somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে যে আইন হচ্ছে-০২

০২ রা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রস্তাবিত আইনের খসড়া কপি
প্রস্তাবনা
বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কোন ধরণের সুষ্পষ্ট রক্ষা কবচ নাই যাহা আমাদের সংবিধানে উল্লিখিত নারী-পুরুষ সমতাকে সমুন্নত রাখিতে পারে। ফলে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানিমূলক ঘটনা ঘটিতেছে। এই প্রেক্ষিতে যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্ম এবং শিক্ষার পরিবেশ সুনিশ্চিত করিবার জন্য অত্র আইন প্রণীত হইল, যাহা সকল কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হইবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০১০ যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের শিক্ষা, কর্ম, চলাফেরার অধিকারসহ সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার স্বীকৃত হইয়াছে;
যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুযোগের সমতা, সমান অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত হইয়াছে;
যেহেতু শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীসহ সকল নাগরিকের জন্য যৌন হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং সমীচীন;

সেহেতু, এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ।-(১) এই আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(৩) এই আইন বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য হইবে।
২। সংজ্ঞা- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) “অভিযোগকারী” অর্থ যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষে যে
কোন ব্যাক্তি, যিনি যৌন হয়রানির বিষয়ে এই আইনের অধীনে কোন অভিযোগ
দাখিল করিয়াছেন; (খ) “অভিযুক্ত ব্যক্তি” অর্থ সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের
নিয়োগকর্তাসহ যে কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তা বা শিক্ষক বা শিক্ষার্থী কে
বুঝাইবে যাহার বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করা হইয়াছে;
(গ) “অভিযোগ কমিটি” অর্থ এই আইনের ৩ ধারার অধীনে গঠিত অভিযোগ
কমিটি; (ঘ) “অভিযোগ বাক্স” অর্থ সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত,
ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে অভিযোগকারী
কর্তৃক গোপনীয়তার সহিত অভিযোগ প্রদানের জন্য রক্ষিত বাক্স; (ঙ) “কর্মচারী”/“কর্মকর্তা” অর্থ সেই ব্যক্তি যিনি কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ
হিসাবে বা ইন্টার্ন বা খন্ডকালীন বা চুক্তিভিত্তিক বা স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে
নিয়োগ প্রাপ্ত হইয়াছেন; (চ) “লঘু অভিযোগ” অর্থ এই আইনের “ক” তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত অভিযোগসমূহ; (ছ) “গুরুতর অভিযোগ” অর্থ এই আইনের “ক” তফসিলের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত অভিযোগসমূহ; (জ) “নারী” অর্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২(ছ) ধারানুযায়ী যে কোন বয়সের নারী;
(ঝ) “শিশু” অর্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২(ট) ধারানুযায়ী অনধিক ষোল বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তি; (ঞ) “নাগরিক” অর্থ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসরত যে কোন নাগরিক;
(ট) “যৌন হয়রানি” অর্থ-
(১) সরাসরি বা ইঙ্গিতে অনাকাংখিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ, যেমনশারীরিক স্পর্শ বা এ ধরনের প্রচেষ্টা;
(২) প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করিয়া কাহারো সাহিত যৌন
সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা; (৩) যৌন ইঙ্গিতবাহী কোন কিছু উপস্থাপন বা উক্তি বা মন্তব্য বা প্রদর্শন করা;
(৪) যৌন আকাংখা পরণের জন্য অনাকাংখিত বা গ্রহণযোগ্য নয় এমন
আবেদন বা অনুরোধ করা;
(৫) পর্ণোগ্রাফী দেখানো;
