শিরোনাম দেখে হয়তো আপনারা মোটামুটি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। আরে এইটা কি দেখলাম? "পাত্রলয়ে গমন" মাথা কি ঠিক আছে?
ভাইরে মাথা ঠিকই আছে আমার। পাত্র যদি হয় আমাদের ছ্যার রেজুয়ান চৌধুরীর মত যিনি কিনা "কম্পিউটার বিষয়ে মোটামোটি জ্ঞান অর্জন করেছেন। কম্পিউটার বিষয়ে আরো অনেক কিছু শিখতে চান।" তাহলে পাত্রীকেই তো যেতে হবে পাত্রের বাড়ি।
আরিফা সেই কখন থেকেই বিয়ে করতে উৎসাহ বোধ করলেও লজ্জায় ঘরে বলতেও পারছেনা সে বিয়ে করতে চায় ।লজ্জাশরম বলে তো একটা কথা আছে।
শেষে আর না পেরে লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বলেই ফেললো; "মা আমি বিয়া করতাম চাই; "মা আমি বিয়া করতাম চাই"
মেয়ের কথা শুনেতো মেয়ের মা পুরাই টাস্কিত
তো, পাত্রী আরিফাকে নিয়ে তার বাবা পাত্রের বাড়ি হাজির হয়। বাড়ির তিতরে ঢুকতেই পাত্রের বাবা মা বলে উঠে আমাদের ছেলে কম্পুটার নিয়ে বিয়াফক গবেষনায় ব্যাস্ত আপনারা পরে আরেকদিন আসেন।
এই কথা শোনার পর আরিফার পিতা তৃপ্তির হাসির দিয়ে আরিফার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলে আমরা দূর থেকে ছ্যারকে একটু দেখে চলে যাবো কুনু ডিস্টাপ করবো না।
আরিফা এবং তার বাবা জানালার ফুটো দিয়ে চোখ রাখলো এবং দেখলো ছ্যার রুম অন্ধকার করে চোখে কালা চশমা লাগিয়ে মনোযোগের সাথে কম্পুটারে চ্যাটিং করছে।
ছ্যারকে চ্যাটিং করতে দেখে আরিফার বাবা খুশিতে গদগদ হয়ে আরিফার দিকে তাকিয়ে বলে মা আমি তোকে ইনার সাথেই তোমার বিবাহ দিবো। ইনি মহা জ্ঞানী লুক দেখসনা কালা চশমা লাগিয়ে কেমনে কইরা কম্পুটার টিপতাছে। বাবার কথা শুনে আরিফা লজ্জায় মাথায় ঘোমটা টেনে দিয়ে দিলো এক দৌড়। :!> :#>
ছ্যারের বাবা মার কাছে বিয়ের প্রস্তাব রেখে আরিফার বাবা খুশি মনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এদিকে ছ্যার বিয়ের কথা শুনে রেগে আগুন হয়ে যায়।
চোখ থেকে কালা চশমা খুলে তার বাবা মাকে শাসিয়ে দেয় "সে কম্পিউটার বিষয়ে মোটামোটি জ্ঞান অর্জন করেছে । কম্পিউটার বিষয়ে আরো অনেক কিছু শিখতে চায়।" সে এখন বিয়ে করতে পারবে না।
ঐদিকে ছ্যারকে প্রথম দেখায় আরিফা ছ্যারের ফ্রেমে পড়ে যায়। সারাদিন কালা চশমা পরিহিত কম্পু চালক ছ্যারের স্বপ্ন দেখে। ছ্যারকে নিয়ে বিয়ে-সাদী, বাচ্চা-কাচ্চা,নাতি-নাতনী সব কিছু চিন্তা করে বসে থাকে। আর ছ্যারেকে নিয়ে ভেবে ভেবে লজ্জায় লাল,নীল, বেগুনী হয়ে যায়। :!> :#>
ছ্যার যখন বিয়ে করতে অসম্মতি জানায় তখন আরিফা বিরাট বড় ধাক্কা খায়। ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘর ভাসিয়ে ফেলে। আরিফার মনে প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।
হঠাৎ একদিন জানতে পারে ছ্যার সামুতে ব্লগিং করে। জানতে পেরে সামুতে নিক খুলে প্রতিশোধের উদ্দেশ্য নিয়ে। এবং প্রোফাইলে লিখে রাখে "একা ইজ ব্যাটার দ্যান ছ্যাঁকা", ব্লগিং করতে থাকে ছদ্মনামে এবং সামুতে খুঁজতে থাকে ছ্যারকে।
এদিকে মাস দুয়েক কেটে যায় কিন্তু সামুতে ছ্যারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।ছারকে না পেয়ে একদিন আরিফা একটা পোষ্টও দিয়া দেয়। কিন্ত আনেক চালাকির সাথে নিজেকে বর বলে পরিচিতি দেয়। একদিন ছ্যারকে সে খুঁজে পায়। রাগে, দুঃখে, অভিমানে ছ্যারের পোষ্টে প্রথম কমেন্ট করে বসে। " কারো াছা মারার ইচ্ছা হলে রেজুয়ান চৌধুরীকে নক করবেন। ছাগল কোথাকার।"
যারা কম্পুটার জানে না। ছ্যারের মত চ্যাট করতে জানেনা তারাও ছ্যারের প্রতি ঈর্ষার্র্ণিত হয়ে ছ্যারের পোষ্টে উল্টাপাল্টা কমন্টের বন্যা ভাসিয়ে দেয়।
কেউবা ছ্যারের কাছে কম্পুটার শিখার জন্য অনেক আকুতি মিনুতি করতে থাকে। কিন্তু ছ্যার কারো কোন কমেন্টের রিপ্লায় দেইনি কারন ছ্যার কালা চশমা পরে চ্যাটিংয়ে ব্যাস্ত।
আর ছ্যার প্রথম কমেন্টটায় খুবই মর্মাহত হয়ে অপমানে আর কারো কমেন্ট এর জবাবও দেয়নি । ছ্যার আজও কম্পুটারের অনেক বিষয়ে শিখতে চায়। যেদিন তার শেখা শেষ হবে সেদিনই সে বিয়ে করবে বলে প্রতিজ্ঞা করে।
এই গল্প পড়ে এতক্ষনে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন এখানে আরিফা নামের হতভাগিণীটা আসলে কে? এবং ছ্যার রেজুয়ান চৌধুরী টা কে?
আজ যে বা যারা সামান্য একটা বিয়ের অসম্মতির কারনে আমাদের পেরান পিরিও ছ্যারকে ব্লগ থেকে বিতাড়িত করতে নোংরা মানষিকতা পোষন করতেছে তাকে আমার ধিক্কার জানাই
কৃতজ্ঞতা স্বীকার: বৃষ্টি ভেজা সকাল। সকাল ভাইকে অসংখ্য ধন্যাবাদ এডিটিংয়ে সাহায্য করার জন্য।
অ.ট: আরিফ ভাই বুকে আসেন। আমার কুনু দোষ নাই।
সব সকাল ভাইয়ের কুবুদ্ধি। উনি আমারে কইলো আপনেরে নিয়া পুষ্ট দিতে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

