এই গল্পটার সাথে বাস্তব কোন চরিত্রের মিল নেই, এতে আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত। তবে কাল্পনিক চরিত্রের সাথে হুবহু না হলেও কিছু মিল রয়েছে। গল্পটি পড়ে নিশ্চিত হবেন যে আমি এখনো পাগল হইনি। অবশ্য উল্টোটাও ভাবতে পারেন কেউ কেউ।
হযরত আদম পৃথিবীতে পতিত হতে হতে ভাবছিলেন-আহ! কী অপূর্ব এই শূণ্যে ভ্রমণ! তিনি আনন্দে হাত দুটো পাখির মত ছড়িয়ে দিলেন। বিবি হাওয়াও খুব উৎফুল্ল। তারা দুজন হাতে হাত ধরে মহাশূণ্যে ভাসতে লাগলেন। সামনে তাদের জন্য রয়েছে একটি পৃথিবী যেখানে তারা অবতরণ করতে যাচ্ছে! ভাবতেই আনন্দে শিউরে উঠছিলেন। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে পৌঁছতেই তারা টের পেলেন তাদের এই আনন্দ আর চিরস্থায়ী হচ্ছে না। দুজনেরই খেয়াল হল যে খুশির চোটে তারা দুজনেই প্যারাস্যুট ছাড়াই জাম্প করেছেন। বেহেশতের এক বৈমানিক তাদের প্রতি ভালবাসায় আকৃষ্ট হয়ে দুজনকে দুটো প্যারাসুট দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তারা দুজন সিদ্ধান্ত নিলেন যে যেহেতু মরতে হবে দুজনে হাতে হাত ধরেই মরব। কিন্তু সে সাধও বোধ হয় পূরণ হবার নয়। বায়ুর ধাক্কায় তারা কেবলই দূরে সরে যাচ্ছিলেন। আদম কোনমতে হাওয়াকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কিন্তু পারছেন না। একসময় দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। দুজন দুদিকে চলে গেলেন। হাওয়ার শোকে হযরত আদম পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌঁছার পূর্বেই মূর্ছা গেলেন।
অতপরঃ
আঃ উঃ আঃ উঃ
আদম আলীর কানে যখন এই কাতরানো ধ্বনি পৌঁছল তখন সে শিকার থেকে ফিরছিল। দলবদ্ধভাবে শিকারে বেরুলেও অন্যরা আদম আলীকে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে। বেশ বড় মাপের একটি হাতি শিকার করে তারা ফিরছিল। হঠাৎ আদম আলীর পায়খানার বেগ চাপায় সে পথপাশে প্রকৃতি কার্য সম্পাদনে বসে গিয়েছিল। তাই আদম আলীকে একা একাই ফিরতে হচ্ছিল। কাৎরানোর শব্দ শুনে আদম আলী কান পাতল কোন দিক থেকে শব্দ আসছে তা শোনার জন্য। শব্দের উৎপত্তি বিচার করে কয়েক পা এগিয়েই আদম আলী একটা লোককে দেখতে পেল। নিজেদের গোত্রের কেউ হবে ভেবে দ্রুত দৌড়ে তার কাছে পৌঁছল। কাছে গিয়ে বুঝতে পারল যে এই ব্যক্তি তাদের গোত্রের নয়। এইরকম সাদা মানুষ সে জীবনে কোনদিনই দেখেনি। আদম আলী দেখতে পেল লোকটা নেংটা এবং পাছায় হাত দিয়ে কেবলই উঃ আঃ করছে। শক্রুগোত্রের কেউ হবে ভেবেও আদম আলী তাকে ফেলে চলে আসতে পারল না। নেংটা লোকটা পাছায় যেখানে হাত দিয়ে বসে আছে সেখানটা দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। আদম আলী দ্রুত একটা ঔষধি পাতা তুলে তা হাতে পিষে রস বের করে লোকটার ক্ষতস্থানে দিয়ে দিল। কয়েক মিনিটের মাথায়ই লোকটা সুস্থ্য হয়ে উঠল।
-আসসালামুওয়ালাইকুম।
