somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সে ফিরে আসুক,প্লিজ ফিরে আসুক

০৬ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথা ছিল আমি তাকে কখনোই ফোন দেবনা। সে আমাকে মিসকল দিলেই কেবল আমি ব্যাক করবো। তবু দিন দিন সাহস বেড়ে যাচ্ছিল।সেও প্রশ্রয় দিচ্ছে।তবুও সব মিলিয়ে বছর দুয়েক আগের মতো ওতটা পাগলপারা এবার আর হইনি। আমার প্রেম-উন্মাদনার জন্য তাকে অনেক কাফফারা দিতে হয়েছে।কোরআণ ছুয়ে শপথ করতে হয়েছে।মিথ্যা বিয়ের উপর আরেকটা ভন্ডামীর প্রলেপ পরানো হয়েছে। একটা নারী তো দূরের কথা একটা নারীকে ভেঙ্গে-চুরে,দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার তাদের এতটুকুও যথেষ্ঠ মনে হয়নি। তার আপাত সুখের বাসস্থান ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল।আরো কত কী!
আমার প্রতি তার বিতৃষ্ঞাও চরমে পৌছেছিল। যাই হোক,এবার দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে কথা হচ্ছে। কোথাও কোন বাধা চোখে পড়েনি।আমাদের অনেক আনন্দ বেদনার সেই প্রথম দেখার দিনটি গতকাল ৫ ই মে আমরা একান্তে উদযাপন করেছি।জ্বরের অজুহাত দিয়ে আমি ছুটি নিয়েছি অফিস থেকে।সে খুব ভোরে ঘুম থেকে জেগে গৃহস্থালী গোলামী সেরে আমার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করেছে।অবশেষে আমি আর সে আমাদের গৃহকোন থেকে কাউকে না দেখে শুধু হৃদয়ের চোখ দিয়ে উপভোগ করেছি।মোবাইলের এপাশ-ওপাশ থেকে হাসি-কান্নার রোল নামিয়েছি।বুক ফেটেছে তবু মুখ ফুটিয়ে বলিনি,লাবণী অনেক কিছু তোমার করার ছিল।জানি তোমার রক্ত মাংস-এর গড়া এই শরীরে অনেক কষ্ট বহে গেছে। পুরো গ্রামের লোক ছি ছি করতে করতে তোমায় বিষাদে ভরিয়ে দিয়েছে।শুধু আমার জন্য,আমার ভুলের জন্য। আমার অবাস্তব অর্জনের প্রচেষ্টার জন্য।তবু ও তুমি পারতে লাবণী,অনেক কিছুই পারতে। কিন্তু আমি বলিনা।আমি চাইনা একটুখানি অভিমানে একদিনের জন্যও তোমার কন্ঠস্বর আমি মিস করি। আমি চাইনা একটুখানিও আর আমার জন্য তুমি বিমর্ষ হও। তবু হাস,প্রান খুলে হাস আর শুধু আমাকেই ভালবাস।
আজ বৃহস্পতিবার।তাই তোমার আমার কথার সিডিউল পরিবর্তন হয়েছে।কারন ঐ কুত্তার বাচ্চার আজ সিডিউল পরিবর্তন হয়েছে। তবু ঝুকিহীনভাবেই আমরা দুপুর বারোটার মধ্যেই কথা বলেছি। কিন্তু অফিসটাই যত ঝামেলা! কেন যে হঠাৎ কেটে দিলাম আর কেনই বা পুনরায় সাড়ে বারোটাই ফোন দিলাম। তুমি ফোন রিসিভ না করে কেটে দিলে।কই আর তো ফোন করলে না। তবে হারামজাদা আছে? ভাবলাম,যদি তুমি আর আমিই থেকে যেতাম সেদিন তবে কি আমি অফিসের ফাকে ফাকে এই মধ্য দুপুর তোমাকে দিতে পারতাম? হ্যা,বেশ পারতাম। সমস্ত চাকরি বাকরি গোলামীকে লাথ্থি মেরে আমি তোমার আচলেই সারাক্ষন আশ্রয় নিতাম। আমার ভীষন মন খারাপ হলো। ধরা পড়োনিতো?
দুপুরে আপা ফোন করল। এর মাঝেই একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন এল। রিসিভ করার তাগিদ অনুভব করিনি। আপার সাথে কথা শেষ হলেই সেই নাম্বার থেকে আবার ফোন এল। হ্যালো বলতেই কেটে দিল। তবে কি আমি পুরুষ,এটা নিশ্চিত হল,কু্ত্তার বাচ্চার গোষ্ঠীরা। আবার এল। রিসিভ করে চুপ থাকলাম। বয়স্ক একটি কন্ঠ বলল,শরীফ বলছেণ?
--আপনি কে বলছেন? কাকে চাচ্ছেন?
