somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফটোগ্রাফি করতে গিয়ে.

১৯ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে এটা ইই আমার প্রথম লিখা । এর আগে বিভিন্ন ফোরাম এ লিখতাম। যাই হোক আমার পরিচয় হল আমি শুভ রহমান, একজন খেয়ালী ভবঘুরে ফটোগ্রাফার [অনেকের মতে শেষাংশটুকু বাদে :) ]।

আমার এই পথচলায় [ক্যামেরা হাতে] অনেকের ভালোবাসা, ভক্তি ও সম্মান যেমন পেয়েছি তেমনি তিরস্কার, গালি ও অসম্মান এর পরিমান ও নেহাত কম না। তারপর ও আমি পথ হেঁটে যাই নিজ আনন্দে ... নিজ মনে । আমার এই পথচলা তেই আমার নিজেকে ফিরে ফিরে পাওয়া।

স্বভাবত পাঠকবন্ধুরা আশা করি বুঝে গেছেন আমার আসন্ন লিখা গুলি ও হবে ছবি তোলার ওপর ভিত্তি করেই তারপর ও আমার চেষ্টা থাকবে মোটামুটি সব ঘরানার পাঠক কেই একবার চোখ বুলানো আমার এই প্রচেষ্টা গুলিতে।

যাই হোক নিজের ভুমিকা বাড়ানোর জন্য ক্ষমা চাইছি এবং এটাও প্রতিজ্ঞা করছি ভবিষ্যতে এত দীর্ঘ ভুমিকার আর দরকার পরবেনা। আজ আমার লিখায় আমার পথচলার প্রাপ্তি বা দুঃখ কোনটা ইই ভাগ করবনা। প্রথমদিন হিসাবে অনেক গুরু গম্ভীর হয়ে যাবে। আজ যা বলব তা হল ফটোগ্রাফি করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া বা আমার দেখা ছোট কিন্তু মজার কিছু ঘটনা যা হটাত মনে পড়লে নিজের অজান্তে নিজেই হাসি। কিভাবে কি সাজিয়ে লিখব তা ঠিক করতে না পেরে একটু হযবরল ভাবে ইই নিচে লিখলাম -

ঘটনা - ১ = " সেদিন আমার গুরুভাই [ফটোগ্রাফিতে আমার প্রথম উৎসাহদাতা এবং অদ্যাবধি আমার প্রেরনাদাতা] সহ রাগিব ভাই ও বন্ধু রাকেশ সহ একটা ডিট্যুর [গন্তব্যহীন যাত্রা] এ গেছি। সাভার ও মানিকগঞ্জের মাঝামাঝি কোথাও আমরা কিছু ছবি তুলে ফিরতে গিয়ে দেখি ফেরার রাস্তা আমাদের কারো ইই মনে নাই। এই অবস্থাতে রাগিব ভাই একটা সেতু দেখতে পেয়ে গাড়ি নিয়ে ওটার কাছে গেল এই আশায় যদি এটা পার হলে কোন মহাসড়ক পাই। কিন্তু কাছে যাবার পর সবাই এটা আবিস্কার করে তব্দা মেরে গেলাম যে সেতুর কেবল রেলিং তৈরি হইছে বাকি আর কিছুই নাই। আমাদের তব্দার রেশ না কাটতেই আমি প্রস্তাব দিলাম ""এখানে ব্রিজ তা তৈরি হতে থাকুক আমরাও ছবি তুলতে থাকি । ব্রিজ তৈরি হলে ইই আমরা ঢাকায় ফিরব।"" :) :)

ঘটনা - ২ = "সেই ট্যুর এ যখন আমরা এক অজপাড়াগায় গোরস্থান এর আশেপাশে রাস্তা খুজে বেরাচ্ছি তখন দেরি দেখে আমার মা [আমি এখনো মা কে অসম্ভব ভয় পাই] ফোন দিসে 'কিরে এতো দেরি কেন কই তুই?' আমার উত্তর 'আম্মু গোরস্থানে আছি, যদি ফেরার রাস্তা না পাই তো থেকেই যাবো।"

{উৎসাহী / আগ্রহী পাঠক চাইলে আমার সেই ট্যুর এর অ্যালবামটা ফেসবুক এ ঢু মেরে দেখে আসতে পারেন, নিচে লিঙ্ক দিলাম}

"অজানা পথচলা"

ঘটনা - ৩ = " পহেলা বৈশাখ ১৪১৯ এ বের হলাম বাঙ্গালীর প্রানের মেলার উৎসবময় কিছু মুহূর্ত ক্যামেরা দিয়ে ধরে রাখতে। কিন্তু বেড়িয়ে তো চক্ষু ছানাবড়া। এ তো ক্যামেরার মেলা বললেও অত্তুক্তি হয় না। মানুষ মনে হয় ক্যামেরার গরমে অস্থির, তার উপর কারো কারো সাথে সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড আর যায় কোথায় একটু পর পর প্রেমিকা কে দাড় করায় ভীরের মানুশদের সরিয়ে নিজে ১০হাত দূরে [কারন তাদের সাথে দামি বড় লেন্স] পজিশন নিয়ে দাড়িয়ে যেই ক্লিক করে , সাথে সাথে চাটাস করে একটা শব্দ [তাদের পপ আপ ফ্ল্যাশ লাফ দিয়ে উঠে যদিও রোদ তখন চড়া ] এবং তীব্র আলোর ঝলকানি। হাসি লুকাতে আমাকে দূরে সরে যেতে হয় বার বার [আরে বাবা যদি অটো মোডে ছবি তুলবি তো এতো খরচ করে ডিএসএলআর কেনার কি দরকার?]

