somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হযরত আদমের ক্রমশ আদম আলী হয়ে ওঠা

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই গল্পটার সাথে বাস্তব কোন চরিত্রের মিল নেই, এতে আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত। তবে কাল্পনিক চরিত্রের সাথে হুবহু না হলেও কিছু মিল রয়েছে। গল্পটি পড়ে নিশ্চিত হবেন যে আমি এখনো পাগল হইনি। অবশ্য উল্টোটাও ভাবতে পারেন কেউ কেউ।

হযরত আদম পৃথিবীতে পতিত হতে হতে ভাবছিলেন-আহ! কী অপূর্ব এই শূণ্যে ভ্রমণ! তিনি আনন্দে হাত দুটো পাখির মত ছড়িয়ে দিলেন। বিবি হাওয়াও খুব উৎফুল্ল। তারা দুজন হাতে হাত ধরে মহাশূণ্যে ভাসতে লাগলেন। সামনে তাদের জন্য রয়েছে একটি পৃথিবী যেখানে তারা অবতরণ করতে যাচ্ছে! ভাবতেই আনন্দে শিউরে উঠছিলেন। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে পৌঁছতেই তারা টের পেলেন তাদের এই আনন্দ আর চিরস্থায়ী হচ্ছে না। দুজনেরই খেয়াল হল যে খুশির চোটে তারা দুজনেই প্যারাস্যুট ছাড়াই জাম্প করেছেন। বেহেশতের এক বৈমানিক তাদের প্রতি ভালবাসায় আকৃষ্ট হয়ে দুজনকে দুটো প্যারাসুট দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তারা দুজন সিদ্ধান্ত নিলেন যে যেহেতু মরতে হবে দুজনে হাতে হাত ধরেই মরব। কিন্তু সে সাধও বোধ হয় পূরণ হবার নয়। বায়ুর ধাক্কায় তারা কেবলই দূরে সরে যাচ্ছিলেন। আদম কোনমতে হাওয়াকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কিন্তু পারছেন না। একসময় দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। দুজন দুদিকে চলে গেলেন। হাওয়ার শোকে হযরত আদম পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌঁছার পূর্বেই মূর্ছা গেলেন।

অতপরঃ

আঃ উঃ আঃ উঃ
আদম আলীর কানে যখন এই কাতরানো ধ্বনি পৌঁছল তখন সে শিকার থেকে ফিরছিল। দলবদ্ধভাবে শিকারে বেরুলেও অন্যরা আদম আলীকে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে। বেশ বড় মাপের একটি হাতি শিকার করে তারা ফিরছিল। হঠাৎ আদম আলীর পায়খানার বেগ চাপায় সে পথপাশে প্রকৃতি কার্য সম্পাদনে বসে গিয়েছিল। তাই আদম আলীকে একা একাই ফিরতে হচ্ছিল। কাৎরানোর শব্দ শুনে আদম আলী কান পাতল কোন দিক থেকে শব্দ আসছে তা শোনার জন্য। শব্দের উৎপত্তি বিচার করে কয়েক পা এগিয়েই আদম আলী একটা লোককে দেখতে পেল। নিজেদের গোত্রের কেউ হবে ভেবে দ্রুত দৌড়ে তার কাছে পৌঁছল। কাছে গিয়ে বুঝতে পারল যে এই ব্যক্তি তাদের গোত্রের নয়। এইরকম সাদা মানুষ সে জীবনে কোনদিনই দেখেনি। আদম আলী দেখতে পেল লোকটা নেংটা এবং পাছায় হাত দিয়ে কেবলই উঃ আঃ করছে। শক্রুগোত্রের কেউ হবে ভেবেও আদম আলী তাকে ফেলে চলে আসতে পারল না। নেংটা লোকটা পাছায় যেখানে হাত দিয়ে বসে আছে সেখানটা দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। আদম আলী দ্রুত একটা ঔষধি পাতা তুলে তা হাতে পিষে রস বের করে লোকটার ক্ষতস্থানে দিয়ে দিল। কয়েক মিনিটের মাথায়ই লোকটা সুস্থ্য হয়ে উঠল।

