somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৩ জুন :ফিরে আসে পলাশী

২৩ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে দিবসটি আমরা ভুলতে বসেছি অথবা আমাদের ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে সেই পলাশী দিবসের কথাই বলছি।আমরা আজ ভালবাসা দিবস,এইডস প্রতিরোধ দিবস,নারী দিবস,এরুপ কতশত দিবস পালন করছি অথচ ভুলতে বসেছি আপন অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা রক্তাক্ত ট্র্যাজিডি ২৩ জুন পলাশী দিবসের কথা।১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন পলাশীর আমবাগানে বাংলার স্বাধীন নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে কূটচালের যুদ্ধ নামক এক প্রহসনে পরাজিত হয়।মোটামুটি ২০০ বছরের এক গোলামীর জিন্জিরে আবদ্ধ হয় আমাদের স্বাধীনতা।এই ইতিহাস তারাই ভুলে থাকে বা বহুজাতিক কোম্পানীর সাহায্যপুষ্ট মিডিয়ার সে অংশই আমাদের ভুলিয়ে রাখে যাদের ভেতর লুকিয়ে আছে লর্ড ক্লাইভদের প্রেতাত্বারা আর যাদের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্খা পরাশক্তির সমন্বয়ে সম্প্রসারিত।দেশীয় দালাল মীউঘরাজদের(মীর জাফর,উমি চাদ,ঘষেটি বেগম,রায় দুর্লভ,জগত শেঠ)ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতায় ৫০ হাজার পদাতিক আর ১৮ হাজার অশ্বারোহী বাহিনী নিয়েও মাত্র ৮০০ ইংরেজ সেনা ও ২২০০ ভারতীয় ইংরেজ পক্ষের সেনাবাহিনীর কাছে বাংলার স্বাধীনতা ভুলুন্ঠিত হয়।মীর জাফরের প্রত্যক্ষ মদদে মোহাম্মদী বেগের হাতে নবাব সিরাজ উদ-দৌলা শহীদ হন।
ঐতিহাসিক মেলেসন এই প্রহসনের যুদ্ধকে যুদ্ধ বলতে নারাজ।তার মতে, “....প্রাসাদ ষড়য্ন্ত্রকারী ও কুচক্রী মীর জাফর,রায় দুর্লভ ও খাদেম হোসেনের অধীনে নবাব বাহিনীর একটি বিরাট অংশ পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কার্যত কোন অংশ গ্রহন করেনি।যুদ্ধের নামে প্রহসন হয়েছিল”।ঐতিহাসিক ড: রমেশ চন্দ্র সেনের মতে, “নবাব ষড়যন্ত্রের কথা জানার পর যদি মীর জাফরকে বন্দী করতেন তবে পলাশীর যুদ্ধ হতো না”।ঐতিহাসিক মোবাশ্বের আলী লিখেছেন, “নবাব তার প্রায় লক্ষসেনা নিয়ে ক্লাইভের স্বল্পসংখ্যক সেনার কাছে পরাজিত হোন মীর জাফরের মুনাফেকীতে।অতি ঘৃন্য মীর জাফরের কুষ্ঠ রোগে মৃত্যু হয় কিন্তু বাংলার ট্র্যাজিডি এই যে,মীর জাফরেরা বার বার গোর থেকে উঠে আসে”।
চরম প্রতিকূলতার মধ্যে সিরাজ উদ-দৌলা সিংহাসনে আরোহন করলে শাসক পরিবারে কোন্দল দেখা দেয়।বাংলার উঠতি পুজিপতি ও বনিক শ্রেনীর অবাধ মুনাফামুখী তৎপরতায় উচ্চ করারপ করায় তারা নবাবের বিরুদ্ধে চলে যায়।অন্যদিকে লবন ব্যবসায়ের অজুহাতে বাংলায় সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্নে বিভোর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল ও সেনাবাহিনী পুষতে শুরু করলে নবাবের তাৎক্ষনিক পদক্ষেপে পরাজিত হয়ে চিকন পথে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত শুরু করে।আমরা দেখতে পাচ্ছি অভ্যন্তরীন বিশৃংখলা,ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ঋনগ্রস্ত নবাব আপন অমাত্য সুদব্যবসায়ী অবাঙ্গালী জৈন ধর্মাবলম্বী জগৎ শেঠের কাছে হাত পেতেছেন দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকারকে কর দেওয়ার জন্য।ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের প্রথম ব্যর্থ ষড়যন্ত্রে হাতেনাতে ধরা পড়লেও নবাব তাকে পদচ্যুত করতে সক্ষম হননি আর্থিক সংকটের দরুন।নবাবের সাথে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যখন যুদ্ধ চলছিল,দিল্লীর মুঘল সম্রাট তখন তাদের বিনা করে বাংলায় ব্যবসা করার অনুমতি দেন!দিল্লীর এ হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং নবাবের প্রতি সহায়তার হাত সংকুচিত করাই পলাশীর প্রান্তরে পরাজয়ের অন্যতম কারন।যেখানে ফরাশীরা পর্যন্ত নবাবকে সহায়তার জন্য যুদ্ধে এগিয়ে এলো সেখানে দিল্লী কেন এগিয়ে এলোনা তা এক বিস্ময় বটে।পরবর্তী একশ বছর শাসন-শোষন আর দুর্ভিক্ষ উপহার দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমাদের ভাগ্য সমর্পন করে রানী ভিক্টোরিয়ার পদতলে।বাংলার স্বাধীনতা হরনকে জায়েজ করার জন্য ভাড়াটিয়া লেখক মি: হলওয়েল আর সুধীর বাবুরা অন্ধকূপ হত্যার মিথ্যা কাহিনী লিখে সিরাজের চরিত্রকে কলংকিত করার আপ্রান চেষ্টা চালান।

পলাশীর ইতিহাস তাই আমরা ভুলে যেতে পারিনা।পলাশী ফিরে আসে বার বার নতুন রুপে দেশে দেশে।ইস্ট ইন্ডিয়ার মত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী কি আমাদের দেশে এখন নাই?জগৎ শেঠের মতো সুদের ব্যবসায়ী কি এখানে তৎপর না?মীরজাফরের মতো সেনাপ্রধান কি এদেশে বিরল?অন্ধকূপ হত্যার গল্প লেখা মিডিয়া কি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেনা শপথ নেবার শ্লোগান নিয়ে?পলাশীর চেতনার নির্যাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে অন্তত ইয়াদ আলাবি,আহমদ সালাবি,হামিদ কারজাই,জারদারিদের উথ্থান রোধকল্পে।




শরীফ হোসাইন মৌন
Email: [email protected]
কিল্লাপুল,নারায়নগঞ্জ-১৪০০
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১১ দুপুর ২:০১
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×