somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমতা, অক্ষমতা ও সহযোগীতা।

৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাতাট এতো ছোট যে শরীরের সামান্য একটু অংশও বাঁচাতে পারছে না নাজমুল। প্রথমে বাসা থেকে বের হবার সময় তো ও ছাতা নিবেই না। মায়ের পিড়া পিড়িতে নিতে বধ্য হল। এখন মনে হচ্ছে কোন উপকারই করছে না ছাতাটা। বৃষ্টি ক্রমেই বেড়ে চলছে। কমপক্ষে দেড় কিলোমিটার দূরে হাসপাতাল। রিকশাও পাওয়া যাচ্ছে না একটা। মিনিট দুয়েক আগে রিক্সা অবশ্য গিয়েছে দু’একটা। হাঁক দিয়ে কাছে ডাকার পর যখন ও বলেছে
-যাবেন হাসপাতালে?
তখন রিক্সাওয়ালা ওর দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল তা দেখে ওর মনে হয়েছে এমন প্রস্তাব মানুষ মানুষ কে দেয়? তারপর থেকে রিক্সার চিন্তা বাদ দিয়ে হাঁটা শুরু করেছে। অন্ধকারে হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ নাই প্রায় ঘন্টা খানেক হল। যাহ্! বৃষ্টি এখন মূষলধারেই শুরু হল। এখন ছাতাটাকে একটা বাড়তি বোঝাই মনে হচ্ছে। এক হাতে একটা টিফিন ক্যারিয়ার। ওটায় ভাত রয়েছে আরিফার জন্য। আরিফার কথা মনে হতেই একটু জোরে পা চালালো নাজমুল। নিশ্চই অনেক ক্ষুধা লেগেছে ওর। ভাত তরকারীতে পানি ঢোকার সম্ভাবনাও কমনা।
মজার ব্যাপার হল হাসপাতালে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে বৃষ্টি একদম শেষ! মনে মনে হাসল নাজমুল। হাসপাতালের বারান্দায় দাড়িয়ে শার্ট খুলে চিপে যতটা সম্ভব পানি বের করে আবার গায়ে দিল। ওদের রুমে গিয়ে দেখে আতিকের পায়ের কাছে একটা টুলে চুপচাপ বসে আছে আরিফা।
-কিরে কি অবস্থা? আতিকের খবর কি?
চমকে পিছনে ফিরে তাকালো আরিফা।
-ও তুই আইসা পরছস?
-হু, ওর খবর কি?
-এখন স্যালাইন চলতেছে।
-তুই এখন যা, গিয়ে খা, আমি ওর পাশে বসতেছি। আন্টির টেবিলের উপরে খাবার রাখা আছে।
-তুই তো একদম ভিজে গেছিস,
-সমস্যা নেই তুই যা।
-সমস্যা আছে, চল তুই, মাথা মুছে টুছে এসে বসবি, ভেজা মাথায়, ভেজা কাপড়ে থাকলে পরে আবার জ্বর এসে যাবে।
একজন নার্সকে কিছু সময়ের জন্য রেখে ওরা দুজনে ডিউটি নার্সের রুমে চলে এলো। ডিউটি নার্স সোভা রানী নাজমুল আর আরিফারই এক বন্ধুর মা। ওদের খুবপছন্দ করে, ভালবাসে।
খেতে খেতে আরিফা বলল
-তুই কি আমাদের বাসা হয়ে এসেছিস?
