somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিকতার সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত সময় উপযোগি

২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকের পত্রিকায় একটি ভালো নিউজ দেখলাম। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সুপারিশ করেছে একটি পরীক্ষ্যার মাধ্যমে সাংবাদিকদের সনদ দেয়ার। যেমন আইনজীবি হতে হলে একটি পরীক্ষ্যায় উত্তীর্ন হয়ে একটি সনদ পেতে হয়। তেমন সনদ।
এটি সুপারিশ। তবে সুপারিশটি অত্যন্ত ভালো সুপারিশ। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি। আমি অনার্স, মাষ্টার্স পাশ করে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছি। সাংবাদিকতার উপরে পিআইবি'র স্বল্পকালীন বেশ কিছু প্রশিক্ষন নিয়েছি। এর বাইরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও প্রশিক্ষন বা কর্মশালা করেছি।
পাঁচ বছর আগে একবার একজন মোবাইল চোরের নিউজ কভার করলাম। সে ছোট ছোট ছেলেদের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল চুরি করায়-এ অভিযোগে তাকে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
যে ছেলেটিকে নিয়ে এ নিউজটি ছিলো সে এখন নারায়ণগঞ্জের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। সাংবাদিকতা বিষয়ে তার কোন ট্রেনিং নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। পত্রিকায় যা ইচ্ছে লিখে যাচ্ছে। যেভাবে ইচ্ছে হেডলাইন দিচ্ছে। একটি লিড নিউজের হেডলাইন বলি--' ‌রাজু কষে লাথি মারলেন সুরুজের পাছায়'
আরেকটি ঘটনা বলি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরে একজন প্রহৃত হলো। তখন আমি নতুন সাংবাদিক। লোকটিকে পুলিশ কোন রকমে উদ্ধার করে নিয়ে গেলো। তার বাবা নারায়ণগঞ্জ শহরে পাটের ব্যবসা করে। তাকে চিনলাম। সে এসএসসি পাশ করেনি বলেই জানি। কিন্তু বর্তমানে সে লোকটি ঢাকার একটি আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার। তার এক্রিডেশন কার্ড আছে। সংসদ বিট করে। একটি প্রভাবশালী সাংবাদিক সংগঠনের কার্যকরি একটি পদে ছিলো।
এসব লোক যখন সাংবাদিক হয় তখন নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে কুন্ঠাবোধ করি। বর্তমানে সাংবাদিক হতে কোন ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। প্রকাশক হতে কিছু নিয়ম কানুন থাকলেও , সম্পাদক হতেও নিয়ম কানুনের কোন বালাই নেই। দেশের বড় বড় পত্রিকার কথা ভিন্ন। কিন্তু দেশের আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকাগুলি বা স্থানীয় পত্রিকাগুলিতে অযোগ্য লোকজনের উৎপাৎ প্রবল। আর সাংবাদিকদের ইমেজ মানে কিন্তু এসব আন্ডারগ্রাউন্ড , কার্ডধারি সাংবাদিকদের তৈরী করা নেতিবাচক আর ভালো সাংবাদিকদের তৈরী করা ইমেজের যোগফল। এসব সাংবাদিকরা বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনে গিয়ে অনায়াসে সদস্য হচ্ছে। ভোটের সময় একজন ভালো সাংবাদিকের যেমন একটি ভোট তেমনি সাংবাদিকতার কার্ড ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করা সাংবাদিকেরও এক ভোট।
সাংবাদিকদের জন্য সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক হলে কার্ডধারি সাংবাদিকদের রোধ করা অনেকখানি সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই এ কাজটি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।#
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×