(৬) যৌন ইঙ্গিতমূলক মন্তব্য বা ইশারা করা;
(৭) অশালীন অঙ্গ-ভঙ্গী, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের দ্বারা উত্ত্যক্ত করা বা
অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোন ব্যক্তির অলক্ষ্যে নিকটবর্তী হওয়া বা
অনুসরণ করা বা যৌনইঙ্গিতপূর্ণ ঠাট্টা বা উপহাস করা;
(৮) চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস, ই-মেইল, নোটিশ, কার্টুন
এর মাধ্যমে বা বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস,
কারখানা, ক্লাসরুম, ওয়াশরুম, বাথরুম বা যে কোন স্থানে বা
দেওয়ালে যৌন ইঙ্গিতমূলক কোন কিছু লেখা বা অঙ্কন করা বা
চিহ্নকরণ বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোন অশ্লীল বা যৌনতা সংশ্লিষ্ট কোন বস্তু রাখা বা দেখানো ইত্যাদি;
(৯) যৌন আকাংখা পূরণে কমনরুম, ওয়াশরুম, বাথরুম বা এ ধরণের
কোন স্থানে উঁকি দেওয়া;
(১০) ব্লাকমেইল বা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে কারো স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ
ও সংরক্ষণ, প্রদর্শন, বিতরণ, বিপনন ও প্রচার বা প্রকাশ করা;
(১১) লিঙ্গগত কারণে বা যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক
কর্মকাণ্ড, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা বিরত
থাকিতে বাধ্য করা;
(১২) প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হুমকি দেওয়া বা চাপ প্রয়োগ
করা;
(১৩) প্রতারণার মাধ্যমে, ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যৌন স¤পর্ক
স্থাপনের চেষ্টা করা;
(১৪) যৌন আকাংখা পূরণ সংশি−ষ্ট কোন কাজ করিতে অস্বীকার করিবার
কারণে কোন ব্যক্তির পদোনড়বতি বা পরীক্ষার যথাযথ ফলাফল বা
অন্যান্য যে কোন সুবিধাদি বাধাগ্রস্থ করা;
(১৫) যৌন প্রকৃতির যে কোন প্রকার অনাকাংখিত শারীরিক, বাচনিক বা
ইঙ্গিতমূলক অভিব্যক্তি;
(ঠ) “শিক্ষার্থী” অর্থ যিনি কোন সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন প্রকার বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা বা কোন ভকেশনাল বা প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউটে শিক্ষা অর্জনের জন্য অধ্যয়ণরত;
(ড) “শিক্ষক” অর্থ যিনি কোন সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন প্রকার বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা বা কোন ভকেশনাল বা প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেন;
(ঢ) “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান” অর্থ বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে অবস্থিত কোন সরকারী,
বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন
প্রকার বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা বা কোন ভকেশনাল বা
প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট;
(ণ) “কর্মক্ষেত্র” অর্থ বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে অবস্থিত কোন সরকারী,
বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন
প্রকার কর্মক্ষেত্র;
(ত) “অনুসন্ধান” অর্থ এই আইনের অধীনে যৌন হয়রানী বিষয়ে অভিযোগ কমিটি
কর্তৃক অনুসন্ধান;
(থ) “শৃংখলা বিধি” অর্থ সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন বা অধ্যাদেশ বা কোন অধস্থন আইন এবং বিধি বা উপবিধি, যাহা সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে শৃংখলা রক্ষার্থে প্রণয়ন করা হইয়াছে;
(দ) “সংশি−ষ্ট কর্তৃপক্ষ” অর্থ সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তাসহ সেই কর্তৃপক্ষ, যিনি আচরণ বিধি লংঘনের বিষয়ে সংশি−ষ্ট প্রতিষ্ঠানের শৃংখলা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণে ক্ষমতাপ্রাপ্ত;
(ধ) “সিদ্ধান্ত” অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত;
৩। অভিযোগ কমিটি গঠন।-(১) সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান পরিচালনা এবং সুপারিশ প্রদানের জন্য “অভিযোগ
কমিটি” প্রতিষ্ঠা করিবেন।
