আমি ৬ বছর যে কাজ করেছি, তাকে সোজা বাংলায় hiring বললে সব বলা হয়ে যায়। চাকরির প্রথমদিকে খুব উত্তেজনায় থাকতাম, মাই গড, হা-য়া-রিং!! মানে চাকরিদেওয়া!! একটা চাকরি পেতে কত ঝড়-ঝাপটা পার করেছি ক্ষূদ্র জিপিএর কারণে, সেই আমি এখন টেবিলের অন্য পাশে বসে চাকরি খুঁজতে আসা লোকদের যোগ্যতা যাচাই করবো??!!
কিন্তু ঘটনা বাস্তবে এত আরামের ছিলনা মোটেও। এক পর্যায়ে মনে হতো একটা খালি পদে যোগ্যতানুযায়ী লোক খুঁজে দেওয়া, সেটা শুনতে যতই সোজা মনে হোক, এর দায়বদ্ধতা অনেক! হাতের কাজের চাইতে মাথাব্যথাটা অনেক বেশী। মনে হতো এর চাইতে একটা ডাটা-এন্ট্রির এক্সিকিউটিভের কাজ অনেক আরামের। প্রতিবছর বাৎসরিক কার্যমূল্যায়নের (annual performance appraisal) সময় জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করতাম, একটা রোটেশনের জন্য। কিন্তু ভবিতব্য আমাকে আমার এই চাকরি থেকে রেহাই দেয়নি যতদিন না নিজে ইস্তফা দিলাম...সে অন্য কাহিনী।
জানিনা আপনারা কে কে কর্পোরেটে আছেন; কে কে নিজের বিজনেস করেন কিংবা কে কে হিউম্যান রিসোর্সে ক্যারিয়ার করতে চান। লোক নিয়োগ দিতে গেলে ধুমধাম করে নিয়োগ দিয়ে দেওয়া যায়। আমাদের দেশে এটা কোনও ব্যাপারই না, কারণ খালি পদের চেয়ে চাকরি-খোঁজা লোকের সংখ্যাই এখন অনেক গুণে বেশী। সমস্যা হয় বেস্ট-ফিট খুঁজে বের করা, কিংবা দূরদর্শী মানসিকতার প্রয়োগ করাটা, যা দিয়ে আপনি-আমি না-থাকলেও আমাদের দ্বারা নিয়োগ-কৃত লোকটা একেবারে শতভাগ দক্ষতার সাথে কাজের চাহিদা অনুযায়ী কিংবা তার চেয়েও বেশী ডেলিভারি দিতে পারে।
আমরা বইয়ে অনেক কিছু পড়েছি স্টুডেন্ট লাইফে। যতদিন চাকরি তে "রিলেটেড" কাজ না-করেছি ততদিন আসলে সেই পড়াগুলোর মর্ম বুঝিনি। আমি নিজে খুব ফাঁকিবাজ ছিলাম। না-পড়ে কিভাবে মোটামুটি পাশ করা যায় সেদিকেই মনযোগ ছিল বেশী। চাকরি তে ঢুকে খুব আফসোস হতো, বিশেষ কিছু চ্যাপ্টার আবার অনলাইনে পড়তে হয়েছে। বুড়া বয়সে আলমারী ঘেঁটে বই খুঁজে বের করে পড়েছি অনেকবার। এখন চাকরি ছাড়ার পরেও পড়ে যাচ্ছি...
যদিও কী করা উচিত, কী না-করা উচিত (DOs & DONTs), তা ইন্টার্নেটে সার্চ দিলে পাওয়া যায়। তবুও আমরা ঘুরে ফিরে অভিজ্ঞতা এবং ডিগ্রী থাকা সত্ত্বেও একই ভুলগুলি করে থাকি বারবার। সেসব এড়িয়ে গেলে আশা করি লোক নিয়োগ দিয়ে আপনাকে পরে আফসোস করতে হবেনা। সবসময় মনে রাখবেন, চাকরি একবার দিয়ে ফেল-লে তা আর নিয়ে নেওয়া যায়না, এটা কোনও খেলাধুলা নয়। "আহ্ কেন যে অমুককে হায়ার করলাম, তমুককে হায়ার করলে আজকে এই প্রব্লেমটা হোতোনা"...কিংবা "আচ্ছা ৬ মাস পরে একে বাদ দিয়ে দেওয়া যায়না? বড়ই পেঈন!!" খুব সাবধান! এই ধরণের আলোচনা হওয়া মানেই আপনার নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গলদ ছিল এবং এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে! কাজেই নিয়োগ দেওয়ার আগেই শতবার চেক-রিচেক করে দিলে অর্গানিযেশনের লাভ বৈ ক্ষতি হবেনা।
আমি তাই কিছু ভুল-কাজের একটা চেকলিস্ট আপনাদের দিতে চাই, যেসব আমরা ঘনঘন করে থাকি এবং এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে আশা করি আপনাদের লোক-নিয়োগের অভিজ্ঞতা সুখকর হবে।
যদি অভিজ্ঞতালব্ধ এই পয়েন্টগুলো আপনাদের কারও কাজে লাগে, তাহলে আমার এই লেখা সার্থক হবে বলে মনে করি
দরকার নিরপেক্ষতা
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


