somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুন হবার কয়েকরকম পদ্ধতি

১৫ ই জুলাই, ২০১১ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
দশ বছর আগে হলে এই মুহুর্তেই লোকটাকে সে হুকুম করে মাথা নোয়াতে বাধ্য করতো। গত পাঁচ বছর হলো, লোকটা অন্যদের কুর্নিশ করতে বাধ্য করে। তার কন্ঠনালীর যে খাড়া মাংসকোষ বেয়ে কথা বেরোয়, সেটা তার কাছে ভীষণ রকম ধাতু দিয়ে গড়া ব’লে মনে হয়। এ রকম হাজার কন্ঠনালী ছিঁড়ে গেছে, হাজার কন্ঠনালীতে কথা ফুটেছে, শত কন্ঠনালী টান মেরে ছিঁড়ে ফেলেছে সে। লোকেরা তাকে বাহাদুর মনে করতো। নিজেকে কোনদিন সে বাহাদুর ভাবেনি। সে ভেবেছে, মানুষের কন্ঠনালীতে ভাষা ফোটানোর মধ্যে কোন বাহাদুরী নেই, আছে বিশেষ ক্ষমতা, আইনের প্রতি কড়া অট্টহাসি। ওর মনে পড়ে যায়, একবার সে একটা অপারেশনে গিয়েছিল। জ্যোৎস্না শুয়ে ছিল রাস্তায়- রাতের কুকুরের মতো। সব কোলাহল থেমে গিয়েছিল, কোলাহল বিড়া বেঁধে ছিল। ভোর হলেই বিড়া খুলে তর তর করে খুঁজবে মানুষ। জ্যোৎস্না রাতে অপারেশনে যায় না ওরা। জ্যোৎস্না অস্ত্রের মর্ম বুঝে না। ও মনে করে, আন্ধারের রঙ আর অস্ত্রের রঙ এক। কোন কিছু নিয়ে ভাবতে গেলেই ও কবি স্বভাবী হয়ে যায়।

ওর এক বন্ধু ছিলো। অস্ত্রকে বড় বেশী ভয় করতো সে। কিন্তু অস্ত্র নিয়ে পদ্য লিখতে ভালবাসতো। ভাবতো, লোকটা আহাম্মক। যারে নিয়ে কবিতা লেখা যায়, তারে ডরানো আহাম্মকী ছাড়া আর কী! আজকের রাতটা ওর কাছে কবিতা লেখারই রাত। কবিবন্ধু, যে মারা গিয়েছিল গুলিতে, তার লাশের মতো হাজারো লাশ তৈরী করবার বড় সখ ওর। সেই সখ পুরণ করার জন্যই রাতের গহীণে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল সে। তারপর অস্ত্র আর ও একাকার! বালিশের নীচে অস্ত্র না থাকলে ওর ঘুম আসে না। ওর কবিবন্ধুর হাতও মোনাজাতের ভঙ্গিতে মেলে রাখা বইয়ের দু’পাশ আগলে না থাকলে ঘুম আসতো না। এই জ্যোৎস্নায়, যার নিশ্চিত মৃত্যুর অপর নাম অপারেশন হবে- সেই লোকটার নাম আফজাল। আফজাল, যার কাজ হলো সন্ধান দেওয়া। সন্ধান দেয়, তারপর মানুষ লাশ হয়ে যায়। কিছু লাশ দাফন হয়, কিছু লাশ হয় না। লাশ নিয়ে কাঁদা নিষেধ। রোদন করা- একদম নিষেধ! লাশ দাফন হবে, হিসাব রাখার দরকার নেই। ও ভাবছে, লাশের ওপর জ্যোৎস্না পড়লে কেমন লাগে? ও একদম জানালার পাশে। চোখে পড়ছে টিম্‌টিমে হারিকেনের আলো।