(২) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে ক্ষেত্রমতে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মচারী এবং কর্মকর্তার সর্বমোট সংখ্যা পঞ্চাশ জনের উর্দ্ধে হইলে অভিযোগ কমিটি হইবে কমপক্ষে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এবং পঞ্চাশ জনের নিমেড়ব হইলে অভিযোগ কমিটি হইবে কমপক্ষে তিন সদস্য বিশিষ্ট, যাহার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান হইবেন। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কমিটির প্রধান এবং বেশীরভাগ সদস্য নারী হইবেন ।
(৩) অভিযোগ কমিটির কমপক্ষে একজন সদস্য হইবেন সংশি−ষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাহিরের কোন প্রতিষ্ঠানের, যে প্রতিষ্ঠান নারী-পুরুষের সমতা (জেন্ডার) এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করে।
(৪) যে সকল প্রতিষ্ঠানে অদ্যাবধি অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয় নাই সে সকল প্রতিষ্ঠান এই আইন বিষয়ে গেজেট নোটিফিকেশনের দুই মাসের মধ্যে অভিযোগ কমিটি গঠন করিবে।
৪। আভিযোগ দায়ের।- (১) যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তি নিজে বা তাহার সম্মতিক্রমে তাহার কোন মনোনীত প্রতিনিধি বা যাহার সম্মুখে ঘটনা ঘটিয়াছে উক্ত ব্যক্তি চিঠি প্রেরণের মাধ্যমে বা অভিযোগ নির্দিষ্ট অভিযোগ বাক্সে ফেলিয়া অভিযোগ কমিটির নিকট অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে।
(২) এই আইনে সংজ্ঞায়িত যৌন হয়রানির কোন ঘটনা ঘটিবার ত্রিশ (৩০) কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগটি আভিযোগ কমিটির নিকট দায়ের করিতে হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, ৩০ কার্যদিবস অতিক্রান্ত হইবার পরও অভিযোগ কমিটি যুক্তিসংগত কারণে কোন অভিযোগ গ্রহণ করিতে পারিবে।
৫। মৌখিক অভিযোগ দায়ের।- কোন অভিযোগকারী যদি লিখিতে না পারে তবে তিনি মৌখিকভাবে অভিযোগ কমিটির নিকট অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন। অভিযোগকারীর বলামতে অভিযোগ কমিটি তার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করিবেন এবং তাহাকে পড়িয়া শুনাইবার পর তিনি তাহাতে স্বাক্ষর বা টিপসহি প্রদান করিবেন।
৬। অভিযোগ কমিটির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ।- যদি অভিযোগ কমিটির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করা হয়, তবে উক্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে, সংশি−ষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রাপ্তির দশ (১০) কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত সদস্যকে বাদ দিয়া নতুন সদস্য অন্তর্ভূক্ত করিয়া একটি এড হক কমিটি (অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটি) গঠন করিবেন, উক্ত কমিটির চেয়ারম্যান হইবেন অভিযুক্ত ব্যক্তি অপেক্ষা উর্দ্ধতন পদে আসীন কোন ব্যক্তি।
৭। যৌন হয়রানির অভিযোগটি প্রচলিত আইনের অধীনে অপরাধ হিসাবে গণ্য হইলে।- (১) অভিযোগ দাখিলের পর যদি দেখা যায়, কৃতকর্মটি প্রচলিত অন্য কোন আইনের অধীনে অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং এ বিষয়ে কোন আদালত, ট্রাইবুনাল বা থানায় মামলা দায়ের করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে অভিযোগ
কমিটির তাৎক্ষণিক দায়িত্ব হইবে আইনানুযায়ী অভিযোগকারীর যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রহিয়াছে সে সকল বিষয়ে তাহাকে উপদেশ দেওয়া, পথপ্রদর্শন এবং তাহাকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করা।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে গৃহীত যে কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কোন কার্যধারাকে কোন ভাবেই প্রভাবিত করিবে বরং ইহা অভিযোগ কমিটির একটি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হইবে।
