা স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ রাখছি। এ বিষয়ে একটি পৃথক আইনের খসড়া এতদসঙ্গে সংযোজনী ‘ক’ হিসাবে সংযুক্ত করা হল।
(বিচারপতি মোঃ আব্দুর রশিদ)
চেয়ারম্যান
আইন কমিশন
(অধ্যাপক ড. এম. শাহ আলম)
সদস্য
(সুনীল চন্দ্র পাল)
সদস্য
নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে যে আইন হচ্ছে-০২
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


