দিন কয়েক আগে দেশের প্রখ্যাত লেখক রাজিব হাসান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন_ "নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে তিন ধরনের স্ট্যাটাস দেয়া যায়। এক. পূর্ণমিথ্যা স্ট্যাটাস : আমার বউ আমাকে ভালোবাসে। দুই. অর্ধমিথ্যা স্ট্যাটাস : আমার বউ আমাকে মারে না। তিন. পূর্ণসত্য স্ট্যাটাস : ভাইরে, চিপায় আছি।"
এটাই হল বিবাহিত জীবন। এজন্য বিয়ে শীর্ষক বাণী চিরন্তনী হল "Marriage is not a word. It is a sentence- a life sentence" অর্থ বিয়ে একটা ওয়ার্ড শুধু নয়, সেনটেন্সও, একেবারে লাইফ সেনটেন্স (সেনটেন্স? টু ডেথ অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আর কী)।
এক যুবক তার দাদাকে জিজ্ঞেস করে : এটা কি সত্য? আমি শুনেছি যে প্রাচীন চীনে বিয়ে না করা পর্যন্ত স্বামী তার স্ত্রীকে চিনতে পারে না?
দাদা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে : সব জায়গাতেই এমন হয় রে দাদু, সব জায়গাতেই এমনটা হয়।
বিয়ে করার জন্য একজন পুরুষকে ৪ ধরনের রিং তৈরি করতে হয়, বা তৈরি করার ক্ষমতা থাকতে হয় : (১) অ্যাঙ্গেজমেন্ট রিং (২) ওয়েডিং রিং (৩) সাফা-রিং (ভোগান্তি) (৪) এনডিউ-রিং (স্থায়িত্ব, টিকে থাকার ক্ষমতা)।
তাই হিসাব বিজ্ঞানীরাও হিসাব করে বের করতে পারে না বিয়ের খরচ। কোন বিবাহিতকে বিয়ের খরচ জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর থাকে_ 'আমি জানি না ভাই, কারণ, আমি এখনও খরচ করে চলছি।'
এজন্য ইংরেজিতে বলে "Marriage is love. Love is blind. Therefore, marriage is an institution for the blind. (বিয়ে হল ভালোবাসা, আর ভালোবাসা হল অন্ধ; সেজন্য বিয়েটা যথার্থই অন্ধদের জন্য একটা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান।)"
স্বামী : সত্য কথা বলতে কি জান, প্রকৃত মূর্খরাই সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করে।
স্ত্রী : যাক এতদিনে এই প্রথম তুমি আমার রূপের প্রশংসা করলে।
একবার এক বিখ্যাত বক্তা তার ভাষণে বললেন, 'আমার জীবনের সেরা সময় এক মহিলার সঙ্গে কেটেছে, কিন্তু সে আমার স্ত্রী নয়'!!! সব শ্রোতা শুনে চমকে ওঠে চুপ হয়ে গেল: এরপর বক্তা যোগ করলেন,
'তিনি আমার মা!' সবাই হেসে উঠে হাততালি দিয়ে উঠল: হাবলুও সেখানে ছিল এবং সে খুবই অভিভূত হল: ঠিক করল সেও এটা বাড়িতে গিয়ে বলবে! সে বাড়িতে গিয়ে কিচেনে স্ত্রীকে গিয়ে জোরে বলল, 'আমার জীবনের সেরা সময় এক মহিলার সঙ্গে কেটেছে কিন্তু সে আমার স্ত্রী নয়!' এরপর সে একটু চুপ থাকল তারপর সে একটা আলোর ঝিলিক দেখল। বাকি অংশ মনে করার চেষ্টা করল কিন্তু সে পারল না। মনে করতে যখন তার জ্ঞান ফিরল দেখল সে হাসপাতালে।
আপনি বিয়ে করলেই একটা বউ পাবেন, ব্যাপারটা ঠিক এ রকম নয়; বউয়ের সঙ্গে বোনাস হিসেবে সারা জনমের গঞ্জনাও সঙ্গে পাবেন।
এক লোকের খায়েশ হয়েছে তিনি নির্বাচন করবেন। দাঁড়িয়েও গেলেন ভোটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ভোট হল। গণনা শেষে দেখা গেল, তিনি মাত্র দুটি ভোট পেয়েছেন। লোকটির স্ত্রী তো রেগে আগুন। বলল, 'আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, তুমি নিশ্চয় অন্য কোন মেয়েকে ভালোবাসো। তা না হলে আরেকটা ভোট দিল কে?'
এটাই বিধান, পুরুষরা জন্মগত ভাবে স্বাধীন; তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিবাহ-বন্ধনে বন্দি হয়ে থাকেন।
নতুন ক্লাসে ভর্তির পর ছেলেমেয়েরা আলাপ করছে। কার বাবা কি করে তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
একজন নিজের পরিচয় দিয়ে বলে, আমার বাবা ব্যাংকে চাকরি করেন। তোমার বাবা কি করেন ?