৮। অনুসন্ধান- পূর্ব আপোষ মীমাংসা।- (১) অভিযোগ দাখিলের পর যদি দেখা যায় যে, কৃতকর্মটি প্রচলিত অন্য কোন আইনের অধীনে অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে না বা আপোষযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে, তবে অনুসন্ধান শুরুর পূর্বে অভিযোগ কমিটি অভিযোগকারীর সম্মতিক্রমে বিষয়টি আপোস মীমাংসার চেষ্টা করিবেন।
(২) আপোস মীমাংসার শর্তাবলী অবশ্যই অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য হইতে হইবে।
(৩) অভিযোগ কমিটি সম্পূর্ণ আপোস মীমাংসা পদ্ধতি এবং শর্তাবলী লিপিবদ্ধ করিবে এবং উপ-ধারা (২) মোতাবেক কোন আপোস মীমাংসায় উপনীত হওয়া সম্ভব হইলে তাহা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে, যাহাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মীমাংসার শর্তাবলী বাস্তবায়ণ করিতে পারে। মীমাংসা পত্রের অনুলিপি অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়পক্ষকে প্রদান করিতে হইবে।
(৪) উপধারা (২) ও (৩) এ যাহাই থাকুক না কেন, তাহা জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে বা বল প্রয়োগে বা অন্যায় প্রভাব খাটাইয়া সম্মতি আদায় করা হইয়াছে বা আপোষ মীমাংসার কোন শর্ত ভঙ্গ করা হইয়াছে এই অভিযোগে যে কোন আপোস মীমাংসার প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরাইয়া লইবার বিষয়ে অভিযোগকারীর অধিকারকে খর্ব করিবে না।
(৫) অভিযোগ কমিটির নিকট অভিযোগ দাখিলের ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান-পূর্ব আপোস মীমাংসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত করিতে হইবে; তবে এড হক কমিটির ক্ষেত্রে এই কার্যদিবস গণনা হইবে কমিটি গঠনের পর দিন হইতে।
(৬) কোন আপোস মীমাংসায় উপনীত হওয়া সম্ভব না হইলে অভিযোগ কমিটি ৯ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতি মোতাবেক অনুসন্ধান কার্য আরম্ভ করিবে।
(৭) অভিযোগটি প্রচলিত অন্য কোন আইনের অধীনে অ-আপোষযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হইলে সেক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে না। সে সকল ক্ষেত্রে অভিযোগ কমিটি সরাসরি ধারায় বর্ণিত পদ্ধতি মোতাবেক অনুসন্ধান কার্য আরম্ভ করিবে।
৯। অনুসন্ধান পরিচালনার পদ্ধতি।- (১) অভিযোগ কমিটির পক্ষসমূহ ও সাক্ষীগণকে শুনানীতে অংশগ্রহণের জন্য ডাক যোগে রেজিষ্ট্রি নোটিশ প্রেরণ, শুনানী পরিচালনা, সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সকল দলিলাদি পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা থাকিবে।
(২) সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট অফিস অভিযোগ কমিটির অনুরোধের প্রেক্ষিতে সকল প্রকার সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন কোন প্রশড়ব বা আচরণ করা যাইবে না, যাহা উদ্দেশ্যমূলক, অপমানজনক বা হয়রানিমূলক;
(৪) সাক্ষ্য গ্রহণকালে যথাসম্ভব গোপনীয়তা বজায় রাখিতে হইবে;
(৫) অভিযোগকারীর সাক্ষ্য গ্রহণ অবশ্যই নিভৃত-কক্ষে (ক্যামেরা) হইতে হইবে;
(৬) পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোস মীমাংসার কারণে অভিযোগকারী যদি অভিযোগ প্রত্যাহার করিতে চায় বা অনুসন্ধান বন্ধ করিতে চায়, তবে অভিযোগকারীর লিখিত দরখাস্তের প্রেক্ষিতে অভিযোগ কমিটি উপযুক্ত বিবেচনা করিলে অনুসন্ধান বন্ধ করিতে পারিবেন এবং এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(৭) অভিযোগ কমিটি অভিযোগ দাখিলের ত্রিশ (৩০) কার্যদিবসের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কার্যক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশসহ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করিবেন। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ত্রিশ (৩০) কার্যদিবস বর্ধিত করা যাইবে। তবে শর্ত থাকে যে, কার্যদিবস বৃদ্ধির জন্য
অভিযোগ কমিটিকে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করিতে হইবে।
(৮) অভিযোগ প্রমাণিত হইলে, অভিযোগ কমিটি অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করিবে এবং কৃতকর্মটি দণ্ডবিধি (১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন) এর ৪০ ধারা বা প্রচলিত অন্য কোন আইনের অধীনে অপরাধ হিসাবে গণ্য হইলে এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে, যদি তখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন আদালত, ট্রাইবুনাল বা থানায় মামলা দায়ের করা না হইয়া থাকে।
