somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সে যে কে ছিল...বড় জানতে ইচ্ছে করে!

১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আম্মু ফোনটা রাখি, কে যেন দরজা নক করলো মাত্র।"
'এত রাতে? কে আবার? আমি ধরে রাখি, দেখো তুমি!'
আমি আর মেয়েরা বেডরুমের ভেতরে। ওদের চোখে ঘুম নেই, খেলছে বিছানায়। লক করা দরজায় পরিষ্কার শুনলাম নক্ নক্! আম্মুকে হোল্ডে রেখে দরজা খুললাম, সারা ঘর ঘুরে আসলাম। খালি। কেউ নেই।
স্বাভাবিক। কে থাকবে?
"আম্মু, ঘরে/বাইরে তো আর কেউ নেই।"
'তুমি বরং ঘুমিয়ে পড়ো তাড়াতাড়ি। কাল সকালে কে জাইনা-কে স্কুলে কে দিয়ে আসবে?'
"জানিনা, দেখি কী করা যায়...রাখলাম তাহলে।"

আমি মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম "মা তুমি কি শুনেছ কেউ দরজা নক করেছে নাকি?" মেয়ের একটা ব্ল্যাংক এক্সপ্রেশনেই বুঝে গেলাম সে খেয়ালই করেনি। আজকে সন্ধ্যায় ছাদ থেকে যখন কাপড় আনতে গেলাম উপরতলার ভাবী সব শুনে বলছিল "ভাবী বাসায় এসেন, আপনাকে সব বলবো। এখন বাচ্চারা শুনলে ভয় পাবে। আমি জানি এই বাসাটা haunted।" আসলে আমার কাছে খুব অবাকই লাগছিল। আমার সাত বছরের সংসারে এইরকম দেখিনি। মাত্র ১৮ দিন ঘরে ছিলামনা, ফিরে এসে দেখি সারা ঘরে fungus ছড়িয়ে গিয়েছে!! বেডশীট, বালিশের কাভার, আলমারীর কাপড়, বেডরুম/গেস্টরুমের বিছানার সমস্ত জিনিস-আমার ল্যাপটপের ব্যাগ থেকে শুরু করে ভেতরের কী-বোর্ডের উপরেও, কিচেনের চুলা, আলু-পেঁয়াজ, ডেকচি-পাতিল...সবকিছুর উপর একটা পাউডারের মত প্রলেপ। সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছি ফ্রিজ খুলে, ভেতরকার ওয়াল থেকে শুরু করে ডিম/জ্যাম/কাঁচা মাংস/মাছ---সবই নষ্ট, গন্ধ, ছাতা পড়া! রাতের খাওয়া কী করে রাঁধবো, কিভাবে এক হাতে ঘরের সব ক্লীন করবো, এত লম্বা জার্নির পর কখন বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে নিজে আবার শুব...ভাবতেই মাথাটা কেমন পাগল-পাগল লাগছিল। আমার উনি আবার রাতের বাসে চিটাগাং রিটার্ন করবেন, সুতরাং যত চিন্তা আমার উপর। সেদিন রাতে বাসায় তালা দিয়ে বের হয়ে গেলাম আবার। আমি বোনের বাসায়, কর্তা আবার চিটাগাং। বোনের বাসায় দুইদিন বাচ্চাদের রেখে সারাদিন আমি আসা-যাওয়া করে ঘরটাকে মোটামুটি সাইজ করলাম। আজকে রাতেই প্রথম নিজের বাসায় থাকছি। ও এখনও আসেনি চিটাগাং থেকে। শুনেছি এবার ঈদে ঢাকায় নাকি প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল ননস্টপ। হয়তো সেই হিউমিডিটির কারণেও এই কান্ড হতে পারে!
বাচ্চারা খেলতে খেলতে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমার আরো অনেক কাজ বাকী। এখন কাপড় ধোবো, ঘরের আরো ক্লীনিং বাকি। ওরা জেগে থাকলে এইসব করা কঠিন, বিশেষ করে ওদের আব্বা না-থাকলে তখন ওরা আমার চারপাশে ঘুরঘুর করে, আর আমি এইসব ভারী কাজ করতে পারিনা। তাই আজকে ঠিক করেছি ওরা ঘুমানোর পরেই সব করবো।
তবে ফেইসবুকে একটু ঢোকা দরকার। ব্লগেও ঢুকে দেখতে হবে কী অবস্থা। অনেকদিন অনলাইন না-হলে মনে হয় কী যেন করিনাই!

কে? কার যেন পায়ের আওয়াজ শুনলাম! বাথরুমে না? এই তো, আবারও শুনলাম। বাথরুমের কল ছাড়লো, কল বন্ধ হলো। কিছুক্ষণ চুপ, তারপর আবার ফ্লাশের শব্দ! মাঈ গড! কী হচ্ছে এসব? ফেইসবুকে লগিন করে বিছানায় হেলান দিয়ে শক্ত হয়ে বসে আছি। চুপচাপ। মনে মনে আমার জানা যত দোয়া-দরূদ আছে পড়ছি...
"hi shafqat, u thr?" ফেইসবুকে আমার এক সিনিয়র ভাইয়া কাম এক্স কলিগ নক করলো। মনে হলো যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলাম!
'bhaia amar bashai mone hoy bhoot ase!'
"ha ha ha!! whr's ur hubby?"
'he's in ctg, I m alone in the house; kids asleep.'
"bashai r keu naai?"
'na bhaia, amra tin jon.'
"well wht makes u think tht thr's ghost in ur house?"
'bhaia I heard someone knocking my bedroom-door; then I opened the door but saw none outside. The whole house was empty. Few moments back I clearly heard noises in my bathroom as if someone used the basin and the potty. I heard sounds of water and flush and footsteps!'
"wait. u stay in an apartment, right? and thr r other flats above and below, right?"
'jee bhaia.keno?'
"karon eto raat e khub chhoto noise onek jore shuna jai. I m sure oi sound gula onno flat e hoise, but it came out too loud tht u thot it happened in ur own house. Eta hoi, ami o koyekbaar raat jege eirokom sound shunsi. moreover tomar jamai ghore nai, tumi eka, tai aro beshi bhoi pachchho. aage kokhon o ei rokom shunonai?"
'ami aage kokhon o eka thakinai ebhabe...apnar kothai logic ase, still bhaia ami ekhono onek bhoi pachchhi. amar room theke ber hoye ghor er kaj kora dorkar, kintu bichhana theke-ee namte bhoi lagchhe!'
"listen y dnt u go to sleep?shokal bela ghum theke uthe tomar hashi pabe raat er kotha bhebe."

এই ঘটনাটা দিন পনেরো আগের। লেখাটা আমি আমার ড্রাফটে রেখেছিলাম। ও চিটাগাং থেকে ফিরে আসার পর আমি ওকে বলেছি। শুনে সে বল্লো "ওপরতলার মহিলার সাথে বেশী মিশবানা। যতসব সুপারস্টিশাস কথাবার্তা।"
রাত জেগেছি এর পরে বহুবার,কিন্তু সেরকম শব্দ আর শুনিনি। মনে হয় ভুতবাবাজী আমার সাহেবের সামনে আর আসবেনা। ও আবার তিনমাসের জন্য বাইরে যাবে। কেন জানি মনে হচ্ছে আমি তখন আবার আওয়াজ-টাওয়াজ শুনবো। শুনতে পেলে আপনাদের জানাবো, কেমন?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৩৪
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×