এটি একটি সত্য ঘটনা। আমার খুব কাছের একজনের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েই এ লেখা।
ছেলেটির নাম শুভ। তাকে কেন্দ্র করেই এ ভালবাসার কাহিনী। সে থাকতো ছোট একটি জেলা শহরে। মা, বাবা আর একমাত্র ছোট বোনকে নিয়ে তার একটি সুখী পরিবার। সে খুব ভালো ক্রিকেট খেলতো। লেখাপড়া আর ক্রিকেটই তার জীবনের প্রায় সবটা জুড়ে তখন। সে চিঠি লিখতে খুব ভালোবাসতো। তার বেশ কয়েকজন পত্রবন্ধুও ছিলো।
যে সময়ের কথা বলছি সেসময় শুভ এইচ.এস.সি. পরীক্ষার্থী। এসময় প্রথম-আলো’র ছুটির দিনে-তে তার একটি লেখা ছাপা হয়। এবং সে লেখার সূত্র ধরেই শাম্মী নামে একজনের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। সে থাকতো একটি বিভাগীয় শহরে। তারা নিয়মিত চিঠি বিনিময় করতো। ফোনেও কথা হতো।
এসময় শুভ’র জীবনে আসে এক প্রচন্ড ঝড়। ওর আম্মুর ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য ওর আম্মু ইন্ডিয়া যায়। সাথে যায় ওর আব্বু আর ছোট বোন। তাই এসময়টাতে ও একেবারে একা হয়ে পড়ে। সামনে পরীক্ষা অথচ ওর সবকিছু এলোমেলো। এই যখন অবস্থা তখন শাম্মী ওর জীবনে এক অবলম্বন হয়ে ওঠে। শাম্মীর একটি ফোন অথবা একটি চিঠির জন্য ও তীর্থের কাকের মতো প্রতীক্ষায় থাকতো। এর কয়েক মাস পর ওর আম্মু চলে যায় না ফেরার দেশে। খুব একা হয়ে যায় শুভ। শাম্মী ওকে খুব সময় দিতো। আর শুভও ওর সাথে সবকিছু শেয়ার করতো। এরকম পরিস্থিতিতে ওরা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু কেউ কাউকে বলতে পারেনি।
এরপর শুভ ঢাকা চলে আসে। তখনও দুজনের মধ্যকার যোগাযোগ অব্যাহত। বলে রাখা ভালো, তারা কেউ কাউকে দেখেনি এমনকি ছবিও নয়। কয়েকমাস পর শাম্মীর মা ব্রেন স্ট্রোক করে। একারনে ওদের যোগাযোগ প্রায় ৪-৫ মাস বন্ধ থাকে। যদিও এতসব শুভ কিছু জানতো না। একসময় শাম্মী আবার যোগাযোগ করে। তখন শুভ শাম্মীকে বলে দেয় যে, সে তাকে ভালোবাসে। শাম্মী বলে, সেও শুভকে ভালোবাসে। কিন্তু তার বাবা-মা তার এক কাজিনের সাথে বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। শুভ জিজ্ঞেস করে, তুমি কি চাও? শাম্মী জানায় সে শুভকেই চায়। তখন শুভ বলে সবকিছু সময়ের উপর ছেড়ে দাও। এরপর ওরা দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্দিষ্ট দিনে ওরা দেখা করে। শাম্মী পড়ে এসেছিলো গোলাপী রঙের শাড়ী সাথে রুপার গহনা। শুভ’র মনে হচ্ছিলো ও যেন কোন পরী দেখছে। ওরা সারাদিন এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়। পরেরদিন ওরা আবার দেখা করে। এবং ওরা পরপর বেশ কয়েকবার দেখা করে। সারাক্ষন ফোনে ব্যস্ত থাকতো দুজন। মান-অভিমান আর দুষ্টুমিতে ওদের ভালোবাসা এগিয়ে চলছিলো দূর্বার গতিতে।
কিন্তু ওদের এই ভালোবাসায় এক কঠিন বাঁধা এসে দাঁড়ায়।
তাদের ভালোবাসা কি সফল হয়েছিলো?
সেকথা বলবো আরেকদিন যদি পাঠকরা এই লেখা পছন্দ করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