(৯) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ কমিটির সুপারিশ মোতাবেক গৃহীত সিদ্ধান্ত উভয়পক্ষকে লিখিতভাবে জ্ঞাত করিবে।
১০। মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের দন্ড।-অনুসন্ধান অন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে, কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্থ বা হেয় প্রতিপনড়ব করিবার উদ্দেশ্যে এই আইনের অধীনে যৌন হয়রানিমূলক কোন ঘটনা সংঘটিত না হওয়া সত্ত্বেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করিয়াছেন বা করাইয়াছেন, তবে; এই আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী যে দন্ড প্রদান করা হইত, অভিযোগ কমিটির সুপারিশসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দায়েরকারী বা যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তিকে অনুরূপ দন্ড প্রদান করিতে পারিবে।
১১। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশের বিষয়ে বিধি নিষেধ।- (১) অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের পরিচয় গোপন রাখিতে হইবে। অনুসন্ধান চলাকালীন এমন কোন সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোন প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাইবে না যাহাতে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ পায়।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করা হইলে সংক্ষুব্ধপক্ষ দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ে র করিতে পারিবে।
(৩) অভিযোগ প্রমাণিত হইলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হইবে। ক্রমাগত লংঘনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানা হইবে প্রতি দিনের জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
(৪) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আপীল
দায়ের করা যাইবে এবং উক্তরূপ আপীলের ক্ষেত্রে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
১২। অভিযোগ চলাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা।-(১) অভিযোগ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি-
(ক) ছাত্র হইলে তাহাকে ক্লাস করা হইতে বিরত রাখিতে পারিবে;
(খ) ছাত্র না হইলে তাহাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে অথবা বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান করিতে পারিবে;
(২) অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকাকালে অভিযোগকারীর সুযোগ থাকিবে তাহার নিজের বা অভিযুক্ত ব্যক্তির বদলী প্রার্থনা করিবার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যতদূর সম্ভব বিষয়টিতে সহযোগিতার চেষ্টা করিবেন।
(৩) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগকারী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবে।
(৪) যৌন হয়রানির অভিযোগ করিবার কারণে অভিযোগকারী যাহাতে কোন প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে বিষয়টিও নিশ্চিত করিবে।
১৩। যৌন হয়রানির দন্ড।- অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হইলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উহাকে আচরণবিধি ভঙ্গ হিসাবে গণ্য করিবে এবং অভিযোগ কমিটির নিকট হইতে সুপারিশ প্রাপ্তির ত্রিশ (৩০) কার্যদিবসের মধ্যে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং অভিযোগটি বর্তমানে
বলবৎ ফৌজদারী আইনে শাস্তিযোগ্য হইলে অভিযোগকারীর সম্মতিসাপেক্ষে এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষ থানা, আদালত বা ট্রাইবুনালে প্রেরণ করিবে। তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু হইলে তাহার ক্ষেত্রে শিশু আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সালের ৩৯ নং আইন) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে। অভিযোগ
কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগের প্রকৃতি মোতাবেক নিম্ন বর্ণিত এক বা একাধিক প্রকারের দন্ডের জন্য সুপারিশ করিতে পারিবে
(১) লঘু দন্ড: (ক) তিরস্কার বা ভৎর্সনা বা সতর্কীকরণ; (খ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনবৃদ্ধি বা পদোনড়বতি স্থগিতকরণ ; (গ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাইমস্কেল বন্ধ রাখা; (ঘ) অভিযুক্তের বেতন-ভাতাদি হইতে বা অন্য কোন উৎস হইতে যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় এবং তাহা যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তিকে প্রদান; (ঙ) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিতকরণ।
(২) গুরু দন্ড :
(ক) পদাবনতি বা টাইম-স্কেলের নিমড়ব ধাপে অবনমন; (খ) বাধ্যতামূলক অবসর; (গ) চাকুরিচ্যুতি; (ঘ) অব্যহতি; (ঙ) অভিযুক্তের বেতন-ভাতাদি হইতে বা অন্য কোন উৎস হইতে যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় এবং তাহা যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তিকে প্রদান; (চ) ছাত্রত্বের অবসান।
১৪।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।- যৌন হয়রানি সনাক্ত এবং দূর করিবার জন্য এবং শিক্ষা ও কাজের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আইন প্রণীত হইবার ছয় (৬) মাসের মধ্যে যথোপোযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। আইনটি বাস্তবায়ণের জন্য ব্যাপক
প্রচারণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ আরো যে সকল প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তাহাও উক্ত সমযের মধ্যে গ্রহণ করিবে। ১৫। এই আইনের বিধানাবলী অমান্য করিবার শাস্তি।- (১) কোন নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি
এই আইনে বর্ণিত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে বা অভিযোগ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে সংক্ষুব্ধপক্ষ এখতিয়ার সম্পন্ন জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে।
(২) অভিযোগ প্রমাণিত হইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হইবে। ক্রমাগত লংঘনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানা হইবে প্রতি দিনের জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
(৩) আদায়কৃত জরিমানা ক্ষতিপূরণ হিসাবে অভিযোগকারীকে প্রদান করিতে হইবে।
১৬। আপীল।- (১) এই আইনের অধীনে সংশি−ষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্বারা সংক্ষুব্ধপক্ষ লিখিতভাবে জ্ঞাত হইবার পর ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে এখতিয়ার সম্পন্ন সহকারী জজ এবং
সংক্ষুব্ধপক্ষ সরকারী কর্মচারী হইলে এখতিয়ার সম্পন্ন প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে আপীল করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আপীলের ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রমত, সংশি−ষ্ট সহকারী জজ বা প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযোগ কমিটি সঠিকভাবে অনুসন্ধান করিতে ব্যর্থ হইয়াছে বা তাহাদের সুপারিশ বা উক্ত সুপারিশের ভিত্তিতে গৃহীত সংশি−ষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যথাযথ হয় নাই, তাহা হইলে, উক্ত সহকারী জজ বা প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল গৃহীত সিদ্ধান্তকে বাতিল বা পরিবর্তন করিতে পারিবে অথবা পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ফেরত পাঠাইতে পারিবে। (৩) উপ-ধারা (১) মোতাবেক দায়েরকৃত আপীল সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ বা প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল দায়েরের ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবেন।
(৪) উক্তরূপ আপীলের ক্ষেত্রে সহকারী জজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং সরকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি অনুসৃত হইবে।
