আজ থেকে সত্তর বছর আগের ঘটনা।দশ বছরের পিতৃ-মাতৃহীন এক অনাথ শিশু গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন রাখাল হিসাবে। সকাল-বিকাল এক দঙ্গল গরু-ছাগল নিয়ে মাঠে যাওয়া আর রাতের বেলা বাহির ঘরের বারান্দায় শুয়ে রাত কাটিয়ে দেয়াই ছিল তার নিত্য দিনের কাজ।পাড়ার ছেলেরা সুর করে আলিফ-বা-তা-সা পড়ে পাশের মসজিদে। সেখানে যাবার অনুমতি নেই তার কিন্তু মনটি যে আকুল-বিকুলি করে! কি আর করা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মত সকালে মসজিদের পাশে দাড়িয়ে-দাড়িয়ে শোনে বাচ্চাদের পড়া। এভাবেই তার মুখস্ত হয়ে যায় আরবী বর্ণমালা। এই ছেলেটির বয়স যখন ষোল, এক সুহৃদের পরামর্শে পালিয়ে যায় ঐ গৃহস্থ বাড়ি থেকে এবং দূরবর্তী একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। এলাকায় লজিং থেকে মানুষের বাড়িতে কামলা দিয়ে খরচ যোগানোর মাধ্যমে শুরু হয় ছেলেটির অন্য জীবন।লেখাপড়া করা প্রতিষ্ঠিত হবার অন্য এক সংগ্রাম। এভাবে অর্জন করলেন মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রী, পরবর্তীতে আবার মেট্রিক থেকে শুরু করে চাকুরীর ফাঁকে ফাঁকে প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে অর্জন করলেন ইউনিভার্সিটির সর্বোচ্চ ডিগ্রী। সেদিনের সেই শিশু আজ আশি বছরের বৃদ্ধ। চাকরী থেকে অবসর নিয়েছেন একজন কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসাবে। তার দুই ছেলে-মেয়ে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তিন ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, এক মেয়ে ডাক্তার, এদের মধ্যে দুজন অর্জন করেছে পি এইচ ডি। শুনতে গল্প মনে হলেও এটি একটি সত্য ঘটনা।
আজীবন সংগ্রামী, অত্যন্ত বিনয়ী এবং অতি অল্পে তুষ্ট আমার বাবার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