-আম্মা আমি পেশাব করবো।
এ শব্দটা আরিফের কাছে মনে হয়, কোর্টের জজ যেন হুকুম দিচ্ছেন বেকসুর খালাসের।
-আফিয়া, মেয়েকে পেশাব করাও।
ঘুম জড়ানো একটা কন্ঠ যেন নির্দেশ দিচ্ছে।
-খামোশ করে দেব ঐ নালীটা! -চাপা স্বরে চেঁচিয়ে ওঠে আফজাল।
বাচ্চাটা শিশুসুলভ হামাগুড়ির ভঙ্গিতে উঠলো। আলো উস্কানো হলো। বাচ্চা আর আফিয়া উঠে দরজার দিকে যাচ্ছে। বাচ্চাটা বাইরে তাকালো। বাইরের আলো মেয়েটার চোখে ছল্‌ছল্‌ করে উঠলো। কালো একটা নল জানালা দিয়ে দু’টো শিকের মাঝখান দিয়ে নামছে।
"আম্মা, ঐ যে!" -ব’লে বাচ্চাটা তার বাবার দিকে তাকালো।
না, না! বাচ্চাটার চোখে মুখে একটা না না ভাব ছিলো। ওরা বন্দুকের নল সরিয়ে নিয়েছিলো। একটা শিশু হত্যা দেখুক ওরা সেটা চায়নি। আফজাল বেঁচে গিয়েছিল। তারপর থেকে ও ভেবেছিলো, শিশুদের অপারেশন শেখাবে, কিন্ত চিন্তার মধ্যে বার বার খাবি খেয়েছে, অপারেশনের ভেতর হত্যা তো লুকানো!

২.
ও লোকটাকে একটা বিশেষ প্রস্তাব দিতে চায়। কিন্তু প্রস্তাবটা দেয়ার ব্যাপারে সে দ্বিধাগ্রস্ত। সে তার বেদনার দিকগুলো, তার বিভীষিকাময় টানাপোড়েনের দিকগুলো সম্পর্কে একটা সঠিক ধারণা নিজের মধ্যেই তৈরী করতে পারে না। প্রস্তাব উত্থাপনের প্রণোদনাটা গভীর হয়ে উঠে না তার মধ্যে। এ মুহুর্তে নিজের কন্ঠনালীটাই নিজে ছিঁড়ে হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা করছে। ওর বার বার মনে হয়, যদি তার প্রস্তাবটা অগ্রাহ্য করে! কিংবা যদি এটাও বলে যে, “আরে আপনার মতো লোকের সাথে আমার সম্পর্কটা এ রকম হওয়াটা কি ঠিক?” তাহলেও লোকটার সাথে আজকের সাক্ষাতপর্বটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ওকে দেখে লোকটা রিভলভিং চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।
“আরে আরিফ ভাই!”, ব’লে যেভাবে উঠে দাঁড়ালো, এতে আরিফের মনে হলো এতো সমৃদ্ধিও লোকটার মধ্যে কোন হিম্মত তৈরী করতে পারেনি। টাকাগুলো বোধ হয় ভোগ ও নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, হিম্মত তৈরীর কোন রকম ভূমিকা পালন করছে না। আরিফ এবার স্থির করে ফেলেছে, লোকটাকে সে বলেই ফেলবে। আরিফ শুরু করে।
-হ্যাঁ, আফজাল। তোমার কাছে যে জন্য এলাম। সম্ভবতঃ ছয় বছর পর এলাম, তাই না?
আরিফ ঢোক গিলতে থাকে। আরিফ ঢোক গিলছে ভয়ে নয়, সমীহপ্রবন দুর্বলতার বশে নয়, বরং সংকোচে। আরিফ বক্তব্যটাকে গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করে।
-হ্যা, বলে ফেলুন। আপনার যে কোন উপকারে লাগতে পারলে আমি ধন্য হয়ে যাবো।
-তোমাকে বলতে এসেছিলাম যে- এখন আমার চাকুরী দরকার।
আরিফ সরাসরি এবং অবিচল কন্ঠে বলে ফেলে এবং কোনরকম ভুমিকাবিহীন ইতিবাচক সোজা উত্তর প্রত্যাশা করতে থাকে। কারণ, আফজালের এ উত্তরটার উপর এখন আরিফের সমস্ত পরিকল্পনা নির্ভর করছে। নির্ভর করছে, আরিফ তার প্রিয়তমা স্ত্রী রেবুর জন্য নিখুঁত প্রেম প্রকাশ করার মতো প্রয়োজনীয় বাস্তব পরিস্থিতি তৈরী করতে পারবে কি না। যদিও ঢাকায় আসার আগে প্রেম ও অর্থের সংঘাতময় অবস্থা নিয়ে আরিফ একটা দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিলো। আগে যেমন করে তার কমরেডকে সে বোঝাতো, তেমন করে আর এখন বোঝাতে পারে না। রেবু তার লম্বা-চওড়া বক্তৃতা বুঝেছিলো কি না সে জানে না। রেবু শুধু গেরস্থ ঘরের স্বামী সোহাগী মেয়ের মতো বলেছিল, “বাঁচতে চাই আরিফ। রাজনীতি নিয়ে কেউ আমারে খোটা দিলে আমার সয় না।”
আফজাল কিছুক্ষণ আরিফকে দেখতে থাকে, কেউ কারো চোখ থেকে চোখ নামায় না। তারা একে অন্যের চোখ দেখছে কি? না কি দেখছে অতীতের জৌলুসের তেজ এখনও আছে কী না। চোখে চোখ রেখেই আফজাল সোজা ঝাপ্‌টা বলে, “হ্যাঁ, আপনার চাকরী হবে।”
উত্তরটা আরিফের কাছে মনে হতে থাকে, প্রচন্ড যৌণ উত্তেজনার সময় তার স্ত্রীর শর্তবিহীন সম্মতি মাত্র। কিংবা রেবুকে সোহাগ করার সময় কেউ তাকে ডেকে বলছে, ‘আরিফ ভাই, যেতে হবে।’