-হু
-আব্বা অষুধ খেয়েছে।
নাজমুল যতটা সম্ভব হাত পা মাথা মুছে আতিকের পাশে গিয়ে বসল।
আতিক আরিফার ছোট ভাই। আজ দুপুরে লেইজারে বাসায় খেতে এসে পেটে ব্যথা ব্যথা করছিল। আরিফা ভেবেছিল নিশ্চই স্কুলে না যাওয়ার বাহানা। পড়া হয়নি মনে হয়। মা মরা আদরের ছোট ভাইকে আর কিছু বলেনি আরিফা। কিন্তু বিকেলের দিকে ব্যথায় কাতরাচ্ছিল আতিক। তখন আরিফা আর নাজমুলই ওকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তার বলল এপেন্টেসাইটিস ফুলে ঢোল, এক্ষুনি কাটতে হবে। অথৈ সাগরে পরল আরিফা। সমস্যাটা টাকা পয়সা নিয়ে না। ওদের পাশে এই মূহুর্তে কেউ নেই।
বাবা তো তিন বছর ধরে প্যারালাইজড। আশরাফ ঢাকায়। তার ইন্টার্নি শেষের দিকে। আরিফা যখন কোন কুল কিনারা করতে পারছিল না, তখন এই হাসপাতালের সিনিয়র নার্স, এক সময়ের সহপাঠি নামুল, শুভ এরা সবাই আরিফার পাশে এসে দাড়িয়েছিল। শুভ সিনিয়র নার্স শোভা রানীর ছেলে। আরিফা কাঁদতে কাঁদতে একমাত্র আদরের ছোট ভাইয়ের না দাবি নামায় এক মাত্র অভিবাবক হিসেবে সই করার পর ডাক্তার ওকে নিয়ে যখন ওটি তে ঢুকালো তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধা প্রায় হয়ে এসেছে। ঘন্টা খানিক পরে ডাক্তার তার মাস্ক খুলে হাসি মুখে বেরিয়ে এলো। অপারেশনের পরে অনেকেই আরো ঘন্টা খানিক ছিলো। পোষ্ট অপারেটিভ এ বেশীক্ষন ছিল না আতিক। অনেক কষ্ট করে আশরাফকে খবর দেয়া হয়েছে। আশরাফ আরিফার স্বামী। ছয় বছর হল ওদের বিয়ে হয়েছে। আরিফা বা আশরাফ কারোই এখন পর্যন্ত মা বা বাবা ডাক শোনার সৌভাগ্য হয়নি। তবে অনেক গঞ্জনা শোনার দুর্ভাগ্য আরিফার একারই হয়েছে। বিষয়ের সাথে যুক্ত আশরাফের কলেজের সকল ডাক্তারই ওদের চিকিৎসা করেছেন। কোন লাভ হয়নি। এই চিকিৎসার জন্য ওরা দেশের বাইরেও গিয়েছে বার কয়েক। যখন যেখানেই চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছে, করিয়েছে দু’জনেই। কোথাও সুফল পায়নি। টাকা পয়সা খুইয়েছে অনেক।
আফিয়ার বাবার অনেক আছে। এখন সে অচল, প্যারালাইজড। যখন সুস্থ ছিল তখন করেছে অনেক। জেলা সহরে দুই দুইটি তেলের পাম্প, বেশকিছু ফসলি জমি, গাড়ীর পার্টেস এর দোকান, এরকম আরো অনেক কিছুু। অসুস্থ বলে ব্যাবসায় হেরফের হয়নি একটুও। এক ছেলে এক মেয়ে সাবু মিঞার। স্ত্রী গত হয়েছে বছর চারেক। দু’বছর পর নিজেও অচল। আরিফার মা মারা যাওয়ার বছর দুই আগে নিজের বড় বোনের হবু ডাক্তার ছেলের কাছে পাত্রস্থ করে গেছেন। আরিফার যখন বিয়ে হল তখন সে সবে মাত্র মাধ্যমিক পাস করেছে দ্বিতীয় বিভাগে। আর আশরাফ তখন ঢাকা মেডিকেলের প্রথম বর্ষের ছাত্র। আশরাফের বাবা মা এত টাকার মালিক না যে ছেলেকে ডাক্তারি পড়াবে। নিজের বোনের প্রতি কিছুটা দয়া পরবাস হয়ে এবং নিজের মেয়ের সুন্দর ভবিশ্যতের কথা চিন্তা করেই আরিফার মা শুভ কাজটা কিছুটা আগে ভাগেই করে ফেলেছে। তবে আরিফাও এক কথায় বেশ সুন্দরী। লম্বায় পাঁচ ফুট চার। যা এদেশের ক্ষেত্রে একটা মেয়ের জন্য যথেষ্ট।
গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা, মাথায় আছে ঘন আর কালো লম্বা চুল, কপালের নিচে দুটি বেশ সুন্দর দুটি চোখ। পুরুষের স্পর্শে একটা মেয়ে যে আরো সুন্দর হয়ে ওঠে তার উদাহরণ মনে হয় অরিফা। দোষ একটাই, বিয়ের ছয় বছর পরেও সে আশরাফকে বাবা ডাক শোনাতে পারেনি, নিজে শেনেনি মা ডাক। কিন্তু শুনতে হয়েছে অন্য কিছু, যা মোটেই কাম্য নয়। অপরাধ একটাই, সে সন্তান উৎপাদনে অক্ষম। অনেক চেষ্টার পরে বছর তিনেক আগে একবার তার সবাই কে খুশি করার সুযোগ এসেছিল। তিন মাসের মাথায় একটা দুর্ঘটনা আবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় আগের গঞ্জনায়। তার পর থেকে দুজনেরই চেষ্টা চলছে। ডাক্তার, কবিরাজ, ওঝা, বৌদ্ধ, ঝাড়-ফুক, হমিওপ্যাথ, সাধনা, ইউনানী সবই চলছে। দেখা যাক কি হয়। একবার এক ওঝা বলেছিল বন্ধা গাইয়ের প্রস্রাব খেতে হবে, আরিফা তাও খেয়েছে। আর সে জন্য হাসপাতালেও কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ দিন। এরকম আরো কতো কি? বিনিময়ে একটা সন্তান। আর যা খেতে হচ্ছে সব আরিফাকেই খেতে হচ্ছে। সে ঔষধই হোক আর সকলের গঞ্জনাই হোক। আশরাফ যেন একশো ভাগ ফিট! ভাবগতি দেখলে মনে হয় সে চাইলেই হাজার সন্তানের জন্ম দিতে পারে মূহুর্তেই।

আরিফা শুয়ে আছে সোভা রানীর বিছানায়। সারাদিনে কম ধকল সহ্য করতে হয়নি। সোভা রানী বাসায় চলে গিয়েছে। কোন সমস্য হলে খবর দিতে বলেছে সাথে সাথে। সোভা রানীর একমাত্র ছেলে শুভ বিকেলে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়েছে।

নাজমুল বসে আছে আতিকের পাশে। বেশ পরোপোকারী ছেলে নাজমুল। আরিফার আর নাজমুলের বাসা পাশাপাশি। ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছে দুজন একই বছরে একই স্কুল থেকে। নাজমুলের বাবা মা দুজনই পেশায় শিক্ষক। একজন হাইস্কুলের, অন্যজন প্রাইমারীর। মাঝারী আকারের এই মফস্বল সহরে ওরা পাশাপাশি রয়েছে প্রায় দুই দশক ধরে। বেশ ভাল একটা পারিবারিক বন্ধনও রয়েছে দুই পরিবারের মধ্যে।

জগন্নাথ কলেজের ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্র নাজমুল। কি একটা গন্ডগোলের কারণে কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিন আষ্টেক হলো বাড়ীতে এসেছে ও।
হঠাৎ করে বৃষ্টিতে ভেজায় জ্বর এসেছে তার। রাত সাড়ে বারোটার দিকে আরিফা এসে দেখে প্রচন্ড জ্বরে প্রলাপ বকছে নাজমুল। আরেক বার দিশে হারা হল আরিফা। মাথায় হাত দিতেই চোখ মেলে তাকালো নাজমুল।
-তোর তো অনেক জ্বর এসেছে।
প্রায় জোর করে একটা প্যারাসিটামল খাইয়ে নার্সের রুমে শুইয়ে দিয়ে আসলো ওকে আরিফা।
বাইরে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আতিকের বিছানার পাশে বসে আছে আরিফা। বড় আদরের ভাই আতিক। এবছর সিক্স উঠেছে। গেল বছর আবার ট্যালেন্টপুল বৃত্তিও পেয়েছে।
অশ্র“ সজল আফিয়া মাথায় হাত বুলিয়ে দিল ছোট ভাইয়ের। মা মারা যাওয়ার পরে বাবা, মা আর বড়বোন সকলের চাহিদা আরিফা একাই পূরণ করে আসছে।
ক্লান্ত আরিফা এক সময় ঘুমিয়ে পরল আতিকের মাথার পাশে।

ঔষধ খাওয়ার পরে নাজমুলের জ্বর কিছুটা করেছে কিন্তু মাথা ধরাটা এখনও আছে, তবে প্রলাপ বকার মতো অবস্থায় নেই।