{পহেলা বৈশাখ এর অ্যালবাম কেউ উৎসাহ বোধ করলে দেখে আসেন লিঙ্ক যথারীতি নিচে}

"বঙ্গাব্দ ১৪১৯"

ঘটনা - ৪ = "আমার শিক্ষক রাজিবুল হোসেন স্যার [যার কাছে আমি অশেষ ঋণী] এর সাথে চিড়িয়াখানা ট্যুর এ গিয়েছি ক্লাস এর অংশ হিসাবে। আমার নেয়া কিছু বানরের ছবি স্যার এর পছন্দ হচ্ছেনা, বার বার উনি বলছেন খাঁচা টা সমস্যা করছে অন্য কিছু ট্রাই করতে বললেন আমাকে। আমার রোখ চেপে গেল, লাগে খাঁচার ভিতর গিয়ে ইই শট নিবো। কিন্তু হটাত ফ্লেমিঙ্গর খাচায় আবিস্কার করলাম ছবি ঠিক ইই আসে কিন্তু খাচা উধাও [পরে শিখেছি ওটা লেন্সের একটা কারিগরি] । একই জিনিশ নিয়ে বানরের খাচায় চেষ্টা করে বার বার বিফল হলাম আর ] স্যার কে জিজ্ঞেস করলাম রহস্য কি? স্যার মুচকি হেসে বললেন 'স্বজাতির খাচা ক্যামেরা দিয়ে ভাংতে পারবেন না শুভ' :) :) আসলে স্যার ঠাট্টা করলেও অনেক বিরাট একটা কৌশল আমাকে শিখিয়ে ফেলেছেন সেটা বুঝতে একটু সময় লেগেছিল। :) :)

{এবারো অ্যালবাম লিঙ্ক, কেউ চাইলে দেখে আসুন}

AIMC Memories

ঘটনা - ৫ = আমার সর্বশেষ শিশু পার্ক ট্যুর এ সাথে ছিল শিস্য [ভক্ত ফয়জুল ইসলাম জিসান] । আমরা বিনা বাধায় ও বিনা খরচায় [ক্যামেরা হাতে থাকার কারনে কেউ কোথাও টিকেট চায় না :) :) ] মনের সুখে রাইড গুলি তে চরছি আর ছবি তুলছি। এক সময় ফ্লাওয়ার কাপ রাইড তার ছবি নিতে উঠেছি আর কয়েক চক্কর দিয়েও ফেলেছি কিন্তু মন মানছিল না, তাই ঠিক করলাম আরেক চক্কর দাড়িয়ে ছবি তুলবো। চালক মামা মেশিন চালুর আগে ঠিক হয়ে দাড়াতে ইশারা করলেন আমিও জবাব দিলাম আমি ঠিক আছি, মেশিন চালু হল এরপর যা ঘটেছে তা জিসান এর বর্ণনায় তুলে ধরলাম - - "ভাই আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে দেখি আপনি উশটা খেয়ে ক্যামেরা হাতে ঘূর্ণির তালে তালে রেলিং ধরে দৌরাচ্ছেন, এতটাই টাসকি লাগছে যে মুহূর্তটার একটা ছবি তুলে রাখার কথা মনে ইই ছিলনা" :D :D

{লিঙ্ক আছে নিচে দেয়া কেউ চাইলে ঢু মারুন}

Return to Innocence

লেখাটি অতি মাত্রায় দীর্ঘায়িত করার জন্য ক্ষমা চাই এবং ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য [যদি কেউ শেষ করে থাকেন :D :D ] জানাই অশেষ ধন্যবাদ। আমি হয়ত অনিয়মিত ভাবে এতো বড় বড় লিখা আরও দিবো। ততক্ষণ অবধি ভালো থাকুন । ধন্যবাদ।

[যদি কেউ মন্তব্য পোস্ট করেন তো কৃতার্থ হব]

এই ধারাবাহিকের ২য় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:০৬
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না, দাবি করি না। এই যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ ও আগামী

লিখেছেন আবু সিদ, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১৫

অন্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করো না, মানুষ !
অন্যের হাতের শিল্প হয়ো না।
অন্যের চোখে বিশ্ব দেখ না,
অন্যের সুর-নৃত্যে আর দুলো না।
নিজেকে খুঁজে নাও তুমি!
বুঝে নাও নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি সত্যিই দেখি, নাকি যা বিশ্বাস করি কেবল সেটাই দেখি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমলা বেগম ঈদের সকালে গোরুর মাংস রান্না করতে বসেছিলেন। গতবছর কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা মাংস, মাসের পর মাস পাশের বাড়ির ফ্রিজে থাকা, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×