আফজালের পায়ের নীচে কলিং বেল। তার পায়ের নীচের কলিং বেল বেজে উঠে। বূড়ো হামিদ আলী, আফজালের বিস্বস্ত বেয়ারাএসে সামনে দাঁড়ায়।
-কফি দাও।
আরিফের কেন যেন মনে হতে থাকে, আফজাল মানুষকে পা দিয়ে নির্দেশ দেয়। আবারও আফজাল সংকেতময় ধ্বনি দিয়ে কাকে যেন ডাকে। ইতিবাচক এ সম্মতির পর আরিফের ইচ্ছে করে কোন পরিচ্ছন্ন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অবয়বের পরিবর্তনটা দেখতে। আরিফ জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের বাথরুমটা...।”
-পর্দার ওপাশে।

ঠিক এ সময় আফজালের ব্যক্তিগত সহকারী, যাকে খুব স্মার্ট সংক্ষিপ্ততায় বলা হয় পি,এস,- এসে দাঁড়ালো। আফজাল খুব সফিস্টিকেটেড ভঙ্গিমায় বললো, “একটা এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ড্রাফ্‌ট করুন, প্রোডাকশন ম্যানেজার পোস্টের জন্য।”
আরিফ ভাবে, এসব সফিস্টিকেশনের মধ্যে অপ্রকাশ্যে হুমকী লুকিয়ে থাকে।
-স্যার, কি নামে করবো?
খুব গমগমে ও তীর্যক কন্ঠে আফজাল বললো, “আরিফ হোসাইন চৌধুরী।”
-ঠিকানা?
-আমার বাসার ঠিকানা দিয়ে দিন। পারমানেন্ট এ্যাড্রেসে আমার এলাকার ঠিকানা।
আরিফের কেন জানি মনে হয়, আফজাল নিজেকেই আরিফের ঠিকানা বানিয়ে ফেলতে চায়। আরিফ কিছুক্ষণ আফজালের দিকে তাকিয়ে থেকে বাথরুমে ঢুকে। আয়নায় মিনিট পাঁচেক নিজের চেহারা দেখে। কল্পনায় নিজের হৃৎপিন্ডটা দেখতে চায়, কিন্তু পারে না।

