somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে ভাবি সমিতি

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার মেয়ের স্কুলে একটা ভাবি-সমিতি আছে। আজ থেকে আড়াই বছর আগে মেয়েকে স্কুলে দিয়েছি এবং তখন দূর থেকে ওনাদের দেখেছি। কাছ থেকে মেশার তেমন সুযোগ তখন ছিলনা; কারণ মেয়েকে স্কুলে দিয়েই দৌড়াতে হতো অফিসে। মাথায় থাকতো সদ্যজাত আরেক কন্যার টেনশন।
চাকরি ছাড়ার পর ওনাদের কাছ থেকে দেখলাম। সকালে স্কুলের সামনে জটলা। কেউ কেউ ঘরের পোষাকেই চলে এসেছেন, ফোলা মুখে ঘুমের রেশ। কারো পায়ে কেড্স-জীন্সের প্যান্ট, মনে হয় যেন মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছেন। কেউ আবার এর মাঝেই চমক লাগানো মাঞ্জাও মেরে এসেছেন। কথা বলার টপিক গুলো খেয়াল করতাম। "আরে ভাবি আর বইলেন না। তাদের হাবভাবে মনে হয় যেন আমিই ঘরের মেইড আর তিনি বেগমসাহেব!" "আমার শাশুড়ী তো আরেক ডিগ্রী ঊপরে। ছেলের সামনে এমন ভাআব যেন নিজের মেয়ের চাইতে বৌয়ের জন্য দরদ বেশী।" "চিন্তা করেন, এত এত বেতন দিয়ে পড়ানোর পরেও যদি সামার ভেকেশানে সেই আমারঈ বাচ্চাকে সব মুখস্থ করাতে হয়..." কিংবা "না না ভাবি ওর আব্বা এবার সিঙ্গাপুর থেকে এটা এনেছে। সাথে একটা আংটি আর ব্রেসলেটও..."।
আমি শুরুতে তেমন পাত্তা পেতাম না। পরে আমার মেয়ের নাম জানার পর আমার একটু কদর বেড়ে গেল। মেয়ে আমার খুব বন্ধুবৎসল। ওনারা নিজেদের বাচ্চার কাছে আমার মেয়ের নাম শুনেছেন। এভাবেই ভাবি-সমিতি তে আমার পদার্পন।
নার্সারিতে থাকতেই জাইনা আমার ফোন নাম্বার মুখস্থ করে নিয়ে বন্ধুদের বিলিয়ে দিলো। ফোন আসতে থাকলো বাসায় নিয়মিত। মাঝে মাঝে চিরকুটের মত করে লিখে নিয়ে আসা বন্ধুদের নাম্বার দিতো আর আমাকে সেসব ডায়রীতে লিখে রাখতে হতো। মেয়ের সখ বাসায় বন্ধুদের দাওয়াত করে খাওয়াবে। হুটহাট ঘরে নিয়েও আসতো একজন দুজন কে। বাসা স্কুলের কাছে হওয়াতে হেঁটেই আসা যায়। দু-একজন ভাবির সাথে এই সুবাদে সখ্যতা হলো। মেয়েদের বাবা তাদের জন্য রংবেরং এর খেলাঘর বানিয়েছেন; তাতে দোতলা বিছানার সাথে স্লাইড জুড়ে দেওয়া। জাইনার বন্ধুদের সেটা মূল আকর্ষণ; এছাড়া বাপের দুলালীর ঘর ভরা খেলনা,দোলনা,গাড়ি,সাইকেল কী নেই। কাজে কাজেই মুখে মুখে ছড়িয়ে গেল ক্লাসে আমার মেয়ের খেলাঘরের কথা। ভাবিরা আমাকে ছুটির সময় বলতে থাকলেন তাদের বাচ্চারা আমার বাসায় যেতে চায়।
দিলাম দাওয়াত। জাইনা পারলে পুরো ক্লাসকেই দাওয়াত দেয়; আমি অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে সেটা আটজনে নামিয়ে আনলাম। স্কুল থেকে সরাসরি বাচ্চারা আমার বাসায় আসবে। দুইজন বাসায় গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসবে, বাকিরা আমার সাথেই আসবে; স্কুলে সেভাবে বলে দেওয়া হলো। সে এক দেখার মত দৃশ্য। আমি চারটা বাচ্চা নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছি। তাদের হৈচৈ চিৎকারে কান পাতা দায়। ঘরে ফিরে তাদের স্কুলের ড্রেস পালটে খাওয়াতে খাওয়াতে বাকিরা মা-সহ হাজির। সবার দুপুরের খাওয়া শেষ করে আমরা তিন ভাবি বসলাম গল্প করতে। কিভাবে যেন সময় কেটে গেল। বাকি বাচ্চাদের মা-রাও (একজনের বাবা) একে একে এসে তাদের নিয়ে গেলেন। বিকেলে সবাই একসাথে চা-নাস্তাও হলো। রাত আটটায় আমার ঘর খালি হলো। আমি এলোমেলো ঘর গুছাতে গুছাতে আমার ক্লান্ত মেয়ে দুটো ঘুম...।
গতকাল এই দাওয়াত ছিল বাসায়। আজকে সকালে একজন আর দুপুরে আরেকজন ফোন করে গল্পগুজব করলো। ভাবি থেকে সখ্যতা চলে গেছে এখন "তুমি"-তে। নাম ধরেই ডাকি একেকজন কে।
মনে হলো ভাবি সমিতিতে এতদিনে আমার আসন পোক্ত হলো :D
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×