একটা বিশ্রীদুঃস্বপ্ন দেখে ধড়মড় করে জেগে উঠল আরিফা। আতিকের স্যলাইন শেষের দিকে। মেডিসিন টেবিল থেকে একটা স্যালাই নিয়ে নার্সের দেখানো পদ্ধতিতে সাবধানে লাগিয়ে দিলো । এখন রাত পৌনে তিনটা। হঠাৎ করেই নাজমুলের কথা মনে পরল ওর। প্রায় দৌড়ে এলো ও নাজমুলের কাছে। শুয়ে আছে। বোধ হয় ঘুমাচ্ছে। কপালে হাত দিয়ে টের পেল জ্বর কিছুটা কমেছে। পাশে বসলো। হঠাৎ কেমন যেন চঞ্চল হয়ে উঠলো আরিফা। রুমের আলো বন্ধ করে দিয়ে এসে শুয়ে পড়লো নাজমুলের পাশে। এক সময় জ্বরে উত্তপ্ত নাজমুলকে কাছে টেনে নিলো আরেক উত্তপ্ত শরীর। নাজমুলের তপ্ত ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরলো । উত্তর আসলো ওপাশ থেকেও।
বৃষ্টিটা আবার শুরু হয়েছে। সেই সাথে এলোমেলো বাতাস।
ঘরে বাইরে দুই যায়গার ঝড় যখন পরে এলো তখন পূর্ব দিক ফর্শা হতে শুরু করেছে। এক ঝটকায় উঠে বসলো নাজমুল, বসলো আরিফাও।
-আরিফা কি হলো এটা? কি করলি তুই?
-আমি একা করেছি? তুই কিছু করিসনি?
-ছি! আরিফা!
-কি বলতে চাস তুই? আমাকে ছি ছি করছিস কেন? আনন্দ শেষ? মজা শেষ? কেন তুই বুঝতে পারিস নাই যে ভুল হচ্ছে? অন্যায় হচ্ছে? ঠিক হচ্ছে না? তুই বুঝতে পারিস নি? এখন ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করছিস কেন? কি কারণ? আত্ম পক্ষ সমর্থন?
-কেন বুঝতে পারছিস না যে এক জনের সাথে তুই কতো বড় বেইমানি করেছিস! বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিস।
আরিফা কোন কথা বললো না। নীরবে কাঁলো কিছুক্ষন। চার দিক ফর্শা হয়ে এসেছে। ফুটে উঠতে শুরু করেছে দিনের প্রথম আলো। মুখ তুললো আরিফা।
-শোন তুই যা যা বলবি সবই আমি জানি। আর আমি যা করেছি যেনে শুনেই করেছি।
-আমি, কি বলেছি তা তুই কেন বুঝতে পারছিস না?
-তুই থাম আমাকে আগে বলতে দে তার পরে তুই বলিস। মেয়েদের সব চেয়ে বড় যোগ্যতা তার মাতৃত্বে। সৃষ্টি কর্তা যখন তাকে ক্লীব থেকে নারী করে তখন থেকেই সে মা হতে চায়। চায় মাতৃত্বের স্বাদ। পুরুষ বাবা হতে চায় তার পৌরোষের প্রমান দেয়ার জন্য,আর নারী মা হতে চায় মাতৃত্ব প্রমানের জন্য। বুঝতে পারছিস দুই চাওয়া মধ্যে পার্থক্য কতোটা? একটা চাওয়া অপবিত্র আর অন্যটা পবিত্র। ছয় বছর শেষ হতে চলল আমার বিয়ে হয়েছে। আশরাফের লেখাপড়া, ওর মায়ের চিকিৎসার খরচ, রানু আপার মানে ওর বড় বোনের সংসার সব চলে আমার বাপের দেয়া টাকায়। কিন্তু তুই কি জানিস বিয়ের দুয়েক বছর পর থেকে আজ পর্যন্ত আমাকে কতো কথা শুনতে হয়েছে? আমি মা হতে অক্ষম, এটাই আমার দোষ। কিন্তু আমি তো জানি আশরাফের ক্ষমতা কতো দুর। আমার মনে হয় না সে কোন দিন বাবা হতে পারবে আর আমাকে মা বানাতে পারবে। একটা ভালো কাজের জন্য না হয় একটা অন্যায় করলাম। তুই কিছু মনে করিস না।
-সবই তো বুঝলাম, কিন্তু আমাদের তো পাপ হলো।
ব্যাঙ্গের হাসি হেসে আরিফা বললো
-পাপের তুই আমি কি বুঝি? সব চেয়ে বড় পাপ তো করেছি মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়ে। এর চেয়ে আর বড় পাপ আর কি হতে পারে?
