somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিলি

১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

119 90 119 106 13 10 107 105 120

ক/
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র আলফাসেঞ্চুরির একটি ছোট গ্রহ তিলি। বৃহস্পতির কোন কোন গ্রহানু-ও এর চেয়ে বড়। তবে এ গ্রহে প্রাণী আছে। শুধু প্রাণী-ই না। পৃথিবীর মতো মানুষ। যদিও সংখ্যায় পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। কয়েক লাখ মাত্র।
তিলির এ কয়েকলাখ মানুষই আজ খুব উদ্দীপ্ত। অচেনাকে দেখার আকাঙ্খায় উত্তেজিত। তাদের আসার সরাসরি চিত্র দেখা যাবে তথ্যকেন্দ্রে। সবাই তাই ছুটছে গ্রহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্যকেন্দ্রর দিকে। সন্ধায় তাদের আসার কথা। সন্ধা হতে বেশি দেরী নেই। সবার মুখে একই প্রশ্ন। কখন আসবে তারা ? তাদের অভ্যর্থনা করা হবে কিভাবে? গ্রহের সবার অংশগ্রহন থাকবেতো?
তিলি গ্রহের তথ্যকেন্দ্র সব সাগর,নদী আর বনের পাশে। কারন তিলি গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী তিন ধরনের। মানুষ, বড় মাছ আর বৈচিত্রময় উদ্ভিদ। মানুষ সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান আর তাই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। তবে তিলি গ্রহের মানুষেরা নিজেদের সভ্যতা গড়ে তোলার পাশাপাশি মাছ আর বৃক্ষের সভ্যতাও রক্ষা করেছে। সবার সাথে মানুষের ভালো যোগাযোগ।
তথ্যকেন্দ্রের পাশে জমা হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষ আর মাছ। উৎকন্ঠিত হয়ে আছে বৃৃক্ষরাও। সবার বোঝার উপযোগি করে আলাদা তথ্য ব্যবস্থা। কিছুক্ষনের মধ্যেই তিলি গ্রহের অবস্থান সম্পর্কে বিজ্ঞানী রুন বক্তৃতা দেবেন। গ্রহে আসছে সূর্য নক্ষত্রের একটি গ্রহ পৃথীবির প্রাণীরা। পৃথিবীর প্রাণীরা দেখতে এ গ্রহের মানুষের মতই। অনেকদিন ধরেই এ গ্রহের মানুষরা পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণীদের সম্পর্কে জানে। সূর্য নক্ষত্রের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র আলফা সেঞ্চুরি । আলফা সেঞ্চুরির চতুর্থ গ্রহ তিলি । পৃথিবী গ্রহের মানুষেরা বেশ কয়েক বছর ধরে বেতার প্রযুক্তি আয়ত্ব করেছে। তারা মহাকাশে যে বেতার প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে তা ধরা পড়ছে তিলি গ্রহের বেতার আর টেলিভিশনের এন্টেনায়। তিলি গ্রহের মানুষেরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে দেখেছে পৃথিবী গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীদের । যারা দেখতে তাদেরই মতো। দেখেছে পৃথিবীর নৃত্য। শুনেছে পৃথিবীর সঙ্গীত। জেনেছে পৃথিবীর মানুষের ইতিহাস। পৃথিবীর মানুষেরা বাইরের গ্রহের মানুষদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। আটলান্টিক নামের এ বিশাল মহাসাগরের পারে পুয়ের্টোরিকো নামের এক দ্বীপে বসানো হয়েছে অসংখ্য বিশাল গোলাকৃতির এন্টেনা। বাইরের গ্রহের কেউ যদি পৃথিবীর মানুষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তবে বেতার সিগন্যাল পাঠাবে। আর এ সিগন্যাল ধরার জন্যই এসব এন্টেনা।
