গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই অকার্যকর হয়ে যায় আমার ঢাকা ফোন সেটটি। অত্যান্ত কমরেট হওয়ায় এবং সকল ধরনের সুবিধা থাকায় আমি এর উপর বেশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলাম। তাই এর হঠাৎ বন্ধ হওয়াতে আমি স্বভাবতই একটু হতাশ হই। পরে অবশ্য জানলাম অবৈধ ভাবে ভিওআইপি ব্যাবহারের কারনে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় তিনটি বেসরকারী ল্যান্ডফোন রেংকস টেল, ঢাকা ফোন এবং ওয়ার্ল্ড টেল। এর মধ্যে রেংকস টেল ও ঢাকা ফোন খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করে ছিল। এই ঘটনার উপরই আমার নিজস্ব কিছু মতামত এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলব আমার এই পোষ্টে।
ভিওআইপি কি আসলেই অবৈধ?
গত বছর ১ম ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্মেলনে অংশগ্রহন করেছিলাম। তাতে দেশের ইন্টারনেট ব্যাবস্থা নিযে আলোচনার সময় দেশের নেটওয়ার্কিং ব্যাবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা যেটা বারবার বলছিলেন তা হল সfরা বিশ্বে কোখাও ভিওআইপি অবৈধ নয়। এর কারন হল সবাই তার নিজের টাকায় ইন্টারনেট ব্যাবহার করে তাহলে তার নিজের টাকায় যদি সে অক্ষর (মেইল বা ম্যাসেজ) পাঠাতে পারে তবে তার ভয়েসও পাঠাতে পারবে। এতে অন্যায়ের কিছু নেই্। এ বিষয়ে আভিজ্ঞ বেশীরভাগ লোকেরই মতামত যে এটা নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব যাদের হাতে তারা নিছক বোকামী করেই নিরাপত্তার অজুহাতে এটাকে অবৈধ বলছেন।এমনকি তাদের বোকামী এমন পর্যায়ে যে তারা গতবছর একদিন অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ভিডিও করফারেন্স চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন কেউ দেশের তথ্য পাচার করছে ভেবে।
তারপরও যেহেতু সরকার অনুমোদন করে না তাই এটিকে অবৈধই বলতে হবে। কিন্তু তারপরও কিছু কথা রযে যায় এবং আমি সে বিষয়েই পয়েন্ট আউটের চেষ্টা করব।
* ভিওআইপি যদি ঐসব কোম্পানী প্রথম থেকেই করে থাকে তাহলে এতদিন সরকার নীরব ছিল কেন?
* এখন যে বিপুল পরিমান গ্রাহক রয়েছে তার দায়দায়িত্ব কে নেবে? সরকার অনুমোদন দিয়েছে বলেই না তারা কিনেছিল।
* এইসব কোম্পানির ক্যাশকার্ড এর ব্যাবসা যারা করতেন ঐ বিপুল পরিমান ক্যাশকার্ড নিমেষে সাধারন কাগজে পরিনত এখন। আর ব্যাবসা করতে যেয়ে পথে বসলেন যারা তারা তো এর জন্য দায়ী না, সরকার অনুমোদন দিয়েছে বলেই না করছিল কিন্তু তাদের দায় কে নেবে?
* একই অপরাধে যদি গ্রামীন ফোনকে শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া যায় তবে পিএসটিএন কোম্পানীগুলোকে কেন নয়?
* আরো একটি ব্যাপার লক্ষনীয় যে বন্ধ হবার তিনদিন পর হঠাতই কোম্পানীগুলো চালু হয়ে গিয়েছিল আবার বিনা নোটিশেই তা বন্ধ হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে হলে তো একটি ছিচকে চুরির সমাধানও এত তাড়াতাড়ি হওয়ার কথা না এবং হলেও তা আবার কেন পরদিনই বন্ধ হয়ে গেল তা সাধারনের কাছে আসলেই অব্যাখ্যাত
* আর ভিওআইপি করলে কি আসলেই দেশের তথ্য পাচার হয়? তাহলে বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলো কেন এই সেবাকে বৈধতা দিচ্ছে? নাকি তারা আমাদের বিশেষজ্ঞদের মত এত বোঝে না।
* আর ভিওআইপি বন্ধ করে কি আসলেই মানুষের আওয়াজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে যাওয়া আসাকে নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছে? স্কাইপ বা ইয়াহু মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তা কি যাচ্ছে না? কোন কিছুই আটকে নেই আটকে থাকবেও না, শুধু পিছিয়ে থাকছে সরকার আর পিছিয়ে দিচ্ছে দেশকে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


