somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সভ্য হবার মানসিকতা আমাদের তৈরী হবে কবে?

১১ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিরোনাম দেখে ভুল বুঝবেন না দয়া করে। আমরা তো অবশ্যই সভ্য জাতি। এখানে উচু উচু দালান আছে, টয়োটার পাশাপাশি বিএমডাব্লিও-ভলভো গাড়ি আছে, দেশী-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বড় বড় মানুষ আছেন, পত্রিকা-টিভি-ইন্টারনেট-মোবাইল ফোন আছে, আরো কত কি?
তবুও কি যেন নেই!
নিচের ছবিটি দেখুন।

ম্যানহোল পরিস্কার করে ময়লা ঢিবি করে রাখা হয়েছে পুরো রাস্তা টুকু জুড়ে, রাস্তা গাড়ি-রিক্সা চলাচল বন্ধ। মানুষ কে হাটতে হয় ঝুকি নিয়ে। একবার পড়ে গেলে খবর আছে। আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী। এবং সেটা একদিনের জন্য নয়, প্রায় মাস দুয়েক ছিল এভাবে। পরিকল্পিত ভাবে করলে এটি সর্বোচ্চ এক দিনের কাজ। এ এলাকার জন-প্রতিনিধি আছেন আর যে প্রতিসঠান এ কাজ করাচ্ছে(যেমন ওয়াসা) তাদের এসব জিনিস দেখভাল করার জন্য কর্মকর্তা আছেন। জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা ও প্রতিসঠানের দক্ষতার স্বার্থে কাজ টি সেভাবেই করা উচিত ছিল। এটি কি টাকার অভাব? মোটেও নয়, অভাব মানসিকতার। সেই সভ্য মানসিকতা টি আমাদের কবে হবে?
বিভিন্ন কারনে রাস্তা খুড়তে হয়। কিন্তু একবার রাস্তা খুড়লে সে রাস্তা আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।নিচের ছবিটি দেখুন।

অন্তত বছর দুয়েক আগে এই রাস্তার একপাশ খুঁড়ে ড্রেনেজ পাইপ বসানো হয়েছিল তারপর যে ভাবে ফিনিশিং দেয়া হয়েছে তাতে এটি এখন রাস্তার যোগ্যতা হারিয়েছে। অথচ ঠিকাদার কে কাজ দেবার সময় “রাস্তা আগের মত করে দিতে হবে” এরকম শর্ত দেয়া এবং তা নিশ্চিত করে বিল দিলেই এই সমস্যা হবার কথা নয়। কিন্তু ঐ যে কারো কোন জবাবদিহিতাও নেই কিম্বা তথাকথিত আধুনিক -শিক্ষিত হয়েও সভ্য হবার মানসিকতা নেই!
সেদিন দেখলাম গুলশানে রাস্তার বর্তমান অংশ আর ফুটপাথের মধ্যের অংশটুকুর বর্ধিত করার কাজ হচ্চে। ব্যাপারটা ভাল, রাস্তা বড় হবে। কিন্তু মাটিগুলো তুলে ফুটপাথ ভর্তি করা হয়েছে।রাস্তায় গাড়ি, পাশের অংশে কাজ চলছে আর ফুটপাথ ভর্তি রাস্তা খোড়া মাটিতে। সাথে বৃষ্টি। পথচারী কোন দিক দিয়ে হাটবে সে কথা কেউ ভাবে? অথচ এই কাজের দ্বায়িত্বে নিশ্চয় কোন ইঞ্জিনিয়ার আছেন, ওই এলাকার জন-প্রতিনিধি আছেন যার সভ্য-শিক্ষিত-নীতিনির্ধারক শ্রেণিভূক্ত। কিন্ত হায় তাদেরো নাই সভ্য হবার মানসিকতা। এই ছবি টি তোলা হয় নি। তবে এরকম আরেকটি ছবি দেখুন নীচে।

এরকম কত উদাহরন চান আপনি? উপরের উদাহরণ গুলি অনেকটা অদক্ষ-অপেশাদার প্রতিসঠানের ফল বলে মেনে নেয়া যায়। কিন্ত ব্যাক্তি পর্যায়ে কি আমরা সভ্য মানসিকতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারি?
ট্রাফিক সিগন্যালের গাড়ির চলার জন্য সবুজ বাতি জ্বলছে এবং গাড়ি চলছে। একটু পরে গাড়ির জন্য লাল বাতি জ্বললে নিরাপদে রাস্তা পার হওয়া যাবে। কিনতু সেই দুই-পাচ মিনিট দাড়ানোর ধৈর্য নেই অনেকের। চলন্ত গাড়ির মধ্যেই দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া। শুধু অসভ্যতাই নয়, পাচ মিনিটের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেয়া!
সেদিন বাচ্চা কে স্কুলে নামতে গেলাম। গাড়ির মোটামোটি জ্যাম। এক ড্রাইভার অনবরত হর্ণ বাজাচ্ছেন কিন্তু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সামনের গাড়ির যাওয়ার কোন জায়গা নেই। আশে-পাশে অনেক শিশু হেটে স্কুলে যাচ্ছে। এরকম জায়গায় যে ভদ্রবেশী চালক ক্রমাগত ভাবে অনেক জোরে ভেপু বাজাচ্ছেন তার সভ্যতার মানদন্ড কি?
কেএফসি তে যারা গাড়ি নিয়ে খেতে আসেন, তারা নিশ্চয় শিক্ষিত-প্রতিসঠিত, যদের কাছে সভ্যতার উতকর্ষতা আশা করা যায়। রাস্তা উপর এক সারি (রাস্তার সমান্তরাল করে) গাড়ি রাখা না হয় মেনে নিলাম, পার্কিং জায়গার অভাব। কিন্ত যিনি দ্বীতিয় সারিতে পার্কিং করে (যার ফলে রাস্তার দুটি লেন বন্ধ হয়ে গেল) খেতে ঢুকে, তার পোষাক-ভাষা যতই পরিশীলিত হোক, সমাজে তার যতই প্রভাব-দাম থাকুক না কেন, তাকে সভ্যতার স্কেলে আমি পাশ নম্বর দিতে রাজি নই।
যে শিক্ষিত মহিলা/দম্পতি বাসায় কাজের জন্য রাখা ছোট বাচ্চাটিকে অত্যাচার করেন, খুন্তি গরম করে গায়ে ছ্যাকা দেয় তাকে সভ্য তো দূরে থাকুক, আমি মানুষ বলতেই রাজি নয়।

আর কত বলব? নজরুলের ভাষায় বলতে হয়, “বন্ধু গো আর বলিতে পারিনা বড় বিষজ্বালা এই বুকে”।
তবু আমি আশবাদী মানুষ। আশ করি একদিন আমরা ঠিকই সভ্য হব। কিন্তু সেদিন কবে?
আসুন, অন্তত আমি ও আপনি শুরু করি।

১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×