somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাওতাবাজী ও বলদ বানানোর একটা সেমিনার

২৫ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঃ :| এক বন্ধুর (বলদ) চিপা + লোভে (বসুন্ধরায় লাঞ্চ) পড়ে ওকে ৩০ মিনিট সময় দিতে রাজী হইসিলাম। এই গতকাল মানে শুক্রবার, ওর ডাকে গেলাম বসুন্ধরায়। যাওয়া মাত্রই আমারে ৬ তলার একটা শো-রুমের সামনে একটা বিশাল লাইনে দাড়া করায়া দিল। প্রথমে বুঝিনাই। পরে দেখি এইটা E-Links Bio- Energetic Bracelet নামের একটা ধাতব ব্রেসলেট এর প্রচারণামূলক সেমিনার। এইটা নাকি যেনতেন ব্রেসলেট না। ব্যাপক গুণসম্পন্ন জিনিস। (কে জানে কার স্বপ্নে পাওয়া :|)
খালি এইটার প্রচারণার জন্য সেমিনার না, এইটা দিয়া ব্যবসা ও করন যায়। এমএলএম সিস্টেম ব্যবসা। এইটা শুইনা বাইর হইয়া যাইবার মতলব করতাছি, এই ধরনের দালালী ব্যবসা আমি মোটেও পছন্দ করিনা, এটা বলদাটায় জানে, তাই আমারে কিছু কয়নাই। বার হতে পারলামনা, কারণ ততক্ষনে সেমিনার হলে ঢুকে গেছি। যাক বসলাম। একটু পর লেকচার শুরু হল। কোত্থেকে যে লেকচারওয়ালারে ধইরা আনছে ! :| উচ্চারণে তার বিশাল সমস্যা। Program রে কয় পোরগাম !!

যাই হোক খিচ খায়া বইসা রইলাম। প্রথমেই কত শত কারণে আমাদের সাস্থ্য নষ্ট হয় তার উপর ইতিহাস কইলো। শুনিনাই সবকিছু। তারপর তাগো ব্রেসলেট এর গুণকীর্তণ !

এই ব্রেসলেট নাকি চার টি ক্ষমতা সম্পন্ন।
১. ম্যাগনেটিক ফিল্ড
২. নেগেটিভ আয়ন উৎপাদনকারী
৩. ইনফ্রারেড উৎপাদনকারী
৪. রেডিয়েশন ধ্বংসকারী

খাইছে কয় কি ! নড়েচড়ে বসলাম। সামনের জনরে ধমক দিলাম সোজা হয়ে বসার জণ্য। বিশাল জিনিস। আমার আবার বিজ্ঞানের কথাবার্তা ভালোই লাগে। ভাল করে শুনতে লাগলাম এই বৈজ্ঞানিক ব্রেষলেট সম্পর্কে। শুনতে শুনতে খটকা লাগতে লাগলো। এবং বুঝলাম পূরাটাই বোগাস ফাউল।

দেখেন কি কয়...

প্রথমটা না হয় মানলাম। চুম্বক থাকলেই ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরী হয়। কিন্তু নেগেটিভ আয়ন ?

প্রতিদিন নাকি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সংস্পর্শে এসে আমাদের দেহে বিপূল পরিমানে পজিটিভ আয়ন জমা হয়। এই পজিটিভ আয়নকে অকার্যকর করতে নেগেটিভ আয়ন প্রয়োজন। এই জিনিস নাকি সেই নেগেটিভ আয়ন তৈরী করতে পারে। এর ভিতরে কোন মেশিন ফিট করা নাই যে সে আমারে ক্রমাগত আয়ন তৈরী করে সাপ্লাই দিব ???

তারপর বলল, ইনফ্রারেড রে এর কথা। আমি নিশ্চিত তাদের মাঝে কেউ ইনয়্রারেড জিনিসটা যে কি তাই জানেনা। তারা বলল, আমরা শহরবাসী রা কম সুর্যের আলোর স্পর্শে আসি বলে আমরা সুর্যের ইনফ্রারেড রে পর্যাপ্ত পরিমানে পাইনা। তার অভাবে কিকি জানি রোগ হয় বলল। আমি জীবনেও এই ধরনের কিছু শুনিনাই।
তাদের চমৎকারী বেল্ট নাকি ইনফ্রারেড রে বানাইতে পারে। যত্তসব গান্জাখোর !!!

