somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি অনলাইন-১

২৫ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমার সাথে কেবল অনলাইনেই আড্ডা মারা হয়। সামনাসামনি তো তুমি তেমন কথাই বলোনা।

-হুম্, জানি সেটা। আমি আসলে কথা তেমন ভালো বলতে পারিনা। সামনাসামনি তো নয়ই, ফোনেও পারিনা। কিভাবে যেন এই অনলাইন কথাবার্তায় বেশ ভালই মানিয়ে নিলাম।

তুমি কথা ভালো বলতে পারোনা, এটা কি বিশ্বাস করা যায়? এই যে এখন, দিব্যি তো বকবক করে যাচ্ছ, কন্ঠটাই শুনতে পারছিনা, এই যা তফাৎ।

-আসলে সামনাসামনি কিংবা ফোনে কথা বলার মাঝে একটা দায়বদ্ধতা থাকে। কথাবার্তা চালিয়ে নেওয়ার জন্যে ক্রমাগত এফর্ট দিতে হয়, প্রাসংগিক আলোচনা করতে হয়। মাঝে মাঝে না-চাইলেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ হয়ে যায়। কিন্তু এভাবে টাইপ করে দূরে থেকে আলাপ করাটা বেশ স্বস্তিদায়ক। কেউ কাউকে দেখছেনা। আমার অ্যাপিয়ারেন্স কিন্তু আলাপচারিতায় কোনও ইম্প্যাক্ট ফেলছেনা। ঘরের পোষাকে, চুল এলোমেলো করে, শুয়ে, বসে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি তোমার সাথে কথা বলছি। একটু দেরী করে সাড়া দিলেও তুমি রাগ করছোনা, মাঝে মাঝে “বিআরবি” বলে উধাও হয়ে গিয়ে আবার “ব্যাক” বলে ফিরে এসেও কিন্তু কথার খেই হারিয়ে যাচ্ছেনা।

তবুও, লিখে বলতে গেলে কতখানি সময় নষ্ট হয় বলো? এই যে তোমার এই লম্বা রেস্পন্সের জন্যে আমাকে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো!

-আরে ব্যাপার না। মজার ব্যাপার এই যে ছোট ছোট মানুষের মুখ দিয়ে আবেগ প্রকাশ করা। আমি চাইলেই তোমাকে একটা হাসিমুখ কিংবা জিব ভেংচানো মুখ দেখিয়ে দিলাম। সামনাসামনি কি চাইলেই এমন হাসা যায়, না একফোঁটা চোখের পানি দেখানো যায়?

ও মাই গড, তুমি কিন্তু ফাঁকিবাজ আছ। সামনাসামনি নাহয় জিবটা বের করে ভেংচালে, নাহয় একটু চোখ টিপে দিলে, কী যায় আসে?

-পাগল নাকি? তা কি হয়? আমি নিজের মত হা-হা করে হেসে, কিংবা উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করে যেভাবে খুশী তোমার সাথে আলাপ করবো, আমার এই অনুভূতিগুলো কথাবার্তায় কোনও প্রভাব ফেলবেনা, এইই তো বেশ!

তারমানে তুমি লুকোতে চাইছ?

-ঠিক তা’ নয়। বলতে পারো নিজের মত থাকতে চাচ্ছি। অন্যে কী ভাববে, সেটা ভেবে নিজেকে কাস্টোমাইজ করতে চাইছিনা।

আমার তো উল্টোটা মনে হয় নিজের বেলায়। মনে হয় সারাদিন এত মানুষের সাথে এত কথা বলি, কিন্তু তোমার সাথে এইভাবে কথা বলতে গেলে নিজেকে বরং বেশী এক্সপ্রেস করে ফেলি। আমি নিজেকে একদম লুকোতে পারিনা। লুকোতে চাইওনা।

-আমার সামনে বসে এমন খোলামেলা আলাপ করতে পারবে?

উমম্…চেষ্টা করে দেখতে পারি, তবে কিছু কথা মনে হয় গলায় আটকে যাবে।

-তাহলে তো একই কথা হলো। তুমি যা বলতে চাইছ, তাইই তো এভাবে ভালো বলতে পারো। নিজেকে বেটার এক্সপ্রেস করতে পারো। আবার নিজের মত করে আলাপ করতে পারো।

তা’ অবশ্য ঠিক। এখন যে অবস্থায় আছি, এই লুঙ্গি পরা, আন্শেভ্ড চেহারা নিয়ে তোমার সামনে তো যাওয়াই যাবেনা!

-তবে? বুঝতে পেরেছো তো? তাছাড়া সময়েরও একটা ব্যাপার আছে। রাত দুটোয় কারো বাসায় গিয়ে দরজা নক করে তো বলা যায়না যে ‘ভাই আমি আপনার সাথে ঘন্টা দেড়েক আলাপ করতে চাই, কারণ আমার ঘুম আসছেনা’।
কাউকে অনলাইন দেখলে কিন্তু টুক করে নক করা যায় ‘ইউ দেয়ার?’