এসব আয়োজন দেখে তিলিবাসিও উৎসাহিত হয়ে উঠেছিল । পাঠানো হয়েছিল তিলি গ্রহের বার্তা। মধুরতম সঙ্গীত। কিন্তু পৃথিবীর প্রাণীদের প্রযুক্তি আসলে এখনও খুব বেশি উন্নত নয়। তাই তারা ধরতে পারেনি তিলি গ্রহের বার্তা। তাই বলে থেমে থাকেনি তিলি গ্রহবাসির ব্যাপারে পৃথিবীর মানুষের উৎসাহ। পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণীদের নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। পৃথিবীর মানুষদের নিয়ে লেখা ওয়েব বুক তিলি গ্রহে বেষ্ট সেলার।
তথ্যকেন্দ্রের ভেতরে রুন বসে আছেন। চারদিকে অন্য বিজ্ঞানীরা। মনিটরে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণীদের। পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণীরা আর তিলি গ্রহের মানুষেরা দেখতে প্রায় একই রকম। শুধু মস্তিস্কের গঠনে একটু পার্থক্য রয়েছে। আর পৃথিবীর মানুষেরা সবসময় নানাপদার্থে তৈরী আবরন দিয়ে শরিরের একটা বিরাট অংশ ঢেকে রাখে। তিলি গ্রহের মানুষেরা কোন আবরন দিয়ে শরির ঢাকেনা। তবে পৃথিবীর ও তিলির উভয় মানুষের স্পেসস্যুট একই রকম। রুন পৃথিবীর মানুষের মহাকাশযান প্রযুক্তির প্রশংসা না করে পারলেননা। তিলিদের মহাকাশ প্রযুক্তি এত দীর্ঘ মহাকাশ যাত্রার উপযোগি নয়। অবশ্য তারা এজন্য চেষ্টাও কখনও করেনি। সহকারি এস তাড়া দিল রুনকে। 'রুন আপনার বক্তব্য শোনার জন্য মানুষ আর বৃক্ষেরা বসে আছে । '
রুন উঠে সাউন্ডডেকের দিকে চললেন। পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে তার জ্ঞান পৃথিবী থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ থেকে। প্রতিনিয়ত এ নিয়ে গবেষনায় থাকায় অন্যদের চেয়ে তিনি পৃথিবী আর তাদের মানব সভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কে ভালোই জানেন।
এত দূরের একটা গ্রহের বাসিন্দারা আসছে। তারা তিলির মানুষদের মতোই দেখতে। এটা তার বৈজ্ঞানিক জীবনের এক অসাধারন অভিজ্ঞতা। এমন অভিজ্ঞতা হয়ত এ জীবনে আর হবেনা। রুনের খুব আনন্দিত হওয়ার কথা। কিন্তু তার পরেও তার মনটা যেন কেমন খচ খচ করছে। পৃথিবীর মানুষের আগমনকে তিলিবাসি যতটা উৎসাহের সাথে নিয়েছে রুন ততটা উৎসাহ দেখাতে পারছেননা। পৃথিবীর মানব সভ্যতা কয়েকলাখ বছরের চরাই ুউৎরাই পার হয়ে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। সুতরাং তাদের দ্বারা মন খচ খচ করার কোন কারন ঘটার কথা না। কিন্তু তারপরেও কেমন যেন একটা আশঙ্কা রুনকে বারে বারে ধাক্কা দিচ্ছে। রুন চোখ বন্ধ করে এ পর্যন্ত পৃথিবী থেকে আসা তথ্যগুলি চোখ বুলানোর চেষ্টা করলেন। কোন কারন ছাড়া তার মনমন এমন খচখচ করার কথা না। পৃথিবী থেকে আসা বেতার তরঙ্গে এমন কোন তথ্য কি কখনও তিনি দেখেছিলেন যা কোন খারাপ ইঙ্গিত বহন করে? রুন বারবার চেষ্টা করেও এমন কোন তথ্য মনে করতে পারলেননা। রুনের সহকারি আবার তাড়া দিল। 'মহামান্য রুন মানুষ,বৃক্ষ আর মাছেরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।'
রুন কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্রের সাউন্ডডেকে চলে আসলেন। তথ্যকেন্দ্রগুলির বিশাল স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে তাকে। গোটা গ্রহে তার কন্ঠ,ছবি সরাসরি প্রচার হবে। সবাই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে পদর্ায় রুনের দিকে। অনেকে শুধু রুনকে দেখেই খুশি। অনেক দিন হয়ে গেছে তার বক্তব্য শোনা হয়না। কেউ কেউ লক্ষ্য করেছে এ উত্তেজনাকর মূহূর্তে রুনের গাম্ভীর্যকে। রুন কি কিছু নিয়ে চিন্তিত?