-এসবই তোর ইমোশনের কথা।
-ইমোশন? পুরা পৃথিবিটাই তো ইমোশনাল। যা কিছু ভালো মন্দ সবই এই ইমোশনেরই ফল।
-যাই বলিস, অবৈধ যৌনতা কি পাপ না?
-আচ্ছা বৈধ অবৈধ মানে কি রে? যৌনতা তো শরীরেরই একটা চহিদা তাইনা? এই ধর ক্ষুধা লাগলে তুই আমি খাই, পিপাসা পেলে পান করি, ঘুম পেলে ঘুমাই এরকম হাজারো চহিদা মানুষ ইতিহাসের শুরু থেকে তার নিজস্ব উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মিটিয়ে আসছে। যৌনতাও তেমনই একটা শারিরীক চাহিদা, তাইনা? সৃষ্টির আদিতে মানুষ তার সমস্যা গুলো মিটিয়েছে কিছুটা অভদ্র ভাবে কিছুটা অশ্লীল ভাবে। যেমন মানুষ প্রথমে খেত কাঁচা মাংশ, কাঁচা মাছ। আর এখন তারই উত্তর পুরুষ সেই খাবার কে একটা শিল্পে পরিনত করেছে। যৌনতাও তাই। এখানে বৈধ অবৈধর প্রশ্ন আসছে কেন? বেশী কথা শিখেছিস না? একটা থাপ্পর দিয়ে গাল ফাটিয়ে দেব।
-আমার গায়ে হাত দিয়ে দেখ তো আবার জ্বর এসেছে কিনা?
আরিফা ওর গায়ে হাত দিয়ে দেখলো আবার খৈ ফোটা জ্বর।
- আবার জ্বর এসেছে। আচ্ছা তুই আমি তো ক্লাস মেট তাই না?
-হ্যাঁ তা আবার নতুন করে বলার কি আছে?
-ছোট বেলায় তুই প্রয়ই আমার টিফিন খেতি, মনে আছে?
-মনে আছে।
বলে নাজমুল একটু মুচকি হাসলো।
-লজ্জার কিছু নেই, আমিও তো তোরটা খেতাম, তাই না?
-হুম।
-অর্থাৎ একে অপরকে সাহায্য করতাম তাই না?
তোর কলম আমি নিতাম, আমারটা তুই আবার আমার খাতা কিংবা পেন্সিল। একে অপরের সহযোগী ছিলাম। আজ আমি সংসার জীবনে ঢুকেছি, একটা কাজ আমি একা বা দুজনে মিলেও পারছি না, ফলে আমাকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। তুই একটু হেল্প করলি মাত্র তাতে হয়তো আমার কষ্টটা দুর হয়ে যাবে, তা নিয়ে এত্ত কথা বলিস কেন ফজিল?

এবার সত্যি সত্যি নাজমুলের গালে একটা থাপ্পর মারল আরিফা, আর নিজে আবার কাঁদতে শুরু করলো। জানালা দিয়ে নাজমুল বাহিরে তাকালো। বাইরে বেশ সুন্দর সোনালী পাকা ধানের মতো রোদ উঠেছে।
-আরিফা....
-কি?
মুখ তুলে তাকালো আরিফা।
-কিছুনা।
-চেয়ে দেখ কত্তো সুন্দর লাগছে আজকের বৃষ্টি ধোয়া সকালটাকে! চল একটু হেঁটে আসি।
-চল। আর আমাদের সোনামনিটার জন্য শুভ কামনা করি এই অসম্ভর সুন্দর সকালটার কাছে।
একটু কাচুমাচু করে বলল নাজমুল।
-উহু, আমাদের নয়, শুধুই আমর।
আরিফা আর নাজমুল পাশাপাশি হাঁটছে। নাজমুলে গায়ে বেশ জ্বর। পা টলছে। ও কি আরিফার হাত ধরবে?
নাহ্ সেটা বোধহয় ঠিক হবে না।

২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×