নীড় কখনো ভাবেনি জীবন কে নিয়ে তার এতো ভাবতে হবে,সে কোনো কিছুকে এতো ভালবাসে।তার জীবন দর্শন এতো বদলে যাবে।ঘুম হয়না ঠিক মতো বেশ কিছু দিন ,আজকাল সেচ্ছায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে সবার কাছ থেকে রাত দিন ঘরের মধ্যেই থাকে।
বাবা মারা যাবার পরে যখন মা বড় ভাইয়ের সাথে বিদেশ চলে গেল শত অনুরোধ সত্যেও শুধু হিয়া কে ভালবেসে থেকে গেল মাকে বলেছিল অনার্স শেষ করে সে চলে যাবে।নীড়ের বড় ভাই বিদেশী প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা বড় বোনের স্বামী বিদেশে ব্যবসায়ী ।নীড় প্রতিমাসে যথেষ্ট পরিমানে অর্থ পায় ভাইয়ের কাছ থেকে,বাবার অবর্তমানে ভাই কখনো তাকে বাবার অভাব বুঝতে দেয়নি।নীড়কে বড় বোন অনেক ভালবাসে যখনই কথা হয় অনেক ভাবে বুঝায় যেন এলোমেলো না থাকে সময় মতো যেন খায়,ঘুমায়,পড়ালেখা করে নীড় কখনো কখনো বিরক্ত হয়ে যায় তবুও বোন বলে যায়।প্রথম দেখায় নীড়কে একটু গম্ভীর মানুষ মনে হবে কিন্তু কথা বল্লে তার বুদ্ধি দিপ্ত বাচন ভঙ্গি প্রানবন্ত উচ্ছাস যে কোন কাউকে ছুয়ে যায়।হঠাৎ করে জীবন তাকে এমন মোড়ে এনে ছেড়ে দিল যে সে নির্বাক,অসহায় কিছু করার নেই।হিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনেছে,যাকে এতো ভালবাসতো নীড়,নীড়কে যে এতো ভালবাসতো,সময় আজ সে ভালবাসাকে মেনে নিল না।বাস্তবটা রুঢ় জানতো তবে এতো রুঢ় তা ভাবেনি নীড় ।রাত ৪ টা বাজে কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা না নীড়।ঘুমের ঔষধ খেতে ইচ্ছে করে না,পরে সারাটা দিন দুর্বল লাগে।কাল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যাবে ভেবেছে তাই স্বাভাবিক ঘুমই দেবে।হিয়াকে একটা ফোন দেয়ার জন্য ফোনটা হাতে নিয়ে আবার রেখে দিল ।আগে যখন রাতে ঘুম পেতনা হিয়াকে ফোন করে কতো রাত জাগিয়েছে ভেবে খুব অসহায় মনে হলো নিজেকে।হিয়ার যেদিন বিয়ে ঠিক হয়েছিল হিয়া অনেক কেঁদেছিল কিন্তু নীড় পুরুষ মানুষ তাই কান্না চেপে রেখেছে,ঐ দিন তার নিজের পুরুষ হবার উপর খুব আক্ষেপ হয়েছিল।টিভির রিমোটটা হাতে নিল নীড়।
ঘড়িতে দুপুর ২টা টিভি চলছে ঘুমানোর আগে টিভি বন্ধ করেনি সে,বুয়া এসে চলে গেছে,বুয়ার কাছে তার বাসার একটা চাবি আছে। বুয়ার বয়স ৫০ বছর হবে ,মা থাকতে সে এ বাড়িতে কাজ করতো মা যাবার পরেও বুয়া নীড়ের জন্য রান্না করে,নীড় না বললে বুয়া কখনো তার ঘরে ঢোকেনা,হপ্তাহে তিন দিন বুয়াকে ডেকে সে ঘর পরিস্কার করায়।আজ পাঁচ দিন হয়ে গেছে বুয়াকে ডাকা হয়নি।গতকাল বুয়া দরজায় ধাক্কা দিয়েছিল সে না করে দিয়েছে,আগামীকাল ঘরটা পরিস্কার করাতে হবে।নীড় দুপুরের খাবার খেয়ে বের হবে ভাবছে কিন্তু শরীরটা খারাপ লাগছে তাই কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।শরীর খারাপকে পাত্তা না দিয়ে বের হোলো সে রিকশা নিলো।
আড্ডার মাঝখানে বন্ধুরা তাকে চেপে ধরলো সে কেন হিয়াকে বিয়ে করলোনা?কয়েক বন্ধু বেস রাগের সাথে বাজে ভাষায় বললো।নীড় তাদেরকে বুঝিয়ে বললো যে হিয়া বাংলাদেশের বাহিরে যাবেনা আর তার পক্ষে দেশে থাকা সম্ভব না।দু একদিন পর পর মা ফোন দেয় সে কবে যাবে?ডিসেম্বরে বড় ভাই এলে সে আর কোন রকমই থাকতে পারবেনা।আর হিয়া তার বাবা মায়ের একমাএ মেয়ে সে বিদেশ চলে গেলে বাবা মা সম্পূর্ন একা হয়ে যাবে।বন্ধুরা তাকে বোঝহালো যে তারা তার মা আর ভাই কে রাজি করাবে,নীড় বললো রাজি হলেও তারা কষ্ট পাবে আর সে সেটা চায়না ।সবাই তার কথায় তাকে হয়ত স্বার্থপর ভাবছে কিন্তু তার কিছু করার নেই।
রাতে বাসায় ফিরে নীড়ের শরীরটা বেশী খারাপ লাগতে শুরু করলো,জ্বর এসেছে তার জ্বর এলেই দুজন মানুষকে খুব মনে পড়ে,মা আর হিয়া।মাকে খুব ফোন করতে ইচ্ছে করলো কিন্তু মা শুনলে খুব দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যাবে।আর হিয়া,হিয়ার ফোন ব্যস্ত,ফোনটা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করলো হঠাৎ নীড়ের মনে পড়লো ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকে কত তারিখ ?আজ ২০ শে নভেম্বর হিয়ার বিয়ে নাকি ২৭ নভেম্বর আর বড়ো ভাইয়া আসবে ১০ ডিসেম্বর ততোদিন সে পারবেতো ?হিয়া যদি যেনে যায় তবে তার সব চেষ্টা আর অভিনয় ব্যর্থ হয়ে যাবে।তাকে পারতেই হবে মা যে অপেক্ষায় আছে তার।মাকে শেষবার দেখতে চায় সে,ডাক্তার তিন মাস সময় দিয়েছে।সময় এতো দ্রুত যায় কেন?মাকে খুব মনে পড়ছে চোখের জল মুছলো নীড়।
শিবলী রহমান (তিমির)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