বুঝিনা, কেমন যেন বিপরীতমুখী চিন্তা কাজ করছে মাথায়। মাঝেমাঝে তোমাকে এত কাছের মনে হয়, যেটা সামনাসামনি কখনই মনে হয়না। তখন খুব তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে, তোমার কাছাকাছি থাকতে ইচ্ছে করে।

-আমার সে ইচ্ছে করেনা। কারণ সামনাসামনি তুমি যে-মানুষ তাকে আমার ভালো লাগেনা।

কেন?!!

-তোমরা কঠিন কঠিন সব আলোচনা করো, আমি বুঝিনা, পার্টিসিপেট করতে পারিনা। স্টক মার্কেট, অয়েল ইন্ডাস্ট্রি, পলিটিক্স, হাবিজাবি অফিসের আলাপ, বিচ্ছিরি লাগে আমার। আর বিড়ির গন্ধ তো আমি সহ্যই করতে পারিনা!

বিড়ি বলছো কেন? শুনতে কেমন যেন রিক্সাওয়ালার মত লাগে।

-বিড়ি-ই তো! একটু নাহয় দাম বেশী, নাহয় ওরা যা খায় তোমরাও তো তাইই খাও। ওরা ফুটপাথে বসে খায় আর তোমরা ঘরে, বারান্দায়, এইটুকুই তফাৎ।

তুমি একটু ঝগড়াটে আছ। সামনাসামনি কিন্তু তোমাকে বেশ মিষ্টি মনে হয়।

-সামনাসামনি তুমি আমার কতটুকুই বা দেখো?

তাওও তো কথা। এখন তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।

-কী বলো? ঝগড়াটে একজনকে দেখতে ইচ্ছে করছে?!!

হুম্ করছে। আমি ভাবছি কোমরে আঁচল পেঁচিয়ে একটা ঝাঁটা হাতে তেড়ে আসলে তোমাকে কেমন দেখাবে।

-ভালোই দেখাবে। আমি আসলে ওরকমই।

আমি জানি ভালো দেখাবে। ইন ফ্যাক্ট আমি দিব্যি দেখতে পারছি তোমাকে ভালো দেখাবে।

-যাহ্, আমি তো ঠাট্টা করে বললাম।

আমি সিরিয়াসলি বলেছি। সামনাসামনি তুমি কেমন যেন নির্জীব, আবেগহীন। মনে হয় তোমার হাসিটাও মাপা-মাপা। সত্যি, তোমাকে একদম অন্যরকম মনে হয়। খুব দূরের একজন। তার চাইতে ঝাঁটাওয়ালী বেটার। একটা আবেগ তো আছে!

-হেহ্, তুমি নিজে কী? তুমি তো এমন ভাব দেখাও যেন জ্ঞান উপচে পড়ছে, রাখার জায়গা নেই। বেশী জ্ঞানী মানুষ আমার অসহ্য লাগে!

কারণ তুমি নিজে কম জ্ঞানী, তাই।

-বয়েই গেছে আমার জ্ঞানী হতে। তোমাদের দেখলে মায়া হয়। ভাবি, তোমাদের আলাপ করার কোনও টপিক নেই, তাই ক্রিকেট, গুগল, মটরোলা এইসব আজগুবি কথা বলো।

আরে, এইটা আজগুবি আলোচনা হলো? তুমি আস্তে আস্তে আমাদের সাথে বসা শুরু করো, শুনতে শুনতে দেখবা কত এক্সাইটিং টপিক এসব।

-আমার কি টপিকের আকাল পড়েছে নাকি তোমাদের মত? নিজের লাইফ নিয়েই বাঁচিনা! তোমাদের আসলে নিজেদের কোনও কাহিনি নেই, তাই অন্যের ঝুলি নিয়ে কাড়াকাড়ি করো।

সেটা তো করো তোমরা। গসিপ ছাড়া কোনও কথা নেই।

-এইই, স্টিরিওটাইপ করবানা। আমি গসিপ করলাম কখন?

আচ্ছা তাই তো, তুমি তো মেয়েমহলেও চুপচাপ! কি তোমার আসলে সমস্যাটা কী?

-আমার সমস্যা হচ্ছে আমার মোবাইলে চার্জ চলে যাচ্ছে। আল্লাহ হাফেয।

চার্জে কানেক্ট করে কথা বলো!

-আরে ইলেক্ট্রিসিটি নাই, টিভির পাশের পয়েন্টে কানেক্ট করতে হবে। আমার অত ঝোল নাই, যে টিভির পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চ্যাট করবো।

ওহ্ আচ্ছা ঠিকাছে। বাই।

-ভালো থেকো।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৬:৩৩
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×