দ্বিতীয়জন উত্তর দেয়, মা যা বলে তাই করে।
ইংরেজিতে একটা কথা আছে_"It is true that love is blind but marriage is definitely an eye-opener. (এটা সত্য যে, ভালোবাসা অন্ধ, কিন্তু বিয়ে নিঃসন্দেহে চোখ খুলে দেয়।)"
স্ত্রী তার স্বামীকে বলছে : অ্যাই, জান তোমার বন্ধু যে মেয়েটাকে বিয়ে করতে যাচ্ছে তাকে আমি চিনি। মেয়েটি ভালো নয়। ওর স্বভাব খারাপ, তার ওপর ঝগড়াটে। তোমার বন্ধুকে বারণ করে দেয়া দরকার।
স্বামী হতাশ কণ্ঠে বলে : না আমি বারণ করব না। সেও তো বিয়ের আগে আমার বৌকে চিনত, কই তখন কি সে আমাকে বারণ করেছিল?
আরেকটা কৌতুক বলি :
একটি মেয়ের সবেমাত্র বাগদান হয়েছে। তার অফিসের এক বিবাহিত মহিলা এলেন তাকে উপদেশ দিতে _ 'শোন, বিয়ের পর প্রথম ১০ বছরই সবচেয়ে কঠিন।'
মেয়েটি তখন জিজ্ঞেস করলে_ 'আপনার বিয়ে হয়েছে কত দিন?'
_ '১০ বছর।'
তারপরও বিয়ে বিয়েই। একবার কি হল, এক মেয়ে লটারিতে ৫ কোটি টাকা পেয়েছে। কোম্পানি চিন্তা করল হঠাৎ এই সংবাদ মেয়েকে জানালে মেয়ে খুশিতে মরে যেতে পারে তাই চান্দুকে পাঠানো হল এমনভাবে বলার জন্য যাতে মেয়ে খুশিতে না মরে।
চান্দু মেয়েকে গিয়ে বলল : মনে করেন আপনি ৫ কোটি টাকা পেলেন তাহলে কি করবেন?
মেয়ে : আপনার সামনে নাচব, আপনাকে ভালবাসবো, বিয়ে করব শুধু এটাই না অর্ধেক আপনাকে দিয়া দিব!!
চান্দু নিজেই খুশিতে মইরা গেল!!!!
হয় রে দিল্লিকা লাড্ডু : বিয়ে! মানুষের দেখাদেখি বনের রাজা বাঘ একবার ঠিক করল যে, সেও বিয়ে করবে। রাজার আশপাশে সারাক্ষণ নানা রকম মোসাহেব জন্তু-জানোয়ার ঘোরাঘুরি করে। রাজা একদিন তাদের বললেন, 'এই শোন, আমি বিয়ে করব ঠিক করেছি, আমার জন্য মেয়ে দেখিস।'
এই কথা শোনার পর আর কেউ বাঘের কাছেই ভিড়ে না।
সবাই মনে মনে ভাবে, কোন মেয়ে দেখে রাজার রোষের শিকার হয়ে আবার তার পেটে চালান হয়ে যাই, দরকার নাই। এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল। বাঘ রাজা তো হতবাক, একি অবস্থা, আমার আশপাশেই তো কেউ আসে না!
ছয় মাস পর এক ইঁদুর এলো।
বাঘ হুংকার দিয়ে উঠল, 'এই থাম।'
ইঁদুর বলে, 'জ্বী হুজুর।'
: তুই শুনেছিস যে আমি বিয়ে করব বলে মনস্থির করেছি?
:জ্বী হুজুর, শুনেছি।
: তা আমার কাছে কেউ আসে না কেন?
: হুজুর, তারা আপনাকে খুব ভালোবাসে তাই।
: ভালোবাসে বলে কাছে আসবে না, এটা কেমন কথা?
এরপর ইঁদুরের দিকে তাকিয়ে বাঘ বলে,
: তুই বিয়ে করেছিস?
ইঁদুর বলে, 'জ্বী হুজুর, বিয়ে করেছি।'
বাঘ আফসোস করে বলে, 'তুই একটা ইঁদুর, তুই বিয়ে করে ঘর-সংসার করছিস, আর আমি বাঘ হয়ে বিয়ে করতে পারব না, এটা কেমন কথা!'
ইঁদুর বলে, 'হুজুর আমি আসলে আগে বাঘই ছিলাম, বিয়ের পরে ইঁদুর হয়ে গিয়েছি!
সবশেষে একটা গল্প বলি,
বিবাহে প্রবল অনিচ্ছুক এক লোককে বলা হল :
সারাটা জীবন একা একাই কাটাবে? ভেবে দেখ, তুমি যখন মরণশয্যায়, তখন তোমার মুখে পানি দেয়ার মতো কেউ থাকবে না।
কোন প্রতিযুক্তি দেখাতে না পেরে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল লোকটা।
অনেক বছর পরের কথা। দীর্ঘ সংসারজীবন যাপনের পর লোকটি বৃদ্ধ অবস্থায় শুয়ে আছে মৃত্যুর অপেক্ষায়। তাকে ঘিরে আছে তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা। শুয়ে শুয়ে সে ভাবছে :
কেন যে বিয়ে করেছিলাম! পানি খেতে ইচ্ছা করছে না তো!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


