somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপেল গাছ ও একটি বালকের গল্প

৩০ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(একটি চেইন মেইলে পাওয়া পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন থেকে গল্পটি নেয়া। যেখানে ডকুমেন্ট ওনারের নাম লেখা SuryaKant.Goyal, গুগলে সার্চ দিয়ে পেলাম এটি Sunitichandra Mishra এর লিখা একটি গল্প: তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই এটি ব্লগে শেয়ার করলাম)


ছোট একটি ছেলে আপেল গাছের সাথে খেলা করত। সে তার ডালে উঠে আপেল পেড়ে খেত, ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিত।
সময়ের সাথে ছেলেটি বড় হয়। এখন আর তার আপেল গাছের সাথে খেলতে ভাল লাগে না। এমন কি নিয়মিত গাছের কাছে আসার সময়ও তার হয় না। একদিন ছেলেটিকে পাশ দিয়ে যেতে দেখে গাছ টি তাকে ডেকে বলল, “ এসো, আমার সাথে খেলা কর।"

বালক টি বলল, আমার আর তোমার সাথে খেলতে ভাল লাগেনা, আমি তো আর ছোট শিশুটি নেই। আমার এখন দামী খেলনা দিয়ে খেলতে ইচ্ছে করে। আর দামী খেলনা কেনার জন্য টাকা দরকার। গাছটি বলল, আমার তো টাকা নেই, তবে তুমি আমার আপেল পেড়ে বাজারে বিক্রি করতে পার, ওখান থেকে যে টাকা পাবে তা দিয়ে খেলনা কিনবে। ছেলেটি খুশি মনে গাছ থেকে আপেল পেড়ে নেয়, বাজারে বিক্রি করে খেলনা কিনে। বালক টি এখন অনেক খুশী। খেলনা কিনার পর গাছের কাছে আসার সময় আর তার হয় না।

অনেক দিন পর বালকটি গাছের কাছে ফিরে আসে, সে এখন পুরোদস্তর ইয়ং ম্যান। গাছ টি তাকে দেখে খুশী হয়, বলে “এসো আমার ছায়ায় বস, আমরা গল্প করি”।" যুবক টি বলে আমার তো বসে গল্প করার সময় নেই, এখন আমার পরিবার হয়েছে। আমার একটা বাড়ি করতে হবে। আমার অনেক টাকা দরকার। গাছ বলে আমার তো টাকা নেই, তবে তুমি আমার ডাল-পালা কেটে নিয়ে গিয়ে বাড়ি করতে পার। যুবক মনের আনন্দে গাছের সবগুলি ডাল কেটে নিয়ে চলে যায়। গাছটি আবার দুঃখিত হয়, তবে তার ডাল কেটে ন্যাড়া করা হয়েছে সেজন্য নয়, যুবক টি তার কাছে ফিরে আসেনা এজন্য।

সময় বয়ে যায়......গাছটি একাকী ন্যাড়া কান্ড নিয়ে ছেলেটির অপেক্ষায় থাকে।

অনেকদিন পর আবার সে বালক টি গাছের কাছে আসে। এখন সে বৃদ্ধ, তাকে দেখতেও খুব বিপর্যস্ত লাগে। গাছটি মমতাভরে জানতে চায়, তার কি হয়েছে? মুখ ভার কেন? কিসের কষ্ট? জানতে চায় সে কিভাবে বালক কে (বর্তমানে বৃদ্ধ)টি সাহায্য করতে পারে? কারন তার এখন আপেল নেই, ডাল নেই, ছায়া নেই...

ছেলেটি বলে আমি এখন একা, কেউ আমার সাথে নেই। আমি কি তোমার শিকড়ের উপর বসতে পারি?


গাছটি খুশী মনে সাঁয় দেই। বালক (বৃদ্ধ) গাছের শিকড়ে বসে থাকে চুপচাপ। কেউ কথা বলে না, দুজনের চোখেই পানি।


গল্পটা কি চেনা চেনা লাগে? গাছটি কে আপনার পিতার জায়গায় বসান আর বালকটির ভুমিকায় নিজকে বসিয়ে আরেকবার ভাবুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৩৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×