somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাচ্চারা যখন মা-বাবার দোষ বলে

০৪ ঠা জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আমার মনে হয় একজন শিশু যখন মা-বাবার দোষ বলে, মা-বাবার উচিত সাথে সাথে সেটাকে না মেনে নেয়া, যদি সত্যিও হয়, আর বাচ্চাটার গালে কষে কমপক্ষে একটা থাপ্পর মারা।" অনেকটা এমন মন্তব্য করেছিলেন আমার এক পরিচিতজন যখন আমি তার সাথে শিশুদের লালন-পালন নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলাম এক আসরে।

অথচ আমি শিবলী মনে করি, যখন একটা শিশু (বিশেষ করে যদি সে হয় ৪-৫ বছর বা হোক না ৮-১০ বছর) মা-বাবার দোষ বলে, মা-বাবার উচিত সেটাকে মেনে নেয়া বা সেই অভিযোগকে সত্য বলে ধরে নেয়া এবং তার উপর কাজ করা। আমি এটা দাবী করছিনা যে শিশুরা ১০০% সত্যটাই বোঝে। কিন্তু এটা বিশ্বাস করি ওরা সত্য বিচারক ওদের জ্ঞানের সাপেক্ষে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একজন শিশুর বোঝা ও মন্তব্য খুব একটা ভুল হয়না তার চারপাশের মানুষদেরকে নিয়ে। (শিশুরা যে খুব দক্ষ দর্শক সেটা শেয়ার করছি এই ঘটনায় 'আমার আত্নবিশ্বাস ও শিশুর আত্নসম্মান ')

তবে একজন শিশু যখন কোন অভিযোগ করে সেটার গভীর মর্মটা বুঝতে হবে আমাদেরকে। ওর সাদামাটা কথাটাকে আভিধানিক অর্থে বুঝলে হবেনা। একটা শিশুর শব্দ ভান্ডার আমাদের চাইতে কম হয়ে থাকে। আর তাই হতে পারে আমাদের সন্তান যে সকল শব্দ দিয়ে অভিযোগ করছে, আসলে ও সেটাই বোঝাতে চাইছেনা। আমাদেরকেই সেই সঠিক কথাটা বুঝে নিতে হবে। আর একজন শিশুর মনের কথা সহজে বোঝা যায় যদি শিশুটির সাথে আপনার বন্ধুত্ব একটু বেশীই থাকে।

যেমন আমার বাচ্চাদুটি একদিন কড়া সুরে অভিযোগ করে বসে এভাবে,
- বাপু, তুমি আমাদের সাথে কোনদিন খেলা করনা কেন?
- (আমি অবাক হয়ে) বলিস কি! আমিতো বলতে গেলে প্রতিদিনি তোদের সাথে অনেকক্ষন খেলি!
- না, তুমি সেইদিন খেলনি। (যেই দিনের কথা ওরা বলেছিল সেটা সত্য ছিলো)

আমি বুঝে গেলাম ওরা 'কোনদিন' বলতে আসলে 'একদিনও না' বোঝায়নি। সাথে আমি আরো বুঝে গেলাম আসলে ওরা চায় আমি যেন ওদের সাথে আরো বেশি বেশি খেলা করি।

এতো গেলো খুবই ছোট্ট একটা ঘটনা। এইতো সেদিন আমরা দুজন (আমি ও আমার বউ) ওদের সামনে একটা ভুল কাজ করে ফেলি। বাচ্চারা (৬ বছর চলছে) আমাদের সেই ভুল বিষয়টিকে এভাবে তুলে ধরে:
- (কাঁদো কাঁদো স্বরে) বাপু, তোমরা দুজন একটা পচা কাজ করেছো।
- (আমিতো জানি কি করেছি, তাও বললাম) কি করেছি সোনামনি?
- (কাঁদো কাঁদো স্বরে) তোমরা দুজন ঝগড়া করেছো।
- (আমি আর এক বিন্দু দেরি না করে বলি) সরি আম্মুরা। আমি এই কাজটা করে ভুল করেছি। আর করবো না। আর যদি করতে যাই তোরা দুজন থামিয়ে দিবি সাথে সাথে। তোরা দুজন ভয় পেয়ে অন্য ঘরে চলে না গিয়ে আমাদেরকে জড়ীয়ে ধরবি। অনেক বাচ্চারা ভয় পেয়ে অন্য ঘরে চলে যায় আর তখন ঐ মা-বাবারা আরো বেশী ঝগড়া করে ফেলে ভুল করে।

