somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশু সন্তানকে ভালো কাজে উৎসাহ দেবার সহজ একটা উপায়

২২ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাচ্চারা প্রতিদিন নানা ধরনের ঝামেলার কাজ করে থাকে। ওরা এতো এ্যনার্জি পায় কোথায় বুঝিনা! বাপ্‌রে বাপ, সেই সকালে ঘুম থেকে উঠে খেলা আর খেলা। দুপুরে ঘুমের কথা বললে শোনেইনা। রাতেও যেন ঘুমাবার নাম নেই। সত্যিই ওদের সাংঘাতিক এ্যনার্জি। বাচ্চারা সারাটাদিন দুষ্টমী করবে সেটাই যেন স্বাভাবিক। ওরা জিনিষপত্র ছুঁড়ে মারবে, ভাংবে, অগোছালো করবে, ফেলে দেবে এগুলিই যেন ওদের কাজ। দেখুন এই কাজগুলি আমরা ওদের হয়তো শেখাইনা তারপরও ওরা এগুলিই করে আপন মনে। তারমানে এগুলি আমাদের মেনে নিতে হবে যে শিশুরা এই ধরনের বিরক্তকর কাজগুলি করবেই। এখন আমাদের কাজ হবে, ওদেরকে লাইনে আনা, তাই না? আমরা গার্ডিয়ান/গার্জিয়ানরা যদি হাল ছেড়ে দেই ওদেরকে লাইনে আনতে তাহলেতো হবেনা, কি বলেন? ওদের দুষ্টুমী আচরনগুলি যেন কন্ট্রোলে আনতে পারে সেই শিক্ষাইতো দিতে হবে, তাই না?

এই বিষয়ে আমিও অনেক ভেবেছি। আমার জমজ বাচ্চাদুটিও যে বিরক্ত করেনি তা কিন্‌তু নয়। ওদের বিরক্তিতেও চিৎকার চেঁচামেচি করতে হয়েছে, সত্যি। আমি ভাবতাম এমন কোন ভালো উপায় আছে নাকি যার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ওদেরকে সাইজ করা যাবে। এখন যে বুদ্ধীটির কথা বলবো সেটা আমার আবিষ্কার নয়। কোন এক ব্লগে পেয়েছিলাম বুদ্ধিটি। প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম বুদ্ধিটি খাটালে হয়তো আপাতত পজেটিভ কিছু পেলেও ভবিষ্যতের জন্য এটা নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। কিন্‌তু না, তা হয়নি এখন পর্যন্ত। বরং আজ পর্যন্ত ভালো কাজ দিচ্ছে যদিও আমি নিজেই সব সময় বিষয়টি পালন করে আসতে পারছিনা বা করছিওনা। তবে কাজে দিচ্ছে।

বুদ্ধিটি হলো, শিশুদের ভালো কাজের জন্য ওরা কিছু কামাই করবে। ঠিক তাই, ইনকাম করবে। না ভাই, টাকা পয়সা ইনকাম করবেনা। ইনকাম করবে কিছু টিকেট বা কুপন যাই বলেন। সেই টিকেট বা কুপন তারা জমাবে। এবং একটা পর্যায়ে সেই টিকেট দিয়ে তাদের মনের ইচ্ছা পূরন করবে। খুব সহজেই বুঝিয়ে দিলাম, বুঝলেন তো?

আমি কিভাবে বিষয়টি বাস্তবায়ন করি?
যেমন ধরুন ওরা সকালের নাস্তা খেতে প্রচুর সময় নিচ্ছে বা মারাত্নক ধিরে ধিরে খাচ্ছে। অমনি ঘোষণা দিয়ে দেই যে যদি আর ১০-১৫ মিনিটে সুন্দর করে (গাপুস-গুপুস করে নয়) খেয়ে ফেলে তবে সে টিকেট পাবে। আবার ধরুন ঘরে খেলনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে। অনেকক্ষন খেলা করেছে। এবার ওকে দিয়েই খেলনাগুলি গুছিয়ে রাখতে টিকেট দেবার ঘোষনা দেই। তেমনি যদি নিজের দাঁত নিজেই ব্রাস করে তাহলেও টিকেট দেই। এভাবে বিভিন্ন ভালো ভালো কাজের জন্য বা ওরা যদি ওদের কাজ নিজে নিজে সুন্দর করে করে তবে আমি ওদের টিকেট দেই।

টিকেট কিভাবে কাজে লাগাবে?
ওরা টিকেট হাতে পেয়েই খুব খুশী থাকে। অনেক প্রশ্ন করে টিকেট দিয়ে কি করতে পারবে সে সব বিষয়ে জানতে। আমিও ঘোষণা দেই যেমন, ৪টি টিকেট জমাতে পারলে আইসক্রিম খেতে দেবো। ৬টি টিকেট জমাতে পারলে মজার মুভিটি দেখতে দেবো। ৫টি টিকেট জমাতে পারলে কম্পিউটার গেম খেলতে দেবো একটু বেশীক্ষন ধরে। ইত্যাদি। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আমার বাচ্চারাই ডিসিশন নেয় যে, ওরা ওদের টিকেট দিয়ে কি করবে। যদি আইসক্রিম খেতে চায়, তবে এনে দেই এবং ওদের কাছ থেকে ৪টি করে টিকেট ফেরত নিয়ে নেই।