আদম আলী বুঝতে পারল না লোকটা কী বলছে। সে তাকে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কে? এখানে কীভাবে এসেছ?" লোকটা কোন উত্তর দিচ্ছে না। বরং আরো বার দুয়েক আসসালামুআলাইকুম বলে চলল। আদম আলী এবার ইশারায় বলতে চাইল-তুমি কী বলছ আমি বুঝি না। সালামের জবাব কী দিয়ে দিতে হয় আদম আলী তা জানেনা দেখে লোকটা ক্ষেপে অগ্নিমূর্তি হয়ে উঠল। আদম আলী অবাক। যাকে সে এইমাত্র সুস্থ করেছে সেই কীনা তার উপর ক্ষেপে উঠছে। ইচ্ছে হচ্ছিল একটা ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিতে। তবুও নিজেকে সংবরণ করল। লোকটাকে উপেক্ষা করে গোত্রের আবাসস্থলে রওয়ানা হল সে। কয়েক পা এগিয়েই কী মনে করে আবার লোকটার কাছে গেল। লোকটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল। কী সুন্দর চেহারা! সে ভাবল এই সাদা লোকটাকে নিয়ে যাওয়া উচিত। সবাই এরকম একটা সুন্দর সাদা মানুষকে দেখলে খুব মজা পাবে। সে গাছ থেকে কয়েকটা লতা ছিড়ল। তারপর লোকটাকে কিছু না বলে লতা দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলল। তাগড়া জোয়ান আদম আলী তারপর লোকটাকে কাধে নিয়ে গোত্রের আবাসস্থলে রওয়ানা দিল।
গোত্রের প্রায় অর্ধেক নারী। গোত্রের সবচেয়ে তাগড়া জোয়ান বলে গোত্র প্রধানের পরই সবচেয়ে বেশি নারী বরাদ্ধ আদম আলীর। কদিন পরে আদম আলীই হবে এ গোত্রের প্রধান। এটা এখন সবাই-ই জানে। সবাই মেনেও নিয়েছে। তবে যেসব পুরুষরা একটা নারীও ভাগে পায় না তারা যে তার বিরুদ্ধে ফন্দি আটবে তা আদম আলী বোঝে। তাই সপ্তাহে একদিন এইসব অভাগাদের জন্য আদম আলী তার নিজের নারীদের ভোগ করার সুযোগ করে দেয়।
সকলের সেবা শুশ্রুষায় লোকটা দ্রুত সেরে ওঠে। নারীদের কাছে থেকে দেখে দেখে তার শরীর বারবার মোচড় দিয়ে ওঠে। মনে মনে ভাবতে থাকে কীভাবে এই গোত্রের প্রধান হওয়া যায়। কারণ গোত্রপ্রধান হতে পারলে সে এদের থেকে বেছে বেছে সেরা নারীদের ভোগ করতে পারবে। লোকটা ক্রমে রপ্ত করে ফেলে গোত্রের ভাষা এবং ইশারা ইঙ্গিতগুলো। বুদ্ধি খাটিয়ে হয়ে যায় গোত্রের অন্যতম একজন সদস্য এবং গোত্রপ্রধানের প্রিয়ভাজন। কিন্তু সে জন্মগতভাবে এই গোত্রের সদস্য নয় বলে একটা নারীও তার ভাগ্যে জোটে না।
একদিন আদম আলীর লাশ মেলে গভীর বনে। লাশ নয়, শেয়াল শকুনে ঠোকরানো ক'খানা হাড়।
আদম আলী যে নারীগুলোকে ভোগ করত সেগুলো নিয়ে গোত্রের অন্যান্য সদস্যদের শুরু হয়ে যায় কাড়াকাড়ি। গোত্রপ্রধান সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারপর ঘোষণা দেন-"আজ থেকে এই লোকটাই আমাদের আদম আলী। আদম আলীর স্থান পূরণ করার মত শক্তি ও মানসিকতা কোনটাই তোমাদের কারো নেই। আদম আলীর স্থান কেবল এই লোকটাই পূরণ করতে পারে। সুতরাং যেসব নারীরা আদম আলীর অধীনে ছিল তারা এই নতুন আদম আলীর অধীনেই থাকবে। যেহেতু এই লোকটা আঘাত পেয়ে সব অতীত ভুলে গিয়েছে এমনকি তার নামও সেহেতু তোমরা একে আদম আলী বলেই ডাকবে। এবং এও জেনে রাখ যে এই আদম আলীই হবে আমার পরে এই গোত্রের প্রধান।"
লোকটা মনে মনে তিনবার পড়ে আলহামদুলিল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