---আমি দৈবজ্ঞহাটি থেকে পোস্ট মাস্টার মেজবাহ বলছি।
পোষ্ট মাস্টার রহমান ভাইয়ের ফোন নম্বরটি মোবাইল চুরির সাথে সাথে হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু উনি তো আমাকে কখনো ফোন দিতেন না। মান্না নামের উনার একটা মেয়ে আছে। মেয়ের নাম মান্না শুনে লাবণী খুব হাসতো।
আমার সব চিঠি উনি লাবণীকে যত্ন করে পৌছে দিতেন। যেদিন লাবনীদের বাড়ির উঠানে মেম্বর,চেয়ারম্যান আর দৈনিক পূর্বান্ঝলের বুলু সাংবাদিক সালিশ বৈঠকে বসেছিল,যখন লাবনী বাথরুমের দরজা লাগিয়ে খুব চিৎকার করে অঝোর ধারায় কাদছিল আর আমাকে অভিশাপ দিচ্ছিল। আমি চাচ্ছিলাম তুমি একটু হলেও জানো আমি তোমার জন্য কিছু একটা করছি।কিন্তু কিছুই হলোনা! সালিশ হলো তোমার বাড়িতে,তোমার গ্রামের মানুষ তোমার নিন্দা করল আর সেই খানকির পুতের অপকর্মের কথা তার গ্রামের কেউ জানলনা। সে ভালো মানুষের মুখোশ পরের বাড্ডার কোন এক স্কুলে বাচ্চাদের জ্ঞান বিতরন করছিল আর এলাকায় তো নিষ্পাপ ভদ্র লোক। হায় পৃথিবী তুমি কতে নিষ্ঠুর। আমি জানতাম না দুপক্ষের টাকা খাওয়ার জন্য বুলু সাংবাদিক পাগল হয়ে উঠেছিল। যাই হোক মান্নার আব্বাকে ফোনে রিকোয়েস্ট করেছিলাম,আপনি একটু যান। আমার আর কেউ নেই! পুরো বাংলাদেশ তো দূরের কথা সুদূর বাগেরহাটেও। আমি সেই সালিশে লাবণী সব মিথ্যা স্বীকার করে যাবে,কারন পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করবে,তার পক্ষে দাড়ানোর মতো একটা মানুষও সেখানে নেই এমনকি জন্মদাত্রী মাতাও!
জানিনা,পোষ্ট মাস্টার সাহেব গেছেন কিনা হয়তো তিনি যাননি কারন আমার আর লাবণীর জন্য তিনি আর কেন অহেতুক হুমকিতে থাকবেন?
তিনি এতদিন পরে কেন আজ আমাকে ফোন দেবেন? কুত্তার বাচ্চারা জানতো ওনার সাথে আমার যোগাযোগ ছিল,তাই বুঝি উনার বেশ ধরেই শরীফের ফোন নম্বরটা তারা নিশ্চিত করছিল?
আমি শরীফকে চিনি না বলেই রেখে দিলাম।
মনটা ভীষন কাদছে লাবণী। আর কত ব্যথা নেবে তুমি? ভালোবাসা কেন এক কষ্টের? আমি তো তোমাকে ভুলে যেতে পারতাম। মজে যেতে পারতাম কোন নবীন কিশোরীরর তুলতুলে গালে। কিন্তু না পারিনা। তোমার অদৃশ্য ছায়া আমারে পাহারা দেয়।শুদ্ধ করে দেয়। আমি তোমায় ভুলতে পারিনা। যেদিক তাকাই তুমি ছাড়া কাউকে দেখিনা।
তুমি কি আর ফোন দেবেনা। যদি তোমার মোবাইলটা আটক করা হয়।মোবাইলে কিভাবে ইন্টারনেটে গিয়ে ফেসবুকে ঢুকতে হয়। কিভাবে সেখানে রক্ষিত আমার ছবিগুলো দেখতে হয়,দীর্ঘ ছয় বছর পরস্পরকে লেখা আমাদের প্রানের চিঠিগুলো-যেগুলি তোমার মা তোমার সামনেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছিল-সেগুলো কিভাবে দেখতে হয়,তোমাকে দাবী করে যুগান্তরে আমার যে ইন্টাভিউ ছাপা হলো যা তোমাকে দেখানো হলো আমার ছবিটি কেটে,ছবিসহ সে হাহাকারটি কিভাবে ইন্টারনেটে দেখতে তা এ কদিনে আমি তোমাকে শিখিয়েছি। যদি মোবাইটি না থাকে তবে তো তাও তুমি হারিয়ে ফেলবে। প্লিজ ক্ষমা করো আমার চির জীবনের সাথী। আমায় ক্ষমা করো।
আমার সমস্ত আশংকাকে ধুলোয় উড়িয়ে দিয়ে আমার মোবাইলের পর্দায় ভেসে উঠুক তোমার রিংটন টি। প্লিজ খোদা সে ফিরে আসুক,যেন কিছুই হয়নি।
০৬/০৫/২০১০
২.৪৫ দুপুর
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:০৫
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×