অনেকদিন হলো কাঁদিনি। পুরুষ মানুষ তো, কাঁদতে বড় লজ্জা লাগে। যতো কষ্টই হোক, একটু মন খারাপ করে বসে থাকি, গান শুনি, চিল্লায়ে চিল্লায়ে গান করি, ফোন করে কোন দোস্তরে এমনি এমনি ঝাড়ি দেই। অনেকদিন হলো কাঁদিনি। খুব ইমোশনাল এই আমি, কিছুটা রগচটা।
আজ আমি কেঁদেছি। হাও মাও করে কেঁদেছি। দুচোখের পানি বাঁধ মানছিলো না। অন্তর বলছিলো কার জন্য কাঁদো? জানিনা। তাঁকে চিনিও না। শুধু জানি আমি তাঁর জন্য কেঁদেছি...অনেকদিন পর...অন্তরের অর্গল খুলে কেঁদেছি। ঠোঁট কামড়িয়ে কাঁদতে গিয়ে ঠোঁটটা ফাটিয়ে রক্ত বের করে ফেলেছি। আমি ঠিক আমার কথাগুলো গুছিয়ে লিখতে পারছিনা। লিখতে লিখতেই আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে...স্ক্রিনটা কে শুধু একটা সাদা পর্দা মনে হচ্ছে। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার অনুভূতি বর্ণনে আমি অপারগ!!
এই পোস্ট থেকে লিংক পেয়ে পড়লাম একজন নারীর কথা। একজন স্ত্রীর কথা।যিনি তাঁর স্বামীকে হারিয়েছেন বিডিআর বিদ্রোহের সময়।মেজর তানভীর হায়দার নুর রুমি।
ব্লগটি।
তাঁর একটা ব্লগ তুলে দিলাম-
বিজ্ঞাপণ
নামঃ প্রেরণা
বিজ্ঞাপণ! বিজ্ঞাপণ! বিজ্ঞাপণ!
আচ্ছা বড় ভাই ও বোনেরা, ছোট ভাই ও বোনেরা কেউ কি আমার জন্য একটা উপযুক্ত পাত্র খুজে দিবেন? যার হাইট হবে পাচ ফিট এগারো। মাথার চুলগুলা হবে সিল্কি। গায়ের রং শ্যামলা। তাকে অবশ্যই অবশ্যই কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের ১২তম ব্যাচ হতে হবে। তাকে ভাল এ্যাথলেট হতে হবে। বাংলাদেশ আর্মিতে যার চাকরীর বয়স ১০ বছর হবে। আমিসহ আমার ছেলেদের সমস্ত অন্যায় আবদার যে রাখবে। তাকে অনেক মনখোলা হতে হবে। আমি যখন তখন রাগারাগি করবো আর আমাকে সবসময় বুঝতে হবে। আমার সাথে হিন্দী টিভি সিরিয়াল দেখতে হবে। আমি ঘুমিয়ে গেলেও দেখে মনে রাখতে হবে। আমি জানতে চাইলে পুরোটা বলতে হবে। আমার ইচ্ছা হলে অবশ্য সে গেমস চ্যানেল দেখতে পারবে। বাসায় অন্য টিভি থাকলেও ইচ্ছা মত টিভি দেখা যাবে না। আমাকে অলওয়েজ বুঝাতে হবে। আমার মা বাবা থেকে শুরু করে সবার আদর যেন আমি তার মধ্যেই খুজে পাই। ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে গেলে আমি গায়ে ব্যথা না পেলেও সে আমার ব্যথাটা পাবে। বুটজুতা পড়ে প্রতিদিন বেডরুম পর্যন্ত এসে বকা শুনতে হবে। গেমস থেকে ফিরে নোংরা কাপড়ে বিছানায় বসে পরতে হবে। তারপর আমি অনেক রাগ হলেও প্রতিদিন একই কাজ করবে। প্রতিদিন সকালে সে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করার জন্য ব্রাশ পেষ্ট লাগিয়ে টুথপেষ্টের মুখ ও সেভিং ফোমের মুখ না লাগিয়ে চলে যাবে অফিসে। লুকিয়ে লুকিয়ে প্রতিদিনই সিগারেট খাবে। বকা দিলে বলবে সি ও আমার সামনে খেয়েছে তাই গন্ধ লাগছে। কোথাও যাবার সময় আমার থেকে বেশী ভাল দেখতে লাগলে নিজে থেকেই ড্রেস চেঞ্জ করে ফেলে আমাকে বুজতে না দিয়ে আনকমফোর্ট লাগছে তাই চেঞ্জ করেছে বলা। আমাকে বাইরে নিয়ে যাবার কথা বলে রেডী করিয়ে ঘুমিয়ে যাবে অথবা অফিসের কাজে চলে যাবে। টেনশনে সামনের চুলগুলাকে আংগুল দিয়ে পেচাবে আর হাটু চূলকাবে। আমাকে আজগবি সব সারপ্রাইজ দিবে। যেমনই রান্না করব খুবই মজা করে খাবে। আমাকে বলবে তোমার নামটা কঠিন, তাই রণা ডাকবো। আমাকে ছেড়ে একদমই থাকতে পারবেনা। সবসময় আমাকে নিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরবে। বেবীদেরকে জান প্রান দিয়ে আদর করবে।
তার নামটা অবশ্যই হবে তানভীর হায়দার নুর রুমি। অনেক দিন হয়ে গেল আমি ভীষণ মিস করছি এমন মানুষটাকে। এমন একজন মানুষ সব সময়ই আমার ছিল। হঠাৎ করে হারিয়ে গেছে। কেউ খুজে পায় নাই। এখন একে ছাড়া আমার জীবনটা ১০০০% অচল হয়ে গেছে। ব্লগের সবাই তো বলেছেন যখন কিছু লাগবে জানাতে।
জানালাম তো। কেউ কি একে খুজে দিবেন আমাকে।
প্লিজ কাঁদবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৩:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