-আসসালামুওয়ালাইকুম।
আদম আলী বুঝতে পারল না লোকটা কী বলছে। সে তাকে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কে? এখানে কীভাবে এসেছ?" লোকটা কোন উত্তর দিচ্ছে না। বরং আরো বার দুয়েক আসসালামুআলাইকুম বলে চলল। আদম আলী এবার ইশারায় বলতে চাইল-তুমি কী বলছ আমি বুঝি না। সালামের জবাব কী দিয়ে দিতে হয় আদম আলী তা জানেনা দেখে লোকটা ক্ষেপে অগ্নিমূর্তি হয়ে উঠল। আদম আলী অবাক। যাকে সে এইমাত্র সুস্থ করেছে সেই কীনা তার উপর ক্ষেপে উঠছে। ইচ্ছে হচ্ছিল একটা ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিতে। তবুও নিজেকে সংবরণ করল। লোকটাকে উপেক্ষা করে গোত্রের আবাসস্থলে রওয়ানা হল সে। কয়েক পা এগিয়েই কী মনে করে আবার লোকটার কাছে গেল। লোকটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল। কী সুন্দর চেহারা! সে ভাবল এই সাদা লোকটাকে নিয়ে যাওয়া উচিত। সবাই এরকম একটা সুন্দর সাদা মানুষকে দেখলে খুব মজা পাবে। সে গাছ থেকে কয়েকটা লতা ছিড়ল। তারপর লোকটাকে কিছু না বলে লতা দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলল। তাগড়া জোয়ান আদম আলী তারপর লোকটাকে কাধে নিয়ে গোত্রের আবাসস্থলে রওয়ানা দিল।

গোত্রের প্রায় অর্ধেক নারী। গোত্রের সবচেয়ে তাগড়া জোয়ান বলে গোত্র প্রধানের পরই সবচেয়ে বেশি নারী বরাদ্ধ আদম আলীর। কদিন পরে আদম আলীই হবে এ গোত্রের প্রধান। এটা এখন সবাই-ই জানে। সবাই মেনেও নিয়েছে। তবে যেসব পুরুষরা একটা নারীও ভাগে পায় না তারা যে তার বিরুদ্ধে ফন্দি আটবে তা আদম আলী বোঝে। তাই সপ্তাহে একদিন এইসব অভাগাদের জন্য আদম আলী তার নিজের নারীদের ভোগ করার সুযোগ করে দেয়।

সকলের সেবা শুশ্রুষায় লোকটা দ্রুত সেরে ওঠে। নারীদের কাছে থেকে দেখে দেখে তার শরীর বারবার মোচড় দিয়ে ওঠে। মনে মনে ভাবতে থাকে কীভাবে এই গোত্রের প্রধান হওয়া যায়। কারণ গোত্রপ্রধান হতে পারলে সে এদের থেকে বেছে বেছে সেরা নারীদের ভোগ করতে পারবে। লোকটা ক্রমে রপ্ত করে ফেলে গোত্রের ভাষা এবং ইশারা ইঙ্গিতগুলো। বুদ্ধি খাটিয়ে হয়ে যায় গোত্রের অন্যতম একজন সদস্য এবং গোত্রপ্রধানের প্রিয়ভাজন। কিন্তু সে জন্মগতভাবে এই গোত্রের সদস্য নয় বলে একটা নারীও তার ভাগ্যে জোটে না।

একদিন আদম আলীর লাশ মেলে গভীর বনে। লাশ নয়, শেয়াল শকুনে ঠোকরানো ক'খানা হাড়।

আদম আলী যে নারীগুলোকে ভোগ করত সেগুলো নিয়ে গোত্রের অন্যান্য সদস্যদের শুরু হয়ে যায় কাড়াকাড়ি। গোত্রপ্রধান সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারপর ঘোষণা দেন-"আজ থেকে এই লোকটাই আমাদের আদম আলী। আদম আলীর স্থান পূরণ করার মত শক্তি ও মানসিকতা কোনটাই তোমাদের কারো নেই। আদম আলীর স্থান কেবল এই লোকটাই পূরণ করতে পারে। সুতরাং যেসব নারীরা আদম আলীর অধীনে ছিল তারা এই নতুন আদম আলীর অধীনেই থাকবে। যেহেতু এই লোকটা আঘাত পেয়ে সব অতীত ভুলে গিয়েছে এমনকি তার নামও সেহেতু তোমরা একে আদম আলী বলেই ডাকবে। এবং এও জেনে রাখ যে এই আদম আলীই হবে আমার পরে এই গোত্রের প্রধান।"

লোকটা মনে মনে তিনবার পড়ে আলহামদুলিল্লাহ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৪৪
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×