'তিলি গ্রহের মাছ,বৃক্ষ ও মানুষ'- রুন শুরু করলেন তার গম্ভীর কন্ঠে। 'সূর্য নক্ষত্রের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবীর অধিবাসিরা তিন দশ ইউনিট সময়ের মধ্যে আমাদের প্রিয় গ্রহে অবতরন করবে। তারা অবতরনের জন্য যে যায়গাটি বেছে নিয়েছে সেটি আমাদের স্পেস সেন্টার। স্পেস সেন্টারের দুপাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে সবাই দাড়িয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে পারবে। আমাদের স্পেস সেন্টারের দুপাশে এমন ব্যবস্থা আছে যাতে এ গ্রহের সমস্ত অধিবাসি একসাথে তাদের সরাসরি দেখতে এখানে উপস্থিত হতে পারে। স্পেসশীপ অবতরনের পর আমাদের সেরা বিজ্ঞানী, কবি ,সাহিত্যিক ও সঙ্গীতশিল্পীরা তাদের স্বাগত জানিয়ে বিশ্রামকেন্দ্রে নিয়ে আসবে। তারা আসার পর তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সকল তথ্য প্রতিনিয়ত আপনাদের জানানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যে কোন তথ্যকেন্দ্রের সামনে থাকলেই আপনারা এসব তথ্য জানতে পারবেন। ' আনন্দধ্বনীর মত হলো। এখানেই শেষ করার কথা ছিল রুনের। তারপরেও তিনি কি মনে করে বললেন,' সবাই আসলেও গ্রহের বিভিন্ন অংশে তথ্যকেন্দ্রগুলিতে কর্মরত বিজ্ঞানীরা তথ্যকেন্দ্রের ভিতরেই অবস্থান করবেন। তারা সেখানে বসেই এ অভ্যর্থনায় যোগ দেবেন। ' রুন সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বিদায় নিলেন। এসময় বিপুল আনন্দধ্বনী শোনা গেল। রুনের বক্তব্যে সবাই খুব আনন্দিত। স্পেস সেন্টারের নির্দিষ্ট দূরত্বে কয়েকলাখ তিলিবাসি জড়ো হয়েছেন। অনেকেই পৃথিবীবাসিকে দেয়ার জন্য এনেছেন উপহার। এসব দেয়ার সূযোগ পাওয়া যাবে কিনা কে জানে।
খ/
স্পেসশীপের কেন্দ্রীয় কম্পিউটারে তিলি গ্রহে অবতরনের স্থানটি ঠিক হয়ে গেছে। অবতরনের অল্পকিছু সময় আগে স্পেসশীপে মিটিংয়ে বসেছে পৃথিবীর অভিযাত্রী দল। পৃথিবীর বাইরে কোন গ্রহে এ প্রথম তাদের সশরির অভিযাত্রা। আলফা সেঞ্চুরির এ গ্রহটিতে যে প্রাণ আছে এ ব্যপারে পৃথিবীর অধিবাসিরা এখন একমত। পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে বসানো বড়বড় গ্রাহক যন্ত্রগুলিতে প্রতিনিয়ত আলফা সেঞ্চুরি থেকে আসা বেতার তরঙ্গ আছড়ে পড়ে। পৃথিবীর একদল বিজ্ঞানী মনে করছিলেন , আলফা সেঞ্চুরি থেকে বুদ্ধিমান প্রাণীরা পৃথিবীবাসির সাথে যোগাযোগ করার জন্য পরিকল্পিতভাবেই এসব বেতার বার্তা পাঠাচ্ছ্ কে;িন্তু পৃথিবীবাসির জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার জন্য এসব বেতার বার্তার পাঠোদ্ধার করা যাচ্ছেনা। তারা আশাবাদি একদিন এ বেতার বার্তার পাঠোদ্ধার করা যাবে। তবে অন্য আরেকদল বিজ্ঞানী এ বেতার তরঙ্গকে বিভিন্ন নক্ষত্রের অর্থহীন সিগন্যাল অথবা পৃথিবীর বেতার তরঙ্গের ত্রুটি বলে মনে করেছিলেন।
ভিন গ্রহের প্রাণীদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের এ বিতর্ক শেষ করার জন্য একটি বিশেষ মহাকাশ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞানী রিদ। এটিই আর কিছুক্ষন পরে আলফা সেঞ্চুরির চতুর্থ গ্রহে অবতরন করবে।