টিকেট বানাবো কি দিয়ে?
আমি টিকেট বানিয়েছি ইউজ না করা বাতিল বিজনেজ কার্ড দিয়ে। আমাদের অনেকেরই এমন ১-২ বক্স বিজনেস কার্ড পড়ে থাকে। সেগুলির অপরদিকটা সাদা থাকে। সেদিকে সাইন পেন দিয়ে মজার একটা ছবি এঁকে দেবেন। আর সেটাকে টিকেট হিসাবে দিয়ে দেবেন, ব্যাস। দেখবেন বেশ যত্ন করে রাখবে টিকেটগুলি। তবে যদি আপনার সময় আর সামর্থ থাকে তবে নিজেই কুপনের মতো করে কিছু একটা ডিজাইন করে প্রিন্টারে প্রিন্ট করে বানাতে পারেন কিছু একটা (আমিও একটু ট্রাই করেছিলাম) :) । তবে পুরনো বিজনেস কার্ডেই সুবিধা বেশি। কারন, কার্ড একটু শক্ত হয়ে থাকে আর তাকে ওরাও যত্ন করে ধরতে বা জমাতে পারে। যদি আপনার বিজনেস কার্ডগুলি বেশী শক্‌ত হয় তবে কাঁচি দিয়ে কার্ডের শার্প কোনাগুলি কেটে একটু রাউন্ড করে দিতে ভুলবেন না।

টিকেটের প্রয়োগ:
আমি সব সময় ওদের মনের ইচ্ছাগুলি টিকেটের বিনিময়ে করাই না। বরং ওরা হয়তো টিকেট দিয়ে আইসক্রিম খেতে চাইলো, আইসক্রিম আনলাম, ওরা খেলো, টিকেট দিতে চাইলো আমাকে আর আমিও ঘোষনা দিলাম যে টিকেট লাগবে না, ওরাও আরো আনন্দে মেতে উঠলো এইভেবে যে টিকেটগুলি দিয়ে মনের অন্য ইচ্ছাগুলি পুরন করতে পারবে।

তবে টিকেট বিনিময় একমত্র উপায় নয় শিশুকে ভালো কাজে উৎসাহ দেবার জন্য। শিশুর সাথে আচরনগত যে বিষয়গুলি অবশ্যই পালন করবেন সেগুলি এমন:
(ক) শিশুর যে কোন ভালো কাজের প্রসংশা করবেন বেশ ভালো মতোই। সাথে আরো বাড়তি কথা বলবেন। যেমন: "বাহ্‌ তুমিতো বেশ সুন্দর করে তোমার পোষাকগুলি গুছিয়েছো! জানো আমি যখন ছোট ছিলাম তোমার মতো করে এমন সুন্দর করে গোছাতে পারতাম না।" যদি এভাবে কথাগুলি বলতে পারেন তবে দেখবেন আপনার সন্তান বেশ উৎসাহ পাবে।

(খ) সন্তানের বিভিন্ন ভুল কাজে নিরুৎসাহিত করবেন না। শিশুরা বিভিন্ন কাজে ভুল করবেই। সেই ভুল ধরিয়ে শুধরিয়ে দেয়াই আমাদের কাজ, এটা মাথায় রাখবেন। কেন আপনার সন্তানকে একটা কথা চৌদ্দবার বলতে হচ্ছে, এই ধরনের চিন্তা মাথায় রাখবেন না। বারবার বলতে হবে এটাই স্বাভাবিক। একটা ভুল করলেই যদি ধমক দেন, চিৎকার দেন, থাপ্পর দেন তবে কিন্তু সে মনোযোগ দিয়ে আপনার কথা শুনবেনা। বরং বাড়তি ভয়ে থাকবে এবং আরো ভুল করতেই থাকবে। বরং যখন প্রথমবার ভুল করবে তখনি কাছে বসিয়ে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে দিন। বোঝাতে গিয়ে আপনার ছোট বেলার ঘটনা বলুন। বা আপনার বন্ধুর জীবনে ঘটে যাওয়া ভুল ঘটনাটি বলুন। সাথে আরো কিছুক্ষন যদি ঘটনাটি নিয়ে বাচ্চার সাথে কথা বলেন তবে দেখবেন সে ভুল কাজটা সহজে আর রিপিট করবে না। কারন প্রথমবারেই আপনি যথেষ্ট সময় নিয়ে তার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন বিষয়টি।

আপনার সন্তানকে নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লীক্‌ করে প্রশ্ন করতে পারেন। আর শিশু লালন-পালনের উপর আরো বিভিন্ন বিষয়ে জানতে এই লিষ্টটি দেখুন।
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×