বসন্ত বেশ জমিয়ে এসেছে এবার। গত বসন্তর মতন বৃষ্টি আর ঠান্ডার দাপট নেই। হিমেল হাওয়া তাড়িয়ে দিয়েছে, উজ্জ্বল রৌদ্রালোক আর দক্ষিণা সমিরণ। উষ্ণতা গড়পড়তা আর বছরের চেয়ে বেশী।
রঙ বেরঙের ফুলের হাতছানী প্রকৃতির চারপাশে।
চেরিফুলের মাতন লেগেছে হাই পার্কে গত তিন দিন কাজের শেষে চলে গেছি হাইপার্কে। চেরী ফুলের নিচে বসে থেকেছি আপন মনে। যেন এক স্বপ্ন ভুবনে কাটছে বেলা। গতকাল অপরাহূ ফিরে আসার আগে ছোটখাঠো যে চিড়িয়াখানা আছে তারপাশ দিয়ে হাঁটছিলাম মৃদু মন্দ হাওয়ায়। বাইসন, পাহারি ছাগল, ক্যাঙ্গারু, ইমু এমনি কিছু জন্তুর সাথে বেশ কয়েকটা ময়ূর। খাঁচায় বাঁধা এসব প্রাণীর প্রতি দৃষ্টিপাত না করে আমি হাঁটছিলাম উড়ে বেড়ানো একটা লাল পাখির দিকে দৃষ্টি রেখে। শিষ দিয়ে ওর সাথে কথা বলার চেষ্টাও চলছিল।
ফুলের ছবি তুলে ক্যামেরা আর ভিডিওর চার্জ শেষ হয়ে গ্যাছে তাই সব গাড়ি বন্ধি করে হাঁটছিলাম ঝাড়া হাত পা। হঠাৎ শুরু হলো মুয়ূরের কেকা ধ্বনী প্রথমে তেমন পাত্তা না দিলেও ওদের সারা শব্দে দৃষ্টি দিতেই হলো ওদের পানে। বেশ চঞ্চলতা, অস্থিরতায় চুপ করে বসে থাকা প্রতিটি ময়ুর, ময়ূরীর সাথে ডেকে ডেকে পেখম মেলতে শুরু করল। সর্দপে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশে একে একে ছয়টি ময়ূর নিজেদের প্রর্দশন করতে শুরু করল সম্পূর্ণ পেখম মেলে অদ্ভুত সে দৃশ্য।
ময়ূর অনেক বার দেখেছি কিন্তু পেখম মেলতে কখনো দেখিনি আগে। বৃষ্টি নেই বিদ্যুত চমক নেই ময়ুরের এমন আকস্মিক নাচ মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম। আর আফসোস হচ্ছিল ক্যামেরা হাতে না থাকার জন্য। তবে ক্যামেরা থেকেও লাভ নাই চার্জ নাই সে মুহুর্তে। ছয়টি ময়ূরের একসাথে মেলে দেয়া পেখমের অপূর্ব স্মৃতি মনের গহীনে ধরা থাক। বিহ্বল অবস্থায় আকস্মাত মনে হলো হাতের মুঠো ফোন দিয়ে যদি ছবি তুলা যায়। অনেক দিন এর ব্যবহার নাই ছবিও খুব ভালো হয়না এখন তারপরও যা উঠেছে স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মন্দ নয়।
নিজের ভালোলাগা ছড়িয়ে দিলাম সবার মাঝে প্রকৃতির আনন্দ সবার জন্যই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১০ রাত ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