মিটিং টেবিলের শেষ প্রান্তে নিজের আসনে বসে আছেন রিদ।
রিদ দেরী না করে মিটিং শুরু করলেন। 'আলফা সেঞ্চুরির এ গ্রহ থেকে পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকতেই আলফা সেঞ্চুরির এ গ্রহে যে প্রাণ আছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই স্পেস শীপ এ গ্রহে অবতরন করবে। গ্রহে অবতরনের পর ভিন গ্রহ বাসিদের সাথে যোগাযোগ হলে কী করতে হবে এ ব্যাপারে গাইড লাইন দেয়া আছে। কিন্তু যোগাযোগের আগেই যদি কোন অঘটন ঘটে? যদি গ্রহের অধিবাসিরা আমাদের আক্রমন করে? এ পর্যন্ত গ্রহবাসিদের যত ছবি পাওয়া গেছে, এর সবগুলিতেই এদের উলঙ্গ দেখা গেছে। এর অর্থ এরা র্ববর জাতি। এ বর্বরদের আক্রমনের সূযোগ দেয়া যাবেনা। আগেই ধ্বংস করে দিতে হবে।' রিদ তার এ বক্তব্য সবার সামনে তুলে ধরলেন।
গ /
তথ্যকেন্দ্রগুলির বিশাল বিশাল লেজার পর্দায় পৃথিবী গ্রহের মহাকাশ যানটি দেখা যাচ্ছে । ক্রমশ এটি নিকটবতর্ী হচ্ছে। প্রতি মূহূর্তে মহাকাশযানটি কতটা পথ অতিক্রম করছে , তিলি গ্রহে াবতরন করতে আর কতটা সময় লাগবে, এসব তথ্য প্রতিনিয়ত ভেসে উঠসে লেজার পর্দায়।
কেন্দ্রীয় তথ্য কেন্দ্রের সামনে বেশ ভীড়। গ্রহের শাখা তথ্য কেন্দ্রগুলির সামনেও ভীড় ধীরে ধীরে বাড়ছে। কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্রে আসা প্রায় সবাই ভিন গ্রহবাসির জন্য এনেছে উপহার। তিলি গ্রহবাসির নিরাপত্তা , খাদ্য, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদার কোন অভাব নেই। জ্ঞান অর্জনই এখানে মূল কথা। তিলি গ্রহবাসির প্রত্যেকে তাদের জ্ঞানের সার অংশটুকু জমা রাখে সিলিকন দন্ডে। সিলিকন যন্ত্র ডিসপ্লে যন্ত্রে ঢোকালেই বোঝা যায় কে কতটুকু জ্ঞান আহরন করেছে। সিলিকন দন্ড নিরুপন করে সামাজিক মর্যাদা। তাই তিলি গ্রহের প্রত্যেকটি অধিবাসির জন্য তাদের সিলিকন দন্ড অত্যন্ত মুল্যবান।
ভিন গ্রহের অধিবাসির জন্য আনা উপহারে একটি উল্লেখযোগ্য অংশই এ সিলিকন দন্ড। তিলি গ্রহবাসি তাদের সবচেয়ে মুল্যবান বস্তুটিই উপহার দিতে চায় পৃথিবীর মানুষদের।
ঘ/
কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন রিদ। মনিটরে অবতরনের স্থানটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। স্পেসশীপ অবতরনের মতো এত চমৎকার একটি যায়গা পাওয়া যাবে আগে ধারনা ছিলনা। কালো পাথরের মসৃন দীর্ঘ প্রান্তর। সময় দ্রুত কমে আসছে। আর দশ মিনিটের মাথায় স্পেসশীপ অবতরন করবে। ঠিক এসময় বিপর্যয় দেখা দিল।
বিপর্যয়ের সময় স্পেসশীপের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার মহাকাশযানের পুরো নিয়ন্ত্রন পুরো তার কাছে নিয়ে নেয়। নিয়ন্ত্রনভার গ্রহন করে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পদক্ষেপ নিতে কম্পিউটারের দশ সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু পরবতর্ী বিশ সেকেন্ড সময় পর্যন্ত কম্পিউটার স্পেসশীপের নিয়ন্ত্রন নিতে পারলনা। বিশ সেকেন্ডর মাথায় যখন নিয়ন্ত্রন নিল ততক্ষনে