৩.
গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর সামনে প্রচন্ড ভীড়। শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন বানাতে চায়। আরিফ তার রুমে বসে একটার পর একটা সিগারেট ফুঁকছে। আরিফের মাথার ভেতর এখন মগজ নেই, খুলিতে হাজারটা পোড়া সিগারেট। ফ্যাক্টরীর মেশিন আর সুঁইগুলো তাকে কাপড়ের মতো টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে সেলাই হয়ে যাচ্ছে। তার কন্ঠনালীতে তখন কেউ যদি তার হাত ঢুকিয়ে কন্ঠনালী ছিঁড়ে আনতো!
রোষান্বিত ভাবটা মুখে স্পষ্ট করে আফজাল রুমে ঢুকলো।
-এখনও কোন ব্যবস্থা নেন নি?
-কি ব্যবস্থা?
-পুলিশ আর মাস্তানের সম্মিলিত আক্রমণ। মাল শিপমেন্টের টাইমে স্ট্রাইক!

আরিফ কোন কথা না বলে নির্বিকার ভঙ্গিতে টেলিফোন তুলে নেয়। টেলিফোনের রিসিভারটা তার কাছে মনে হলো একটা স্টেইনগান, যার কালো নল শ্রমিকের বুকের উপর। যে স্টেইনগানটা বাড়িতে পুঁতে রেখেছে, সেটাকে যেন সে অনাবশ্যক তুলে আনলো।
শ্রমিকেরা কারখানার বাইরে জড়ো হয়েছে। নারী শ্রমিকেরা স্লোগান তুলছে। আরিফের কল্পনায় রেবুর মুখ ভেসে ওঠে। মাস্তান হটে গেল, পুলিশ হতবাক! শ্রমিকরা সংঘর্ষে, কৌশলে জয়লাভ করেছে।
আরিফের মনে হচ্ছে সে আফজালের মস্তান। চাকুরী তাকে ছেড়ে দিতেই হবে। আর একটা গল্প লিখবে সে। ফকিরের সেই গল্পটা। যাতে ফকির এসে আরিফকে আর কখনও খুন না করে।

৪.
খুব ছোটবেলায় আরিফ দরবেশেদের কেরামতির গল্প শুনতে খুবই ভালবাসতো। তার দাদা ছিলেন এসব গল্পে হেফ্‌জ। তিনি আরিফকে কাঁচা চুল আম্বিয়া থেকে গল্প বলতেন। গল্প যখন বলতেন, আরিফের মনে পড়ে যায়, তখন দাদার কন্ঠে একটা পয়গম্বরী গাঢ়তা ভর করতো। দাদা তাকে শুনাতেন, আইয়ুব নবীর কুষ্ঠ রোগ হলো। বিবি রহিমা শ্রম না দিয়ে অন্য কোন ভাবে স্বামীর জন্য খাবার সংগ্রহের কথা চিন্তা করতে পারতেন না। দাদা বলতেন খুব কাছের এক ফকিরের গল্প। সেই ফকির আরিফদের বাহেরচন্দ্রপুর গ্রাম থেকে মাত্র দশ বারো মাইল দূরে থাকতেন। ফকিরের কামেলিয়াত নিয়ে সবাই এতই নিশ্চিত ছিলেন যে, ফকিরের নির্দেশ নাকি এক খোদা বিরোধী বিজ্ঞানীও পালন করেছিলেন একবার। সেই বিজ্ঞানী নাকি বলেছিলেন, ফকির হলেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মনিটর- যিনি প্রত্যক্ষ করেন সবকিছু। যিনি অংকের মতো নির্ভুল হিসাব করতে পারেন মানুষ সম্পর্কে।