এরপর দেখালো ব্রেসলেটের রেডিয়েশন ধ্বংসকারী অলৌকিক ক্ষমতা। (আমি এখনেও শিওর ওরা রেডিয়েশন সম্পর্কে কিচ্ছু জানেনা।)

একটা পরীক্ষার কথা কইলো যেটা নিয়া কয়দিন আগে ব্যপক লাফালাফি হইছিল। বিভিন্ন পত্রিকাতেও আইছিল। তারপর কয়দিন পর ব্যপার টা পুরা ফাওল তার সম্পর্কেও অনেক লেখালেখি হইসে।

ওইযে একটা ডিমরে দুইটা মোবাইলের মাঝখানে বসায়া দুই মোবাইলে কল কানেকশন করে রাখা হইছিল প্রায় ৩৫ ঘন্টা। তাতে নাকি দুই মোবাইল থেকে নির্গত মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনের কারণে ডিম টা পুরা খাওয়ার মত সিদ্ধ হয়ে গেছিল। (বাকোয়াজ)
এই রেডিয়েশনের জন্য নাকি মানুষের মগজেরও ক্ষতি হয়।



আমার মামত ভাই দিন রাতে প্রায় ১৬ ঘন্টাই ফোনে প্যাচাল পাড়ে, তাইলে ওর মগজের কি অবস্থা এখন :S :|

আসলে এটা একটা ভাওতাবাজী। এরকম ভাওতাবাজী মাঝে মাঝেই আমরা মেইলে পাই। অমুকে স্বপ্নে এইটা পাইছে, অমুকে মানুষ থাইকা পশু হইয়া গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি।।।

তাদের এই ব্রেসলেট নাকি মোবাইলের এই ক্ষতিকর রেডিয়েশন এর কার্যক্ষমতা ধ্বংস করে। :| :O
বুঝলাম নাহয় রেডিয়েশনে মাথার মগজে ক্ষতি হয়। কিন্তু ব্রেসলেট থাকে হাতে। ওই হাতে বসে বসে ওই জিনিস ক্যামনে মাথায় প্রবেশ করা রেডিয়োশনের মত ভয়ংকরের কার্যক্ষমতা ধ্বংস করে??? :O
এগুলা রাশিয়ার মানুষ কিংবা যারা পারমানবিক কারখানায় কাজ করে তাদের জন্য সাপ্লাই করা উচিত। :|


তারপর দেখাইল একটা চরম ব্যক্কলের মত লাইভ পরীক্ষা। এইটাতে ব্যপক মজা পাইছি। :D পরীক্ষার মুল বিষয় হল এই ব্রেষলেট মাত্র এক মিনিটে মানুষের শক্তি বৃদ্ধি করে। হাহ হাহ। :D :D :P

দর্শকদের মাঝে থেকে একজনকে ডেকে নিয়ে তার শক্তি পরীক্ষা করা হল। দুই হাত পেছন দিকে নিয়ে শক্ত করে ধরে রাখতে বলা হল। তারপর পেছন থেকে তার হাতের উপর চাপ দেয়া হল। দর্শকটি পেছন দিকে হেলে পড়ে গেল।
তারপর তাকে এক মিনিট ওই জাদুকরী ব্রেসলেট পরিয়ে রেখে আবার একই কায়দা করা হল। এবার লোকটি পড়লো না। আশ্চর্য ব্যাপার।
না মোটেই আশ্চর্য না। প্রথম বার চাপ দেয়ার সময় হাতে ঠিক সোজাসুজি চাপ না দিয়ে পেছন দিকে কোনাকুনি চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বলা যায় পেছনে টান দেয়া হয়েছিল। ফলে লোকটিকে পেছনে হেলে পড়তে হয়েছিল।
পরেরবার চাপ দেয়ার সময় উপর থেকে হাতের উপর সরাসরি চাপ দেয়া হয়েছিল ফলে লোকটির ব্যলান্স রাখতে সমস্যা হয়নি।

আপনারাও করে দেখতে পারেন। :D

এই তো গেল ব্রেসলেটের জাদুকরী উপাখ্যান। তারপর আছে এটা দিয়ে ব্যবসা করার প্যাচাল। ডেসটিনি সম্পর্কে সবারই হয়তো কমবেশি ধারনা আছে। এখানেও তাই। ডেসটিনির মতই কায়দা বায়দা। তাই এটা দিয়ে ব্যবসা করা নিয়ে কিছু লিখলাম না।
আর লিখতে ইচ্ছা করছেনা। এমনিতেই বিশাল হয়ে গেছে।

বাঙালীদের বোকা বানানো মনে হয় খুব সহজ। নইলে ৫৮০০ টাকার এই জিনিষ মানুষ ধুমছে কিনছে কেন।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১৬
১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×