মহাকাশ যান নেমে এসেছে অনেকখানি। পুরোপুরি অবতরন করতে তার আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য রিদ ভুলে গেলো সে পৃথিবী থেকে বহু দূরে। প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে তাদের বাড়িটা মনে পড়তে লাগল। সবাই মিলে বেড়াতে বেড়িয়েছে সাগরের তীরে। দমকা হাওয়া থেমে থেমে এসে লাগছে গায়ে। ওর মা ডাকছে রিদ,রিদ বেশি সামনে যেওনা। যেনো সে এখনও শিশু রয়ে গেছে।
সহযোগী বিজ্ঞানীদের কথায় রিদ ফিরে এলো বাস্তবে। সহযোগীদের একজন জানাচ্ছেন, রিদ আপনার কথাই ঠিক। ওরা এগিয়ে আসছে। শত শত নয়, হাজার হাজার নয় , ওদের সংখ্যা লাখ লাখ। হাতের একটি ধাতব দন্ড উচিয়ে কি যেন বলতে বলতে এগুচ্ছে। আক্রমনের জন্য ব্যবহৃত শব্দ মনে হচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। রিদ মনিটরে সহযোগিদের বক্তব্যের সত্যতা দেখতে পাচ্ছেন। লাখ লাখ মানুষের মধ্যে অগ্রবতর্ী একটি দল দ্রুত এগিয়ে আসছে। এদের শরিরের রঙ কালো। বিকেলের আলোতে উলঙ্গ ধাতব দন্ড হাতে কালো মানুষদের কী ভয়ঙ্করই না দেখাচ্ছে।
মনিটরে ভেসে উঠছে মহাকাশযানে রক্ষিত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের ছবি। প্রচলিত অস্ত্র ছাড়াও রয়েছে রাসায়নিক ও জীবানু অস্ত্র। কোন্ অস্ত্র ব্যবহার করবে এ নিয়ে একটু বিতর্ক দেখা দিল বিজ্ঞানীদের মধ্যে । কেউ প্রচলিত অস্ত্রের পক্ষ্রে, কেউ রাসায়নিক , কেউবা জীবানু অস্ত্রের পক্ষে। বিতর্কের শেষে সিদ্ধান্তের ভার দেয়া হলো কম্পিউটারের উপর। কেন্দ্রীয় কম্পিউটার এখানে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে জীবানু অস্ত্র নির্দেশ করলো।
মনিটরে দেখা যাচ্ছে লাখ লাখ তিলি গ্রহবাসিকে। মহাকাশযানের কিছুটা দূরে তারা সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে যাচ্ছে। হাতে সেই ধাতব দন্ড। নির্গমন নল দিয়ে বুলেটের মতো দ্রুত গতিতে বের হয়ে এলো কৃত্রিম আবাদে শক্তিশালী করে তোলা বসন্তের জীবানুভতর্ী বিশাল টিউব। শূন্যে বিস্ফোরিত হলো এটি। বাতাসে সমগ্র গ্রহে ছড়িয়ে যেতে বেশি সময় লাগলো না।
তিলি গ্রহবাসির শরিরে এ জীবানুর প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিলনা। তিলি গ্রহবাসি জীবানুতে আক্রান্ত হতোনা বিশেষ জৈবিক নিয়ন্ত্রনের কারনে। সভ্যতা গড়ে তোলার পর শত শত বছর তারা কোন অস্ত্র ব্যবহার করেনি। তাই তাদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহারের চল নেই। হিংস্রতা নেই। তারা কাউকে আক্রমন করতে জানেনা। জীবানুর প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন নিরীহ তিলি গ্রহবাসি লাখে লাখে মরতে লাগলো শক্তিশালী বসন্তের আক্রমনে।