১৭। আইনের প্রাধান্য।- বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন এই আইনের অধীনে কৃত কোন আচরণ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হইবে।
১৮। প্রচারণা ও প্রশিক্ষণ।- (১) সরকার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে আইনটির ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) সরকার আইনটি বাস্তবায়ণের সহিত জড়িত সরকারী, বেসরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের নিয়োগকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অভিযোগ কমিটি, আইনজীবী, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
১৯। বাৎসরিক প্রতিবেদন।- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর ৩১শে জানুয়ারী তারিখের মধ্যে অত্র আইনের বিধানাবলী বাস্তবায়ণ সংক্রান্ত এবং অভিযোগ কমিটি কর্তৃক পরিচালিত মামলাসমূহের বিবরণসহ সরকারের নিকট বাৎসরিক প্রতিবেদন দাখিল করিবে।
২০। মামলা দাখিলে প্রতিবন্ধকতা।- প্রশাসনিক দন্ড বা এই আইনের কোন কিছুই যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তিকে যথোপযুক্ত আদালতে মামলা দাখিলের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিবে না।
২১। বিধি প্রণয়ণের ক্ষমতা।- এই আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সরকার সরকারী গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

তফশিল “ক”
প্রথম অংশ- লঘু অভিযোগ
১। যৌন ইঙ্গিতবাহী কোন কিছু উপস্থাপন বা উক্তি বা মন্তব্য বা প্রদর্শন করা;
২। যৌন আকাংখা পূরণের জন্য অনাকাংখিত বা গ্রহণযোগ্য নয় এমন আবেদন বা অনুরোধ করা; ৩। পর্ণোগ্রাফী দেখানো; ৪। যৌন ইঙ্গিতমূলক মন্তব্য বা ইশারা করা; ৫। অশালীন অঙ্গ-ভঙ্গী, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের দ্বারা উত্ত্যক্ত করা বা অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোন ব্যক্তির অলক্ষ্যে তাহার নিকটবর্তী হওয়া বা অনুসরণ করা বা যৌনইঙ্গিতপূর্ন ঠাট্টা বা উপহাস করা; ৬। চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস, নোটিশ, কার্টুন এর মাধ্যমে বা বেঞ্চ, চেয়ার,
টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস, কারাখানা, ক্লাসরুম, ওয়াশরুম, বাথরুম বা যে কোন স্থানে বা দেওয়ালে যৌন ইঙ্গিতমূলক কোন কিছু লেখা বা অঙ্কন করা বা চিহ্নকরণ বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অশ্লীল বা যৌনতা সংশ্লিষ্ট কোন বস্তু রাখা বা দেখানো ইত্যাদি; ৭। যৌন আকাংখা পূরণে কমনরুম, ওয়াশরুম, বাথরুম বা ঐ ধরণের কোন স্থানে উঁকি দেওয়া;
৮। লিঙ্গগত কারণে বা যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা বিরত থাকিতে বাধ্য করা;
৯। যৌন প্রকৃতির যে কোন প্রকার অনাকাংখিত শারীরিক, বাচনিক বা ইঙ্গিতমূলক অভিব্যক্তি;
দ্বিতীয় অংশ- গুরুতর অভিযোগ
১। সরাসরি বা ইঙ্গিতে অনাকাংখিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ যেমন- শারীরিক স্পর্শ বা এ ধরনের প্রচেষ্টা; ২। প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করিয়া কাহারো সাহিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা; ৩। ব্লাক মেইল বা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে কারো স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ ও সংরক্ষণ, প্রদর্শন, বিতরণ, বিপনন ও প্রচার বা প্রকাশ করা; ৪। প্রতারণার মাধ্যমে, ভয় দেখাইয়া বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়া যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা; ৫। প্রেম নিবেদন করিয়া প্রত্যাখ্যাত হইয়া হুমকি দেওয়া বা চাপ প্রয়োগ করা; ৬। যৌন আকাংখা পূরণ সংশ্লিষ্ট কোন কাজ করিতে অস্বীকার করিবার কারণে কোন ব্যক্তির পদোবনতি বা পরীক্ষার যথাযথ ফলাফল বা অন্যান্য যে কোন সুবিধাদি বাধাগ্রস্থ করা।

নারী উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে যে আইন হচ্ছে-১
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×