বাই দ্যা ওয়ে, আসলে ঐ রাতের ঘটনাটা সেই অর্থে ঝগড়া ছিলোনা। তবে স্বাভাবিকের চাইতে একটু উচ্চ স্বরে কথা হয়ে গিয়েছিলো, তাও ১ কি ২ মিনিট হবে।

আমার কাছে মনে হয়েছে, বাচ্চারা যখন মা-বাবার দোষ বলে সাথে সাথে অনুতপ্ত হওয়া উচিত আর এর দ্বারা বাচ্চাটাও শিখবে কিভাবে নিজের প্রকৃত দোষকে মেনে নিয়ে শোধরানো যেতে পারে। আমি মনে করি, আমাদের উচিত যখন বাচ্চারা আমাদের দোষ বলে:
ক) সেটাকে মনোযোগ দিয়ে শোনা। এবং তাকে এই অনুভুতি দেয়া যে তার কথা অতি মনোযোগ দিয়ে শুনছি।
খ) বাচ্চারা মনের ভাব প্রকাশে কিছুটা লম্বা সময় নিয়ে থাকে। ওর কথা শুনতে শুনতে পরিকল্পনা করে ফেলা যে কিভাবে পরের পদক্ষেপটা নেয়া যায়।
গ) দেখা যায় একটা কথা বলতে গিয়ে একজন শিশু অনেক সময় অপ্রাসংগিক কথাও এনে ফেলতে পারে আসল কথায় যাবার আগে। তখন ওকে ধমক দিয়ে বলার দরকার নেই, "আসল কথাটা কি?" বা "তো সমস্যাটা কোথায়?" বা "তোমার কাজ তুমি করো, আমাদের ব্যাপারে এতো মনোযোগ দেবানা।" বা "ও সব কিছু না। একটু ঝগড়া ঝাটি হতেই পারে। যাও পড়তে বসো।"
ঘ) ওর কথা বলা শেষ হলে, সেটাকে মেনে নেয়া ও সরি বলা উচিত।
ঙ) ভুলটা যে সত্যিই ভুল হয়েছে সেটাকে নিজ মুখে বলা এবং ওর কাছে ওয়াদা করা যে অমন ভুল আর করবোনা।
চ) সন্তানকে দায়িত্ব দেয়া যেন যদি আমি সেই ভুল আবার করতে যাই তবে যেন সেটাকে ধরিয়ে দেয়।
ছ) সত্যিই সত্যিই মন থেকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া যে, যা কিছু আমাদের শিশুর বিকাশে বিঘ্ন ঘটায় তা যেন না করি। অন্তত ওর সামনে বা ওর বুঝে আসে অমন সময় না করি।

যাই হোক, বাচ্চাকে দায়ীত্ব দেবার পর থেকে একটা কাজ আমাদের দুজনের জন্য খুব সহজ হয়ে গেছে। মানে, ওরা হয়ে গেছে আমাদের মনিটর। এখনতো আমরা দুজন কোন বিষয়ে রেগে গেলেও একটু উচ্চ-বাচ্চ করার উপায় নেই। ওরা সাথে সাথে কাছে এসে আমাদেরকে শান্ত হতে বলে। ওরা কিন্তু ভয় পেয়ে অন্য ঘরে চলে যায় না। কাছে এসে বলে, "শান্ত হও, পাতলা হও"। আরেকটা মজার কাজ করে। ওরা আমাদের দুজনকে সালাম দেয়া শুরু করে। ওরা নিজেরাই আবিষ্কার করেছে এই সালাম দেয়ার পদ্ধতি। আমি অবশ্য ওদেরকে বুঝিয়েছিলাম যে, আমরা সালাম দেয়ার মাধ্যমে কি বলি। ওটা বোঝার পর ওরা নিজেরাই বের করলো যে, মা-বাবার ঝগড়ার সময় সালাম দেয়া যেতে পারে। শিশুরা সত্যিই মজার, তাই না? :)

আপনারা কে কি ভাবছেন এই বিষয়ে? আসুন না একটু আড্ডা দিয়ে জানাশুনা করি...

আর শিশু লালন-পালন বিষয়ক আমার আরো লেখাগুলি দেখতে এখানে ক্লীক্‌ করুন।
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×