একবার ফকির সাহেব তার আখড়ায় সমবেত লোকদের ধ্বংস ও নির্মান, উত্থান ও পতন সম্পর্কে ভাঙা ভাঙা বাক্য বলছিলেন। ফকির সাহেব কথা বলতেন হঠাৎ হঠাৎ অকস্মাৎ। দাদা বলতেন, ফকিরদের কথা যেহেতু সত্য, অতএব তাঁদের প্রকাশভঙ্গি হয় কাটছাঁট, সোজাসাপটা এবং ভাঙা ভাঙা। সেই ফকির একদিন চুপচাপ বসে আছেন নদীর পাড়ে। আর নদীর দিকে ছুঁড়ে মারছেন ছোট ছোট ঢিল। ফকিরের এ খেলা দেখে তার ভক্তরা এ খেলার মর্ম উদ্ধারের চেষ্টা করছে। ফকিরের হাতে বন্দুক। চোখ দ্যুতিময়। তিনি এবার ঢিল ছোঁড়া বন্ধ করে বন্দুক তাক করছেন নদীর পানির দিকে। সবাই ভাবলো, ফকিরের হাতে বন্দুক কেন? তারপর সবাই দেখলো, একজন লোক নদীর চর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। লোকটার পিন্দনে সাদা কাপড়ের লুঙ্গি। খালি গা। ফকির মুচ্কী হাসলেন। তারপর বন্দুক তাক করলেন। এমন সময় লোকটার মাথার উপর দিয়ে একঝাঁক বালিহাঁস উড়ে যাচ্ছিলো। সবার ধারণা হলো, ফকির বোধ হয় বালিহাঁস মারবেন। কিন্তু বন্দুকের গুলির শব্দে বালিহাঁসগুলো তাদের গতি আরো বাড়িয়ে দিলো। তাদের পাখায় আত্মরক্ষাসুলভ দ্রুত গতি দেখা গেলো। সেই লোকটা নদীর চরে পড়ে গেলো, আর ফকির দ্রুত লোকটার কাছে দৌড়ে গেলেন। এবং ভক্তরা পেছনে পেছনে ছুটলো। ফকির চরের উপর স্তুপাকার বালি সরিয়ে একটা কবরের মতো তৈরী করলেন এবং মৃত লোকটাকে বালুর নীচে শুইয়ে দিলেন। এ খবর চারিদিকে দ্রুত রাষ্ট্র হয়ে যায়। প্রথামাফিক কোতয়ালী থানার দারোগা আইন, তমিজ ও বদ্দোয়ার এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে ফকিরকে জিজ্ঞাসা করার জন্য বিনীতভাবে ফকিরের দরবারে এসে হাজির হলো। ফকিরকে জিজ্ঞেস করা হলো, হুজুর আপনি এ কাজ কেন করলেন? হুজুর মৃদু হেসে বললেন, কোন কাজ?
-হুজুর, আইনের দৃষ্টিতে এটা অপরাধ।
-আমি মানুষ খুন করিনি। আমি খুন করেছি শুয়োর।
-হুজুর!
-চলেন, দেখবেন।

তারপর ফকির তার ভক্ত সমভিব্যহারে চললেন চরের দিকে। সেখানে গিয়ে তিনি নাপাক জিনিস থেকে যতটা দূরত্ব বজায় রাখা স্বাস্থ্যসম্মত, ততটা দূরত্ব বজায় রেখে অঙ্গুলি দিয়ে নির্দেশ করে বললেন, “ওখানে শুয়োরটা পোঁতা আছে।”
দারোগা সাহেব চরের বালি সরালেন। এবং দেখলেন সাদা কাপড়ের নিচে একটা দাঁতাল শুয়োর। দারোগা একটা চিৎকার দিয়ে দূরে সরে আসলেন এবং হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।
আরিফ নিজেকে এখন কামেল ফকিরের ভেতর প্রকাশিত দেখতে পায়। যদিও সে যতটা মানুষ মেরেছে, সেগুলো একটাও আকারে কিংবা জীবতাত্বিক বিকাশের ধারায় মৃত্যুর পর শুয়োরে রূপান্তরিত হয়নি- তবুও তার কাছে মনে হয় সে শুয়োরই মেরেছে। আর তার কাছে মনে হয় মানুষের সমাজে ঢুকে পড়া এইসব দাঁতাল শুয়োরগুলো ঘোঁৎ ঘোঁৎ করছিল। তাই সে ওসব মেরেছে। তার এখন মনে হয়, লোকটা- গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর মালিকটাকেও তেমনি ফ্যাক্টরী থেকে বেছে নেয়া সবচে’ সাদা ধবধবে কাপড় দিয়ে দাফন করে ফেলতে হবে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×