তিলি গ্রহবাসি পৃথিবী থেকে আসা স্পেসশীপকে অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে যাচ্ছিল। একেবারে সামনে ছিলেন রুনসহ তিলির বিজ্ঞানীদের একটি দল। বসন্ত তাকেও তীব্রভাবে আক্রমন করেছে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন তিনি। পৃথিবীর এ শক্তিশালী জীবানুটিকে চিনতে পারলেন তিনি। পৃথিবী গ্রহবাসির এ নৃশংস আচরনে অবাক হলেন না। মনটা কেন এতক্ষন খচ খচ করছিল তা বুঝতে পারলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের নৃশংসতার যথেষ্ট উদাহরন রয়েছে। কলম্বাস আমেরিকা আবিস্কারের পর ছয় কোটিরও বেশি আমেরিকার আদিবাসিদের হত্যা করা হয়। আমেরিকার আদিবাসিদের তৈরী করা অজটেক, ইনকা, মায়া সভ্যতাগুলোও বেশ সমৃদ্ধ ছিলো। অস্ত্রবিদ্যা চর্চায় এরা পৃথিবীর ইউরোপ নামের অংশের মানুষদের চাইতে পিছিয়ে ছিলো। তবে এসব সভ্যতার মানুষেরা তন্তুর আবরন দিয়ে শরির ঢাকতোনা। শুধু এ কারনে কলম্বাসরা অসভ্য ভেবেছিলো আমেরিকার প্রাচীন অধিবাসিদের। মরতে মরতে রুন হাসলেন। অজটেক ইনকাদের মতো তিলির বাসিন্দারাও তন্তুর আবরন দিয়ে শরির ঢাকেনা। কে জানে পৃথিবীবাসি হয়ত তাদেরও অসভ্য ভেবেছে।
তিলিবাসিকে হত্যা করতে কয়েক মিনিট লাগল। রিদ মনিটরের সামনে সন্তুষ্ট চিত্তে বসে রইলেন কিছুক্ষন। তত্ত্বগত ভাবে সে জানতো যে সময় এর চেয়ে বেশি লাগবেনা। কিন্তু সত্যিই যে ব্যাপারটা এত দ্রুত সম্ভব হবে তা সে আগে ঠিক বিশ্বাস করেনি। তবে তিনি জানলেন না তার অগোচরে তথ্য কেন্দ্রগুলিতে বেচে গেছে বেশ কিছু গ্রহবাসি।
ঙ/
৩০০৩ সালে পৃথিবীর কেন্দ্রী পরিচালনা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী তুন গাড়ি দিয়ে যাচ্ছিলেন পরিচালনা কেন্দ্রের দিকে । পাশে বিজ্ঞানী ডেল। তিলিগ্রহের আবিস্কার দিবস উপলক্ষে গ্রহের পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করেছে। আর মূল পত্রিকাগুলির সবগুলির প্রধান শিরোনাম আজ একই-বিজ্ঞানী রিদের মূর্তি ভাঙা। তিলি গ্রহের আবিস্কারক রিদের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল গ্রহ সম্পর্কিত গবেষনা কেন্দ্রের সামনে। গনহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে একদর লোক রিদের বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি ভেঙে ফেলেছে। ভাঙ্গার পর গ্যাস কাটার দিয়ে এমনভাবে টুকরো টুকরো করেছে যাতে ইচ্ছে করলেও সেগুলো জোড়া দিয়ে আর মূর্তি না হয়। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথাসময়েই সেখানে পৌছেছে। কিন্তু তারা নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে মূর্তি ভাঙ্গতে বাধা দেয়নি।
ধীরে ধীরে তুনের পি এস ভি'র (পার্সোনাল সোলার ভেহিক্যাল) এর গতি কমে গেলো। তুন বাইরে তাকালেন। রাস্তায় নিরাবরন হয়ে দাড়িয়ে আছে একদল তিলি গ্রহবাসি। আইন অনুসারে তাদের পায়ের কাছে রাস্তায় মাথা ঠেকিয়ে পৃথিবীবাসির গনহত্যার জন্য ক্ষমা চাইলেন তুন। তারপর আবার পিএসভিতে উঠে গেলেন। পরিচালনা কেন্দ্রের দিকে যেতে যেতে তাকে আরো চারবার নেমে গনহত্যার জন্য এভাবে ক্ষমা চাইতে হলো। তিরি আবিস্কার দিবসে রাস্তায় যতবার তিলি গ্রহবাসিদের দেখবেন ততবার ক্ষমা চাইতে হবে তাকে। গত পাঁচশ বছর ধরে পরিচালনা কেন্দ্রের প্রধানরা এভাবেই রিদের পাপের প্রায়শ্চিত্য করছেন। #

শরীফ উদ্দিন সবুজ
নারায়ণগঞ্জ।
০১৯১৩৩৯৮২২০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×